ইবিটাইমস ডেস্ক : ইরানের অর্থনীতির ওপর চাপ বাড়াতে দেশটির বিমান চলাচল খাতে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার পর কয়েকটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করেছে ইরানি এয়ারলাইনগুলো।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) তেহরানের এক ট্রাভেল এজেন্ট এএফপিকে জানান, বাগদাদ, মাসকাট, কাতার, জর্জিয়া ও আজারবাইজানগামী কয়েকটি ফ্লাইট স্থগিত করা হয়েছে। তবে চীনসহ কয়েকটি গন্তব্যে ইরানের ফ্লাইট চলাচল অব্যাহত রয়েছে।
সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ইরানের বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দেন। এর আগে দেশটির ওপর আরও কঠোর অর্থনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছিল।
তবে ইরানের বিমান চলাচল খাত দীর্ঘদিন ধরেই মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে। নতুন নিষেধাজ্ঞার পূর্ণ প্রভাব কী হবে এবং অন্যান্য দেশ ও প্রতিষ্ঠান তা কতটা কার্যকর করবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
নতুন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার দিন বুধবার ফ্লাইট পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইট ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, ইরানের অন্যতম বড় বিমান সংস্থা মাহান এয়ারের একটি তেহরান-গুয়াংজু ফ্লাইট চীনে অবতরণ করেছে।
চীন মঙ্গলবার জানিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করে এবং এসব নিষেধাজ্ঞাকে অবৈধ মনে করে।
তেহরানের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার সাংহাইগামী একটি ফ্লাইট ছাড়ার কথা ছিল। ইস্তাম্বুলগামী কিছু ফ্লাইটের সময়সূচিও বহাল ছিল, যদিও কয়েকটি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে তেহরানের ওই ট্রাভেল এজেন্ট বলেন, পরিস্থিতি অস্থিতিশীল হওয়ায় বাতিলের আশঙ্কায় আপাতত টিকিট বিক্রি বন্ধ রাখা হয়েছে।
এদিকে কাবুল থেকে মাহান এয়ারের একটি ফ্লাইটও বুধবার তেহরানে পৌঁছানোর কথা ছিল। তেহরানের বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ছোট ইরানি এয়ারলাইনগুলোর মাধ্যমে তুরস্ক ও আর্মেনিয়াতেও কিছু ফ্লাইট চলাচলের সম্ভাবনা ছিল। এছাড়া ইরাকের নাজাফ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইগামী ফ্লাইটেরও সময়সূচি ছিল।
সোমবার মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ইরানের বিমান পরিবহন সংস্থাগুলোকে বন্ধ করে দেওয়ার এবং তাদের সঙ্গে ব্যবসা করা প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেন।
তিনি অন্যান্য দেশকে সতর্ক করে বলেন, ইরানি বিমান অবতরণ করলে তাদের জ্বালানি বা অবতরণসেবা দেওয়া এবং টিকিট বিক্রির মতো কার্যক্রমও নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসতে পারে।
নতুন বিধিনিষেধের ফলে ইরানি নাগরিকদের বিদেশ ভ্রমণ এবং দেশে ফেরার ক্ষেত্রেও জটিলতা বাড়তে পারে।
ইরানের তাসনিম বার্তা সংস্থা মঙ্গলবার দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের এক মুখপাত্রের বরাত দিয়ে জানায়, বাগদাদ ও মাসকাটের বিমানবন্দরগুলো ইরানি ফ্লাইট গ্রহণ করবে না। তবে ইস্তাম্বুলসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইট নির্ধারিত সময় অনুযায়ী চলবে বলে জানানো হয়।
তাসনিম আরও জানায়, বাগদাদগামী ফ্লাইটগুলো নাজাফে পুনর্নির্দেশের বিষয়ে ইরানের বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ আলোচনা করছে। ইরানি তীর্থযাত্রীদের জন্য নাজাফ একটি গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য।
ইরাক সরকার প্রকাশ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নের পরিকল্পনা ঘোষণা না করলেও কয়েকটি সূত্র এএফপিকে জানিয়েছে, বাগদাদ মার্কিন পদক্ষেপ মেনে চলতে পারে।
এতে ইরান ও ইরাকের মধ্যে বিমান চলাচল ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় ইরাকের কিছু ট্রাভেল এজেন্ট উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। নাজাফের এক ট্রাভেল এজেন্ট জানান, শহরের অনেক ভ্রমণ প্রতিষ্ঠান ইরানগামী বিমান টিকিট বিক্রির ওপর নির্ভরশীল।
বিভিন্ন ট্রাভেল এজেন্সি জানিয়েছে, উদ্বিগ্ন যাত্রীরা ফ্লাইট পরিস্থিতির সর্বশেষ তথ্য জানতে যোগাযোগ করছেন। কেউ কেউ বিকল্প হিসেবে স্থলপথে যাতায়াতের কথাও ভাবছেন, যদিও এতে ভ্রমণে তুলনামূলক বেশি সময় লাগবে।
ঢাকা/এসএস




















