ভিয়েনা ১২:৪৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
মাভাবিপ্রবিতে ‘সিএডি মডেলিং ও সিমুলেশন’ শীর্ষক কারিগরি সেমিনার অনুষ্ঠিত টাঙ্গাইলে এলপিজি গ্যাসের গোডাউনে অভিযান, ১ লাখ টাকা জরিমানা বছিলায় রাস্তা আটকে রাখেন অটোরিকশা চালকরা ! সাজেকে অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধে, ৯ শতাধিক পর্যটক আটকা ! ভারতে গুগলের ১৫ বিলিয়ন ডলারের ডেটা সেন্টার ঘিরে তীব্র বিরোধিতা রিয়াদ বিমানবন্দরে হুথি হামলায় ২ বাংলাদেশিসহ নিহত ১২ যুক্তরাষ্ট্রে ঘূর্ণিঝড় ইসাইয়াসের তাণ্ডব, প্রাণহানি ৪ বাংলাদেশে বড় বিনিয়োগের পরিকল্পনা জাপানের মারুবেনির এক বছর এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের নেতৃত্ব দেবে বাংলাদেশ: স্পিকার আইপিইউ সম্মেলনে অংশগ্রহণ শেষে দেশে ফিরেছেন স্পিকার

ভারতে গুগলের ১৫ বিলিয়ন ডলারের ডেটা সেন্টার ঘিরে তীব্র বিরোধিতা

  • EuroBanglaTimes
  • আপডেটের সময় ১১:০৭:০২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬
  • ১৯ সময় দেখুন

ভারতে গুগলের ১৫ বিলিয়ন ডলারের ডেটা সেন্টার ঘিরে তীব্র বিরোধিতা

ইবিটাইমস ডেস্ক : ভারতের দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলীয় অন্ধ্র প্রদেশ রাজ্যের বিশাখাপত্তনমে (ভিজাগ) গুগলের মেগা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ডেটা সেন্টার নির্মাণের পরিকল্পনাকে ঘিরে তীব্র সামাজিক ও পরিবেশগত বিরোধিতা দেখা দিয়েছে। পরিবেশের চরম ক্ষয়ক্ষতি, পানি ও বিদ্যুতের সংকট বৃদ্ধি এবং আশানুরূপ কর্মসংস্থান না হওয়ার আশঙ্কায় স্থানীয় কৃষক ও পরিবেশকর্মীরা সোচ্চার হয়ে উঠেছেন।

বার্তা সংস্থা এএফপি-র এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, যুক্তরাষ্ট্রে ভৌগোলিক সীমানার বাইরে এটিই হতে যাচ্ছে গুগলের সবচেয়ে বড় ডেটা সেন্টার। প্রায় ১৫ বিলিয়ন ডলার (১,৫০০ কোটি ডলার) ব্যয়ে নির্মাণাধীন এই প্রকল্পের স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে বিশাখাপত্তনমে, যার আয়তন ৬০০ একর—যা ৩৪০টিরও বেশি ফুটবল মাঠের সমান। বিশাখাপত্তনম মূলত একটি কৌশলগত সাবমেরিন ইন্টারনেট কেবল সংযোগস্থল হওয়ায় শহরটি ডেটা সেন্টারের জন্য গুগল বেছে নিয়েছে।
স্থানীয়দের ভিটেমাটি হারানো ও ক্ষোভ

কৃষিজমি ও বনভূমি পরিষ্কার করে খননযন্ত্র চালিয়ে মাটি সরানোর কাজ শুরু হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। চন্দলা সদাম্মা নামের ৫০ বছর বয়সী এক স্থানীয় কৃষক জানান, নিজের আম ও কাজুবাদামের জমি হারিয়ে তিনি দারুণ তিক্ততায় ভুগছেন। “একটি কোম্পানি এসে আমাদের কোনো সম্মান না দেখিয়ে জমি নিয়ে নিল,” আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন তিনি।
পানি ও বিদ্যুতের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভয়

সার্ভার শীতল রাখার জন্য ডেটা সেন্টারে প্রচুর পরিমাণ পানির প্রয়োজন হয়। বিশাখাপত্তনমের স্থানীয় নারী গুব্বালা রামানাম্মা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “তারা বলছে আমাদের সন্তানদের শিক্ষার ও চাকরির জন্য গুগল আসছে, অথচ আমরা তো এখন থেকেই সুপেয় পানির তীব্র সংকটে ভুগছি।”

