ভিয়েনা ০৯:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
ভিয়েনায় ৫০হাজার শিক্ষার্থীদের মেগা-বিক্ষোভ ইউক্রেন-যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ত্রিপক্ষীয় আলোচনা শুরুতে প্রস্তুত রাশিয়া সৌদি আরবে প্রাইভেটকারের চাপায় হবিগঞ্জের যুবক নিহত জাতিসংঘের ৮১তম বার্ষিকী: কার্যকর জাতিসংঘই গড়ে তুলতে পারে একটি ন্যায়সংগত বিশ্ব হাইড্রোকার্বন খাতে সহযোগিতায় বাংলাদেশ-আলজেরিয়ার সমঝোতা স্মারক নির্বাচনী ব্যবস্থায় আমূল সংস্কার প্রয়োজন: স্পিকার ভিয়েনায় বৃহস্পতিবার স্টুডেন্টস ইউনিয়নের বৃহত বিক্ষোভের ডাক বেনাপোলে ১৮টি স্বর্ণের বারসহ আটক ১, জব্দ মোটরসাইকেল হাতে মেহেদির রং, বিয়ের ছয় দিনেই নববধূর মৃত্যু; আটক স্বামী-শাশুড়ি জামায়াতের জান্নাতের পথ ‘দাজ্জালের জান্নাত’: রাশেদ খাঁন

ব্রাজিলের মাংস আমদানি স্থগিত করেছে ইইউ, গভীর উদ্বেগ প্রকাশ

  • EuroBanglaTimes
  • আপডেটের সময় ০২:৩৩:০৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১২০ সময় দেখুন

ব্রাজিলের মাংস

ইবিটাইমস ডেস্ক : ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ব্রাজিল থেকে মাংস আমদানি স্থগিত করায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে দেশটির সরকার। ব্রাজিলের রপ্তানি করা মাংস ইইউর পশুস্বাস্থ্যবিষয়ক নিয়ম মেনে চলছে—এ বিষয়ে পর্যাপ্ত নিশ্চয়তা না পাওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ব্রাসেলস।

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

ইইউর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার থেকেই ব্রাজিলের মাংস আমদানি স্থগিত কার্যকর হয়েছে। তবে কবে এই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হবে, সে বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা জানায়নি ইইউ।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের অভিযোগ, পশুপালনে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের ক্ষেত্রে ব্রাজিলের রপ্তানি পণ্য ইইউর নির্ধারিত মানদণ্ড মেনে চলছে—এমন পর্যাপ্ত নিশ্চয়তা দেশটি দিতে পারেনি।

ব্রাজিলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও কৃষি মন্ত্রণালয় এক যৌথ বিবৃতিতে জানিয়েছে, চলমান আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ একটি সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব হবে বলে তারা আশা করছে। একই সঙ্গে তারা বলেছে, এই প্রক্রিয়াটি যেন কোনো ধরনের সুরক্ষাবাদী বা বাণিজ্যিক স্বার্থের চাপমুক্ত থাকে।

এর আগে চলতি বছরের মে মাসে ব্রাজিলকে এমন দেশগুলোর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে ইইউ, যেসব দেশ পশুপালনে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের ক্ষেত্রে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিয়ম যথাযথভাবে অনুসরণ করছে না।

অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স বা জীবাণুর ওষুধ প্রতিরোধী হয়ে ওঠার ঝুঁকি কমাতে ইইউ পশুর দ্রুত বৃদ্ধি ঘটানোর জন্য অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল ওষুধ ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। একই সঙ্গে মানুষের চিকিৎসায় সংরক্ষিত কিছু অ্যান্টিবায়োটিক পশুদের ক্ষেত্রে ব্যবহারের ওপরও কঠোর বিধিনিষেধ রয়েছে।

ব্রাজিলের দুটি মন্ত্রণালয় বলেছে, দেশটি ইউরোপের বাজারে প্রাণিজ প্রোটিনের অন্যতম প্রধান সরবরাহকারী।

তাদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে ইইউর বাজারে রপ্তানি করার বিষয়টি প্রমাণ করে যে ব্রাজিলের পণ্য ইউরোপীয় মানদণ্ড মেনে চলছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ব্রাজিল সরকার এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে এবং ইইউকে সংশ্লিষ্ট তথ্যও সরবরাহ করেছে।

ব্রাজিল সরকার সতর্ক করে বলেছে, আলোচনার মাধ্যমে যথাসময়ে সন্তোষজনক সমাধান না হলে ভারসাম্যপূর্ণ বাণিজ্যিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে তারা উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার সংরক্ষণ করছে।

ইইউর এ সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে এসেছে, যখন দক্ষিণ আমেরিকার বাণিজ্য জোট মারকোসুর—যার সদস্য আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, উরুগুয়ে ও প্যারাগুয়ে—এর সঙ্গে জানুয়ারি ২০২৬-এ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সই করার পর ইউরোপীয় ইউনিয়ন নিজেদের কৃষিপণ্যবিষয়ক নিয়মকানুন কঠোরভাবে কার্যকর করছে।

চুক্তিটি সইয়ের পর ইউরোপের কৃষকদের পাশাপাশি বিশেষ করে ফ্রান্সের কাছ থেকেও ইইউ তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে। ফলে কৃষিপণ্য ও প্রাণিজ খাদ্য আমদানির ক্ষেত্রে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারি জোরদার করছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন।

২০২৫ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) গরুর মাংস সরবরাহের ক্ষেত্রে ব্রাজিল ছিল দ্বিতীয় বৃহত্তম দেশ।

