ভিয়েনা ০৭:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
ভিয়েনায় ৫০হাজার শিক্ষার্থীদের মেগা-বিক্ষোভ ইউক্রেন-যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ত্রিপক্ষীয় আলোচনা শুরুতে প্রস্তুত রাশিয়া সৌদি আরবে প্রাইভেটকারের চাপায় হবিগঞ্জের যুবক নিহত জাতিসংঘের ৮১তম বার্ষিকী: কার্যকর জাতিসংঘই গড়ে তুলতে পারে একটি ন্যায়সংগত বিশ্ব হাইড্রোকার্বন খাতে সহযোগিতায় বাংলাদেশ-আলজেরিয়ার সমঝোতা স্মারক নির্বাচনী ব্যবস্থায় আমূল সংস্কার প্রয়োজন: স্পিকার ভিয়েনায় বৃহস্পতিবার স্টুডেন্টস ইউনিয়নের বৃহত বিক্ষোভের ডাক বেনাপোলে ১৮টি স্বর্ণের বারসহ আটক ১, জব্দ মোটরসাইকেল হাতে মেহেদির রং, বিয়ের ছয় দিনেই নববধূর মৃত্যু; আটক স্বামী-শাশুড়ি জামায়াতের জান্নাতের পথ ‘দাজ্জালের জান্নাত’: রাশেদ খাঁন

ভিয়েনায় করোনার লকডাউনের প্রতিবাদে ১০,০০০ হাজার মানুষের বিক্ষোভ !

  • EuroBanglaTimes
  • আপডেটের সময় ০১:৫২:১৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২১
  • ১৬৭ সময় দেখুন

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ গতকাল শনিবার ১৬ জানুয়ারী বিকালে অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায় প্রায় ১০,০০০ হাজার মানুষ সরকারের গৃহীত করোনার বিধিনিষেধ ও লকডাউনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে এক বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে। সাবেক FPÖ প্রধান ও বিতর্কিত রাজনীতিবিদ হাইন্স ক্রিশ্চিয়ান স্ট্রাখেকেও এই সমাবেশে উপস্থিত থাকতে দেখা গেছে।

বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীরা বর্তমান সরকারের পদত্যাগ দাবী করে সরকারী বিরোধী নানান শ্লোগান দেয়। বিভিন্ন ডানপন্থী গ্রুপ এই বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করে। অবশ্য প্রথমে তারা ৩০,০০০ হাজার মানুষের বিক্ষোভের কথা বলেছিল। কিন্ত গতকাল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হুঁশিয়ারী ও ব্যাপক পুলিশের উপস্থিতি থাকার কারনে লোকজন বেশী হতে পারে নি। মহামারী করোনা নিয়ন্ত্রণে আনার লক্ষ্যে মার্চ থেকে আল্পাইন(আল্পস) পর্বতমালা বেষ্টিত এই দেশটিতে বর্তমানে করোনার তৃতীয় লকডাউন চলছে। এর ফলে অপ্রয়োজনীয় দোকান, কনসার্ট হল এবং থিয়েটার, ক্রীড়া কেন্দ্র এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে।

অস্ট্রিয়ার অর্থনীতির মূল চালিকা শক্তির অন্যতম হ’ল পর্যটন শিল্প এবং গ্যাস্ট্রোনমি। বৈশ্বিক মহামারী করোনার জন্য স্থবির হয়ে পড়েছে অস্ট্রিয়ার অর্থনীতি। অস্ট্রিয়ার এক পত্রিকার রিপোর্ট অনুযায়ী আগামী কয়েক মাসের মধ্যে অস্ট্রিয়ার অনেক ছোট প্রতিষ্ঠান ও রেস্টুরেন্ট দেউলিয়া ঘোষিত হওয়ার পথে। গাবি নামে এক বিক্ষোভকারী মহিলা সংবাদ মাধ্যমকে বলেন,”আমাদের যে মৃত্যুর সংখ্যা দেওয়া হচ্ছে, তা আবর্জনা। আমি চায়নার মতো এখানে যেতে চাই না, যেখানে আপনার কিছু করার অধিকার নেই।” তিনি ব্যর্থতার জন্য সরকারের পদত্যাগ দাবী করেন।বিক্ষোভ অংশগ্রহণকারীদের ব্যানারে লেখা ছিল “আপনিই এই রোগ। আমরা নিরাময়ের মানুষ” এবং অস্ট্রিয়ান পতাকা উত্তোলনকারী। বিক্ষোভকারীদের অধিকাংশই নাক ও মুখের সুরক্ষা বন্ধনি মাস্ক পড়তে অস্বীকার করেন এবং সামাজিক দূরত্বের নিয়মকেও সম্মান করতে অস্বীকার করেন। ভিয়েনার পুলিশ জানিয়েছেন,ভিয়েনার অন্য আরেক জায়গায় প্রায় ৫০০ জনের আরেক সমাবেশে করোনার বিধিনিষেধ ও লকডাউনের সিদ্ধান্তের সমর্থনে সমাবেশের  আয়োজন করে। তারা করোনার বিধিনিষেধ ও লকডাউনের বিরোধীদের “মাস্কবিরোধী পাগলের দল” আখ্যায়িত করে নিন্দা করেন।

