জাহিদ দুলাল, ভোলা দক্ষিণ : ভোলার লালমোহন উপজেলায় অতিবৃষ্টিতে জমিতে পানি জমে থাকা, কোথাও বীজতলার চারা নষ্ট হওয়া এবং অপরিকল্পিতভাবে বাড়িঘর নির্মাণের কারণে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হওয়ায় আমন আবাদে ভোগান্তিতে পড়েছেন কৃষকরা। ফলে চলতি মৌসুমে আমন আবাদ কিছুটা বিলম্বিত হয়েছে। তবে এসব প্রতিকূলতা কাটিয়ে বর্তমানে আমন ধানের চারা রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা।
এমন তথ্য জানিয়েছেন লালমোহন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহ মো. আরিফুল ইসলাম।
তিনি বলেন, অপরিকল্পিতভাবে বাড়িঘর নির্মাণের কারণে অনেক কালভার্ট বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে আমনের মাঠে জমে থাকা বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশন করা সম্ভব হচ্ছে না। ফসলের মাঠ থেকে পানি অপসারণের প্রবাহ কমে যাওয়ায় জমিতে দীর্ঘসময় পানি জমে থাকছে। এতে আমন আবাদে কিছুটা দেরি হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, মৌসুমের শুরুতেই উপজেলা কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে কৃষকদের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি পরিমাণ আমন বীজতলা তৈরির পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। ফলে অতিবৃষ্টিতে কিছু বীজতলা নষ্ট হলেও কৃষকদের চারা সংকটে তেমন একটা পড়তে হয়নি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জানান, এখন পর্যন্ত প্রায় ১২ হাজার ৩৪০ হেক্টর জমিতে আমন আবাদ সম্পন্ন হয়েছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে বাকি জমিগুলোতেও ধানের চারা রোপণ শেষ হবে। কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিতে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিত মাঠে কাজ করছেন।
উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে লালমোহন উপজেলায় মোট ২৩ হাজার ৮৭০ হেক্টর জমিতে আমন ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে উফশী ও স্বর্ণা জাতসহ বিভিন্ন উচ্চফলনশীল জাতের ধান ২২ হাজার ৭৫০ হেক্টর, স্থানীয় জাতের রোপা আমন ১ হাজার ১০০ হেক্টর এবং নতুন হাইব্রিড-৪ জাতের ধান ২০ হেক্টর জমিতে চাষের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।
এদিকে অতিবৃষ্টির কারণে আমন আবাদে শুরুতে কিছুটা বিপাকে পড়লেও বর্তমানে মাঠে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
চরভূতা ইউনিয়নের তারাগঞ্জ এলাকার কৃষক মো. বেলাল জানান, এ বছর প্রায় ১৮৮ শতাংশ জমিতে আমন ধান চাষের প্রস্তুতি নিয়েছেন তিনি। এরই মধ্যে কিছু জমিতে চারা রোপণ শুরু করেছেন। অতিবৃষ্টির কারণে জমিতে পানি জমে থাকায় চারা রোপণে কিছুটা দেরি হয়েছে। এছাড়া প্রথম দফায় বৃষ্টিতে বীজতলার চারা নষ্ট হয়ে যাওয়ায় নতুন করে চারা তৈরি করতে হয়েছে।
তিনি বলেন, ধানের চারা উৎপাদন থেকে শুরু করে জমিতে রোপণ শেষ করা পর্যন্ত প্রায় ৯০ হাজার টাকা খরচ হবে।
অন্যদিকে, ধলীগৌরনগর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বালিরটেক এলাকার কৃষক মো. আবু তাহের এবার ৩৬০ শতাংশ জমিতে আমন ধান চাষ করবেন।
তিনি বলেন, বৃষ্টিতে বীজতলায় কিছুটা সমস্যা হয়েছে। তবে আশা করছি তা কাটিয়ে উঠতে পারব। জমিতে চাষ দেওয়া শেষ করে চারা রোপণের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। বীজতলায় চারা উৎপাদন থেকে শুরু করে জমি প্রস্তুত করতে এ পর্যন্ত প্রায় ৩৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ বছর আমনের ভালো ফলন পাওয়ার আশা করছেন তিনি।
ঢাকা/ইবিটাইমস/এসএস


















