ভিয়েনা ১০:৪৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারে গৃহবধূর মৃত্যু, হত্যা নাকি আত্মহত্যা? লালমোহনে সরকারি টেকনিক্যাল কলেজসহ দুই প্রতিষ্ঠানের কেউ পাস করেনি টাঙ্গাইলে পেটে জোড়া লাগানো যমজ শিশুর জন্ম, উন্নত চিকিৎসা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পরিবার ইরান যুদ্ধের পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে নেতানিয়াহুর সঙ্গে ট্রাম্পের ফোনালাপ ইয়েমেনের বন্দর ও তেল স্থাপনায় সৌদি হামলা, আহত ৭ ইরানকে আবারও ‘কঠোর আঘাত’ করার হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের হরমুজ প্রণালীতে অজ্ঞাত বস্তুর আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজ কৃষক কার্ডে মিলবে আবহাওয়ার আগাম বার্তা, মোবাইলেই পাবেন সতর্কতা শ্রমিক আন্দোলনের নামে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করলে কঠোর ব্যবস্থা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দৈনিক বাংলাদেশ বাণীর দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

কৃষক কার্ডে মিলবে আবহাওয়ার আগাম বার্তা, মোবাইলেই পাবেন সতর্কতা

  • EuroBanglaTimes
  • আপডেটের সময় ০৮:০৬:১৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
  • ১৩ সময় দেখুন

কৃষক কার্ডে মিলবে আবহাওয়ার আগাম বার্তা, মোবাইলেই পাবেন সতর্কতা

ইবিটাইমস ডেস্ক : কৃষকদের জন্য নতুন সুবিধা নিয়ে আসছে সরকারের কৃষক কার্ড কর্মসূচি। এ কার্ডের মাধ্যমে কৃষকদের মোবাইল ফোনে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পৌঁছে দেওয়া হবে আবহাওয়ার আগাম পূর্বাভাস। ফলে বৃষ্টি, খরা, ঝড় কিংবা তাপমাত্রার পরিবর্তন সম্পর্কে আগেই সতর্ক হয়ে চাষাবাদের পরিকল্পনা করতে পারবেন কৃষকরা।

সোমবার (২ নভেম্বর) রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্বাভাবিক সময়ে প্রতি ছয় ঘণ্টা পরপর এবং দুর্যোগকালীন পরিস্থিতিতে প্রয়োজন অনুযায়ী একাধিকবার এসএমএসের মাধ্যমে আবহাওয়ার পূর্বাভাস পাঠানো হবে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অধীন কৃষি তথ্য সার্ভিস (এআইএস) এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করবে।

কৃষক কার্ডের আওতায় শুধু আবহাওয়ার পূর্বাভাস নয়, কৃষি উপকরণ সহায়তা, স্বল্প সুদে ঋণ, সেচ সুবিধা ও কৃষি বীমাসহ মোট ১০ ধরনের সেবা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী চার বছরে দেশের প্রায় ২ কোটি ৪০ লাখ কৃষককে এ কর্মসূচির আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার।

কৃষিতে আবহাওয়ার প্রভাব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনিয়মিত বৃষ্টিপাত, অতিবৃষ্টি, খরা, ঝড় কিংবা তাপমাত্রার পরিবর্তনে প্রায়ই ফসলের ক্ষতি হয়। আগাম পূর্বাভাস পেলে কৃষকরা সেচ, সার প্রয়োগ, বালাইনাশক ব্যবহার ও ফসল সংগ্রহের বিষয়ে সময়মতো সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।

যেমন, ধান কাটার মৌসুমে বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলে আগাম সতর্কবার্তা পেয়ে দ্রুত ফসল ঘরে তোলার প্রস্তুতি নিতে পারবেন কৃষকরা। একইভাবে বৃষ্টির পূর্বাভাস অনুযায়ী সেচের প্রয়োজন নির্ধারণ করা গেলে পানি ও উৎপাদন খরচ কমানোর সুযোগ তৈরি হবে।

