ইবিটাইমস ডেস্ক : ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান আরও জোরদার করার সময় ও কৌশল নিয়ে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে সামরিক পদক্ষেপের আগে কূটনৈতিক আলোচনার সুযোগ দেওয়া উচিত কি না, তা নিয়ে দুই নেতার মধ্যে মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে।
সোমবার (২ নভেম্বর) বার্তা সংস্থা এএফপির বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদনে দুই দেশের কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে বলা হয়, গত শনিবার ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মধ্যে এ ফোনালাপ হয়। এতে ইরানের সঙ্গে চলমান আলোচনা এবং যুদ্ধের সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন তারা।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই ইরানে হামলা চালানোর জন্য ট্রাম্পকে চাপ দেন নেতানিয়াহু। অন্যদিকে ট্রাম্প মনে করেন, সামরিক অভিযান আরও জোরদার করার আগে ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনার অগ্রগতির সুযোগ দেওয়া প্রয়োজন।
ফোনালাপটিকে একজন ইসরাইলি কর্মকর্তা ‘উত্তপ্ত বা টানাপোড়েনপূর্ণ’ বলে বর্ণনা করেছেন। তবে এক মার্কিন কর্মকর্তা আলোচনাটিকে ‘সরাসরি’ বলে উল্লেখ করেছেন।
ইরানের সঙ্গে আট মাস ধরে চলা সংঘাতে ট্রাম্প প্রশাসন একই সঙ্গে সামরিক ও কূটনৈতিক পথে এগিয়েছে। একদিকে ইরানের বিরুদ্ধে বিমান হামলাসহ বিভিন্ন সামরিক অভিযান চালানো হয়েছে, অন্যদিকে শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরু এবং গুরুত্বপূর্ণ তেল ও গ্যাস পরিবহনের পথ হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দিতে তেহরানের সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা চলছে।
শনিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, যুদ্ধ বন্ধে ইরানের সঙ্গে আলোচনা ভালোভাবেই এগোচ্ছে। তবে দেশটিতে এখনো এক বা দুটি লক্ষ্যবস্তু রয়েছে, যেগুলোর বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
তিনি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্র এখনই নতুন করে সামরিক অভিযান শুরু করতে তাড়াহুড়ো করছে না। কারণ, ইতোমধ্যে ইরানের সামরিক সক্ষমতা ও পারমাণবিক কর্মসূচি ব্যাপকভাবে ধ্বংস করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
এদিকে শনিবার ইরানের নিরাপত্তাপ্রধান মোহসেন রেজায়ি জানান, স্থবির হয়ে পড়া আলোচনা পুনরায় শুরু করার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের পাঠানো একটি চিঠি তিনি পেয়েছেন। এর পরপরই ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর ফোনালাপের খবর সামনে আসে।
অন্যদিকে যুদ্ধ বন্ধে মধ্যস্থতাকারীরাও নতুন করে তৎপরতা শুরু করেছেন। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, শুক্রবার কাতারের একটি প্রতিনিধিদল ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনার জন্য তেহরানে পৌঁছেছে।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও চাপ বাড়ছে ট্রাম্পের ওপর। যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানির দাম ও জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় মার্কিন ভোটারদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোটের মাধ্যমে এই অসন্তোষের প্রতিফলন ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ঢাকা/এসএস




















