ভিয়েনা ১০:০০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
লালমোহন হা-মীমের আট শিক্ষার্থীর নটরডেম ও সেন্ট জোসেফে ভর্তির সুযোগ টাঙ্গাইলে শিশু ধর্ষণ মামলায় আসামির যাবজ্জীবন ইন্টারনেট বন্ধ থাকলেও চলবে ডিজিটাল যোগাযোগ, মাভাবিপ্রবির শিক্ষক আরিফুলের উদ্ভাবন নাগরপুর সদর বাজারে ভয়াবহ আগুন চরফ্যাশন শিক্ষা অফিসারকে নিয়ে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ, শিক্ষকদের সংবাদ সম্মেলন স্টেডিয়ামে নারী খেলোয়াড়দের উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ, ঝালকাঠিতে যুবক আটক লালমোহনে কৃতী ২০০ শিক্ষার্থী পেল সংবর্ধনা ইরান যুদ্ধে বিপুল গোলাবারুদ খরচ, সংকটে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক মজুত সিলেটে শাহজালাল-শাহপরানের মাজার জিয়ারত রাষ্ট্রপতির জুলাইয়ের মানবতাবিরোধী অপরাধ: সাদ্দাম-ইনানসহ ৭ আসামির মৃত্যুদণ্ড

ইন্টারনেট বন্ধ থাকলেও চলবে ডিজিটাল যোগাযোগ, মাভাবিপ্রবির শিক্ষক আরিফুলের উদ্ভাবন

  • EuroBanglaTimes
  • আপডেটের সময় ১১:৪১:৩৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১ সময় দেখুন

শফিকুজ্জামান খান মোস্তফা, টাঙ্গাইল : প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বিদ্যুৎ বিপর্যয়, গণআন্দোলন, জরুরি পরিস্থিতি কিংবা অন্য কোনো কারণে প্রচলিত ইন্টারনেট সেবা বন্ধ বা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলেও নিজেদের মধ্যে ডিজিটাল যোগাযোগ চালু রাখার প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (মাভাবিপ্রবি) পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আরিফুল আলম।

ঢাকায় আয়োজিত তিন দিনব্যাপী ‘বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার-২০২৬’-এ প্রযুক্তিটি প্রদর্শন করা হচ্ছে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে রাজধানীর নভোথিয়েটারে গত শুক্রবার শুরু হওয়া এ মেলা চলবে ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। এবারের মেলার প্রতিপাদ্য ‘Innovate to Market’ বা ‘উদ্ভাবন থেকে বাজার’।

মেলায় সহকারী অধ্যাপক আরিফুল আলমের প্রদর্শিত প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য হলো প্রচলিত ইন্টারনেট সংযোগ ছাড়াই স্থানীয় পর্যায়ে ডিজিটাল যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল রাখা। এ প্রযুক্তির মাধ্যমে মোবাইল ও ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট বন্ধ থাকলেও নির্দিষ্ট নেটওয়ার্কের আওতাভুক্ত ব্যবহারকারীরা নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ করতে পারবেন।

প্রকল্পটির বিষয়ে সহকারী অধ্যাপক আরিফুল আলম বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বিদ্যুৎ বিপর্যয়, অবকাঠামোগত ক্ষতি কিংবা অন্য কোনো কারণে মোবাইল ও ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট বন্ধ হয়ে গেলে ডিজিটাল যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে প্রচলিত ইন্টারনেটের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে যোগাযোগ চালু রাখার লক্ষ্যে ছোট ছোট ইলেকট্রনিক আইসি ব্যবহার করে একটি কার্যকর যোগাযোগ ব্যবস্থা তৈরি করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘প্রথমে একটি প্রাইমারি সার্ভার তৈরি করা হয়েছে। ওই সার্ভারের সঙ্গে যুক্ত ব্যবহারকারীরা মোবাইল হটস্পটের মাধ্যমে একাধিক স্তরে নেটওয়ার্ক ছড়িয়ে দিতে পারবেন। বাংলাদেশের জনসংখ্যার ঘনত্ব বেশি হওয়ায় হটস্পটের মাধ্যমে এ নেটওয়ার্ক সহজেই অনেক দূর পর্যন্ত বিস্তৃত করা সম্ভব।’

তিনি আরও বলেন, এ নেটওয়ার্কের আওতাভুক্ত যেকোনো ব্যবহারকারী ‘স্বাধীন নেট’ নামের নিজস্ব মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে টেক্সট মেসেজ, ভয়েস মেসেজ ও ছোট আকারের ছবি আদান-প্রদান করতে পারবেন। অর্থাৎ বাইরের ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকলেও স্থানীয় যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল রাখা সম্ভব হবে।

প্রকল্পটির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো distributed nodes বা বিকেন্দ্রীভূত নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা। এতে একটি বড় ও নির্দিষ্ট সার্ভারের ওপর নির্ভর না করে ছোট ছোট একাধিক সার্ভার বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে রাখা হবে। ফলে যোগাযোগ ব্যবস্থা তুলনামূলকভাবে বেশি স্থিতিশীল থাকবে। একটি নির্দিষ্ট কেন্দ্র অচল হয়ে গেলেও পুরো নেটওয়ার্ক বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমবে। একই সঙ্গে প্রকল্পটির ব্যয়ও কম রাখা সম্ভব হবে।

উদ্ভাবকদের মতে, প্রযুক্তিটির ব্যবহার শুধু দুর্যোগকালীন যোগাযোগের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, সরকারি দপ্তর, সামরিক স্থাপনা এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানেও নিজস্ব local communication network হিসেবে এটি ব্যবহার করা যেতে পারে।

এ ধরনের প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো গেলে বিদেশি ইন্টারনেট সেবার ওপর নির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে যোগাযোগ ব্যয় ও বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

ঢাকা/ইবিটাইমস/এসএস

জনপ্রিয়

লালমোহন হা-মীমের আট শিক্ষার্থীর নটরডেম ও সেন্ট জোসেফে ভর্তির সুযোগ

Address : Erlaaer Strasse 49/8/16 A-1230 Vienna,Austria. Mob : +43676848863279, 8801719316684 (BD) 8801911691101 ( Ads) Email : eurobanglatimes123@gmail.com
Translate »

ইন্টারনেট বন্ধ থাকলেও চলবে ডিজিটাল যোগাযোগ, মাভাবিপ্রবির শিক্ষক আরিফুলের উদ্ভাবন

আপডেটের সময় ১১:৪১:৩৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

শফিকুজ্জামান খান মোস্তফা, টাঙ্গাইল : প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বিদ্যুৎ বিপর্যয়, গণআন্দোলন, জরুরি পরিস্থিতি কিংবা অন্য কোনো কারণে প্রচলিত ইন্টারনেট সেবা বন্ধ বা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলেও নিজেদের মধ্যে ডিজিটাল যোগাযোগ চালু রাখার প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (মাভাবিপ্রবি) পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আরিফুল আলম।

ঢাকায় আয়োজিত তিন দিনব্যাপী ‘বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার-২০২৬’-এ প্রযুক্তিটি প্রদর্শন করা হচ্ছে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে রাজধানীর নভোথিয়েটারে গত শুক্রবার শুরু হওয়া এ মেলা চলবে ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। এবারের মেলার প্রতিপাদ্য ‘Innovate to Market’ বা ‘উদ্ভাবন থেকে বাজার’।

মেলায় সহকারী অধ্যাপক আরিফুল আলমের প্রদর্শিত প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য হলো প্রচলিত ইন্টারনেট সংযোগ ছাড়াই স্থানীয় পর্যায়ে ডিজিটাল যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল রাখা। এ প্রযুক্তির মাধ্যমে মোবাইল ও ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট বন্ধ থাকলেও নির্দিষ্ট নেটওয়ার্কের আওতাভুক্ত ব্যবহারকারীরা নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ করতে পারবেন।

প্রকল্পটির বিষয়ে সহকারী অধ্যাপক আরিফুল আলম বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বিদ্যুৎ বিপর্যয়, অবকাঠামোগত ক্ষতি কিংবা অন্য কোনো কারণে মোবাইল ও ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট বন্ধ হয়ে গেলে ডিজিটাল যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে প্রচলিত ইন্টারনেটের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে যোগাযোগ চালু রাখার লক্ষ্যে ছোট ছোট ইলেকট্রনিক আইসি ব্যবহার করে একটি কার্যকর যোগাযোগ ব্যবস্থা তৈরি করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘প্রথমে একটি প্রাইমারি সার্ভার তৈরি করা হয়েছে। ওই সার্ভারের সঙ্গে যুক্ত ব্যবহারকারীরা মোবাইল হটস্পটের মাধ্যমে একাধিক স্তরে নেটওয়ার্ক ছড়িয়ে দিতে পারবেন। বাংলাদেশের জনসংখ্যার ঘনত্ব বেশি হওয়ায় হটস্পটের মাধ্যমে এ নেটওয়ার্ক সহজেই অনেক দূর পর্যন্ত বিস্তৃত করা সম্ভব।’

তিনি আরও বলেন, এ নেটওয়ার্কের আওতাভুক্ত যেকোনো ব্যবহারকারী ‘স্বাধীন নেট’ নামের নিজস্ব মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে টেক্সট মেসেজ, ভয়েস মেসেজ ও ছোট আকারের ছবি আদান-প্রদান করতে পারবেন। অর্থাৎ বাইরের ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকলেও স্থানীয় যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল রাখা সম্ভব হবে।

প্রকল্পটির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো distributed nodes বা বিকেন্দ্রীভূত নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা। এতে একটি বড় ও নির্দিষ্ট সার্ভারের ওপর নির্ভর না করে ছোট ছোট একাধিক সার্ভার বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে রাখা হবে। ফলে যোগাযোগ ব্যবস্থা তুলনামূলকভাবে বেশি স্থিতিশীল থাকবে। একটি নির্দিষ্ট কেন্দ্র অচল হয়ে গেলেও পুরো নেটওয়ার্ক বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমবে। একই সঙ্গে প্রকল্পটির ব্যয়ও কম রাখা সম্ভব হবে।

উদ্ভাবকদের মতে, প্রযুক্তিটির ব্যবহার শুধু দুর্যোগকালীন যোগাযোগের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, সরকারি দপ্তর, সামরিক স্থাপনা এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানেও নিজস্ব local communication network হিসেবে এটি ব্যবহার করা যেতে পারে।

এ ধরনের প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো গেলে বিদেশি ইন্টারনেট সেবার ওপর নির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে যোগাযোগ ব্যয় ও বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

ঢাকা/ইবিটাইমস/এসএস