ভিয়েনা ০৯:৫৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
লালমোহন হা-মীমের আট শিক্ষার্থীর নটরডেম ও সেন্ট জোসেফে ভর্তির সুযোগ টাঙ্গাইলে শিশু ধর্ষণ মামলায় আসামির যাবজ্জীবন ইন্টারনেট বন্ধ থাকলেও চলবে ডিজিটাল যোগাযোগ, মাভাবিপ্রবির শিক্ষক আরিফুলের উদ্ভাবন নাগরপুর সদর বাজারে ভয়াবহ আগুন চরফ্যাশন শিক্ষা অফিসারকে নিয়ে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ, শিক্ষকদের সংবাদ সম্মেলন স্টেডিয়ামে নারী খেলোয়াড়দের উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ, ঝালকাঠিতে যুবক আটক লালমোহনে কৃতী ২০০ শিক্ষার্থী পেল সংবর্ধনা ইরান যুদ্ধে বিপুল গোলাবারুদ খরচ, সংকটে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক মজুত সিলেটে শাহজালাল-শাহপরানের মাজার জিয়ারত রাষ্ট্রপতির জুলাইয়ের মানবতাবিরোধী অপরাধ: সাদ্দাম-ইনানসহ ৭ আসামির মৃত্যুদণ্ড

টাঙ্গাইলে শিশু ধর্ষণ মামলায় আসামির যাবজ্জীবন

  • EuroBanglaTimes
  • আপডেটের সময় ১১:৪৪:৪১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১ সময় দেখুন

শফিকুজ্জামান খান মোস্তফা, টাঙ্গাইল : টাঙ্গাইলে শিশু ধর্ষণ মামলায় রশিদ মিয়া (৫৫) নামে এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ২ লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে টাঙ্গাইলের শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আব্দুল মজিদ এ রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত রশিদ মিয়া মির্জাপুর উপজেলার মহেড়া ইউনিয়নের আগছাওয়ালী গ্রামের বাসিন্দা।

রায়ে আদালত উল্লেখ করেন, আসামির কাছ থেকে জরিমানার অর্থ আদায় করা সম্ভব না হলে ভবিষ্যতে তিনি যে সম্পদের মালিক হবেন, সেই সম্পদ থেকে অর্থ আদায় করে ভিকটিমকে দিতে হবে।

এ জন্য টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসককে আসামির স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে অর্থদণ্ডের সমপরিমাণ অর্থ ভিকটিমকে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

এ ছাড়া ধর্ষণের ফলে জন্ম নেওয়া শিশুর বাবা হিসেবে রশিদ মিয়াকে উত্তরাধিকারী ঘোষণা করেছেন বিচারক। শিশুটির ভরণপোষণের দায়িত্ব রাষ্ট্র নিয়েছে।

শিশুটির শিক্ষা, চিকিৎসা ও ভরণপোষণের জন্য মাসিক অর্থের পরিমাণ নির্ধারণ করে ট্রাইব্যুনালকে অবহিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

টাঙ্গাইলের শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি খন্দকার মো. রোকুনুজ্জামান জানান, ২০২৪ সালের ১৪ এপ্রিল ১৪ বছর বয়সী ওই শিশু তার দাদিকে ডাকতে পুকুরপাড়ে যায়। এ সময় রশিদ মিয়া তাকে জানান, তার দাদি রশিদের বাড়িতে গেছেন। পরে শিশুটিকে সঙ্গে নিয়ে নিজের বাড়িতে গিয়ে ধর্ষণ করেন তিনি।

ঘটনাটি কাউকে জানালে শিশুটিকে ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যার হুমকি দেন রশিদ মিয়া বলেও মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এর কিছুদিন পর শিশুটির শারীরিক অবস্থার পরিবর্তন হলে সে তার মাকে বিষয়টি জানায়। পরে চিকিৎসকের মাধ্যমে পরীক্ষা করানো হলে শিশুটি অন্তঃসত্ত্বা বলে জানা যায়।

২০২৪ সালের ২২ ডিসেম্বর ভিকটিম তার বাবার বাড়িতে একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দেয়। পরে ২০২৫ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি ভিকটিমের বাবা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন। পরে আদালত মির্জাপুর থানাকে মামলাটি এজাহার হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন।