৮৯ লক্ষাধিক মানুষের এই মধ্য ইউরোপের দেশটিতে এই পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন প্রায় ৪ লাখ এবং এই পর্যন্ত মৃত্যুবরণ করেছেন প্রায় ৭ হাজারের উপরে। যে সময় করোনা বিরোধীরা বিক্ষোভ করেছেন সে সময় অস্ট্রিয়ান সরকার চলমান লকডাউনের ভবিষ্যত পরিকল্পনা নিয়ে দেশের সংক্রমণ রোগ বিশেষজ্ঞ, সামাজিক অংশীদার ও বিভিন্ন রাজ্যের গভর্নরদের সাথে বৈঠক করছিলেন। বিশেষজ্ঞদের একটি প্যানেল সরকার প্রধান চ্যান্সেলর সেবাস্তিয়ান কুর্জের কাছে চলমান লকডাউনটি আরও ২ থেকে ৩ সপ্তাহ বাড়াতে সুপারিশ করেছেন। কারন হিসাবে তারা বলেন,সমগ্র অস্ট্রিয়া এখনও করোনার ঝুঁকিপূর্ণ লাল জোনে। তার উপর বৃটেনের মিউটেশন ভাইরাস B.1.1.7 অস্ট্রিয়াতেও ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়েছে। এখনই যদি এর সংক্রমণ বিস্তারের রোধে কোন কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া না হয়,তাহলে আগামী মার্চ মাসে তা অস্ট্রিয়ায় ভয়ঙ্কর আকার ধারন করবে ।

কবির আহমেদ/ ইউবি টাইমস

Tag :
জনপ্রিয়

ভিয়েনায় ৫০হাজার শিক্ষার্থীদের মেগা-বিক্ষোভ

Address : Erlaaer Strasse 49/8/16 A-1230 Vienna,Austria. Mob : +43676848863279, 8801719316684 (BD) 8801911691101 ( Ads) Email : eurobanglatimes123@gmail.com
Translate »

ভিয়েনায় করোনার লকডাউনের প্রতিবাদে ১০,০০০ হাজার মানুষের বিক্ষোভ !

আপডেটের সময় ০১:৫২:১৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২১

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ গতকাল শনিবার ১৬ জানুয়ারী বিকালে অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায় প্রায় ১০,০০০ হাজার মানুষ সরকারের গৃহীত করোনার বিধিনিষেধ ও লকডাউনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে এক বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে। সাবেক FPÖ প্রধান ও বিতর্কিত রাজনীতিবিদ হাইন্স ক্রিশ্চিয়ান স্ট্রাখেকেও এই সমাবেশে উপস্থিত থাকতে দেখা গেছে।

বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীরা বর্তমান সরকারের পদত্যাগ দাবী করে সরকারী বিরোধী নানান শ্লোগান দেয়। বিভিন্ন ডানপন্থী গ্রুপ এই বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করে। অবশ্য প্রথমে তারা ৩০,০০০ হাজার মানুষের বিক্ষোভের কথা বলেছিল। কিন্ত গতকাল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হুঁশিয়ারী ও ব্যাপক পুলিশের উপস্থিতি থাকার কারনে লোকজন বেশী হতে পারে নি। মহামারী করোনা নিয়ন্ত্রণে আনার লক্ষ্যে মার্চ থেকে আল্পাইন(আল্পস) পর্বতমালা বেষ্টিত এই দেশটিতে বর্তমানে করোনার তৃতীয় লকডাউন চলছে। এর ফলে অপ্রয়োজনীয় দোকান, কনসার্ট হল এবং থিয়েটার, ক্রীড়া কেন্দ্র এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে।

