ভিয়েনা ০৬:৪৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
লালমোহনে ৩৪৮ পিস ইয়াবাসহ আটক ২ স্পিকারের সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ মার্কিন হামলার জবাবে ইরানের পাল্টা হামলা লালমোহনে ‘নজরুল বর্ষ’ উদ্বোধন, অসাম্প্রদায়িক চেতনা ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান লালমোহনে অপরিকল্পিত বাড়িঘরে বাধাগ্রস্ত পানি নিষ্কাশন, আমন আবাদে ভোগান্তি লালমোহনে ওয়েস্টার্ন পাড়া ক্রীড়া চক্রের নতুন কমিটি, সভাপতি শাহীন-সম্পাদক রাহাত সফর শেষে ঢাকা ত্যাগ করলেন আইপিইউ মহাসচিব অ্যান্ডা ফিলিপ রোটারি ক্লাবের আয়োজনে বৃক্ষরোপণ, চারা বিতরণ ও শিক্ষার্থীদের মাঝে টিফিন টাঙ্গাইলে স্ত্রী হত্যার দায়ে এক ব্যক্তির যাবজ্জীবন বাবার আদর্শে মাদ্রাজের খেটে-খাওয়া মানুষের পাশে সায়েম মালতিয়া

তুচ্ছতাচ্ছিল্য পেরিয়ে সফলতার গল্প ২৩ জাতের আঙুরে স্বপ্ন বুনছে কলেজছাত্র পারভেজ

  • EuroBanglaTimes
  • আপডেটের সময় ০৫:৩৭:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬
  • ১৭৯ সময় দেখুন

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি: গ্রামের মাটিতে দাঁড়িয়ে কেউ যদি বলে বিদেশি ফলের বাণিজ্যিক চাষ করে সফল হওয়া সম্ভব,অনেকেই হয়তো অবিশ্বাস করবেন। কিন্তু সেই অসম্ভবকেই সম্ভব করে দেখিয়েছেন ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার যোগীপাড়া গ্রামের কলেজছাত্র শাহরিয়ার পারভেজ। পড়ালেখার পাশাপাশি ২৩ জাতের আঙুর চাষ করে এখন তিনি হয়ে উঠেছেন স্থানীয় তরুণদের অনুপ্রেরণার নাম।

শাহরিয়ার পারভেজের বাগানে গিয়ে দেখা যায়,সবুজ পাতার ফাঁকে ফাঁকে ঝুলছে থোকায় থোকায় বেগুনি,সবুজ আর লালচে আঙুর। দূর থেকে দেখলে মনে হবে ইউরোপ বা মধ্যপ্রাচ্যের কোনো আঙুর বাগান। প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ ভিড় করছেন এই ব্যতিক্রমী বাগান দেখতে। কেউ ছবি তুলছেন, কেউ জানতে চাইছেন চাষের পদ্ধতি,আবার কেউ আগ্রহ দেখাচ্ছেন নিজেরাও আঙুর চাষ শুরু করতে।

শাহরিয়ার জানান,প্রায় দুই বছর আগে ইউটিউবে আঙুর চাষের একটি ভিডিও দেখেই তার আগ্রহ তৈরি হয়। এরপর নানা জায়গা থেকে তথ্য সংগ্রহ করেন। নিজের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে পরিবারের সহায়তায় ২০ শতক জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে শুরু করেন আঙুর চাষ। তবে শুরুটা সহজ ছিল না। অনেকেই তাকে নিয়ে হাসাহাসি করেছেন,বলেছেন বাংলাদেশের আবহাওয়ায় আঙুর হবে না। কিন্তু তিনি থেমে যাননি। দিন-রাত পরিশ্রম আর নিয়মিত পরিচর্যায় একসময় সেই ছোট উদ্যোগই সফলতার মুখ দেখে। বর্তমানে তার বাগানে রয়েছে বাইকুনুর,একেলো,গ্রিনলং,ডাসুনিয়া সহ ২৩ জাতের আঙুর। এরমধ্যে বেশ কয়েকটি জাত বাংলাদেশে একেবারেই নতুন। কিছু চারা সংগ্রহ করা হয়েছে ভারত থেকেও।

প্রতিটি গাছের যতœœ তিনি নিজের সন্তানের মতো করে নেন। আধুনিক পদ্ধতিতে পরিচর্যা,সঠিক ছাