ভিয়েনা ১১:১৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
আঞ্চলিক যুদ্ধের মধ্যে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা চুক্তি সই চিকিৎসক সমাবেশের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী নির্মোহভাবে শীর্ষ মাদক কারবারিদের তালিকা প্রস্তুত করা হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সৌদি, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে প্রতিরক্ষা চুক্তি সই হচ্ছে আজ গণমাধ্যম শক্তিশালী হলেই গণতন্ত্র শক্তিশালী হবে: মির্জা ফখরুল লালমোহনে ফেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের উদ্বোধন টাঙ্গাইলে দুস্থ পরিবার, রোগী ও শিক্ষার্থীদের মাঝে চেক বিতরণ ধলেশ্বরী নদী থেকে বালু উত্তোলন, হুমকিতে সেতু রোমে বাংলাদেশ দূতাবাসে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালিত লালমোহনে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা

বাংলাদেশ-অ্যাঙ্গোলা জ্বালানি সহযোগিতা আলোচনা শুরু

  • EuroBanglaTimes
  • আপডেটের সময় ০৩:২৭:৫৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
  • ১২৪ সময় দেখুন

ইবিটাইমস ডেস্ক : জ্বালানি সরবরাহ, বিনিয়োগ ও কারিগরি সহযোগিতায় দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে বাংলাদেশ ও অ্যাঙ্গোলা প্রথমবারের মতো উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় সংলাপ করেছে। এর মধ্য দিয়ে দু’দেশের সম্পর্কে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো।

বাংলাদেশের উদ্যোগে শুক্রবার অনুষ্ঠিত এ যুগান্তকারী ভার্চুয়াল বৈঠকে উভয় দেশের জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তা ও রাষ্ট্রীয় জ্বালানি সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

বৈঠকে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল ও গ্যাস সহযোগিতা, সরবরাহ ব্যবস্থা ও বিনিয়োগ সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব।

প্রতিনিধি দলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ছাড়াও বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) ও পেট্রোবাংলার শীর্ষ প্রতিনিধিরা ছিলেন।

আজ ঢাকায় প্রাপ্ত এক বার্তায় বলা হয়, অ্যাঙ্গোলাতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মিয়া মো. মাইনুল কবিরও বৈঠকে অংশ নেন।

এ সময় তিনি দু’দেশের সম্পর্ক জোরদারে মিশনের চলমান প্রচেষ্টার বিষয়টি তুলে ধরেন।

মাইনুল কবির একই সঙ্গে নাইজেরিয়াতেও হাইকমিশনারের দায়িত্ব পালন করছেন।

অ্যাঙ্গোলার প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন দেশটির তেল ও গ্যাস বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী হোসে আলেকজান্দ্রে বারোসো।

তার সঙ্গে অ্যাঙ্গোলার সরকারি জ্বালানি খাতের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

নাইজেরিয়ায় অ্যাঙ্গোলার রাষ্ট্রদূতও আলোচনায় যোগ দেন।

বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে দেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদার বিষয়টি তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে থেকে অপরিশোধিত তেল ও গ্যাস আমদানির উৎস বহুমুখীকরণকে কৌশলগত অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

বাংলাদেশ অ্যাঙ্গোলার সঙ্গে জি-টু-জি জ্বালানি সহযোগিতা কাঠামো গড়ে তুলতে আগ্রহ প্রকাশ করে। এ লক্ষ্যে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু করতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে অ্যাঙ্গোলার একটি কারিগরি প্রতিনিধি দলকে ঢাকা সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়।

এছাড়া আলোচনা এগিয়ে নিতে লুয়ান্ডায় পাল্টা কারিগরি মিশন পাঠানোর প্রস্তুতির কথা জানায় বাংলাদেশ। একই সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো তৈরিতে প্রস্তাবিত সমঝোতা স্মারক দ্রুত চূড়ান্ত করার আহ্বান জানানো হয়।

অ্যাঙ্গোলার পক্ষ থেকে দেশটির জ্বালানি খাতের সার্বিক চিত্র তুলে ধরা হয়।

তারা জানায়, বর্তমানে দেশটি দৈনিক প্রায় ১১ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল উৎপাদন করছে। পাশাপাশি দুটি নতুন শোধনাগার প্রকল্পের মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ পরিশোধন সক্ষমতা বাড়াচ্ছে।

অ্যাঙ্গোলা তাদের এলএনজি রপ্তানি সক্ষমতা ও গ্যাস অবকাঠামোর আপস্ট্রিম ও ডাউনস্ট্রিম উন্নয়ন কার্যক্রমের বিষয়টিও তুলে ধরে। একই সঙ্গে জ্বালানি খাতের পুরো সরবরাহ ব্যবস্থায় বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে তাদের গভীর আগ্রহের কথা জানায়।

বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়ে অ্যাঙ্গোলার প্রতিনিধি দল জানায়, প্রস্তাবিত সমঝোতা স্মারকের খসড়া পর্যালোচনা করে দ্রুত মতামত জানানো হবে।

উভয় পক্ষ আলোচনাকে স্পষ্ট, গঠনমূলক ও ভবিষ্যতমুখী হয়েছে বলে উল্লেখ করে।

একই সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় জ্বালানি সহযোগিতায় এখনও উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনা কাজে লাগানো হয়নি বলেও স্বীকার করে তারা।

