ভিয়েনা ১০:০১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চরফ্যাশনে জেলেদের ভিজিএফের চাল বিতরণ

  • EuroBanglaTimes
  • আপডেটের সময় ১০:২০:১৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬
  • ৩২ সময় দেখুন

চরফ্যাশনে জেলেদের ভিজিএফের চাল বিতরণ

শহিদুল ইসলাম জামাল, চরফ্যাশন : মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শুরু হওয়ায় ভোলার চরফ্যাশনে জীবিকা সংকটে পড়া জেলেদের মাঝে বিশেষ মৎস্য ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় খাদ্যসহায়তা হিসেবে চাল বিতরণ শুরু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার জিন্নাগড় ইউনিয়নে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ। এ সময় জেলেদের পরিচয়পত্র ও ভিজিএফ কার্ড যাচাই শেষে প্রত্যেকের হাতে ২৫ কেজি করে চাল তুলে দেওয়া হয়।

চরফ্যাশন উপজেলার ৩৫ হাজার ৬৫৬ জন প্রান্তিক জেলে ও মাঝি-মাল্লার জন্য সরকার মোট ৮৯১ দশমিক ৪ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দিয়েছে। নিষেধাজ্ঞাকালীন সময়ে জেলেদের খাদ্যসংকট কিছুটা লাঘব করতেই এ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

সরকার ঘোষিত নিষেধাজ্ঞা অনুযায়ী, ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন ইলিশ আহরণ, পরিবহন, মজুত ও বিক্রি বন্ধ থাকবে। মা ইলিশের নির্বিঘ্ন প্রজনন নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যতে ইলিশের উৎপাদন বাড়ানোই এ নিষেধাজ্ঞার মূল উদ্দেশ্য।

চাল বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা ও ইউনিয়ন প্রশাসক জয়ন্ত কুমার অপু, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নাজমুল হুদা, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ওয়ালিউল ইসলাম এবং জিন্নাগড় ইউনিয়ন প্রশাসনিক কর্মকর্তা আতাউর রহমানসহ সংশ্লিষ্টরা।

চাল পেয়ে জেলে কালাম বলেন, দীর্ঘদিন নদীতে ইলিশের তেমন দেখা মিলছে না। ইলিশ আহরণের সম্ভাবনাময় সময় হলেও মা ইলিশ রক্ষায় সরকারি নির্দেশনা মেনে মাছ ধরা থেকে বিরত রয়েছেন তারা। নিষেধাজ্ঞার ২২ দিন জাল ও নৌকা মেরামতের কাজে লাগাবেন বলেও জানান তিনি।

তিনি বলেন, সরকারি খাদ্যসহায়তা এই সংকটের সময়ে জেলেদের কিছুটা স্বস্তি দেবে। সবাই নিয়ম মেনে চললে ভবিষ্যতে ইলিশের উৎপাদন বাড়বে এবং জেলেরাও উপকৃত হবেন।

উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা ও ইউনিয়ন প্রশাসক জয়ন্ত কুমার অপু বলেন, মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান সফল করতে বিশেষ মৎস্য ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় জেলেদের মাঝে চাল বিতরণ শুরু হয়েছে। নিষেধাজ্ঞার সময়ে জেলেরা যাতে খাদ্যসংকটে না পড়েন, সে লক্ষ্যেই এ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, মা ইলিশ রক্ষায় সরকারি নির্দেশনা মেনে চলতে জেলেদের সচেতন করা হচ্ছে। ইলিশের প্রজনন নির্বিঘ্ন হলে ভবিষ্যতে মাছের উৎপাদন ও জেলেদের আয় বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুমানা আফরোজ বলেন, মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত জেলেদের খাদ্যসহায়তা দেওয়া হচ্ছে। চরফ্যাশনের তালিকাভুক্ত জেলেদের জন্য বরাদ্দ করা ভিজিএফের চাল বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

তিনি নিষেধাজ্ঞার সময়ে জেলেদের সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানান এবং অভিযান সফল করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের অনুরোধ করেন।

সংশ্লিষ্টদের আশা, নিষেধাজ্ঞা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন এবং জেলেদের সচেতন অংশগ্রহণের মাধ্যমে মা ইলিশের প্রজনন সুরক্ষিত হবে। এর ফলে ভবিষ্যতে ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং দেশের মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

