ভিয়েনা ০৯:৪৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভোলাবাসীকে নতুন সম্ভাবনার কথা ভাবতে হবে : গাজী নজরুল ইসলাম

  • EuroBanglaTimes
  • আপডেটের সময় ১০:৫৬:৩৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫ সময় দেখুন

ইবিটাইমস ডেস্ক : পদ্মা সেতুর দক্ষিণ প্রান্ত থেকে ভোলার ইলিশা ঘাট পর্যন্ত যাত্রাপথের মানচিত্র বিশ্লেষণ করলে একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্ভাবনা চোখে পড়ে, যা প্রচলিত আলোচনায় এখনো তেমন গুরুত্ব পায়নি।

বর্তমানে প্রস্তাবিত ভোলা–মেহেন্দিগঞ্জ–হিজলা–মুলাদী–রহমতপুর (বরিশাল) সড়ক নিয়ে মূলত বরিশাল শহরের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের বিষয়টিই বেশি আলোচিত হচ্ছে। কিন্তু মানচিত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, মুলাদী থেকে উত্তরমুখী হয়ে শরীয়তপুর সদর ও নাওডোবা (জাজিরা) পর্যন্ত সড়ক অবকাঠামো গড়ে তোলা হলে তা সরাসরি পদ্মা সেতুর দক্ষিণ প্রান্তের সঙ্গে যুক্ত করা সম্ভব হতে পারে।

এই সংযোগ বাস্তবায়িত হলে ভোলা থেকে ঢাকায় যাতায়াতের জন্য একটি নতুন ও স্বতন্ত্র সড়ক করিডোর তৈরি হবে। ফলে বর্তমান নৌপথ ও লঞ্চ-ফেরিনির্ভর যোগাযোগের ওপর নির্ভরতা অনেকটাই কমে আসবে। একই সঙ্গে হিজলা, মেহেন্দিগঞ্জ, মুলাদী, শরীয়তপুর সদর ও জাজিরার মানুষও সরাসরি ও তুলনামূলক দ্রুত সড়কপথে রাজধানীর সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবেন।

এ ধরনের যোগাযোগব্যবস্থা শুধু যাতায়াত সহজ করবে না; বরং পুরো অঞ্চলের অর্থনৈতিক সম্ভাবনাও বাড়াবে। সড়ক যোগাযোগ উন্নত হলে ব্যবসা-বাণিজ্য, কৃষিপণ্য পরিবহন, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং নতুন বিনিয়োগের সুযোগ বাড়তে পারে। নদীনির্ভর যোগাযোগের অনিশ্চয়তা ও সময়ক্ষেপণও অনেকাংশে কমে আসবে।

আরও বড় সম্ভাবনা রয়েছে ভবিষ্যৎ রেল যোগাযোগে। পদ্মা সেতুতে ইতোমধ্যে রেল সংযোগ রয়েছে। সেই অবকাঠামোকে কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতে নাওডোবা–শরীয়তপুর–মুলাদী–মেহেন্দিগঞ্জ হয়ে ভোলা পর্যন্ত রেললাইন সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হতে পারে। এমনটি বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণাঞ্চলের এই জনপদগুলো জাতীয় রেল নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার নতুন দ্বার খুলে যাবে। যাত্রী পরিবহনের পাশাপাশি কৃষি ও শিল্পপণ্য দ্রুত দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পৌঁছে দেওয়াও সহজ হবে।

তাই ভোলার উন্নয়ন ও যোগাযোগ পরিকল্পনা শুধু বরিশালমুখী সংযোগের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে মুলাদী–শরীয়তপুর–নাওডোবা করিডোরের সম্ভাবনাও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। এই বিকল্প পথ বাস্তবায়িত হলে এটি শুধু ভোলার নয়, দক্ষিণাঞ্চলের বৃহৎ একটি জনগোষ্ঠীর যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে।

গাজী নজরুল ইসলাম
সাবেক শিক্ষক, ভোলা সরকারি কলেজ

জনপ্রিয়
Address : Erlaaer Strasse 49/8/16 A-1230 Vienna,Austria. Mob : +43676848863279, 8801719316684 (BD) 8801911691101 ( Ads) Email : eurobanglatimes123@gmail.com
Translate »

