ভিয়েনা ১২:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
মাভাবিপ্রবিতে ক্যারিয়ার গাইডেন্স ও প্রফেশনাল নেটওয়ার্কিং সেমিনার অনুষ্ঠিত কালিহাতীতে গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ, স্বামীও আহত নভেম্বরে বঙ্গোপসাগরে এক থেকে দুটি ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কা মোংলায় পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মোংলা থেকে উত্তরাঞ্চল পর্যন্ত গড়ে উঠবে জ্বালানি অবকাঠামো: প্রধানমন্ত্রী অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য উৎপাদন, চরফ্যাশনের তামিম বেকারিকে জরিমানা আদালতের রায়ের পরও জমি দখলের অভিযোগ, প্রতিকার চান আনোয়ার ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে কালিহাতীতে সুজন সাহা গ্রেপ্তার ব্যক্তির উদ্যোগে বদলে গেল টাঙ্গাইলের ২০ গ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থা ‘আমেরিকানরা যুদ্ধের বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন’: ইরানের প্রধান আলোচক

ব্যক্তির উদ্যোগে বদলে গেল টাঙ্গাইলের ২০ গ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থা

  • EuroBanglaTimes
  • আপডেটের সময় ১১:১৭:০৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬
  • ৩১ সময় দেখুন

ব্যক্তির উদ্যোগে বদলে গেল টাঙ্গাইলের ২০ গ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থা

শফিকুজ্জামান খান মোস্তফা, টাঙ্গাইল : সরকারি বরাদ্দ কিংবা কোনো সংস্থার অর্থায়ন ছাড়াই ব্যক্তিগত উদ্যোগে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার ২০টি গ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থায় পরিবর্তন এনেছেন সমাজসেবক আব্দুস ছাত্তার সিকদার। নিজের অর্থায়নে গত তিন বছরে ৬২টি গ্রামীণ সড়ক সংস্কার করেছেন তিনি। এখনো অব্যাহত রয়েছে তাঁর এই উদ্যোগ।

আব্দুস ছাত্তার সিকদার মির্জাপুর উপজেলার ৯ নম্বর বহুরিয়া ইউনিয়নের সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মরহুম জয়নাল সিকদারের ছেলে। বাবার জনকল্যাণমূলক কাজের ধারাবাহিকতা ধরে রেখে এলাকার মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি।

একসময় বহুরিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের সড়ক ছিল কাদামাটি, খানাখন্দ আর বর্ষার পানিতে চলাচলের অনুপযোগী। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে অসুস্থ রোগী ও গর্ভবতী নারীদের হাসপাতালে নেওয়া ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। অনেক সময় ভাঙাচোরা রাস্তার কারণে জরুরি যানবাহনও গ্রামে প্রবেশ করতে পারত না।

স্থানীয়দের এমন দুর্ভোগ দেখে নিজ উদ্যোগে সড়ক সংস্কারের কাজে নামেন আব্দুস ছাত্তার। গত তিন বছরে তিন শতাধিক মাহিন্দ্র ট্রাকে করে ভাঙা ইট বা রাবিশ ফেলে ২০টি গ্রামের ৬২টি সড়ক চলাচলের উপযোগী করেছেন তিনি।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ছাত্তার সিকদারের এই উদ্যোগ এখন নিয়মিত কার্যক্রমে পরিণত হয়েছে। বছরের যেকোনো সময় কোনো রাস্তা চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়লে তাঁকে খবর দেন এলাকাবাসী। খবর পাওয়ার পরই তাঁর নিজস্ব ইটভাটা থেকে পৌঁছে যায় ভাঙা ইটের গাড়ি। মানুষের জরুরি প্রয়োজনে ব্যবহারের জন্য ইটভাটায় আলাদাভাবে রাবিশ জমিয়েও রাখা হয়।

গবড়া গ্রামের খোরশেদ আলম, হাবিবুর রহমান মুন্না, চান্দুলিয়া গ্রামের লিটন মিয়া ও আমজাদ হোসেন, কোট বহুরিয়া গ্রামের শরিফুল সিকদার সুজন ও রফিকুল আলমসহ বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দারা তাঁর এ উদ্যোগের প্রশংসা করেন।

