ভিয়েনা ১১:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
ইসরায়েলে নেতানিয়াহুকে হটাতে বিরোধী জোটের দিকে সহযোগিতার হাত বাড়াল আরব দলগুলো লালমোহনে সড়ক দুর্ঘটনায় বৃদ্ধের মৃত্যু, ঘাতক যান অজ্ঞাত শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষকদের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ: শিক্ষামন্ত্রী দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা, তবু যুক্তরাষ্ট্রে বলসোনারো? চোটে মুশফিক ছিটকে গেলেন, মিরপুর টেস্টে খেলছেন হৃদয় বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে জাপানকে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান লালমোহনে টেন্ডার ছাড়াই অর্ধ কোটি টাকার গাছ কর্তন! ইউএনও’র নীরব ভূমিকা ঝালকাঠিতে যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত ঝালকাঠিতে ইলিশ রক্ষার অভিযানে হামলা, আহত ৭ চরফ্যাশনে কালবেলার ৪র্থ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

ভারতে নতুন দেওয়ানি আইন, উদ্বেগে মুসলিমরা

  • EuroBanglaTimes
  • আপডেটের সময় ০২:০৭:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৭৭ সময় দেখুন

ইবিটাইমস ডেস্ক : ভারতের ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) শাসিত রাজ্যগুলোতে বিতর্কিত অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বা ইউনিফর্ম সিভিল কোড (ইউসিসি) দ্রুত বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তাঁর এই ঘোষণার পর দেশটির মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

রোববার এক বক্তব্যে অমিত শাহ বলেন, বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকার অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বাস্তবায়নে কাজ করছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি রাজ্যে ইউসিসি কার্যকর হয়েছে। ২০২৯ সালের মধ্যে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটের শাসনে থাকা ২১টি রাজ্যেই এই আইন বাস্তবায়নের আশা প্রকাশ করেন তিনি।

ভারতে বর্তমানে ফৌজদারি আইন সবার জন্য অভিন্ন হলেও বিয়ে, বিবাহবিচ্ছেদ, উত্তরাধিকার, দত্তক গ্রহণসহ পারিবারিক ও ব্যক্তিগত বিভিন্ন বিষয়ে ধর্ম ও সম্প্রদায়ভিত্তিক পৃথক ব্যক্তিগত আইন প্রচলিত রয়েছে। এসব ব্যক্তিগত আইনের পরিবর্তে সব ধর্ম ও সম্প্রদায়ের নাগরিকের জন্য একই দেওয়ানি আইন প্রণয়নই ইউসিসির মূল লক্ষ্য।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকারের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অঙ্গীকারগুলোর একটি হলো অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বাস্তবায়ন। বিজেপি নেতাদের মতে, ধর্মের ভিত্তিতে আলাদা ব্যক্তিগত আইন থাকার কারণে নাগরিকদের মধ্যে আইনি বৈষম্য তৈরি হয়। তাই বিয়ে, বিবাহবিচ্ছেদ, উত্তরাধিকার ও সম্পত্তির মতো বিষয়ে সবার জন্য একই আইন থাকা প্রয়োজন।

ইতোমধ্যে ভারতের অন্তত চারটি রাজ্যে ইউসিসি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব রাজ্যের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে অন্য বিজেপি-শাসিত রাজ্যগুলোতেও আইনটি কার্যকর করার পরিকল্পনা করছে কেন্দ্র ও সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকারগুলো।

তবে ইউসিসি নিয়ে সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ দেখা দিয়েছে মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে। তাদের আশঙ্কা, অভিন্ন দেওয়ানি আইন কার্যকর হলে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও নিজস্ব পারিবারিক রীতি অনুসরণের অধিকার সীমিত হতে পারে। বিশেষ করে মুসলিম ব্যক্তিগত আইনের আওতায় প্রচলিত বিয়ে, বিবাহবিচ্ছেদ ও উত্তরাধিকারসংক্রান্ত বিধানগুলো পরিবর্তিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন অনেকে।

সমালোচকদের মতে, ভারতের মতো বহু ধর্ম, ভাষা ও সংস্কৃতির দেশে পারিবারিক ও ব্যক্তিগত আইনগুলো ঐতিহাসিকভাবে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের ধর্মীয় ও সামাজিক রীতিনীতির সঙ্গে যুক্ত। ফলে অভিন্ন আইন চালুর ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সব সম্প্রদায়ের মতামত ও সাংবিধানিক অধিকার বিবেচনা করা জরুরি।

