ভিয়েনা ১২:১২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
ভাঙা ব্রিজে জীবনের ঝুঁকি, আতঙ্ক নিয়ে স্কুলে যায় শিশুরা গৃহবন্দি থাকার শর্ত পূরণে জরিমানা পরিশোধ করলেন মালয়েশিয়ার কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী মিয়ানমারে পাচারের চেষ্টা, ৪৯২ বস্তা ইউরিয়া সারসহ আটক ৮ সমগ্র ইউরোপজুড়ে বিমানে বোমা হামলার হুমকি মাভাবিপ্রবিতে ক্যারিয়ার গাইডেন্স ও প্রফেশনাল নেটওয়ার্কিং সেমিনার অনুষ্ঠিত কালিহাতীতে গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ, স্বামীও আহত নভেম্বরে বঙ্গোপসাগরে এক থেকে দুটি ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কা মোংলায় পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মোংলা থেকে উত্তরাঞ্চল পর্যন্ত গড়ে উঠবে জ্বালানি অবকাঠামো: প্রধানমন্ত্রী অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য উৎপাদন, চরফ্যাশনের তামিম বেকারিকে জরিমানা

ভাঙা ব্রিজে জীবনের ঝুঁকি, আতঙ্ক নিয়ে স্কুলে যায় শিশুরা

  • EuroBanglaTimes
  • আপডেটের সময় ১২:২৯:৫০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬
  • ১৫ সময় দেখুন

ভাঙা ব্রিজে জীবনের ঝুঁকি, আতঙ্ক নিয়ে স্কুলে যায় শিশুরা

জাহিদ দুলাল, ভোলা দক্ষিণ : ভোলার লালমোহন উপজেলায় একটি জরাজীর্ণ গার্ডার ব্রিজ যেন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। ব্রিজের ভাঙা স্লাবের ওপর ফেলে রাখা হয়েছে সুপারি গাছ। সেই গাছের তৈরি অস্থায়ী সাঁকো দিয়েই প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছেন চার গ্রামের শত শত মানুষ। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের প্রতিদিনই চলাচল করতে হচ্ছে চরম আতঙ্ক নিয়ে।

উপজেলার মোতাহার নগর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের গণেশপুর এলাকার নয়া ভাঙ্গানী খালের ওপর নির্মিত ১২ মিটার দৈর্ঘ্যের ব্রিজটির এমন বেহাল দশা দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে। ২০০৯ সালে স্থানীয়দের যাতায়াতের সুবিধার্থে ব্রিজটি নির্মাণ করা হয়। কিন্তু নির্মাণের মাত্র এক বছরের মাথায়, ২০১০ সালের দিকে এর পূর্ব পাশ ও মাঝের অংশের স্লাব ধসে খালে পড়ে যায়। এরপর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও ব্রিজটি সংস্কার কিংবা নতুন করে নির্মাণের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

স্থানীয়রা জানান, ব্রিজের ভাঙা অংশ দিয়ে চলাচলের কোনো উপায় না থাকায় পূর্ব পাশ ও মাঝখানে সুপারি গাছ ফেলে অস্থায়ী সাঁকো তৈরি করা হয়েছে। অন্যদিকে পশ্চিম পাশে কাঠ দিয়ে তৈরি করা হয়েছে মইয়ের মতো ব্যবস্থা। এভাবেই কোনোমতে পারাপার হচ্ছেন এলাকাবাসী। ব্রিজের ওপর দিয়ে কেউ হাঁটলেই পুরো কাঠামো কাঁপতে থাকে। সামান্য অসতর্কতায় খালে পড়ে ঘটতে পারে প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা। ইতোমধ্যে ব্রিজ থেকে পড়ে শিশুসহ বিভিন্ন বয়সী অনেকে আহত হয়েছেন।