কৃষক কার্ড কর্মসূচির আওতায় প্রকৃত কৃষকদের শনাক্ত করে একটি সমন্বিত তথ্যভান্ডার তৈরির কাজও চলছে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৪৩ লাখ কৃষককে কার্ড দেওয়ার কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে দেশের ৬৪ জেলার ৫০৩টি উপজেলার ১ হাজার ৬৮১টি কৃষি ব্লকে প্রায় ২২ লাখ কৃষকের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। পাশাপাশি কৃষক কার্ড-সংক্রান্ত ৯ লাখ ব্যাংক হিসাব খোলা হয়েছে।

গত ১ অক্টোবর দেশের ৫৬ জেলার ৭৭টি উপজেলায় একযোগে কর্মসূচির কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়। এ পর্যায়ে ১ লাখ ১০ হাজার ১৬৫ জন কৃষককে কর্মসূচির আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এর আগে চলতি বছরের মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত প্রাক-পাইলটিং কার্যক্রমে আট বিভাগের ১০ জেলার ১১টি উপজেলায় ২০ হাজার ৮৩২ জন কৃষকের মধ্যে কার্ড বিতরণ করা হয়। এ সময় ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের মধ্যে ২০ হাজার ৪৮০ জনকে জনপ্রতি বছরে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে মোট ৫ কোটি ১২ লাখ টাকা আর্থিক প্রণোদনা দেওয়া হয়।

প্রকল্পের ডেপুটি প্রোগ্রাম ডিরেক্টর মো. রাকিবুজ্জামান খান বলেন, কৃষকদের সঠিক তথ্য সংগ্রহ ও চাহিদা নিরূপণের মাধ্যমে কৃষির আধুনিকায়নে সহায়তা করা হচ্ছে। নির্ভরযোগ্য তথ্যভান্ডার গড়ে উঠলে কৃষকদের প্রয়োজন অনুযায়ী প্রশিক্ষণ, আধুনিক প্রযুক্তি ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া সহজ হবে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সেলিম খান বলেন, কৃষকদের মোবাইলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে আবহাওয়ার পূর্বাভাস পাঠানোর উদ্যোগ সমন্বিত সেবাব্যবস্থায় নতুন মাত্রা যোগ করবে। এর ফলে কৃষকরা আবহাওয়ার তথ্যের ভিত্তিতে চাষাবাদের পরিকল্পনা সাজাতে এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি নিতে পারবেন।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, পর্যায়ক্রমে দেশের সব জেলা, উপজেলা ও কৃষি ব্লককে কৃষক কার্ড কর্মসূচির আওতায় আনা হবে।
ঢাকা/এসএস

জনপ্রিয়

টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারে গৃহবধূর মৃত্যু, হত্যা নাকি আত্মহত্যা?

Address : Erlaaer Strasse 49/8/16 A-1230 Vienna,Austria. Mob : +43676848863279, 8801719316684 (BD) 8801911691101 ( Ads) Email : eurobanglatimes123@gmail.com
Translate »

কৃষক কার্ডে মিলবে আবহাওয়ার আগাম বার্তা, মোবাইলেই পাবেন সতর্কতা

আপডেটের সময় ০৮:০৬:১৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬

ইবিটাইমস ডেস্ক : কৃষকদের জন্য নতুন সুবিধা নিয়ে আসছে সরকারের কৃষক কার্ড কর্মসূচি। এ কার্ডের মাধ্যমে কৃষকদের মোবাইল ফোনে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পৌঁছে দেওয়া হবে আবহাওয়ার আগাম পূর্বাভাস। ফলে বৃষ্টি, খরা, ঝড় কিংবা তাপমাত্রার পরিবর্তন সম্পর্কে আগেই সতর্ক হয়ে চাষাবাদের পরিকল্পনা করতে পারবেন কৃষকরা।

সোমবার (২ নভেম্বর) রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্বাভাবিক সময়ে প্রতি ছয় ঘণ্টা পরপর এবং দুর্যোগকালীন পরিস্থিতিতে প্রয়োজন অনুযায়ী একাধিকবার এসএমএসের মাধ্যমে আবহাওয়ার পূর্বাভাস পাঠানো হবে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অধীন কৃষি তথ্য সার্ভিস (এআইএস) এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করবে।