যদিও গুগলের এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অবকাঠামো বিভাগের প্রধান আলেকজান্ডার স্মিথ জানান, গুগল প্রচলিত পানি-ভিত্তিক শীতলীকরণের বদলে ‘উন্নত’ বায়ু-শীতলীকরণ (Air-cooling) প্রযুক্তি ব্যবহার করবে। তা সত্ত্বেও স্থানীয় প্রবীণ পরিবেশকর্মী ও সাবেক সরকারি কর্মকর্তা ই.এ.এস. শর্মা অবিলম্বে পানির ব্যবহার নিয়ে একটি স্বাধীন সংস্থার পরিবেশগত নিরীক্ষার দাবি জানিয়েছেন।
অর্থনৈতিক প্রতিশ্রুতি বনাম বাস্তবতার সংঘাত

গুগলের দাবি, ২০২৮ সালে চালুর পর তাদের ডেটা সেন্টার থেকে বছরে গড়ে ৬৮ কোটি ৮০ লাখ ডলারের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল হবে। পাশাপাশি নির্মাণকালে ৪,২০০ এবং পরবর্তীতে কয়েকশ বিশেষায়িত চাকরি সৃষ্টি হবে। অন্ধ্র প্রদেশের প্রযুক্তিমন্ত্রী নারা লোকেশও স্পষ্ট আশ্বাস দিয়েছেন, ডেটা সেন্টারের চেয়ে সাধারণ মানুষের পানির চাহিদাকে সবসময় অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

তবে স্থানীয় হিউম্যান রাইটস ফোরামের প্রতিনিধি গুট্টা রোহিত মন্তব্য করেন, “বিশাল এই পুঁজি-নির্ভর প্রকল্প সাধারণ মানুষের কর্মসংস্থানে খুব একটা কাজে আসবে না। আমাদের দরকার বিপুল শ্রমনির্ভর শিল্প, গুদামঘরের মতো প্রযুক্তি অবকাঠামো নয়।”

উল্লেখ্য, ভারতে কেবল গুগলই নয়—রিলায়েন্স, ব্রুকফিল্ড ও ডিজিটাল রিয়েলটি যৌথভাবে সেখানে আরও একটি ১১ বিলিয়ন ডলারের এআই ডেটা সেন্টার নির্মাণ করছে। বিশাল প্রযুক্তি বিনিয়োগকে ঘিরে অন্ধ্র প্রদেশে ব্যাপক জমি বেচাকেনা শুরু হলেও, তার সামাজিক ও পরিবেশগত প্রভাব নিয়ে জল ঘোলা হচ্ছে ক্রমেই।
ঢাকা/এসএস

জনপ্রিয়

মাভাবিপ্রবিতে ‘সিএডি মডেলিং ও সিমুলেশন’ শীর্ষক কারিগরি সেমিনার অনুষ্ঠিত

Address : Erlaaer Strasse 49/8/16 A-1230 Vienna,Austria. Mob : +43676848863279, 8801719316684 (BD) 8801911691101 ( Ads) Email : eurobanglatimes123@gmail.com
Translate »

ভারতে গুগলের ১৫ বিলিয়ন ডলারের ডেটা সেন্টার ঘিরে তীব্র বিরোধিতা

আপডেটের সময় ১১:০৭:০২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬

ইবিটাইমস ডেস্ক : ভারতের দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলীয় অন্ধ্র প্রদেশ রাজ্যের বিশাখাপত্তনমে (ভিজাগ) গুগলের মেগা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ডেটা সেন্টার নির্মাণের পরিকল্পনাকে ঘিরে তীব্র সামাজিক ও পরিবেশগত বিরোধিতা দেখা দিয়েছে। পরিবেশের চরম ক্ষয়ক্ষতি, পানি ও বিদ্যুতের সংকট বৃদ্ধি এবং আশানুরূপ কর্মসংস্থান না হওয়ার আশঙ্কায় স্থানীয় কৃষক ও পরিবেশকর্মীরা সোচ্চার হয়ে উঠেছেন।

