বাঁধন রায়, ঝালকাঠি : নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ, নারী ও কন্যাশিশুর অধিকার সুরক্ষা এবং সমাজে বিদ্যমান বৈষম্যমূলক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনে ঝালকাঠিতে সচেতনতামূলক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বেলা ১১টায় ঝালকাঠি সদর উপজেলার পোনাবালিয়া ইউনিয়নের প্রত্যন্ত অঞ্চলে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
‘সমতায় তারুণ্য: ইয়ুথ ফর ইক্যুয়ালিটি’ প্রকল্পের আওতায় স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক সংগঠন ইয়ুথ অ্যাকশন সোসাইটি (ইয়াস) এ উদ্যোগের আয়োজন করে।

জাগো ফাউন্ডেশন ট্রাস্টের উদ্যোগে, প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের সহযোগিতায় এবং নেদারল্যান্ডস সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত প্রকল্পের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কর্মসূচিটি বাস্তবায়ন করা হয়।
কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য ছিল নারীর প্রতি সহিংসতার বিভিন্ন কারণ ও ধরন সম্পর্কে স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সচেতন করা, জেন্ডারভিত্তিক বৈষম্য ও প্রচলিত গতানুগতিক ধারণা চিহ্নিত করা এবং সহিংসতা প্রতিরোধে কমিউনিটির সদস্যদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।
এতে উপস্থিত ছিলেন ইয়াসের সাধারণ সম্পাদক মো. মাহিদুল ইসলাম (রাব্বি), প্রশিক্ষক দোলন আক্তার ও শাহরিয়ার পাপনসহ স্থানীয় নারী, পুরুষ ও যুব সংগঠনের সদস্যরা।

অনুষ্ঠানে ইয়াসের সাধারণ সম্পাদক মো. মাহিদুল ইসলাম (রাব্বি) বলেন, নারীর প্রতি সহিংসতা শুধু একজন নারীর ব্যক্তিগত সমস্যা নয়, এটি একটি সামাজিক সমস্যা। পরিবার থেকে শুরু করে সমাজের প্রতিটি স্তরে নারীর সম্মান, সমান অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, নারীর প্রতি সহিংসতা ও বৈষম্য প্রতিরোধে স্থানীয় জনগোষ্ঠী, যুব সংগঠন, জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় প্রয়োজন।
প্রশিক্ষক দোলন আক্তার বলেন, সামাজিক সংকোচ, ভয় ও সচেতনতার অভাবে নারীর প্রতি সহিংসতার অনেক ঘটনা প্রকাশ্যে আসে না। তাই স্থানীয় পর্যায়ে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করা এবং ভুক্তভোগীদের সহায়তা পাওয়ার পথ সম্পর্কে সবাইকে সচেতন করা জরুরি।
প্রশিক্ষক শাহরিয়ার পাপন বলেন, নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে নারী-পুরুষের মধ্যে সমতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ গড়ে তুলতে হবে। পাশাপাশি বৈষম্যমূলক ধারণা পরিবর্তন করে সহিংসতার বিরুদ্ধে সামাজিকভাবে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান তৈরি করতে হবে।
কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা স্থানীয় পর্যায়ে নারীর প্রতি সহিংসতা, জেন্ডার বৈষম্য এবং নারী ও কন্যাশিশুর অধিকারসংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত করেন।
আয়োজকেরা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সচেতনতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা বাড়বে। পাশাপাশি নারী, পুরুষ ও তরুণদের সম্মিলিত অংশগ্রহণে নিরাপদ, সমতাভিত্তিক ও সহিংসতামুক্ত সমাজ গঠনে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।
ঢাকা/এসএস



















