ভিয়েনা ১০:৪২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হাতে মেহেদির রং, বিয়ের ছয় দিনেই নববধূর মৃত্যু; আটক স্বামী-শাশুড়ি

  • EuroBanglaTimes
  • আপডেটের সময় ১১:৪৫:৫২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬
  • ১১ সময় দেখুন

হাতে মেহেদির রং, বিয়ের ছয় দিনেই নববধূর মৃত্যু; আটক স্বামী-শাশুড়ি

স্টাফ রিপোর্টার : বিয়ের মাত্র ছয় দিন পেরিয়েছে। হাতের মেহেদির রংও মুছে যায়নি। এরই মধ্যে শ্বশুরবাড়িতে রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে নববধূ লিমা আক্তারের (২০)। বুধবার (২১ অক্টোবর) ভোররাতে শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার রূপনারায়ণকুড়া ইউনিয়নের পাইখাতলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের স্বামী একরামুল (২২) ও শাশুড়ি ফরিদা বেগমকে (৫০) আটক করেছে পুলিশ।

নিহত লিমা আক্তার পাশের হালুয়াঘাট উপজেলার ধারা ইউনিয়নের মাঝিয়াইল গ্রামের সাইদুল ইসলামের মেয়ে।

নিহতের পরিবারের অভিযোগ, বাবার বাড়ি থেকে পাঠানো জিনিসপত্র পছন্দ না হওয়াকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে লিমাকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে। তবে এ অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে তদন্ত করছে পুলিশ।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) পারিবারিকভাবে একরামুলের সঙ্গে লিমার বিয়ে হয়। গত রোববার স্বামীর সঙ্গে বাবার বাড়িতে বেড়াতে যান তিনি। মঙ্গলবার বিকেলে স্বামীর বাড়িতে ফিরে আসেন লিমা। এ সময় বাবার বাড়ি থেকে পাঠানো জিনিসপত্র নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে মনোমালিন্য হয় বলে জানা গেছে।

স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, গভীর রাতে লিমার ভগ্নিপতিকে ফোন করে একরামুল জানান, তাঁর স্ত্রী অসুস্থ। পরে বুধবার ভোররাত ৪টার দিকে শ্বশুরবাড়ির লোকজন লিমাকে নালিতাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

নালিতাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ফাহাদ রহমান জানান, হাসপাতালে আনার আগেই ওই নববধূর মৃত্যু হয়েছিল।

লিমার শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখতে পেয়ে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।

তবে স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন স্বামী একরামুল। তাঁর দাবি, রাতে ঘুমানোর পর মাঝরাতে ঘুম ভেঙে দরজা খোলা দেখতে পান তিনি। পরে বাইরে গিয়ে পাশের একটি সেমিপাকা ঘরের বাইরের সানশেডে ওড়না দিয়ে স্ত্রীর মরদেহ ঝুলতে দেখেন। এরপর তিনি নিজেই মরদেহ নামিয়ে আনেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আব্দুল হান্নান জানান, নববধূর শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁর স্বামী ও শাশুড়িকে আটক করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ শেরপুর জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ঢাকা/এসএস

জনপ্রিয়
Address : Erlaaer Strasse 49/8/16 A-1230 Vienna,Austria. Mob : +43676848863279, 8801719316684 (BD) 8801911691101 ( Ads) Email : eurobanglatimes123@gmail.com
Translate »

হাতে মেহেদির রং, বিয়ের ছয় দিনেই নববধূর মৃত্যু; আটক স্বামী-শাশুড়ি

আপডেটের সময় ১১:৪৫:৫২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬

স্টাফ রিপোর্টার : বিয়ের মাত্র ছয় দিন পেরিয়েছে। হাতের মেহেদির রংও মুছে যায়নি। এরই মধ্যে শ্বশুরবাড়িতে রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে নববধূ লিমা আক্তারের (২০)। বুধবার (২১ অক্টোবর) ভোররাতে শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার রূপনারায়ণকুড়া ইউনিয়নের পাইখাতলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের স্বামী একরামুল (২২) ও শাশুড়ি ফরিদা বেগমকে (৫০) আটক করেছে পুলিশ।

নিহত লিমা আক্তার পাশের হালুয়াঘাট উপজেলার ধারা ইউনিয়নের মাঝিয়াইল গ্রামের সাইদুল ইসলামের মেয়ে।

নিহতের পরিবারের অভিযোগ, বাবার বাড়ি থেকে পাঠানো জিনিসপত্র পছন্দ না হওয়াকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে লিমাকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে। তবে এ অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে তদন্ত করছে পুলিশ।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) পারিবারিকভাবে একরামুলের সঙ্গে লিমার বিয়ে হয়। গত রোববার স্বামীর সঙ্গে বাবার বাড়িতে বেড়াতে যান তিনি। মঙ্গলবার বিকেলে স্বামীর বাড়িতে ফিরে আসেন লিমা। এ সময় বাবার বাড়ি থেকে পাঠানো জিনিসপত্র নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে মনোমালিন্য হয় বলে জানা গেছে।

স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, গভীর রাতে লিমার ভগ্নিপতিকে ফোন করে একরামুল জানান, তাঁর স্ত্রী অসুস্থ। পরে বুধবার ভোররাত ৪টার দিকে শ্বশুরবাড়ির লোকজন লিমাকে নালিতাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

নালিতাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ফাহাদ রহমান জানান, হাসপাতালে আনার আগেই ওই নববধূর মৃত্যু হয়েছিল।

লিমার শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখতে পেয়ে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।

তবে স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন স্বামী একরামুল। তাঁর দাবি, রাতে ঘুমানোর পর মাঝরাতে ঘুম ভেঙে দরজা খোলা দেখতে পান তিনি। পরে বাইরে গিয়ে পাশের একটি সেমিপাকা ঘরের বাইরের সানশেডে ওড়না দিয়ে স্ত্রীর মরদেহ ঝুলতে দেখেন। এরপর তিনি নিজেই মরদেহ নামিয়ে আনেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আব্দুল হান্নান জানান, নববধূর শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁর স্বামী ও শাশুড়িকে আটক করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ শেরপুর জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ঢাকা/এসএস