ভিয়েনা ১১:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
ইসরায়েলে নেতানিয়াহুকে হটাতে বিরোধী জোটের দিকে সহযোগিতার হাত বাড়াল আরব দলগুলো লালমোহনে সড়ক দুর্ঘটনায় বৃদ্ধের মৃত্যু, ঘাতক যান অজ্ঞাত শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষকদের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ: শিক্ষামন্ত্রী দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা, তবু যুক্তরাষ্ট্রে বলসোনারো? চোটে মুশফিক ছিটকে গেলেন, মিরপুর টেস্টে খেলছেন হৃদয় বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে জাপানকে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান লালমোহনে টেন্ডার ছাড়াই অর্ধ কোটি টাকার গাছ কর্তন! ইউএনও’র নীরব ভূমিকা ঝালকাঠিতে যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত ঝালকাঠিতে ইলিশ রক্ষার অভিযানে হামলা, আহত ৭ চরফ্যাশনে কালবেলার ৪র্থ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

পে স্কেলের গেজেট ১৭, ২১ নাকি ২২ সেপ্টেম্বর?

  • EuroBanglaTimes
  • আপডেটের সময় ১২:৩০:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১২০ সময় দেখুন

ইবিটাইমস ডেস্ক : মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের প্রায় দুই সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন কাঠামোর প্রজ্ঞাপন বা গেজেট এখনো প্রকাশ হয়নি। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রজ্ঞাপনের খসড়া বর্তমানে অর্থ মন্ত্রণালয়ে রয়েছে। এটি এখনো আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হয়নি।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, আগামী বুধবারের মধ্যে আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং সম্পন্ন করা গেলে চলতি সেপ্টেম্বরেই নতুন পে স্কেলের গেজেট প্রকাশ হতে পারে। তবে প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় বিলম্ব হলে সময়ও পিছিয়ে যেতে পারে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, নবম পে স্কেলের গেজেট প্রকাশের জন্য ১৭, ২১ অথবা ২২ সেপ্টেম্বর—এই তিনটি সম্ভাব্য তারিখ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং শেষ হওয়ার পরই চূড়ান্ত তারিখ নির্ধারণ করা হবে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে অর্থ মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের এক কর্মকর্তা বলেন, পে স্কেলের গেজেট জারির দিনক্ষণ এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তবে একাধিক সম্ভাব্য সময় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং শেষ হওয়ার পর গেজেট জারির তারিখ নির্ধারণ করা হবে।

কেন দেরি হচ্ছে?

গত ৩১ আগস্ট সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো অনুমোদন করে মন্ত্রিসভা। অনুমোদনের পর এক সপ্তাহের মধ্যেই গেজেট প্রকাশের সম্ভাবনার কথা জানানো হলেও প্রায় দুই সপ্তাহ পেরিয়ে গেছে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, নতুন বেতন কাঠামোর সারাংশ আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।

আইন মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাও জানিয়েছেন, এখনো পে স্কেলের খসড়া তাঁদের কাছে পৌঁছায়নি। তাঁর ভাষ্য, গত সপ্তাহে খসড়াটি এক-দুই দিনের মধ্যে ভেটিংয়ের জন্য পাঠানোর কথা শোনা গেলেও এখন পর্যন্ত তা পাওয়া যায়নি।

সাবেক মন্ত্রিপরিষদসচিব আলী ইমাম মজুমদার বলেন, মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর গেজেট প্রকাশের আগে বেশ কিছু প্রশাসনিক ও আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়। এসব প্রক্রিয়া শেষ করতে কয়েক সপ্তাহ, এমনকি কখনো মাসও লেগে যেতে পারে।

সাবেক সচিব ড. মো. আনোয়ার উল্ল্যাহ বলেন, মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের জন্য পাঠানো খসড়ায় মূলত কোন গ্রেডে কত টাকা বেতন-ভাতা বাড়বে, তার সামগ্রিক প্রস্তাব থাকে। অনুমোদনের পর প্রজ্ঞাপনের বিস্তারিত খসড়া তৈরি করতে হয়।

তিনি জানান, জনপ্রশাসনের পাশাপাশি সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনী, বিজিবি, পুলিশ, সরকারি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা কীভাবে কার্যকর হবে, তাও প্রজ্ঞাপনে স্পষ্ট করতে হয়।

ভেটিংয়ের পর কী হবে?

