ভিয়েনা ০৪:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
লালমোহনে সড়ক দুর্ঘটনায় বৃদ্ধের মৃত্যু, ঘাতক যান অজ্ঞাত শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষকদের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ: শিক্ষামন্ত্রী দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা, তবু যুক্তরাষ্ট্রে বলসোনারো? চোটে মুশফিক ছিটকে গেলেন, মিরপুর টেস্টে খেলছেন হৃদয় বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে জাপানকে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান লালমোহনে টেন্ডার ছাড়াই অর্ধ কোটি টাকার গাছ কর্তন! ইউএনও’র নীরব ভূমিকা ঝালকাঠিতে যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত ঝালকাঠিতে ইলিশ রক্ষার অভিযানে হামলা, আহত ৭ চরফ্যাশনে কালবেলার ৪র্থ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন শিক্ষাজীবন শেষ করেই চাকরি পাবে শিক্ষার্থীরা, সেই লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার: প্রতিমন্ত্রী টুকু

ঝিনাইদহে ভুয়া দলিলের অভিযোগে বৃদ্ধের নামে মামলা

  • EuroBanglaTimes
  • আপডেটের সময় ১১:৪৩:১০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারী ২০২৬
  • ১৩৩ সময় দেখুন

শেখ ইমন, ঝিনাইদহ : ঝিনাইদহ সদর উপজেলার বড় কামারকুন্ডু গ্রামে জমি সংক্রান্ত বিরোধে হয়রানির শিকার হচ্ছেন ৯০ বছর বয়সী বয়োবৃদ্ধ মন্তাজ বিশ্বাস। অভিযোগ উঠেছে, তার ভাই জীবদ্দশায় যে জমি বিক্রি করেছিলেন, সেই জমি নিয়ে এখন তার মৃত্যুর পর মামলার আসামি করা হয়েছে নিরীহ এই বৃদ্ধকে।

ভুক্তভোগী মন্তাজ বিশ্বাস ও তার ভাই শফিউদ্দিন বিশ্বাস বড় কামারকুন্ডু গ্রামের বাসিন্দা। পৈতৃক সূত্রে তারা মোট ৪২ শতক জমির মালিক ছিলেন। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ১৯৬১ সালে টাকার অভাবে ৪২ শতকের মধ্যে ১৮ শতক জমি বিক্রি করেন মন্তাজ বিশ্বাস, শফিউদ্দিন বিশ্বাস ও তাদের মা ফোজদার নেছা। পরে বাকি ২৪ শতক জমি দুই ভাই সমানভাবে ১২ শতক করে ভাগ করে নেন এবং দীর্ঘদিন আগেই নিজ নিজ জমি ভোগদখলে নেন।

সমস্যার সূত্রপাত হয় কয়েক বছর আগে। অভিযোগ রয়েছে, শফিউদ্দিন বিশ্বাস তার ভাগের ১২ শতক জমির মধ্যে ৭ শতক জমি বিক্রি করেন। পরে সেই জমি একাধিকবার হাত বদল হয়। একই জমি আবারো কিনে বিক্রি করেন শফিউদ্দিন। প্রথমবার এবং দ্বিতীয়বার ওই জমি কিনেছেন স্থানীয় বাসিন্দা লুৎফর রহমান।

এরপর শফিউদ্দিন বিশ্বাস মারা গেলে হঠাৎ করেই জমি নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়। অভিযোগ উঠেছে, ক্রেতা লুৎফর রহমান এখন ওই জমির মালিকানা দাবি করে ৯০ বছর বয়সী মন্তাজ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। মামলায় বলা হয়েছে, বড় কামারকুন্ডু গ্রামের ১৬৫ নম্বর মৌজার ওই জমি থেকে মন্তাজ বিশ্বাসকে সরে যেতে হবে।
এ বিষয়ে মন্তাজ বিশ্বাস বলেন,“আমি তো আমার ভাগের জমিতেই আছি। আমার ভাই যে জমি বিক্রি করেছে, তার দায় আমার ওপর কেন পড়বে? এই বয়সে আদালতে ঘুরে ঘুরে আমি শেষ হয়ে যাচ্ছি।”
মন্তাজ বিশ্বাসের ছেলে রবিউল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, লুৎফর ভুয়া দলিল তৈরি করে জমি দখলের চেষ্টা করছে। যে জমি আমার চাচা বিক্রি করেছে, সেই জমি নিয়ে এখন আমার বাবাকে হয়রানি করা হচ্ছে। এটা সম্পূর্ণ অন্যায়।
স্থানীয়দের অনেকেই বলছেন, বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। একজন বয়োবৃদ্ধ মানুষকে এভাবে মামলায় জড়িয়ে হয়রানি করা অমানবিক। তারা দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবি জানান।
ঝিনাইদহ সদর থানার ওসি সামসুল আরেফিন বলেন, যেহেতু আদালতে মামলা চলছে তাই আমার কিছু করনীয় নেই। তবে এ ব্যাপারে যদি আমার কাছে কোন লিখিত অভিযোগ দেয় তাহলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঢাকা/ইবিটাইমস/এসএস

