শফিকুজ্জামান খান মোস্তফা, টাঙ্গাইল : ২০১৭ সালে বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে স্বাগত জানিয়ে মিছিলের ঘটনায় করা মামলায় দুই বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত শ্রমিকদল নেতা মোকলেস মিয়া ও যুবদল নেতা জাহিদুল ইসলাম আদালতে আত্মসমর্পণ করেছেন। জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুরে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন তারা। শুনানি শেষে ম্যাজিস্ট্রেট রিয়াদ হাসান তাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মোকলেস মিয়া ঢাকা মহানগর উত্তর শ্রমিক দলের আহ্বায়ক সদস্য এবং টাঙ্গাইল সদর আসনের সংসদ সদস্য ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাহউদ্দিন টুকুর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা। জাহিদুল ইসলাম যাত্রাবাড়ী থানা যুবদলের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১৭ সালের ২২ জুন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া আদালতে যাওয়ার সময় তাকে স্বাগত জানাতে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় ঈদগাহের প্রথম গেটের সামনে জড়ো হয়ে মিছিল করেন। এ সময় পুলিশের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি ও পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। পরে শাহবাগ থানায় দণ্ডবিধির ৩৫৩ ধারাসহ একাধিক ধারায় মামলা করা হয়।
মামলায় ৩২ জন সাক্ষীর নাম উল্লেখ করা হলেও রাষ্ট্রপক্ষ নয়জন সাক্ষীকে আদালতে হাজির করে। সাক্ষ্যগ্রহণ ও বিচারিক কার্যক্রম শেষে ২০২৩ সালের ২৮ ডিসেম্বর ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২৬-এর বিচারক মোকলেস মিয়া ও জাহিদুল ইসলামকে দণ্ডবিধির ৩৫৩ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করেন।
রায়ে প্রত্যেককে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং পাঁচ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়। জরিমানা অনাদায়ে আরও ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়। তবে মামলার অন্য ধারাগুলো থেকে তাদের খালাস দেওয়া হয়।
পরে ওই রায়ের বিরুদ্ধে ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতে ফৌজদারি আপিল করেন মোকলেস মিয়া ও জাহিদুল ইসলাম। আপিলে তাদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, মামলায় ৩২ জন সাক্ষীর নাম থাকলেও রাষ্ট্রপক্ষ মাত্র নয়জনকে আদালতে হাজির করেছে। গুরুত্বপূর্ণ ও নিরপেক্ষ সাক্ষীদের সাক্ষ্য নেওয়া হয়নি বলেও আপিলে উল্লেখ করা হয়।

আপিলে আরও দাবি করা হয়, রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষ্য ও মামলার অন্যান্য উপাদান বিবেচনায় আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়নি। নিম্ন আদালতের রায় ও সাজা বাতিল করে তাদের খালাস দেওয়ার পাশাপাশি আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত জামিনের আবেদন করা হয়েছে।
সোমবার আদালতে আত্মসমর্পণের পর তাদের পক্ষে জামিনের আবেদন করেন আইনজীবী অ্যাডভোকেট মাহবুবুল আলম। তিনি বলেন, ২০১৭ সালের মামলাটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং তারা আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে আদালতে আত্মসমর্পণ করেছেন। পরবর্তী সময়ে সাজা বাতিল ও জামিনের জন্য আইনগতভাবে আবেদন করা হবে।
এদিকে আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে মোকলেস মিয়া ও জাহিদুল ইসলামের মুক্তির দাবি জানান।
ঢাকা/এসএস






