ওই বছর ব্রাজিল ইইউর বাজারে ৯২ হাজার টনের বেশি গরুর মাংস রপ্তানি করে, যার মোট মূল্য ছিল ৭১৩ মিলিয়ন ইউরোর বেশি (প্রায় ৮২৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার)।

ইইউর সর্বশেষ স্থগিতাদেশ শুধু গরুর মাংসের ক্ষেত্রে নয়। এর আওতায় পোলট্রি বা মুরগির মাংস, ডিম ও মধুসহ আরও কয়েকটি পণ্য রয়েছে।
ঢাকা/এসএস

জনপ্রিয়

ভিয়েনায় ৫০হাজার শিক্ষার্থীদের মেগা-বিক্ষোভ

Address : Erlaaer Strasse 49/8/16 A-1230 Vienna,Austria. Mob : +43676848863279, 8801719316684 (BD) 8801911691101 ( Ads) Email : eurobanglatimes123@gmail.com
Translate »

ব্রাজিলের মাংস আমদানি স্থগিত করেছে ইইউ, গভীর উদ্বেগ প্রকাশ

আপডেটের সময় ০২:৩৩:০৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইবিটাইমস ডেস্ক : ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ব্রাজিল থেকে মাংস আমদানি স্থগিত করায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে দেশটির সরকার। ব্রাজিলের রপ্তানি করা মাংস ইইউর পশুস্বাস্থ্যবিষয়ক নিয়ম মেনে চলছে—এ বিষয়ে পর্যাপ্ত নিশ্চয়তা না পাওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ব্রাসেলস।

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

ইইউর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার থেকেই ব্রাজিলের মাংস আমদানি স্থগিত কার্যকর হয়েছে। তবে কবে এই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হবে, সে বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা জানায়নি ইইউ।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের অভিযোগ, পশুপালনে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের ক্ষেত্রে ব্রাজিলের রপ্তানি পণ্য ইইউর নির্ধারিত মানদণ্ড মেনে চলছে—এমন পর্যাপ্ত নিশ্চয়তা দেশটি দিতে পারেনি।

ব্রাজিলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও কৃষি মন্ত্রণালয় এক যৌথ বিবৃতিতে জানিয়েছে, চলমান আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ একটি সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব হবে বলে তারা আশা করছে। একই সঙ্গে তারা বলেছে, এই প্রক্রিয়াটি যেন কোনো ধরনের সুরক্ষাবাদী বা বাণিজ্যিক স্বার্থের চাপমুক্ত থাকে।

এর আগে চলতি বছরের মে মাসে ব্রাজিলকে এমন দেশগুলোর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে ইইউ, যেসব দেশ পশুপালনে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের ক্ষেত্রে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিয়ম যথাযথভাবে অনুসরণ করছে না।

অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স বা জীবাণুর ওষুধ প্রতিরোধী হয়ে ওঠার ঝুঁকি কমাতে ইইউ পশুর দ্রুত বৃদ্ধি ঘটানোর জন্য অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল ওষুধ ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। একই সঙ্গে মানুষের চিকিৎসায় সংরক্ষিত কিছু অ্যান্টিবায়োটিক পশুদের ক্ষেত্রে ব্যবহারের ওপরও কঠোর বিধিনিষেধ রয়েছে।

ব্রাজিলের দুটি মন্ত্রণালয় বলেছে, দেশটি ইউরোপের বাজারে প্রাণিজ প্রোটিনের অন্যতম প্রধান সরবরাহকারী।

তাদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে ইইউর বাজারে রপ্তানি করার বিষয়টি প্রমাণ করে যে ব্রাজিলের পণ্য ইউরোপীয় মানদণ্ড মেনে চলছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ব্রাজিল সরকার এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে এবং ইইউকে সংশ্লিষ্ট তথ্যও সরবরাহ করেছে।

ব্রাজিল সরকার সতর্ক করে বলেছে, আলোচনার মাধ্যমে যথাসময়ে সন্তোষজনক সমাধান না হলে ভারসাম্যপূর্ণ বাণিজ্যিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে তারা উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার সংরক্ষণ করছে।

ইইউর এ সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে এসেছে, যখন দক্ষিণ আমেরিকার বাণিজ্য জোট মারকোসুর—যার সদস্য আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, উরুগুয়ে ও প্যারাগুয়ে—এর সঙ্গে জানুয়ারি ২০২৬-এ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সই করার পর ইউরোপীয় ইউনিয়ন নিজেদের কৃষিপণ্যবিষয়ক নিয়মকানুন কঠোরভাবে কার্যকর করছে।

চুক্তিটি সইয়ের পর ইউরোপের কৃষকদের পাশাপাশি বিশেষ করে ফ্রান্সের কাছ থেকেও ইইউ তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে। ফলে কৃষিপণ্য ও প্রাণিজ খাদ্য আমদানির ক্ষেত্রে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারি জোরদার করছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন।

২০২৫ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) গরুর মাংস সরবরাহের ক্ষেত্রে ব্রাজিল ছিল দ্বিতীয় বৃহত্তম দেশ।

ওই বছর ব্রাজিল ইইউর বাজারে ৯২ হাজার টনের বেশি গরুর মাংস রপ্তানি করে, যার মোট মূল্য ছিল ৭১৩ মিলিয়ন ইউরোর বেশি (প্রায় ৮২৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার)।

ইইউর সর্বশেষ স্থগিতাদেশ শুধু গরুর মাংসের ক্ষেত্রে নয়। এর আওতায় পোলট্রি বা মুরগির মাংস, ডিম ও মধুসহ আরও কয়েকটি পণ্য রয়েছে।
ঢাকা/এসএস