ইবিটাইমস ডেস্ক : মার্কিন যুদ্ধজাহাজ লক্ষ্য করে ইরানের দুই দফা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার চেষ্টার জবাবে পাঁচটি ইরানি তেলবাহী জাহাজ ধ্বংসের দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মঙ্গলবার এসব জাহাজে হামলা চালানো হয় বলে জানিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী।
বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এক সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে ইরানের তেলবাহী জাহাজে এটি যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় দফা হামলা।
মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, আঞ্চলিক জলসীমায় মার্কিন নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজকে লক্ষ্য করে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার চেষ্টার জবাব হিসেবেই এসব অভিযান চালানো হয়েছে।
হামলার আগে ক্রুদের সরে যাওয়ার নির্দেশ
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তেলবাহী জাহাজগুলোতে হামলার আগে সেগুলোর ক্রুদের জাহাজ ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এরপর জাহাজগুলোতে হামলা চালিয়ে সেগুলো অচল করে দেওয়া হয়।
সেন্টকমের দাবি, গত দুই দিনে আইআরজিসি একটি মার্কিন নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজে দুবার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার চেষ্টা করেছে। তবে দুই দফা হামলাই ব্যর্থ হয়েছে এবং মার্কিন যুদ্ধজাহাজটি আঞ্চলিক জলসীমায় টহল অব্যাহত রেখেছে।
এর আগে গত শনিবার ইরান একটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরি ও একটি গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ারে হামলার চেষ্টা করার পর যুক্তরাষ্ট্র তিনটি ইরানি অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজ ধ্বংস করেছিল বলে জানিয়েছিল সেন্টকম।
মার্কিন বাহিনীর দাবি, তাদের যুদ্ধজাহাজগুলোকে লক্ষ্য করে আইআরজিসির সব হামলার চেষ্টাই ব্যর্থ হয়েছে।
পাল্টা হামলার হুমকি ইরানের
এদিকে মার্কিন হামলার জবাবে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়েছে তেহরান। ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র উপসাগরীয় দেশগুলোর কাছাকাছি থাকা তেলবাহী জাহাজগুলোও ইরানের লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।
মঙ্গলবার ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ আলী আবদোল্লাহি সতর্ক করে বলেন, ইরানের তেলবাহী জাহাজে হামলা চালানো হলে উপসাগরীয় অঞ্চলে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালাবে তেহরান।
তবে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, ইরানের হামলার জবাবে যুক্তরাষ্ট্র তেলবাহী জাহাজে হামলা চালানো অব্যাহত রাখবে।
বিকল মার্কিন ডুবো ড্রোন
এদিকে সেন্টকমের মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স জানিয়েছেন, মার্কিন বাহিনী পরিচালিত একটি ডুবো ড্রোন এক দিনেরও বেশি সময় আগে বিকল হয়ে যায়। আঞ্চলিক জলসীমায় চলমান সামরিক অভিযানে সহায়তার অংশ হিসেবে ড্রোনটি নজরদারি কার্যক্রম পরিচালনা করছিল।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টাপাল্টি সামরিক পদক্ষেপে উপসাগরীয় অঞ্চলে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ঢাকা/এসএস




















