ইবিটাইমস ডেস্ক : পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী ভøাদিস্লাভ কোসিনিয়াক-কামিশকে হত্যার ষড়যন্ত্রের সন্দেহে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতারের পর তদন্ত শুরু করেছে দেশটির পুলিশ।
রোববার পোল্যান্ডের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র কারোলিনা গালেতস্কা এএফপিকে জানান, সন্দেহভাজন ব্যক্তির বাড়িতে তল্লাশি অব্যাহত রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘এই ব্যক্তির বিষয়ে পাওয়া তথ্য অবশ্যই পুলিশ যাচাই করবে।’
এর আগে প্রধানমন্ত্রী টাস্ক ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মারচিন কিয়েরভিনস্কি জানিয়েছিলেন, এ ঘটনায় এক সন্দেহভাজনকে আটক করা হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে টাস্ক লেখেন, ‘হামলার হুমকি দেওয়া ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে।’
এ সময় তিনি পুলিশের ‘দ্রুত ও দৃঢ় পদক্ষেপের’ প্রশংসা করেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কিয়েরভিনস্কি রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম টিভিপি ইনফোকে জানান, ষাটের কোঠায় বয়সী ওই ব্যক্তিকে দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় লোয়ার সাইলেসিয়া অঞ্চল থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘অনলাইনে প্রকাশিত বিভিন্ন বিষয়বস্তুর পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তার সন্ধান পায়।’
সন্দেহভাজন ব্যক্তির যোগাযোগ ও ইন্টারনেটে তার কর্মকাণ্ড খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
এর আগে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, প্রধানমন্ত্রী টাস্ক ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী কোসিনিয়াক-কামিশ সম্ভাব্য হত্যাচেষ্টার লক্ষ্যবস্তু হয়ে থাকতে পারেন।
মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গালেতস্কা বলেন, প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রীর বিরুদ্ধে সম্ভাব্য হুমকির খবর পাওয়ার পর রাষ্ট্রীয় সুরক্ষা সংস্থা (এসওপি) পুলিশকে বিষয়টি জানায়।
রোববার এ ঘটনা নিয়ে আলোচনা করতে পুলিশ, রাষ্ট্রীয় সুরক্ষা সংস্থা ও পোল্যান্ডের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থার কর্মকর্তারা বৈঠক করেন।
বিশেষ নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর সমন্বয়বিষয়ক মন্ত্রীর মুখপাত্র ইয়াচেক দোবঝিনস্কি বৈঠকের পর সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুতর হিসেবে দেখছি।’
তিনি বলেন, পোল্যান্ডের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে হুমকির ঘটনা ক্রমেই বাড়ছে। তবে এ ঘটনায় হুমকি বাস্তবায়িত হওয়ার ‘জোরালো আশঙ্কা’ ছিল।
– একাধিক হামলার ঘটনায় বাড়তি সতর্কতা –
ন্যাটো ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য পোল্যান্ড গত এক সপ্তাহে ধারাবাহিক ছুরিকাঘাতের ঘটনার পর সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী টাস্ক এসব ঘটনাকে ‘সহিংসতার সংস্কৃতি’ হিসেবে নিন্দা জানান।
পুলিশ রোববার জানিয়েছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের চত্বরে সহিংসতার ঘটনার পর প্রায় ৬৪ হাজার প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করা হয়েছে এবং ১১৭ জনকে আটক করা হয়েছে।
গত সেপ্টেম্বরে পোল্যান্ডের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ১৭ বছর বয়সী এক নাৎসি মতাদর্শের সমর্থককে গ্রেফতার করে। তার বিরুদ্ধে একটি স্কুল ও একটি মসজিদে হামলার পরিকল্পনা করার সন্দেহ রয়েছে।
দেশটির অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা জানিয়েছে, ওই গ্রেফতারের ঘটনায় পরে আরও দুই অপ্রাপ্তবয়স্ককে আটক করা হয়।
২০২২ সালে রাশিয়া ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে ইউক্রেনের ঘনিষ্ঠ মিত্র পোল্যান্ড নিজ ভূখণ্ডে রাশিয়ার নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড ও ‘হাইব্রিড যুদ্ধ’ নিয়ে বারবার সতর্ক করেছে।
তবে মস্কো এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।
তবে কথিত হত্যাচেষ্টার পেছনে বিদেশি কোনো পক্ষের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনই সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কিয়েরভিনস্কি।
টিভিপি ইনফোকে তিনি বলেন, ‘এ পর্যায়ে কোনো বিদেশি সংশ্লিষ্টতার সম্ভাবনা রয়েছে বলে দাবি করা সম্ভবত খুব তাড়াতাড়ি হয়ে যাবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বরং মনে হচ্ছে, ওই ব্যক্তি অত্যন্ত উগ্রপন্থী কিছু গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত এবং ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে উগ্রপন্থী যোগাযোগ গড়ে তুলছিলেন।’
ঢাকা/এসএস





