মামলার তদন্তের একপর্যায়ে ডিএনএ পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া যায়, ওই শিশুর বাবা রশিদ মিয়া।

বাদীপক্ষে আইনজীবী ছিলেন জান্নাতুল ফেরদৌস। আসামিপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন আইনজীবী একেএম শামীমুল আক্তার।

ঢাকা/ইবিটাইমস/এসএস

জনপ্রিয়

লালমোহন হা-মীমের আট শিক্ষার্থীর নটরডেম ও সেন্ট জোসেফে ভর্তির সুযোগ

Address : Erlaaer Strasse 49/8/16 A-1230 Vienna,Austria. Mob : +43676848863279, 8801719316684 (BD) 8801911691101 ( Ads) Email : eurobanglatimes123@gmail.com
Translate »

টাঙ্গাইলে শিশু ধর্ষণ মামলায় আসামির যাবজ্জীবন

আপডেটের সময় ১১:৪৪:৪১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

শফিকুজ্জামান খান মোস্তফা, টাঙ্গাইল : টাঙ্গাইলে শিশু ধর্ষণ মামলায় রশিদ মিয়া (৫৫) নামে এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ২ লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে টাঙ্গাইলের শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আব্দুল মজিদ এ রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত রশিদ মিয়া মির্জাপুর উপজেলার মহেড়া ইউনিয়নের আগছাওয়ালী গ্রামের বাসিন্দা।

রায়ে আদালত উল্লেখ করেন, আসামির কাছ থেকে জরিমানার অর্থ আদায় করা সম্ভব না হলে ভবিষ্যতে তিনি যে সম্পদের মালিক হবেন, সেই সম্পদ থেকে অর্থ আদায় করে ভিকটিমকে দিতে হবে।

এ জন্য টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসককে আসামির স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে অর্থদণ্ডের সমপরিমাণ অর্থ ভিকটিমকে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

এ ছাড়া ধর্ষণের ফলে জন্ম নেওয়া শিশুর বাবা হিসেবে রশিদ মিয়াকে উত্তরাধিকারী ঘোষণা করেছেন বিচারক। শিশুটির ভরণপোষণের দায়িত্ব রাষ্ট্র নিয়েছে।

শিশুটির শিক্ষা, চিকিৎসা ও ভরণপোষণের জন্য মাসিক অর্থের পরিমাণ নির্ধারণ করে ট্রাইব্যুনালকে অবহিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

টাঙ্গাইলের শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি খন্দকার মো. রোকুনুজ্জামান জানান, ২০২৪ সালের ১৪ এপ্রিল ১৪ বছর বয়সী ওই শিশু তার দাদিকে ডাকতে পুকুরপাড়ে যায়। এ সময় রশিদ মিয়া তাকে জানান, তার দাদি রশিদের বাড়িতে গেছেন। পরে শিশুটিকে সঙ্গে নিয়ে নিজের বাড়িতে গিয়ে ধর্ষণ করেন তিনি।

ঘটনাটি কাউকে জানালে শিশুটিকে ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যার হুমকি দেন রশিদ মিয়া বলেও মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এর কিছুদিন পর শিশুটির শারীরিক অবস্থার পরিবর্তন হলে সে তার মাকে বিষয়টি জানায়। পরে চিকিৎসকের মাধ্যমে পরীক্ষা করানো হলে শিশুটি অন্তঃসত্ত্বা বলে জানা যায়।

২০২৪ সালের ২২ ডিসেম্বর ভিকটিম তার বাবার বাড়িতে একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দেয়। পরে ২০২৫ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি ভিকটিমের বাবা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন। পরে আদালত মির্জাপুর থানাকে মামলাটি এজাহার হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন।

মামলার তদন্তের একপর্যায়ে ডিএনএ পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া যায়, ওই শিশুর বাবা রশিদ মিয়া।

বাদীপক্ষে আইনজীবী ছিলেন জান্নাতুল ফেরদৌস। আসামিপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন আইনজীবী একেএম শামীমুল আক্তার।

ঢাকা/ইবিটাইমস/এসএস