ঢাকা/এসএস

জনপ্রিয়
Address : Erlaaer Strasse 49/8/16 A-1230 Vienna,Austria. Mob : +43676848863279, 8801719316684 (BD) 8801911691101 ( Ads) Email : eurobanglatimes123@gmail.com
Translate »

চরফ্যাশনে জেলেদের ভিজিএফের চাল বিতরণ

আপডেটের সময় ১০:২০:১৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬

শহিদুল ইসলাম জামাল, চরফ্যাশন : মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শুরু হওয়ায় ভোলার চরফ্যাশনে জীবিকা সংকটে পড়া জেলেদের মাঝে বিশেষ মৎস্য ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় খাদ্যসহায়তা হিসেবে চাল বিতরণ শুরু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার জিন্নাগড় ইউনিয়নে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ। এ সময় জেলেদের পরিচয়পত্র ও ভিজিএফ কার্ড যাচাই শেষে প্রত্যেকের হাতে ২৫ কেজি করে চাল তুলে দেওয়া হয়।

চরফ্যাশন উপজেলার ৩৫ হাজার ৬৫৬ জন প্রান্তিক জেলে ও মাঝি-মাল্লার জন্য সরকার মোট ৮৯১ দশমিক ৪ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দিয়েছে। নিষেধাজ্ঞাকালীন সময়ে জেলেদের খাদ্যসংকট কিছুটা লাঘব করতেই এ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

সরকার ঘোষিত নিষেধাজ্ঞা অনুযায়ী, ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন ইলিশ আহরণ, পরিবহন, মজুত ও বিক্রি বন্ধ থাকবে। মা ইলিশের নির্বিঘ্ন প্রজনন নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যতে ইলিশের উৎপাদন বাড়ানোই এ নিষেধাজ্ঞার মূল উদ্দেশ্য।

চাল বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা ও ইউনিয়ন প্রশাসক জয়ন্ত কুমার অপু, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নাজমুল হুদা, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ওয়ালিউল ইসলাম এবং জিন্নাগড় ইউনিয়ন প্রশাসনিক কর্মকর্তা আতাউর রহমানসহ সংশ্লিষ্টরা।

চাল পেয়ে জেলে কালাম বলেন, দীর্ঘদিন নদীতে ইলিশের তেমন দেখা মিলছে না। ইলিশ আহরণের সম্ভাবনাময় সময় হলেও মা ইলিশ রক্ষায় সরকারি নির্দেশনা মেনে মাছ ধরা থেকে বিরত রয়েছেন তারা। নিষেধাজ্ঞার ২২ দিন জাল ও নৌকা মেরামতের কাজে লাগাবেন বলেও জানান তিনি।

তিনি বলেন, সরকারি খাদ্যসহায়তা এই সংকটের সময়ে জেলেদের কিছুটা স্বস্তি দেবে। সবাই নিয়ম মেনে চললে ভবিষ্যতে ইলিশের উৎপাদন বাড়বে এবং জেলেরাও উপকৃত হবেন।

উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা ও ইউনিয়ন প্রশাসক জয়ন্ত কুমার অপু বলেন, মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান সফল করতে বিশেষ মৎস্য ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় জেলেদের মাঝে চাল বিতরণ শুরু হয়েছে। নিষেধাজ্ঞার সময়ে জেলেরা যাতে খাদ্যসংকটে না পড়েন, সে লক্ষ্যেই এ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, মা ইলিশ রক্ষায় সরকারি নির্দেশনা মেনে চলতে জেলেদের সচেতন করা হচ্ছে। ইলিশের প্রজনন নির্বিঘ্ন হলে ভবিষ্যতে মাছের উৎপাদন ও জেলেদের আয় বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুমানা আফরোজ বলেন, মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত জেলেদের খাদ্যসহায়তা দেওয়া হচ্ছে। চরফ্যাশনের তালিকাভুক্ত জেলেদের জন্য বরাদ্দ করা ভিজিএফের চাল বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

তিনি নিষেধাজ্ঞার সময়ে জেলেদের সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানান এবং অভিযান সফল করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের অনুরোধ করেন।

সংশ্লিষ্টদের আশা, নিষেধাজ্ঞা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন এবং জেলেদের সচেতন অংশগ্রহণের মাধ্যমে মা ইলিশের প্রজনন সুরক্ষিত হবে। এর ফলে ভবিষ্যতে ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং দেশের মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

ঢাকা/এসএস