প্রজ্ঞাপনের খসড়া প্রস্তুত হওয়ার পর সেটি আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হবে। সেখানে প্রস্তাবিত বেতন কাঠামোর সঙ্গে সংবিধান, চাকরিসংক্রান্ত আইন ও বিধির কোনো বিরোধ আছে কি না, তা পরীক্ষা করা হবে।

পাশাপাশি প্রজ্ঞাপনের ভাষা, আইনি পরিভাষা এবং কোনো ধরনের অস্পষ্টতা বা দ্ব্যর্থবোধকতা রয়েছে কি না, সেটিও যাচাই করা হবে।

ভেটিং শেষে প্রজ্ঞাপনের চূড়ান্ত খসড়া আবার অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। এরপর সেটি সরকারি মুদ্রণালয় বিজি প্রেসে পাঠানো হবে মুদ্রণের জন্য। মুদ্রণ শেষে অর্থ মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রজ্ঞাপন জারি করবে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, বিষয়টি আটকে নেই। গেজেট প্রকাশের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে সময় লাগছে। সামরিক-বেসামরিক বিভিন্ন শ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা যথাযথভাবে বাস্তবায়নের বিষয়গুলো চূড়ান্ত করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, দ্রুতই খসড়াটি ভেটিংয়ের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। এরপর প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।

উল্লেখ্য, সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সর্বশেষ জাতীয় বেতন কাঠামো ঘোষণা করা হয়েছিল ২০১৫ সালে। ওই বছরের ৭ সেপ্টেম্বর অষ্টম জাতীয় পে স্কেল মন্ত্রিসভায় চূড়ান্ত অনুমোদন পায়। পরে প্রায় সাড়ে তিন মাস পর ১৫ ডিসেম্বর চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে অর্থ মন্ত্রণালয়।

ঢাকা/এসএস

ইসরায়েলে নেতানিয়াহুকে হটাতে বিরোধী জোটের দিকে সহযোগিতার হাত বাড়াল আরব দলগুলো

Address : Erlaaer Strasse 49/8/16 A-1230 Vienna,Austria. Mob : +43676848863279, 8801719316684 (BD) 8801911691101 ( Ads) Email : eurobanglatimes123@gmail.com
Translate »

পে স্কেলের গেজেট ১৭, ২১ নাকি ২২ সেপ্টেম্বর?

আপডেটের সময় ১২:৩০:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইবিটাইমস ডেস্ক : মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের প্রায় দুই সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন কাঠামোর প্রজ্ঞাপন বা গেজেট এখনো প্রকাশ হয়নি। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রজ্ঞাপনের খসড়া বর্তমানে অর্থ মন্ত্রণালয়ে রয়েছে। এটি এখনো আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হয়নি।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, আগামী বুধবারের মধ্যে আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং সম্পন্ন করা গেলে চলতি সেপ্টেম্বরেই নতুন পে স্কেলের গেজেট প্রকাশ হতে পারে। তবে প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় বিলম্ব হলে সময়ও পিছিয়ে যেতে পারে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, নবম পে স্কেলের গেজেট প্রকাশের জন্য ১৭, ২১ অথবা ২২ সেপ্টেম্বর—এই তিনটি সম্ভাব্য তারিখ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং শেষ হওয়ার পরই চূড়ান্ত তারিখ নির্ধারণ করা হবে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে অর্থ মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের এক কর্মকর্তা বলেন, পে স্কেলের গেজেট জারির দিনক্ষণ এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তবে একাধিক সম্ভাব্য সময় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং শেষ হওয়ার পর গেজেট জারির তারিখ নির্ধারণ করা হবে।

কেন দেরি হচ্ছে?