অন্যদিকে ইউসিসির সমর্থকদের দাবি, অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বাস্তবায়নের ফলে নারী-পুরুষের মধ্যে আইনি সমতা আরও শক্তিশালী হবে। তাদের মতে, বিভিন্ন ধর্মীয় ব্যক্তিগত আইনে থাকা বৈষম্যমূলক বিধান পরিবর্তনের মাধ্যমে নারীর সম্পত্তির অধিকার ও পারিবারিক অধিকার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

সমর্থকদের আরও দাবি, ইউসিসি কার্যকর হলে বহুবিবাহের মতো কিছু প্রথা বন্ধ করা যাবে এবং বিবাহবিচ্ছেদের ক্ষেত্রে আদালত ও আইনি প্রক্রিয়ার ভূমিকা আরও সুস্পষ্ট হবে। বিশেষ করে মুসলিম নারীদের অধিকার অন্যান্য সম্প্রদায়ের নারীদের সমপর্যায়ে নিয়ে আসার সুযোগ তৈরি হবে বলে তারা মনে করেন।

ভারতের সংবিধানে সব নাগরিকের সমান অধিকারের কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে সংবিধানের নির্দেশনামূলক নীতিতে নাগরিকদের জন্য অভিন্ন দেওয়ানি বিধি প্রণয়নের বিষয়টিও উল্লেখ রয়েছে। তবে এর বাস্তবায়ন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্ক চলছে।

ভারত বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশ এবং দেশটির জনসংখ্যার বড় অংশ হিন্দু সম্প্রদায়ের। এর পাশাপাশি প্রায় ২২ কোটি মুসলিম দেশটিতে বসবাস করেন। জনসংখ্যার দিক থেকে ভারতের মুসলিম জনগোষ্ঠী বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ। ফলে ইউসিসি বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত দেশটির সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

অমিত শাহের সর্বশেষ ঘোষণায় ইউসিসি বাস্তবায়নের বিষয়টি আবারও ভারতের জাতীয় রাজনীতির অন্যতম আলোচিত ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। আগামী কয়েক বছরে বিজেপি ও এনডিএ-শাসিত রাজ্যগুলোতে এই আইন কীভাবে বাস্তবায়ন করা হয় এবং মুসলিমসহ বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের উদ্বেগ কীভাবে মোকাবিলা করা হয়, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

ঢাকা/এসএস

ইসরায়েলে নেতানিয়াহুকে হটাতে বিরোধী জোটের দিকে সহযোগিতার হাত বাড়াল আরব দলগুলো

Address : Erlaaer Strasse 49/8/16 A-1230 Vienna,Austria. Mob : +43676848863279, 8801719316684 (BD) 8801911691101 ( Ads) Email : eurobanglatimes123@gmail.com
Translate »

ভারতে নতুন দেওয়ানি আইন, উদ্বেগে মুসলিমরা

আপডেটের সময় ০২:০৭:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইবিটাইমস ডেস্ক : ভারতের ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) শাসিত রাজ্যগুলোতে বিতর্কিত অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বা ইউনিফর্ম সিভিল কোড (ইউসিসি) দ্রুত বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তাঁর এই ঘোষণার পর দেশটির মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

রোববার এক বক্তব্যে অমিত শাহ বলেন, বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকার অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বাস্তবায়নে কাজ করছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি রাজ্যে ইউসিসি কার্যকর হয়েছে। ২০২৯ সালের মধ্যে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটের শাসনে থাকা ২১টি রাজ্যেই এই আইন বাস্তবায়নের আশা প্রকাশ করেন তিনি।

ভারতে বর্তমানে ফৌজদারি আইন সবার জন্য অভিন্ন হলেও বিয়ে, বিবাহবিচ্ছেদ, উত্তরাধিকার, দত্তক গ্রহণসহ পারিবারিক ও ব্যক্তিগত বিভিন্ন বিষয়ে ধর্ম ও সম্প্রদায়ভিত্তিক পৃথক ব্যক্তিগত আইন প্রচলিত রয়েছে। এসব ব্যক্তিগত আইনের পরিবর্তে সব ধর্ম ও সম্প্রদায়ের নাগরিকের জন্য একই দেওয়ানি আইন প্রণয়নই ইউসিসির মূল লক্ষ্য।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকারের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অঙ্গীকারগুলোর একটি হলো অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বাস্তবায়ন। বিজেপি নেতাদের মতে, ধর্মের ভিত্তিতে আলাদা ব্যক্তিগত আইন থাকার কারণে নাগরিকদের মধ্যে আইনি বৈষম্য তৈরি হয়। তাই বিয়ে, বিবাহবিচ্ছেদ, উত্তরাধিকার ও সম্পত্তির মতো বিষয়ে সবার জন্য একই আইন থাকা প্রয়োজন।