এ পথে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে স্কুলপড়ুয়া শিক্ষার্থীদের। ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী শান্ত, পঞ্চম শ্রেণির আব্দুল্লাহ ও চতুর্থ শ্রেণির ইব্রাহিম জানায়, ব্রিজটি পার হওয়ার সময় তাদের খুব ভয় লাগে। সব সময় মনে হয়, এই বুঝি ব্রিজটি ভেঙে খালে পড়ে যাবে। তাদের মতো এলাকার অন্য শিক্ষার্থীদেরও প্রতিদিন আতঙ্ক নিয়ে স্কুলে যাতায়াত করতে হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা বাচ্চু মাতাব্বর, শাহে আলম ও শামছুল হক সিকদার বলেন, ব্রিজটি নির্মাণের এক বছরের মাথায় পূর্ব পাশ ও মাঝের অংশ ভেঙে খালে পড়ে যায়। পশ্চিম পাশের অংশটি বর্তমানে রাস্তার তুলনায় অনেক উঁচুতে রয়েছে। তাই সুপারি গাছ ফেলে কোনোমতে পারাপারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ব্রিজের ওপর মানুষ উঠলেই সেটি কাঁপতে থাকে। বিকল্প কোনো রাস্তা না থাকায় বাধ্য হয়েই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।

তারা আরও জানান, ব্রিজটি দিয়ে আশপাশের কয়েক গ্রামের শত শত মানুষ প্রতিদিন যাতায়াত করেন। এটি ভেঙে যাওয়ার পর থেকে অটোরিকশাসহ কোনো যানবাহন চলাচল করতে পারে না। এতে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়তে হয় অসুস্থ রোগী, বয়োবৃদ্ধ ও গর্ভবতী নারীদের। জরুরি প্রয়োজনে কাউকে উপজেলা সদর হাসপাতালে নিতে হলে বাঁশ দিয়ে পালকি তৈরি করে বাজার পর্যন্ত নিয়ে যেতে হয়। এতে রোগীর স্বজনদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়।

দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেতে দ্রুত ব্রিজটি সংস্কার অথবা নতুন করে নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। এ বিষয়ে ভোলা-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদের (বীরবিক্রম) সুদৃষ্টি কামনা করেছেন তারা।

এ বিষয়ে লালমোহন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ সিফাত বিন সাদেক বলেন, ওই ব্রিজসহ উপজেলায় জরাজীর্ণ অবস্থায় থাকা সব ব্রিজের তালিকা প্রস্তুত করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে দ্রুত সময়ের মধ্যে ব্রিজটি সংস্কার অথবা নতুন করে নির্মাণের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
ঢাকা/এসএস

জনপ্রিয়

ভাঙা ব্রিজে জীবনের ঝুঁকি, আতঙ্ক নিয়ে স্কুলে যায় শিশুরা

Address : Erlaaer Strasse 49/8/16 A-1230 Vienna,Austria. Mob : +43676848863279, 8801719316684 (BD) 8801911691101 ( Ads) Email : eurobanglatimes123@gmail.com
Translate »

ভাঙা ব্রিজে জীবনের ঝুঁকি, আতঙ্ক নিয়ে স্কুলে যায় শিশুরা

আপডেটের সময় ১২:২৯:৫০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬

জাহিদ দুলাল, ভোলা দক্ষিণ : ভোলার লালমোহন উপজেলায় একটি জরাজীর্ণ গার্ডার ব্রিজ যেন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। ব্রিজের ভাঙা স্লাবের ওপর ফেলে রাখা হয়েছে সুপারি গাছ। সেই গাছের তৈরি অস্থায়ী সাঁকো দিয়েই প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছেন চার গ্রামের শত শত মানুষ। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের প্রতিদিনই চলাচল করতে হচ্ছে চরম আতঙ্ক নিয়ে।