গত ৩১ আগস্ট সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো অনুমোদন করে মন্ত্রিসভা। অনুমোদনের পর এক সপ্তাহের মধ্যেই গেজেট প্রকাশের সম্ভাবনার কথা জানানো হলেও প্রায় দুই সপ্তাহ পেরিয়ে গেছে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, নতুন বেতন কাঠামোর সারাংশ আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।

আইন মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাও জানিয়েছেন, এখনো পে স্কেলের খসড়া তাঁদের কাছে পৌঁছায়নি। তাঁর ভাষ্য, গত সপ্তাহে খসড়াটি এক-দুই দিনের মধ্যে ভেটিংয়ের জন্য পাঠানোর কথা শোনা গেলেও এখন পর্যন্ত তা পাওয়া যায়নি।

সাবেক মন্ত্রিপরিষদসচিব আলী ইমাম মজুমদার বলেন, মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর গেজেট প্রকাশের আগে বেশ কিছু প্রশাসনিক ও আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়। এসব প্রক্রিয়া শেষ করতে কয়েক সপ্তাহ, এমনকি কখনো মাসও লেগে যেতে পারে।

সাবেক সচিব ড. মো. আনোয়ার উল্ল্যাহ বলেন, মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের জন্য পাঠানো খসড়ায় মূলত কোন গ্রেডে কত টাকা বেতন-ভাতা বাড়বে, তার সামগ্রিক প্রস্তাব থাকে। অনুমোদনের পর প্রজ্ঞাপনের বিস্তারিত খসড়া তৈরি করতে হয়।

তিনি জানান, জনপ্রশাসনের পাশাপাশি সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনী, বিজিবি, পুলিশ, সরকারি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা কীভাবে কার্যকর হবে, তাও প্রজ্ঞাপনে স্পষ্ট করতে হয়।

ভেটিংয়ের পর কী হবে?

প্রজ্ঞাপনের খসড়া প্রস্তুত হওয়ার পর সেটি আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হবে। সেখানে প্রস্তাবিত বেতন কাঠামোর সঙ্গে সংবিধান, চাকরিসংক্রান্ত আইন ও বিধির কোনো বিরোধ আছে কি না, তা পরীক্ষা করা হবে।

পাশাপাশি প্রজ্ঞাপনের ভাষা, আইনি পরিভাষা এবং কোনো ধরনের অস্পষ্টতা বা দ্ব্যর্থবোধকতা রয়েছে কি না, সেটিও যাচাই করা হবে।

ভেটিং শেষে প্রজ্ঞাপনের চূড়ান্ত খসড়া আবার অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। এরপর সেটি সরকারি মুদ্রণালয় বিজি প্রেসে পাঠানো হবে মুদ্রণের জন্য। মুদ্রণ শেষে অর্থ মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রজ্ঞাপন জারি করবে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, বিষয়টি আটকে নেই। গেজেট প্রকাশের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে সময় লাগছে। সামরিক-বেসামরিক বিভিন্ন শ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা যথাযথভাবে বাস্তবায়নের বিষয়গুলো চূড়ান্ত করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, দ্রুতই খসড়াটি ভেটিংয়ের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। এরপর প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।

উল্লেখ্য, সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সর্বশেষ জাতীয় বেতন কাঠামো ঘোষণা করা হয়েছিল ২০১৫ সালে। ওই বছরের ৭ সেপ্টেম্বর অষ্টম জাতীয় পে স্কেল মন্ত্রিসভায় চূড়ান্ত অনুমোদন পায়। পরে প্রায় সাড়ে তিন মাস পর ১৫ ডিসেম্বর চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে অর্থ মন্ত্রণালয়।

ঢাকা/এসএস