ইতোমধ্যে ভারতের অন্তত চারটি রাজ্যে ইউসিসি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব রাজ্যের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে অন্য বিজেপি-শাসিত রাজ্যগুলোতেও আইনটি কার্যকর করার পরিকল্পনা করছে কেন্দ্র ও সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকারগুলো।

তবে ইউসিসি নিয়ে সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ দেখা দিয়েছে মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে। তাদের আশঙ্কা, অভিন্ন দেওয়ানি আইন কার্যকর হলে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও নিজস্ব পারিবারিক রীতি অনুসরণের অধিকার সীমিত হতে পারে। বিশেষ করে মুসলিম ব্যক্তিগত আইনের আওতায় প্রচলিত বিয়ে, বিবাহবিচ্ছেদ ও উত্তরাধিকারসংক্রান্ত বিধানগুলো পরিবর্তিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন অনেকে।

সমালোচকদের মতে, ভারতের মতো বহু ধর্ম, ভাষা ও সংস্কৃতির দেশে পারিবারিক ও ব্যক্তিগত আইনগুলো ঐতিহাসিকভাবে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের ধর্মীয় ও সামাজিক রীতিনীতির সঙ্গে যুক্ত। ফলে অভিন্ন আইন চালুর ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সব সম্প্রদায়ের মতামত ও সাংবিধানিক অধিকার বিবেচনা করা জরুরি।

অন্যদিকে ইউসিসির সমর্থকদের দাবি, অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বাস্তবায়নের ফলে নারী-পুরুষের মধ্যে আইনি সমতা আরও শক্তিশালী হবে। তাদের মতে, বিভিন্ন ধর্মীয় ব্যক্তিগত আইনে থাকা বৈষম্যমূলক বিধান পরিবর্তনের মাধ্যমে নারীর সম্পত্তির অধিকার ও পারিবারিক অধিকার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

সমর্থকদের আরও দাবি, ইউসিসি কার্যকর হলে বহুবিবাহের মতো কিছু প্রথা বন্ধ করা যাবে এবং বিবাহবিচ্ছেদের ক্ষেত্রে আদালত ও আইনি প্রক্রিয়ার ভূমিকা আরও সুস্পষ্ট হবে। বিশেষ করে মুসলিম নারীদের অধিকার অন্যান্য সম্প্রদায়ের নারীদের সমপর্যায়ে নিয়ে আসার সুযোগ তৈরি হবে বলে তারা মনে করেন।

ভারতের সংবিধানে সব নাগরিকের সমান অধিকারের কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে সংবিধানের নির্দেশনামূলক নীতিতে নাগরিকদের জন্য অভিন্ন দেওয়ানি বিধি প্রণয়নের বিষয়টিও উল্লেখ রয়েছে। তবে এর বাস্তবায়ন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্ক চলছে।

ভারত বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশ এবং দেশটির জনসংখ্যার বড় অংশ হিন্দু সম্প্রদায়ের। এর পাশাপাশি প্রায় ২২ কোটি মুসলিম দেশটিতে বসবাস করেন। জনসংখ্যার দিক থেকে ভারতের মুসলিম জনগোষ্ঠী বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ। ফলে ইউসিসি বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত দেশটির সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

অমিত শাহের সর্বশেষ ঘোষণায় ইউসিসি বাস্তবায়নের বিষয়টি আবারও ভারতের জাতীয় রাজনীতির অন্যতম আলোচিত ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। আগামী কয়েক বছরে বিজেপি ও এনডিএ-শাসিত রাজ্যগুলোতে এই আইন কীভাবে বাস্তবায়ন করা হয় এবং মুসলিমসহ বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের উদ্বেগ কীভাবে মোকাবিলা করা হয়, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

ঢাকা/এসএস