দিঘুলিয়া গ্রামের খলিলুর রহমান, আরশেদ আলী, কোরবান আলী, নাজমা আক্তার ও মর্জিনা আক্তার জানান, গ্রামীণ সড়ক উন্নয়নে সরকারি বরাদ্দ থাকলেও প্রয়োজনের তুলনায় তা অনেক সময় অপ্রতুল। এমন পরিস্থিতিতে জনপ্রতিনিধি না হয়েও নিজের অর্থ ব্যয় করে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন ছাত্তার সিকদার। সড়ক সংস্কারের পাশাপাশি এলাকার মানুষের বিপদে-আপদেও সহযোগিতা করেন তিনি।

বহুরিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আলহাজ হোসাইন বলেন, দক্ষিণ মির্জাপুর, বিশেষ করে বহুরিয়া ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ আমলে উল্লেখযোগ্য উন্নয়নমূলক কাজ হয়নি। তাঁর অভিযোগ, বরাদ্দের অর্থ যথাযথভাবে কাজে লাগানো হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে ছাত্তার নিজের অর্থায়নে এলাকায় উন্নয়নমূলক কাজ করে যাচ্ছেন।

মির্জাপুর উপজেলা বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আব্দুস ছাত্তার সিকদার বলেন, ‘নিজের জায়গা থেকে যতটুকু সম্ভব মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করছি। তিন বছর ধরে এভাবেই কাজ করে যাচ্ছি। সামনে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এলাকার মানুষ চাইলে এবং দলীয় মনোনয়ন পেলে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ইচ্ছা রয়েছে। তবে নির্বাচনে অংশ নিই বা না নিই, মানুষের সেবা করা অব্যাহত থাকবে।’

মির্জাপুর উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) মো. জালাল উদ্দিন খান বলেন, মির্জাপুরে নতুন যোগদান করেই বহুরিয়া ইউনিয়নে ছাত্তার সিকদারের সমাজসেবামূলক কাজের বিষয়টি জেনেছেন। তাঁর এ উদ্যোগ প্রশংসনীয়। সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে সড়ক ব্যবহার ও রক্ষণাবেক্ষণে সচেতন হলে রাস্তার স্থায়িত্ব বাড়বে এবং সাধারণ মানুষ উপকৃত হবে।

টাঙ্গাইল এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী জাহানারা পারভীন বলেন, গ্রামীণ সড়ক সচল রাখা এবং মানুষের চলাচলের দুর্ভোগ কমাতে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি ব্যক্তিগত ও সামাজিক উদ্যোগও গুরুত্বপূর্ণ। জনপ্রতিনিধি না হয়েও আব্দুস ছাত্তার সিকদার যেভাবে সড়ক উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণে ভূমিকা রাখছেন, তা প্রশংসনীয়। তাঁর এ উদ্যোগ গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
ঢাকা/এসএস

জনপ্রিয়

মাভাবিপ্রবিতে ক্যারিয়ার গাইডেন্স ও প্রফেশনাল নেটওয়ার্কিং সেমিনার অনুষ্ঠিত

Address : Erlaaer Strasse 49/8/16 A-1230 Vienna,Austria. Mob : +43676848863279, 8801719316684 (BD) 8801911691101 ( Ads) Email : eurobanglatimes123@gmail.com
Translate »

ব্যক্তির উদ্যোগে বদলে গেল টাঙ্গাইলের ২০ গ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থা

আপডেটের সময় ১১:১৭:০৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬

শফিকুজ্জামান খান মোস্তফা, টাঙ্গাইল : সরকারি বরাদ্দ কিংবা কোনো সংস্থার অর্থায়ন ছাড়াই ব্যক্তিগত উদ্যোগে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার ২০টি গ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থায় পরিবর্তন এনেছেন সমাজসেবক আব্দুস ছাত্তার সিকদার। নিজের অর্থায়নে গত তিন বছরে ৬২টি গ্রামীণ সড়ক সংস্কার করেছেন তিনি। এখনো অব্যাহত রয়েছে তাঁর এই উদ্যোগ।

আব্দুস ছাত্তার সিকদার মির্জাপুর উপজেলার ৯ নম্বর বহুরিয়া ইউনিয়নের সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মরহুম জয়নাল সিকদারের ছেলে। বাবার জনকল্যাণমূলক কাজের ধারাবাহিকতা ধরে রেখে এলাকার মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি।

একসময় বহুরিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের সড়ক ছিল কাদামাটি, খানাখন্দ আর বর্ষার পানিতে চলাচলের অনুপযোগী। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে অসুস্থ রোগী ও গর্ভবতী নারীদের হাসপাতালে নেওয়া ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। অনেক সময় ভাঙাচোরা রাস্তার কারণে জরুরি যানবাহনও গ্রামে প্রবেশ করতে পারত না।