অস্ট্রিয়ার অর্থনীতির মূল চালিকা শক্তির অন্যতম হ’ল পর্যটন শিল্প এবং গ্যাস্ট্রোনমি। বৈশ্বিক মহামারী করোনার জন্য স্থবির হয়ে পড়েছে অস্ট্রিয়ার অর্থনীতি। অস্ট্রিয়ার এক পত্রিকার রিপোর্ট অনুযায়ী আগামী কয়েক মাসের মধ্যে অস্ট্রিয়ার অনেক ছোট প্রতিষ্ঠান ও রেস্টুরেন্ট দেউলিয়া ঘোষিত হওয়ার পথে। গাবি নামে এক বিক্ষোভকারী মহিলা সংবাদ মাধ্যমকে বলেন,”আমাদের যে মৃত্যুর সংখ্যা দেওয়া হচ্ছে, তা আবর্জনা। আমি চায়নার মতো এখানে যেতে চাই না, যেখানে আপনার কিছু করার অধিকার নেই।” তিনি ব্যর্থতার জন্য সরকারের পদত্যাগ দাবী করেন।বিক্ষোভ অংশগ্রহণকারীদের ব্যানারে লেখা ছিল “আপনিই এই রোগ। আমরা নিরাময়ের মানুষ” এবং অস্ট্রিয়ান পতাকা উত্তোলনকারী। বিক্ষোভকারীদের অধিকাংশই নাক ও মুখের সুরক্ষা বন্ধনি মাস্ক পড়তে অস্বীকার করেন এবং সামাজিক দূরত্বের নিয়মকেও সম্মান করতে অস্বীকার করেন। ভিয়েনার পুলিশ জানিয়েছেন,ভিয়েনার অন্য আরেক জায়গায় প্রায় ৫০০ জনের আরেক সমাবেশে করোনার বিধিনিষেধ ও লকডাউনের সিদ্ধান্তের সমর্থনে সমাবেশের  আয়োজন করে। তারা করোনার বিধিনিষেধ ও লকডাউনের বিরোধীদের “মাস্কবিরোধী পাগলের দল” আখ্যায়িত করে নিন্দা করেন।

৮৯ লক্ষাধিক মানুষের এই মধ্য ইউরোপের দেশটিতে এই পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন প্রায় ৪ লাখ এবং এই পর্যন্ত মৃত্যুবরণ করেছেন প্রায় ৭ হাজারের উপরে। যে সময় করোনা বিরোধীরা বিক্ষোভ করেছেন সে সময় অস্ট্রিয়ান সরকার চলমান লকডাউনের ভবিষ্যত পরিকল্পনা নিয়ে দেশের সংক্রমণ রোগ বিশেষজ্ঞ, সামাজিক অংশীদার ও বিভিন্ন রাজ্যের গভর্নরদের সাথে বৈঠক করছিলেন। বিশেষজ্ঞদের একটি প্যানেল সরকার প্রধান চ্যান্সেলর সেবাস্তিয়ান কুর্জের কাছে চলমান লকডাউনটি আরও ২ থেকে ৩ সপ্তাহ বাড়াতে সুপারিশ করেছেন। কারন হিসাবে তারা বলেন,সমগ্র অস্ট্রিয়া এখনও করোনার ঝুঁকিপূর্ণ লাল জোনে। তার উপর বৃটেনের মিউটেশন ভাইরাস B.1.1.7 অস্ট্রিয়াতেও ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়েছে। এখনই যদি এর সংক্রমণ বিস্তারের রোধে কোন কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া না হয়,তাহলে আগামী মার্চ মাসে তা অস্ট্রিয়ায় ভয়ঙ্কর আকার ধারন করবে ।

কবির আহমেদ/ ইউবি টাইমস