বার্তা সংস্থা এএফপি-র এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, যুক্তরাষ্ট্রে ভৌগোলিক সীমানার বাইরে এটিই হতে যাচ্ছে গুগলের সবচেয়ে বড় ডেটা সেন্টার। প্রায় ১৫ বিলিয়ন ডলার (১,৫০০ কোটি ডলার) ব্যয়ে নির্মাণাধীন এই প্রকল্পের স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে বিশাখাপত্তনমে, যার আয়তন ৬০০ একর—যা ৩৪০টিরও বেশি ফুটবল মাঠের সমান। বিশাখাপত্তনম মূলত একটি কৌশলগত সাবমেরিন ইন্টারনেট কেবল সংযোগস্থল হওয়ায় শহরটি ডেটা সেন্টারের জন্য গুগল বেছে নিয়েছে।
স্থানীয়দের ভিটেমাটি হারানো ও ক্ষোভ

কৃষিজমি ও বনভূমি পরিষ্কার করে খননযন্ত্র চালিয়ে মাটি সরানোর কাজ শুরু হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। চন্দলা সদাম্মা নামের ৫০ বছর বয়সী এক স্থানীয় কৃষক জানান, নিজের আম ও কাজুবাদামের জমি হারিয়ে তিনি দারুণ তিক্ততায় ভুগছেন। “একটি কোম্পানি এসে আমাদের কোনো সম্মান না দেখিয়ে জমি নিয়ে নিল,” আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন তিনি।
পানি ও বিদ্যুতের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভয়

সার্ভার শীতল রাখার জন্য ডেটা সেন্টারে প্রচুর পরিমাণ পানির প্রয়োজন হয়। বিশাখাপত্তনমের স্থানীয় নারী গুব্বালা রামানাম্মা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “তারা বলছে আমাদের সন্তানদের শিক্ষার ও চাকরির জন্য গুগল আসছে, অথচ আমরা তো এখন থেকেই সুপেয় পানির তীব্র সংকটে ভুগছি।”

যদিও গুগলের এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অবকাঠামো বিভাগের প্রধান আলেকজান্ডার স্মিথ জানান, গুগল প্রচলিত পানি-ভিত্তিক শীতলীকরণের বদলে ‘উন্নত’ বায়ু-শীতলীকরণ (Air-cooling) প্রযুক্তি ব্যবহার করবে। তা সত্ত্বেও স্থানীয় প্রবীণ পরিবেশকর্মী ও সাবেক সরকারি কর্মকর্তা ই.এ.এস. শর্মা অবিলম্বে পানির ব্যবহার নিয়ে একটি স্বাধীন সংস্থার পরিবেশগত নিরীক্ষার দাবি জানিয়েছেন।
অর্থনৈতিক প্রতিশ্রুতি বনাম বাস্তবতার সংঘাত

গুগলের দাবি, ২০২৮ সালে চালুর পর তাদের ডেটা সেন্টার থেকে বছরে গড়ে ৬৮ কোটি ৮০ লাখ ডলারের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল হবে। পাশাপাশি নির্মাণকালে ৪,২০০ এবং পরবর্তীতে কয়েকশ বিশেষায়িত চাকরি সৃষ্টি হবে। অন্ধ্র প্রদেশের প্রযুক্তিমন্ত্রী নারা লোকেশও স্পষ্ট আশ্বাস দিয়েছেন, ডেটা সেন্টারের চেয়ে সাধারণ মানুষের পানির চাহিদাকে সবসময় অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

তবে স্থানীয় হিউম্যান রাইটস ফোরামের প্রতিনিধি গুট্টা রোহিত মন্তব্য করেন, “বিশাল এই পুঁজি-নির্ভর প্রকল্প সাধারণ মানুষের কর্মসংস্থানে খুব একটা কাজে আসবে না। আমাদের দরকার বিপুল শ্রমনির্ভর শিল্প, গুদামঘরের মতো প্রযুক্তি অবকাঠামো নয়।”

উল্লেখ্য, ভারতে কেবল গুগলই নয়—রিলায়েন্স, ব্রুকফিল্ড ও ডিজিটাল রিয়েলটি যৌথভাবে সেখানে আরও একটি ১১ বিলিয়ন ডলারের এআই ডেটা সেন্টার নির্মাণ করছে। বিশাল প্রযুক্তি বিনিয়োগকে ঘিরে অন্ধ্র প্রদেশে ব্যাপক জমি বেচাকেনা শুরু হলেও, তার সামাজিক ও পরিবেশগত প্রভাব নিয়ে জল ঘোলা হচ্ছে ক্রমেই।
ঢাকা/এসএস