উপজেলার মোতাহার নগর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের গণেশপুর এলাকার নয়া ভাঙ্গানী খালের ওপর নির্মিত ১২ মিটার দৈর্ঘ্যের ব্রিজটির এমন বেহাল দশা দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে। ২০০৯ সালে স্থানীয়দের যাতায়াতের সুবিধার্থে ব্রিজটি নির্মাণ করা হয়। কিন্তু নির্মাণের মাত্র এক বছরের মাথায়, ২০১০ সালের দিকে এর পূর্ব পাশ ও মাঝের অংশের স্লাব ধসে খালে পড়ে যায়। এরপর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও ব্রিজটি সংস্কার কিংবা নতুন করে নির্মাণের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

স্থানীয়রা জানান, ব্রিজের ভাঙা অংশ দিয়ে চলাচলের কোনো উপায় না থাকায় পূর্ব পাশ ও মাঝখানে সুপারি গাছ ফেলে অস্থায়ী সাঁকো তৈরি করা হয়েছে। অন্যদিকে পশ্চিম পাশে কাঠ দিয়ে তৈরি করা হয়েছে মইয়ের মতো ব্যবস্থা। এভাবেই কোনোমতে পারাপার হচ্ছেন এলাকাবাসী। ব্রিজের ওপর দিয়ে কেউ হাঁটলেই পুরো কাঠামো কাঁপতে থাকে। সামান্য অসতর্কতায় খালে পড়ে ঘটতে পারে প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা। ইতোমধ্যে ব্রিজ থেকে পড়ে শিশুসহ বিভিন্ন বয়সী অনেকে আহত হয়েছেন।

এ পথে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে স্কুলপড়ুয়া শিক্ষার্থীদের। ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী শান্ত, পঞ্চম শ্রেণির আব্দুল্লাহ ও চতুর্থ শ্রেণির ইব্রাহিম জানায়, ব্রিজটি পার হওয়ার সময় তাদের খুব ভয় লাগে। সব সময় মনে হয়, এই বুঝি ব্রিজটি ভেঙে খালে পড়ে যাবে। তাদের মতো এলাকার অন্য শিক্ষার্থীদেরও প্রতিদিন আতঙ্ক নিয়ে স্কুলে যাতায়াত করতে হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা বাচ্চু মাতাব্বর, শাহে আলম ও শামছুল হক সিকদার বলেন, ব্রিজটি নির্মাণের এক বছরের মাথায় পূর্ব পাশ ও মাঝের অংশ ভেঙে খালে পড়ে যায়। পশ্চিম পাশের অংশটি বর্তমানে রাস্তার তুলনায় অনেক উঁচুতে রয়েছে। তাই সুপারি গাছ ফেলে কোনোমতে পারাপারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ব্রিজের ওপর মানুষ উঠলেই সেটি কাঁপতে থাকে। বিকল্প কোনো রাস্তা না থাকায় বাধ্য হয়েই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।

তারা আরও জানান, ব্রিজটি দিয়ে আশপাশের কয়েক গ্রামের শত শত মানুষ প্রতিদিন যাতায়াত করেন। এটি ভেঙে যাওয়ার পর থেকে অটোরিকশাসহ কোনো যানবাহন চলাচল করতে পারে না। এতে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়তে হয় অসুস্থ রোগী, বয়োবৃদ্ধ ও গর্ভবতী নারীদের। জরুরি প্রয়োজনে কাউকে উপজেলা সদর হাসপাতালে নিতে হলে বাঁশ দিয়ে পালকি তৈরি করে বাজার পর্যন্ত নিয়ে যেতে হয়। এতে রোগীর স্বজনদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়।

দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেতে দ্রুত ব্রিজটি সংস্কার অথবা নতুন করে নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। এ বিষয়ে ভোলা-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদের (বীরবিক্রম) সুদৃষ্টি কামনা করেছেন তারা।

এ বিষয়ে লালমোহন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ সিফাত বিন সাদেক বলেন, ওই ব্রিজসহ উপজেলায় জরাজীর্ণ অবস্থায় থাকা সব ব্রিজের তালিকা প্রস্তুত করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে দ্রুত সময়ের মধ্যে ব্রিজটি সংস্কার অথবা নতুন করে নির্মাণের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
ঢাকা/এসএস