জাহিদ দুলাল, ভোলা দক্ষিণ : ভোলার লালমোহনে হেলিপ্যাডের পূর্ব পাশে বসবাসকারী ৮ পরিবারের চলাচলের রাস্তায় এবং হেলিপ্যাডের ওপর গাছের চারা লাগিয়ে জাল দিয়ে ঘেরাও করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পৌর প্রশাসনের বিরুদ্ধে। তবে পৌর প্রশাসক বলছেন, সেখানে কোনো বৈধ রাস্তা ছিল না এবং নির্ধারিত স্থানেই গাছ লাগানো হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, বিগত সরকারের আমলে লালমোহন হেলিপ্যাডের উন্নয়নের নামে এর পূর্ব পাশের একটি পুকুর বালু দিয়ে ভরাট করা হয়। পুকুর ভরাটের আগে ওই পুকুরের পাড়ের অংশটি স্থানীয় বাসিন্দারা চলাচলের রাস্তা হিসেবে ব্যবহার করতেন। বর্তমানে সেখানে ৮টি পরিবার বসবাস করছে। আরও দুটি পরিবার জমি কিনে বাড়ি নির্মাণের কাজ শুরু করেছে বলে স্থানীয়রা জানান।
বাসিন্দাদের অভিযোগ, পুকুর ভরাটের পরও তারা হেলিপ্যাডের পূর্ব পাশের ওই জায়গা দিয়ে নিয়মিত যাতায়াত করতেন। সম্প্রতি সেখানে গাছের চারা লাগানোর উদ্যোগের কথা জানতে পেরে তারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করেন। একাধিকবার দেখা করে চলাচলের জায়গায় গাছ না লাগানোর অনুরোধও জানান তারা।
স্থানীয় বাসিন্দা রাশেদা বেগম বলেন, ‘আমরা এখানে ৮টি পরিবার বসবাস করি। আরও দুটি পরিবার জমি কিনে ঘর নির্মাণের কাজ শুরু করেছে। রাস্তায় গাছ লাগানো হবে জানতে পেরে আমরা লিখিতভাবে আবেদন করেছি এবং একাধিকবার পৌর প্রশাসকের সঙ্গে দেখা করেছি। তিনি আমাদের আশ্বস্ত করেছিলেন, চলাচলের রাস্তায় গাছ লাগানো হবে না।’
তার অভিযোগ, পরে পৌরসভার লোকজন নিয়ে এসে ওই জায়গায় গাছের চারা লাগানো হয় এবং গাছ ও রাস্তার চারপাশে জাল দিয়ে ঘেরাও করে দেওয়া হয়েছে। এতে তাদের চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।
রাশেদা বেগম আরও বলেন, ‘যিনি রক্ষক এবং বিচার করবেন, তিনিই যদি অনিয়ম করেন, তাহলে সাধারণ মানুষ কোথায় যাবে? জায়গাটি পৌরসভার হলেও মানুষের চলাচলের রাস্তা এভাবে বন্ধ করা যায় কি না—এটাই আমাদের প্রশ্ন।’
এলাকার আরও কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ওই জায়গা দিয়ে তারা চলাচল করে আসছেন। এখন সেখানে গাছ লাগিয়ে বেড়া দেওয়ায় বাড়ি থেকে বের হতে তাদের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। পৌরসভা থেকে ভবিষ্যতে হয়রানির আশঙ্কায় তারা নাম প্রকাশ করতে চাননি বলেও জানান।
স্থানীয়দের দাবি, শুধু হেলিপ্যাডের পূর্ব পাশের চলাচলের জায়গাতেই নয়, হেলিপ্যাডের ওপরও গাছের চারা লাগানো হয়েছে। তবে এসব গাছের যথাযথ পরিচর্যা করা হচ্ছে না বলেও অভিযোগ তাদের। হেলিপ্যাডে হেলিকপ্টার ওঠানামার জায়গায় গাছ লাগানোর বিষয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন লালমোহন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌরসভার প্রশাসক মোহাম্মদ সিফাত বিন সাদেক। তিনি বলেন, ‘মানুষের চলাচলের রাস্তায় গাছ লাগানোর কোনো সুযোগ নেই। হেলিপ্যাডের পূর্ব পাশে পৌরসভার কোনো রাস্তা ছিল না। সেখানে কিছু অবৈধ দখলদার রাস্তা তৈরি করে চলাচল করতেন। গাছ লাগানোর জন্য নির্ধারিত জায়গা ছাড়া কোথাও গাছ লাগানো হয়নি।’
পূর্ব পাশের বাসিন্দারা বর্তমানে কীভাবে যাতায়াত করবেন—এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনো নির্দিষ্ট উত্তর দেননি।
হেলিপ্যাডের ওপর গাছ লাগানোর বিষয়ে পৌর প্রশাসক বলেন, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, বন বিভাগ ও উদ্যানতত্ত্ববিদদের পরামর্শক্রমেই সেখানে গাছ লাগানো হয়েছে। তাদের পরামর্শ অনুযায়ী, এসব গাছ হেলিকপ্টার ওঠানামায় কোনো সমস্যা সৃষ্টি করবে না।
ঢাকা/ইবিটাইমস/এসএস




















