ইবিটাইমস ডেস্ক : দীর্ঘ ১৩ বছর সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে কাজ করে প্রায় ৫১ লাখ টাকা উপার্জন করেছিলেন হাফেজ মোস্তফা ফরাজী। পরিবারের ভবিষ্যৎ গড়তে সেই অর্থ দেশে পাঠিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু এখন সর্বস্ব হারিয়ে ঢাকায় রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন এই প্রবাসফেরত ব্যক্তি।
স্ত্রীর বিরুদ্ধে পাঠানো টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে অন্য ব্যক্তির সঙ্গে চলে যাওয়ার অভিযোগ করেছেন মোস্তফা। এ ছাড়া জমি নিয়ে বিরোধের জেরে হামলা ও মারধরের শিকার হওয়ার অভিযোগও তুলেছেন তিনি।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকাল ১০টায় ঝালকাঠির রাজাপুর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এসব অভিযোগ করেন মোস্তফা।

তিনি মঠবাড়িয়া উপজেলার পাথরঘাটা জ্ঞানপাড়া এলাকার আবদুল বারেক ফরাজীর ছেলে। বিয়ের পর রাজাপুরে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন তিনি।
লিখিত বক্তব্যে মোস্তফা জানান, প্রবাসে থাকা অবস্থায় বিভিন্ন সময়ে স্ত্রী জোলেখার কাছে প্রায় ৫১ লাখ টাকা পাঠিয়েছেন তিনি। রাজাপুর পূবালী ব্যাংকের হিসাবের মাধ্যমে এসব লেনদেনের তথ্য যাচাইয়ের দাবি জানান তিনি।
মোস্তফার অভিযোগ, তাঁর স্ত্রী আংগারিয়া আলগী এলাকার মো. সাইফুলের সঙ্গে চলে যাওয়ার সময় পাঠানো টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে গেছেন।
তিনি আরও জানান, রাজাপুরে তাঁর ১৩ শতাংশ জমি ১২ লাখ টাকায় বিক্রির কথাবার্তা হয়। দলিল রেজিস্ট্রি হওয়ার পর ১০ লাখ টাকা পান তিনি। এ নিয়ে বিরোধের জেরে স্ত্রীসহ ১০ থেকে ১২ জন তাঁর ওপর হামলা ও মারধর করেন এবং তাঁর কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা নিয়ে যান বলে অভিযোগ করেন মোস্তফা।

এ ছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে এবং মোহরানার টাকা দাবি করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে প্রবাসে উপার্জিত অর্থ ও ব্যাংক লেনদেনের নিরপেক্ষ তদন্ত, জমির মালিকানা ও দলিল যাচাই, হামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা এবং নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান মোস্তফা।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে জোলেখা বলেন, ‘আমি রাগ করে তাঁকে তালাক দিয়েছি। তবে সে আগে বিয়ে করেছে, পরে আমি বিয়ে করেছি। আমি তাঁর কোনো টাকা-পয়সা নিইনি।’
মোস্তফা বলেন, ‘আমি প্রতিশোধ নয়, ন্যায়বিচার চাই।’
ঢাকা/এসএস



















