বরেণ্য চিত্রশিল্পী এস এম সুলতানের ১০০তম জন্মদিন উপলক্ষে ৪ দিনব্যাপী চিত্রাঙ্কন উৎসব

নড়াইল প্রতিনিধিঃ বিশ্ববরেণ্য চিত্রশিল্পী এস এম সুলতানের ১০০তম জন্মদিন উপলক্ষে চারদিনব্যাপী চিত্রাঙ্কন উৎসব শেষ হয়েছে। শনিবার সুলতানের শিশুস্বর্গে ৭৫জন শিশুর অংশগ্রহণে চিত্রাঙ্কন উৎসব সম্পন্ন হয়েছে। শিশুদের অঙ্কিত খন্ড খন্ড ছবিগুলোই জোড়া দিয়ে ১০০ বর্গফুট দৈর্ঘ্যরে ছবি তৈরি হবে। আগামি ১০ আগস্ট এস এম সুলতানের (শেখ মোহাম্মদ সুলতান) ১০০তম জন্মদিনে ১০০ বর্গফুট দৈর্ঘ্যরে এ ছবি প্রদর্শন করা হবে। এখানে প্রতিটি ছবিতে ভিন্ন ভিন্ন ক্যানভাসে সুলতানকে তুলে ধরেছে শিশুস্বর্গের শিশুরা।
এস এম সুলতান সংগ্রহশালার কিউরেটর তন্দ্রা মুখার্জি জানান, ‘মাটি ও মানুষের চিত্রশিল্পী এস এম সুলতান’ এর জন্মদিনটা এবার বড় পরিসরে পালিত হবে। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী, বরেণ্য চিত্রশিল্পী হাশেম খানসহ খ্যাতিমান চিত্রশিল্পীরা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করবেন। এছাড়া বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা সুলতানের জন্মদিনে উপস্থিত থাকবেন। এরই অংশ হিসেবে শিশুদের অঙ্কিত চিত্রকর্ম নিয়ে এবার ১০০ বর্গফুট দৈর্ঘ্যরে ছবি প্রদর্শন করা হবে। অতিথিবৃন্দ এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন। এছাড়া শিল্পী এস এম সুলতানের সমাধিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি, বরেণ্য শিল্পীদের আর্টক্যাম্প, বরেণ্য শিল্পীদের তত্ত¡াবধানে শিশু চিত্রকর্মশালা, শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, শিশুদের নিয়ে চিত্রা নদীতে নৌকা ভ্রমণ, এস এম সুলতানের চিত্রকর্মের পর্যালোচনা, আলোচনা সভা এবং এস এম সুলতানের ওপর নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র ‘আদমসুরত’ প্রদর্শন করা হবে।
শিশুস্বর্গের প্রধান শিক্ষক চিত্রশিল্পী বলদেব অধিকারী বলেন, এখানে (শিশুস্বর্গ) প্রতি শুক্র ও শনিবার শিশুদের চিত্রাঙ্কন শেখানো হয়। দেড়শতাধিক শিশু শিশুস্বর্গে নিয়মিত ক্লাস করে। শিশুদের রঙতুলিতে রঙিন হয়ে উঠে ‘এস এম সুলতানের জীবনাদর্শ’, ফুল-ফল, প্রকৃতি, নদী-নালা, খাল-বিল, গ্রামা ল, শহর, বন্দরসহ বিভিন্ন ধরণের বিষয়। এরই ধারাবাহিকতায় এস এম সুলতানের জীবন ও কর্মের উপর ৭৫জন শিশু ছবি এঁকেছে। ১০ আগস্ট সুলতানের জন্মদিনে শিশুদের অঙ্কিত এসব ছবি প্রদর্শিত হবে।
এস এম সুলতান ফাউন্ডেশনের সভাপতি জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশফাকুল হক চৌধুরী বলেন, বরেণ্য চিত্রশিল্পী এস এম সুলতানের জন্মদিন উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচী গ্রহণ করা হয়েছে। এদিকে, তার স্মৃতি সংরক্ষণে অনেক আগেই কমপ্লেক্স নির্মিত হয়েছে। পাশাপাশি সুলতানের ভ্রাম্যমাণ শিশুস্বর্গ তথা দ্বিতলা নৌকাটি চিত্রা নদীর পাড়ে সংরক্ষিত আছে। দেড় লাখ টাকা ব্যয়ে ইতোমধ্যে ঘাটটি সংস্কার করা হয়েছে। এছাড়া সুলতান কমপ্লেক্স আরো আকর্ষণীয় ও পর্যটনবান্ধব করে তুলতে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি কর্তৃপক্ষের কাছে বিভিন্ন প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে।
চিত্রশিল্পী এস এম সুলতান ১৯২৪ সালের ১০ আগস্ট নড়াইলের মাছিমদিয়ায় বাবা মেছের আলী ও মা মাজু বিবির ঘরে জন্মগ্রহণ করেন। চিত্রশিল্পের মূল্যায়ন হিসেবে এস এম সুলতান ১৯৮২ সালে পেয়েছেন একুশে পদক, ১৯৯৩ সালে স্বাধীনতা পদক, ১৯৮৪ সালে রেসিডেন্ট আর্টিস্ট স্বীকৃতি, ১৯৮৬ সালে বাংলাদেশ চারুশিল্পী সংসদ সম্মাননাসহ ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ‘ম্যান অব দ্য ইয়ার’, নিউইয়র্কের বায়োগ্রাফিক্যাল সেন্টার থেকে ‘ম্যান অব অ্যাচিভমেন্ট’ এবং এশিয়া উইক পত্রিকা থেকে ‘ম্যান অব এশিয়া’ পুরস্কারসহ বিভিন্ন সম্মাননা পেয়েছেন।
অসুস্থ অবস্থায় ১৯৯৪ সালের ১০ অক্টোবর যশোর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। প্রিয় জন্মভূমি নড়াইলের কুড়িগ্রাম এলাকায় সংগ্রহশালা চত্বরে চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন এসএম সুলতান।
ফরহাদ খান/ইবিটাইমস




