ভোলাবাসীকে নতুন সম্ভাবনার কথা ভাবতে হবে : গাজী নজরুল ইসলাম

আপডেটের সময় ১০:৫৬:৩৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬

ইবিটাইমস ডেস্ক : পদ্মা সেতুর দক্ষিণ প্রান্ত থেকে ভোলার ইলিশা ঘাট পর্যন্ত যাত্রাপথের মানচিত্র বিশ্লেষণ করলে একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্ভাবনা চোখে পড়ে, যা প্রচলিত আলোচনায় এখনো তেমন গুরুত্ব পায়নি।

বর্তমানে প্রস্তাবিত ভোলা–মেহেন্দিগঞ্জ–হিজলা–মুলাদী–রহমতপুর (বরিশাল) সড়ক নিয়ে মূলত বরিশাল শহরের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের বিষয়টিই বেশি আলোচিত হচ্ছে। কিন্তু মানচিত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, মুলাদী থেকে উত্তরমুখী হয়ে শরীয়তপুর সদর ও নাওডোবা (জাজিরা) পর্যন্ত সড়ক অবকাঠামো গড়ে তোলা হলে তা সরাসরি পদ্মা সেতুর দক্ষিণ প্রান্তের সঙ্গে যুক্ত করা সম্ভব হতে পারে।

এই সংযোগ বাস্তবায়িত হলে ভোলা থেকে ঢাকায় যাতায়াতের জন্য একটি নতুন ও স্বতন্ত্র সড়ক করিডোর তৈরি হবে। ফলে বর্তমান নৌপথ ও লঞ্চ-ফেরিনির্ভর যোগাযোগের ওপর নির্ভরতা অনেকটাই কমে আসবে। একই সঙ্গে হিজলা, মেহেন্দিগঞ্জ, মুলাদী, শরীয়তপুর সদর ও জাজিরার মানুষও সরাসরি ও তুলনামূলক দ্রুত সড়কপথে রাজধানীর সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবেন।

এ ধরনের যোগাযোগব্যবস্থা শুধু যাতায়াত সহজ করবে না; বরং পুরো অঞ্চলের অর্থনৈতিক সম্ভাবনাও বাড়াবে। সড়ক যোগাযোগ উন্নত হলে ব্যবসা-বাণিজ্য, কৃষিপণ্য পরিবহন, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং নতুন বিনিয়োগের সুযোগ বাড়তে পারে। নদীনির্ভর যোগাযোগের অনিশ্চয়তা ও সময়ক্ষেপণও অনেকাংশে কমে আসবে।

আরও বড় সম্ভাবনা রয়েছে ভবিষ্যৎ রেল যোগাযোগে। পদ্মা সেতুতে ইতোমধ্যে রেল সংযোগ রয়েছে। সেই অবকাঠামোকে কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতে নাওডোবা–শরীয়তপুর–মুলাদী–মেহেন্দিগঞ্জ হয়ে ভোলা পর্যন্ত রেললাইন সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হতে পারে। এমনটি বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণাঞ্চলের এই জনপদগুলো জাতীয় রেল নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার নতুন দ্বার খুলে যাবে। যাত্রী পরিবহনের পাশাপাশি কৃষি ও শিল্পপণ্য দ্রুত দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পৌঁছে দেওয়াও সহজ হবে।

তাই ভোলার উন্নয়ন ও যোগাযোগ পরিকল্পনা শুধু বরিশালমুখী সংযোগের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে মুলাদী–শরীয়তপুর–নাওডোবা করিডোরের সম্ভাবনাও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। এই বিকল্প পথ বাস্তবায়িত হলে এটি শুধু ভোলার নয়, দক্ষিণাঞ্চলের বৃহৎ একটি জনগোষ্ঠীর যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে।

গাজী নজরুল ইসলাম
সাবেক শিক্ষক, ভোলা সরকারি কলেজ