কৃষক কার্ডের আওতায় শুধু আবহাওয়ার পূর্বাভাস নয়, কৃষি উপকরণ সহায়তা, স্বল্প সুদে ঋণ, সেচ সুবিধা ও কৃষি বীমাসহ মোট ১০ ধরনের সেবা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী চার বছরে দেশের প্রায় ২ কোটি ৪০ লাখ কৃষককে এ কর্মসূচির আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার।

কৃষিতে আবহাওয়ার প্রভাব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনিয়মিত বৃষ্টিপাত, অতিবৃষ্টি, খরা, ঝড় কিংবা তাপমাত্রার পরিবর্তনে প্রায়ই ফসলের ক্ষতি হয়। আগাম পূর্বাভাস পেলে কৃষকরা সেচ, সার প্রয়োগ, বালাইনাশক ব্যবহার ও ফসল সংগ্রহের বিষয়ে সময়মতো সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।

যেমন, ধান কাটার মৌসুমে বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলে আগাম সতর্কবার্তা পেয়ে দ্রুত ফসল ঘরে তোলার প্রস্তুতি নিতে পারবেন কৃষকরা। একইভাবে বৃষ্টির পূর্বাভাস অনুযায়ী সেচের প্রয়োজন নির্ধারণ করা গেলে পানি ও উৎপাদন খরচ কমানোর সুযোগ তৈরি হবে।

কৃষক কার্ড কর্মসূচির আওতায় প্রকৃত কৃষকদের শনাক্ত করে একটি সমন্বিত তথ্যভান্ডার তৈরির কাজও চলছে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৪৩ লাখ কৃষককে কার্ড দেওয়ার কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে দেশের ৬৪ জেলার ৫০৩টি উপজেলার ১ হাজার ৬৮১টি কৃষি ব্লকে প্রায় ২২ লাখ কৃষকের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। পাশাপাশি কৃষক কার্ড-সংক্রান্ত ৯ লাখ ব্যাংক হিসাব খোলা হয়েছে।

গত ১ অক্টোবর দেশের ৫৬ জেলার ৭৭টি উপজেলায় একযোগে কর্মসূচির কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়। এ পর্যায়ে ১ লাখ ১০ হাজার ১৬৫ জন কৃষককে কর্মসূচির আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এর আগে চলতি বছরের মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত প্রাক-পাইলটিং কার্যক্রমে আট বিভাগের ১০ জেলার ১১টি উপজেলায় ২০ হাজার ৮৩২ জন কৃষকের মধ্যে কার্ড বিতরণ করা হয়। এ সময় ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের মধ্যে ২০ হাজার ৪৮০ জনকে জনপ্রতি বছরে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে মোট ৫ কোটি ১২ লাখ টাকা আর্থিক প্রণোদনা দেওয়া হয়।

প্রকল্পের ডেপুটি প্রোগ্রাম ডিরেক্টর মো. রাকিবুজ্জামান খান বলেন, কৃষকদের সঠিক তথ্য সংগ্রহ ও চাহিদা নিরূপণের মাধ্যমে কৃষির আধুনিকায়নে সহায়তা করা হচ্ছে। নির্ভরযোগ্য তথ্যভান্ডার গড়ে উঠলে কৃষকদের প্রয়োজন অনুযায়ী প্রশিক্ষণ, আধুনিক প্রযুক্তি ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া সহজ হবে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সেলিম খান বলেন, কৃষকদের মোবাইলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে আবহাওয়ার পূর্বাভাস পাঠানোর উদ্যোগ সমন্বিত সেবাব্যবস্থায় নতুন মাত্রা যোগ করবে। এর ফলে কৃষকরা আবহাওয়ার তথ্যের ভিত্তিতে চাষাবাদের পরিকল্পনা সাজাতে এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি নিতে পারবেন।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, পর্যায়ক্রমে দেশের সব জেলা, উপজেলা ও কৃষি ব্লককে কৃষক কার্ড কর্মসূচির আওতায় আনা হবে।
ঢাকা/এসএস