বাংলাদেশের নির্ভরযোগ্য ও বহুমুখী জ্বালানি উৎস নিশ্চিতের প্রচেষ্টা এবং অ্যাঙ্গোলার রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণ ও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ আকর্ষণের লক্ষ্যের প্রতিফলন হিসেবে উভয় দেশ কৌশলগত এই সংলাপকে বাস্তব ফলাফলে রূপ দিতে কারিগরি পর্যায়ে নিয়মিত যোগাযোগ অব্যাহত রাখার বিষয়ে একমত হয়েছে।
ঢাকা/এসএস

আঞ্চলিক যুদ্ধের মধ্যে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা চুক্তি সই

Address : Erlaaer Strasse 49/8/16 A-1230 Vienna,Austria. Mob : +43676848863279, 8801719316684 (BD) 8801911691101 ( Ads) Email : eurobanglatimes123@gmail.com
Translate »

বাংলাদেশ-অ্যাঙ্গোলা জ্বালানি সহযোগিতা আলোচনা শুরু

আপডেটের সময় ০৩:২৭:৫৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬

ইবিটাইমস ডেস্ক : জ্বালানি সরবরাহ, বিনিয়োগ ও কারিগরি সহযোগিতায় দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে বাংলাদেশ ও অ্যাঙ্গোলা প্রথমবারের মতো উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় সংলাপ করেছে। এর মধ্য দিয়ে দু’দেশের সম্পর্কে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো।

বাংলাদেশের উদ্যোগে শুক্রবার অনুষ্ঠিত এ যুগান্তকারী ভার্চুয়াল বৈঠকে উভয় দেশের জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তা ও রাষ্ট্রীয় জ্বালানি সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

বৈঠকে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল ও গ্যাস সহযোগিতা, সরবরাহ ব্যবস্থা ও বিনিয়োগ সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব।

প্রতিনিধি দলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ছাড়াও বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) ও পেট্রোবাংলার শীর্ষ প্রতিনিধিরা ছিলেন।

আজ ঢাকায় প্রাপ্ত এক বার্তায় বলা হয়, অ্যাঙ্গোলাতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মিয়া মো. মাইনুল কবিরও বৈঠকে অংশ নেন।

এ সময় তিনি দু’দেশের সম্পর্ক জোরদারে মিশনের চলমান প্রচেষ্টার বিষয়টি তুলে ধরেন।

মাইনুল কবির একই সঙ্গে নাইজেরিয়াতেও হাইকমিশনারের দায়িত্ব পালন করছেন।

অ্যাঙ্গোলার প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন দেশটির তেল ও গ্যাস বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী হোসে আলেকজান্দ্রে বারোসো।

তার সঙ্গে অ্যাঙ্গোলার সরকারি জ্বালানি খাতের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

নাইজেরিয়ায় অ্যাঙ্গোলার রাষ্ট্রদূতও আলোচনায় যোগ দেন।

বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে দেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদার বিষয়টি তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে থেকে অপরিশোধিত তেল ও গ্যাস আমদানির উৎস বহুমুখীকরণকে কৌশলগত অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

বাংলাদেশ অ্যাঙ্গোলার সঙ্গে জি-টু-জি জ্বালানি সহযোগিতা কাঠামো গড়ে তুলতে আগ্রহ প্রকাশ করে। এ লক্ষ্যে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু করতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে অ্যাঙ্গোলার একটি কারিগরি প্রতিনিধি দলকে ঢাকা সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়।

এছাড়া আলোচনা এগিয়ে নিতে লুয়ান্ডায় পাল্টা কারিগরি মিশন পাঠানোর প্রস্তুতির কথা জানায় বাংলাদেশ। একই সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো তৈরিতে প্রস্তাবিত সমঝোতা স্মারক দ্রুত চূড়ান্ত করার আহ্বান জানানো হয়।

অ্যাঙ্গোলার পক্ষ থেকে দেশটির জ্বালানি খাতের সার্বিক চিত্র তুলে ধরা হয়।

তারা জানায়, বর্তমানে দেশটি দৈনিক প্রায় ১১ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল উৎপাদন করছে। পাশাপাশি দুটি নতুন শোধনাগার প্রকল্পের মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ পরিশোধন সক্ষমতা বাড়াচ্ছে।

অ্যাঙ্গোলা তাদের এলএনজি রপ্তানি সক্ষমতা ও গ্যাস অবকাঠামোর আপস্ট্রিম ও ডাউনস্ট্রিম উন্নয়ন কার্যক্রমের বিষয়টিও তুলে ধরে। একই সঙ্গে জ্বালানি খাতের পুরো সরবরাহ ব্যবস্থায় বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে তাদের গভীর আগ্রহের কথা জানায়।

বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়ে অ্যাঙ্গোলার প্রতিনিধি দল জানায়, প্রস্তাবিত সমঝোতা স্মারকের খসড়া পর্যালোচনা করে দ্রুত মতামত জানানো হবে।

উভয় পক্ষ আলোচনাকে স্পষ্ট, গঠনমূলক ও ভবিষ্যতমুখী হয়েছে বলে উল্লেখ করে।

একই সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় জ্বালানি সহযোগিতায় এখনও উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনা কাজে লাগানো হয়নি বলেও স্বীকার করে তারা।

বাংলাদেশের নির্ভরযোগ্য ও বহুমুখী জ্বালানি উৎস নিশ্চিতের প্রচেষ্টা এবং অ্যাঙ্গোলার রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণ ও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ আকর্ষণের লক্ষ্যের প্রতিফলন হিসেবে উভয় দেশ কৌশলগত এই সংলাপকে বাস্তব ফলাফলে রূপ দিতে কারিগরি পর্যায়ে নিয়মিত যোগাযোগ অব্যাহত রাখার বিষয়ে একমত হয়েছে।
ঢাকা/এসএস