ভিয়েনা ১০:১৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
প্রবাসী আয়ে স্বস্তির ধারা, ছয় মাসে বেড়েছে ১৩.১ শতাংশ ইরানের হামলার জবাবে ৫টি তেলবাহী জাহাজ ধ্বংসের দাবি যুক্তরাষ্ট্রের লালমোহন উপজেলা পরিষদের মাসিক সমন্বয় ও আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত পলিথিন-প্লাস্টিক বন্ধে কঠোর হওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর বোলারদের দাপটে সেমিফাইনালে বাংলাদেশ টাঙ্গাইলে সাংবাদিকদের ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ লালমোহনে পুলিশের পৃথক অভিযান, ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ২ দুর্বৃত্তদের হামলায় সাময়িক বরখাস্ত আনসার সদস্য নিহত ফারুক চেয়ারম্যান হত্যা মামলার খুনিদের গ্রেপ্তার ও ফাঁসির দাবিতে টাঙ্গাইলে বিক্ষোভ কালিহাতীতে পানি প্রবাহহীন ডোবার ওপর ১৫ কোটি টাকার সেতু, অপচয়ের আশঙ্কা

প্রবাসী আয়ে স্বস্তির ধারা, ছয় মাসে বেড়েছে ১৩.১ শতাংশ

  • EuroBanglaTimes
  • আপডেটের সময় ১১:২২:৩১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৪ সময় দেখুন

ইবিটাইমস ডেস্ক : দেশের বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহে স্বস্তির ধারা ফিরেছে। চলতি বছরের মার্চ থেকে আগস্ট—এই ছয় মাসে দেশে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স এসেছে ১ হাজার ৮৯৪ কোটি মার্কিন ডলার। আগের বছরের একই সময়ে এসেছিল ১ হাজার ৬৭৪ কোটি ডলার। ফলে এক বছরে প্রবাসী আয় বেড়েছে ২২০ কোটি ডলার বা ১৩ দশমিক ১ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ছয় মাসের মধ্যে পাঁচ মাসেই আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রবাসী আয় বেড়েছে। এর মধ্যে আগস্টে প্রবৃদ্ধি ছিল সর্বোচ্চ—২২ দশমিক ৩ শতাংশ।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, চলতি বছরের মার্চে দেশে প্রবাসী আয় আসে ৩৭৫ কোটি ডলার। আগের বছরের একই মাসে এসেছিল ৩৩০ কোটি ডলার। অর্থাৎ মার্চে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৩ দশমিক ৬ শতাংশ।

এপ্রিলে প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন ৩১৩ কোটি ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৩ দশমিক ৮ শতাংশ বেশি। মে মাসে আসে ৩৪৩ কোটি ডলার, যা এক বছর আগের মে মাসের তুলনায় ১৫ দশমিক ৫ শতাংশ বেশি।

তবে জুনে প্রবাসী আয়ে কিছুটা স্থবিরতা দেখা যায়। এ মাসে দেশে আসে ২৮১ কোটি ডলার, যেখানে আগের বছরের জুনে এসেছিল ২৮২ কোটি ডলার।

জুলাইয়ে আবারও প্রবৃদ্ধির ধারা জোরালো হয়। এ মাসে প্রবাসীরা দেশে পাঠান ২৮৬ কোটি ডলার, যা আগের বছরের জুলাইয়ের তুলনায় ১৫ দশমিক ৩ শতাংশ বেশি।

সবচেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি হয়েছে আগস্টে। এ মাসে দেশে এসেছে ২৯৬ কোটি ডলার। আগের বছরের আগস্টে এসেছিল ২৪২ কোটি ডলার। ফলে এক বছরে আগস্টের রেমিট্যান্স বেড়েছে ২২ দশমিক ৩ শতাংশ।

বৈধ পথে রেমিট্যান্সে আস্থা বাড়ছে

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, প্রবাসী আয়ের ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি দেশের বহিঃখাতের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক। বৈধ ব্যাংকিং ও আর্থিক ব্যবস্থার মাধ্যমে অর্থ পাঠানোর ক্ষেত্রে প্রবাসী বাংলাদেশিদের আস্থা বাড়ার বিষয়টি রেমিট্যান্স বৃদ্ধিতে প্রতিফলিত হচ্ছে।

তিনি বলেন, প্রবাসীদের জন্য বৈধ পথে অর্থ পাঠানো আরও সহজ, দ্রুত ও সুবিধাজনক করতে সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক কাজ করছে। একই সঙ্গে হুন্ডিসহ অবৈধ পথে অর্থ লেনদেন নিরুৎসাহিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আরিফ হোসেন খান বলেন, প্রবাসী কর্মী ও তাদের পরিবারের বৈধ আর্থিক ব্যবস্থার ওপর আস্থার ইতিবাচক প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে প্রবাসী আয় বৃদ্ধির মধ্যে।

তার মতে, রেমিট্যান্স পাঠানোর প্রক্রিয়া সহজ করা, ব্যাংকিং সেবার উন্নয়ন এবং বৈধ বৈদেশিক মুদ্রাবাজারকে শক্তিশালী করার উদ্যোগও এই প্রবৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে।

অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র বলেন, প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাঠানো অর্থ দেশের বৈদেশিক মুদ্রার তারল্য বাড়ানোর পাশাপাশি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

প্রবাসী আয় আরও বাড়লে দেশের লেনদেনের ভারসাম্যে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী হবে এবং বহিঃখাতে স্থিতিশীলতা আরও বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