লালমোহনে সড়ক দুর্ঘটনায় বৃদ্ধের মৃত্যু, ঘাতক যান অজ্ঞাত

Address : Erlaaer Strasse 49/8/16 A-1230 Vienna,Austria. Mob : +43676848863279, 8801719316684 (BD) 8801911691101 ( Ads) Email : eurobanglatimes123@gmail.com
Translate »

ঝিনাইদহে ভুয়া দলিলের অভিযোগে বৃদ্ধের নামে মামলা

আপডেটের সময় ১১:৪৩:১০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারী ২০২৬

শেখ ইমন, ঝিনাইদহ : ঝিনাইদহ সদর উপজেলার বড় কামারকুন্ডু গ্রামে জমি সংক্রান্ত বিরোধে হয়রানির শিকার হচ্ছেন ৯০ বছর বয়সী বয়োবৃদ্ধ মন্তাজ বিশ্বাস। অভিযোগ উঠেছে, তার ভাই জীবদ্দশায় যে জমি বিক্রি করেছিলেন, সেই জমি নিয়ে এখন তার মৃত্যুর পর মামলার আসামি করা হয়েছে নিরীহ এই বৃদ্ধকে।

ভুক্তভোগী মন্তাজ বিশ্বাস ও তার ভাই শফিউদ্দিন বিশ্বাস বড় কামারকুন্ডু গ্রামের বাসিন্দা। পৈতৃক সূত্রে তারা মোট ৪২ শতক জমির মালিক ছিলেন। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ১৯৬১ সালে টাকার অভাবে ৪২ শতকের মধ্যে ১৮ শতক জমি বিক্রি করেন মন্তাজ বিশ্বাস, শফিউদ্দিন বিশ্বাস ও তাদের মা ফোজদার নেছা। পরে বাকি ২৪ শতক জমি দুই ভাই সমানভাবে ১২ শতক করে ভাগ করে নেন এবং দীর্ঘদিন আগেই নিজ নিজ জমি ভোগদখলে নেন।

সমস্যার সূত্রপাত হয় কয়েক বছর আগে। অভিযোগ রয়েছে, শফিউদ্দিন বিশ্বাস তার ভাগের ১২ শতক জমির মধ্যে ৭ শতক জমি বিক্রি করেন। পরে সেই জমি একাধিকবার হাত বদল হয়। একই জমি আবারো কিনে বিক্রি করেন শফিউদ্দিন। প্রথমবার এবং দ্বিতীয়বার ওই জমি কিনেছেন স্থানীয় বাসিন্দা লুৎফর রহমান।

এরপর শফিউদ্দিন বিশ্বাস মারা গেলে হঠাৎ করেই জমি নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়। অভিযোগ উঠেছে, ক্রেতা লুৎফর রহমান এখন ওই জমির মালিকানা দাবি করে ৯০ বছর বয়সী মন্তাজ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। মামলায় বলা হয়েছে, বড় কামারকুন্ডু গ্রামের ১৬৫ নম্বর মৌজার ওই জমি থেকে মন্তাজ বিশ্বাসকে সরে যেতে হবে।
এ বিষয়ে মন্তাজ বিশ্বাস বলেন,“আমি তো আমার ভাগের জমিতেই আছি। আমার ভাই যে জমি বিক্রি করেছে, তার দায় আমার ওপর কেন পড়বে? এই বয়সে আদালতে ঘুরে ঘুরে আমি শেষ হয়ে যাচ্ছি।”
মন্তাজ বিশ্বাসের ছেলে রবিউল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, লুৎফর ভুয়া দলিল তৈরি করে জমি দখলের চেষ্টা করছে। যে জমি আমার চাচা বিক্রি করেছে, সেই জমি নিয়ে এখন আমার বাবাকে হয়রানি করা হচ্ছে। এটা সম্পূর্ণ অন্যায়।
স্থানীয়দের অনেকেই বলছেন, বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। একজন বয়োবৃদ্ধ মানুষকে এভাবে মামলায় জড়িয়ে হয়রানি করা অমানবিক। তারা দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবি জানান।
ঝিনাইদহ সদর থানার ওসি সামসুল আরেফিন বলেন, যেহেতু আদালতে মামলা চলছে তাই আমার কিছু করনীয় নেই। তবে এ ব্যাপারে যদি আমার কাছে কোন লিখিত অভিযোগ দেয় তাহলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঢাকা/ইবিটাইমস/এসএস