শেখ ইমন, ঝালকাঠি : ঝালকাঠি স্টেডিয়াম মাঠে গ্রীষ্মকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতা চলাকালে নারী খেলোয়াড়দের উত্ত্যক্ত করার প্রতিবাদ করায় ক্রীড়া সংস্থার সদস্য আনোয়ার হোসেনের (৬৫) ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। সোমবার সন্ধ্যার পর শহরের স্টেশন রোডে তার পারিবারিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান শাহজাহান ব্রাদার্সে ঢুকে একদল বখাটে এ হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেছেন প্রত্যক্ষদর্শী ও আহতের পরিবারের সদস্যরা।
হামলায় আনোয়ার হোসেন গুরুতর আহত হন। তার চোখ, মুখসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত লাগে। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে চিকিৎসকরা উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (শেবাচিম) পাঠান।
ঘটনার সময় আশপাশের ব্যবসায়ী ও স্থানীয়রা এগিয়ে এসে এক যুবককে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন। পরে ঝালকাঠি সদর থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে আটক যুবক মো. সোহান হোসেনকে থানায় নিয়ে যায়। তিনি শহরের ফকিরবাড়ি এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও আহতের পরিবারের অভিযোগ, সোমবার বিকেলে ঝালকাঠি স্টেডিয়াম মাঠে গ্রীষ্মকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতা চলার সময় কয়েকজন যুবক নারী খেলোয়াড়দের উত্ত্যক্ত করছিল। ক্রীড়া সংস্থার সদস্য হিসেবে মাঠে উপস্থিত আনোয়ার হোসেন বিষয়টি দেখে এতে বাধা দেন। এ নিয়ে ওই যুবকদের সঙ্গে তার বাকবিতণ্ডা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, এর কয়েক ঘণ্টা পর সন্ধ্যার দিকে ওই যুবকরা দলবদ্ধ হয়ে স্টেশন রোডের শাহজাহান ব্রাদার্সে গিয়ে আনোয়ার হোসেনের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় ধস্তাধস্তি ও চিৎকারের শব্দ শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা একজনকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন।
এদিকে আটক সোহান হোসেনকে থানা থেকে ছাড়িয়ে নিতে একটি প্রভাবশালী রাজনৈতিক মহল পুলিশের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীর স্বজন ও স্থানীয়রা। তাদের দাবি, হামলায় জড়িত অন্যদেরও শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। পাশাপাশি কোনো ধরনের রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া যাবে না।
ভুক্তভোগীর স্বজন ও স্থানীয়রা আরও বলেন, হামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি আটক যুবককে ছাড়িয়ে নেওয়ার জন্য কোনো ধরনের রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করা হলে তা তদন্তে প্রভাব ফেলতে পারে।
তবে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষের কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
ঝালকাঠি সদর থানার তদন্ত কর্মকর্তা মেহেদী জানান, হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিষয়ে পুলিশ তদন্ত করছে। লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আটক সোহান হোসেনের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
ঢাকা/ইবিটাইমস/এসএস




