সরকার বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশিদের দেশের বৈদেশিক মুদ্রার অন্যতম প্রধান উৎস হিসেবে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, রেমিট্যান্স সেবা আরও দ্রুত, নিরাপদ ও সহজলভ্য করা গেলে প্রবাসী আয়ের ঊর্ধ্বমুখী ধারা অব্যাহত থাকবে।

এর ফলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার অবস্থান শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি সামগ্রিক সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাও আরও দৃঢ় হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
ঢাকা/এসএস

জনপ্রিয়

প্রবাসী আয়ে স্বস্তির ধারা, ছয় মাসে বেড়েছে ১৩.১ শতাংশ

Address : Erlaaer Strasse 49/8/16 A-1230 Vienna,Austria. Mob : +43676848863279, 8801719316684 (BD) 8801911691101 ( Ads) Email : eurobanglatimes123@gmail.com
Translate »

প্রবাসী আয়ে স্বস্তির ধারা, ছয় মাসে বেড়েছে ১৩.১ শতাংশ

আপডেটের সময় ১১:২২:৩১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইবিটাইমস ডেস্ক : দেশের বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহে স্বস্তির ধারা ফিরেছে। চলতি বছরের মার্চ থেকে আগস্ট—এই ছয় মাসে দেশে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স এসেছে ১ হাজার ৮৯৪ কোটি মার্কিন ডলার। আগের বছরের একই সময়ে এসেছিল ১ হাজার ৬৭৪ কোটি ডলার। ফলে এক বছরে প্রবাসী আয় বেড়েছে ২২০ কোটি ডলার বা ১৩ দশমিক ১ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ছয় মাসের মধ্যে পাঁচ মাসেই আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রবাসী আয় বেড়েছে। এর মধ্যে আগস্টে প্রবৃদ্ধি ছিল সর্বোচ্চ—২২ দশমিক ৩ শতাংশ।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, চলতি বছরের মার্চে দেশে প্রবাসী আয় আসে ৩৭৫ কোটি ডলার। আগের বছরের একই মাসে এসেছিল ৩৩০ কোটি ডলার। অর্থাৎ মার্চে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৩ দশমিক ৬ শতাংশ।

এপ্রিলে প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন ৩১৩ কোটি ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৩ দশমিক ৮ শতাংশ বেশি। মে মাসে আসে ৩৪৩ কোটি ডলার, যা এক বছর আগের মে মাসের তুলনায় ১৫ দশমিক ৫ শতাংশ বেশি।

তবে জুনে প্রবাসী আয়ে কিছুটা স্থবিরতা দেখা যায়। এ মাসে দেশে আসে ২৮১ কোটি ডলার, যেখানে আগের বছরের জুনে এসেছিল ২৮২ কোটি ডলার।

জুলাইয়ে আবারও প্রবৃদ্ধির ধারা জোরালো হয়। এ মাসে প্রবাসীরা দেশে পাঠান ২৮৬ কোটি ডলার, যা আগের বছরের জুলাইয়ের তুলনায় ১৫ দশমিক ৩ শতাংশ বেশি।

সবচেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি হয়েছে আগস্টে। এ মাসে দেশে এসেছে ২৯৬ কোটি ডলার। আগের বছরের আগস্টে এসেছিল ২৪২ কোটি ডলার। ফলে এক বছরে আগস্টের রেমিট্যান্স বেড়েছে ২২ দশমিক ৩ শতাংশ।

বৈধ পথে রেমিট্যান্সে আস্থা বাড়ছে

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, প্রবাসী আয়ের ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি দেশের বহিঃখাতের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক। বৈধ ব্যাংকিং ও আর্থিক ব্যবস্থার মাধ্যমে অর্থ পাঠানোর ক্ষেত্রে প্রবাসী বাংলাদেশিদের আস্থা বাড়ার বিষয়টি রেমিট্যান্স বৃদ্ধিতে প্রতিফলিত হচ্ছে।

তিনি বলেন, প্রবাসীদের জন্য বৈধ পথে অর্থ পাঠানো আরও সহজ, দ্রুত ও সুবিধাজনক করতে সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক কাজ করছে। একই সঙ্গে হুন্ডিসহ অবৈধ পথে অর্থ লেনদেন নিরুৎসাহিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আরিফ হোসেন খান বলেন, প্রবাসী কর্মী ও তাদের পরিবারের বৈধ আর্থিক ব্যবস্থার ওপর আস্থার ইতিবাচক প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে প্রবাসী আয় বৃদ্ধির মধ্যে।

তার মতে, রেমিট্যান্স পাঠানোর প্রক্রিয়া সহজ করা, ব্যাংকিং সেবার উন্নয়ন এবং বৈধ বৈদেশিক মুদ্রাবাজারকে শক্তিশালী করার উদ্যোগও এই প্রবৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে।

অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র বলেন, প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাঠানো অর্থ দেশের বৈদেশিক মুদ্রার তারল্য বাড়ানোর পাশাপাশি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

প্রবাসী আয় আরও বাড়লে দেশের লেনদেনের ভারসাম্যে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী হবে এবং বহিঃখাতে স্থিতিশীলতা আরও বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

সরকার বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশিদের দেশের বৈদেশিক মুদ্রার অন্যতম প্রধান উৎস হিসেবে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, রেমিট্যান্স সেবা আরও দ্রুত, নিরাপদ ও সহজলভ্য করা গেলে প্রবাসী আয়ের ঊর্ধ্বমুখী ধারা অব্যাহত থাকবে।

এর ফলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার অবস্থান শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি সামগ্রিক সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাও আরও দৃঢ় হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
ঢাকা/এসএস