স্থানীয়দের এমন দুর্ভোগ দেখে নিজ উদ্যোগে সড়ক সংস্কারের কাজে নামেন আব্দুস ছাত্তার। গত তিন বছরে তিন শতাধিক মাহিন্দ্র ট্রাকে করে ভাঙা ইট বা রাবিশ ফেলে ২০টি গ্রামের ৬২টি সড়ক চলাচলের উপযোগী করেছেন তিনি।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ছাত্তার সিকদারের এই উদ্যোগ এখন নিয়মিত কার্যক্রমে পরিণত হয়েছে। বছরের যেকোনো সময় কোনো রাস্তা চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়লে তাঁকে খবর দেন এলাকাবাসী। খবর পাওয়ার পরই তাঁর নিজস্ব ইটভাটা থেকে পৌঁছে যায় ভাঙা ইটের গাড়ি। মানুষের জরুরি প্রয়োজনে ব্যবহারের জন্য ইটভাটায় আলাদাভাবে রাবিশ জমিয়েও রাখা হয়।

গবড়া গ্রামের খোরশেদ আলম, হাবিবুর রহমান মুন্না, চান্দুলিয়া গ্রামের লিটন মিয়া ও আমজাদ হোসেন, কোট বহুরিয়া গ্রামের শরিফুল সিকদার সুজন ও রফিকুল আলমসহ বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দারা তাঁর এ উদ্যোগের প্রশংসা করেন।

দিঘুলিয়া গ্রামের খলিলুর রহমান, আরশেদ আলী, কোরবান আলী, নাজমা আক্তার ও মর্জিনা আক্তার জানান, গ্রামীণ সড়ক উন্নয়নে সরকারি বরাদ্দ থাকলেও প্রয়োজনের তুলনায় তা অনেক সময় অপ্রতুল। এমন পরিস্থিতিতে জনপ্রতিনিধি না হয়েও নিজের অর্থ ব্যয় করে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন ছাত্তার সিকদার। সড়ক সংস্কারের পাশাপাশি এলাকার মানুষের বিপদে-আপদেও সহযোগিতা করেন তিনি।

বহুরিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আলহাজ হোসাইন বলেন, দক্ষিণ মির্জাপুর, বিশেষ করে বহুরিয়া ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ আমলে উল্লেখযোগ্য উন্নয়নমূলক কাজ হয়নি। তাঁর অভিযোগ, বরাদ্দের অর্থ যথাযথভাবে কাজে লাগানো হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে ছাত্তার নিজের অর্থায়নে এলাকায় উন্নয়নমূলক কাজ করে যাচ্ছেন।

মির্জাপুর উপজেলা বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আব্দুস ছাত্তার সিকদার বলেন, ‘নিজের জায়গা থেকে যতটুকু সম্ভব মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করছি। তিন বছর ধরে এভাবেই কাজ করে যাচ্ছি। সামনে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এলাকার মানুষ চাইলে এবং দলীয় মনোনয়ন পেলে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ইচ্ছা রয়েছে। তবে নির্বাচনে অংশ নিই বা না নিই, মানুষের সেবা করা অব্যাহত থাকবে।’

মির্জাপুর উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) মো. জালাল উদ্দিন খান বলেন, মির্জাপুরে নতুন যোগদান করেই বহুরিয়া ইউনিয়নে ছাত্তার সিকদারের সমাজসেবামূলক কাজের বিষয়টি জেনেছেন। তাঁর এ উদ্যোগ প্রশংসনীয়। সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে সড়ক ব্যবহার ও রক্ষণাবেক্ষণে সচেতন হলে রাস্তার স্থায়িত্ব বাড়বে এবং সাধারণ মানুষ উপকৃত হবে।

টাঙ্গাইল এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী জাহানারা পারভীন বলেন, গ্রামীণ সড়ক সচল রাখা এবং মানুষের চলাচলের দুর্ভোগ কমাতে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি ব্যক্তিগত ও সামাজিক উদ্যোগও গুরুত্বপূর্ণ। জনপ্রতিনিধি না হয়েও আব্দুস ছাত্তার সিকদার যেভাবে সড়ক উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণে ভূমিকা রাখছেন, তা প্রশংসনীয়। তাঁর এ উদ্যোগ গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
ঢাকা/এসএস