শফিকুজ্জামান খান মোস্তফা, টাঙ্গাইল : টাঙ্গাইলের গোপালপুরে পেটে জোড়া লাগানো যমজ শিশুর জন্ম হয়েছে। তাদের মাথা, হাত ও পা আলাদা হলেও পেটের অংশ পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত। এমনকি পায়খানা ও প্রস্রাবের পথও একসঙ্গে যুক্ত বলে জানা গেছে। বিরল শারীরিক বৈশিষ্ট্য নিয়ে জন্ম নেওয়া শিশু দুটির ভবিষ্যৎ ও উন্নত চিকিৎসা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছে পরিবার।
উপজেলার দীঘলআটা গ্রামের মেহেদী হাসান ও নুপুর বেগম দম্পতির ঘরে জন্ম নেয় শিশু দুটি। গত শনিবার সন্ধ্যায় প্রসববেদনা নিয়ে গোপালপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হন নুপুর বেগম। পরে চিকিৎসক ডা. নাদিমের তত্ত্বাবধানে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে যমজ শিশুর জন্ম হয়।

শিশু দুটির জন্মের খবর ছড়িয়ে পড়লে তাদের দেখতে হাসপাতালের সামনে ভিড় করেন উৎসুক মানুষ। তবে নবজাতকদের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর উদ্বেগে রয়েছেন তাদের বাবা-মা।
জানা গেছে, শিশুদের বাবা মেহেদী হাসান ফুটপাতে ছোটখাটো ব্যবসা করে সংসার চালান। সীমিত আয়ের কারণে সন্তানদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া এবং পরবর্তী চিকিৎসার ব্যয় বহন করা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তিনি।
শিশু দুটির জীবন রক্ষায় দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শ, প্রয়োজনে মেডিকেল বোর্ড গঠন এবং উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা। আর্থিক সংকটের কারণে যেন নবজাতকদের চিকিৎসা ব্যাহত না হয়, সে জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও বিত্তবানদের এগিয়ে আসার দাবি জানিয়েছেন তারা।

শিরিন শাহিদ হাসপাতালের মালিক রিপন আহমেদ বলেন, সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তার হাসপাতালে প্রথমবারের মতো এমন বিরল শারীরিক বৈশিষ্ট্যের শিশুর জন্ম হয়েছে। মা ও নবজাতকরা দুজনেই সুস্থ আছেন। উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন হলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা করবে।
গোপালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. খাইরুল আলম বলেন, গত রাতে একটি বেসরকারি ক্লিনিকে শিশুটির জন্ম হয়েছে। তিনি জানতে পেরেছেন, শিশু দুটির মাথা দুটি, হাত চারটি এবং পা চারটি। তাই তাদের বিশেষ যত্ন নেওয়া প্রয়োজন।
ঢাকা/এসএস




















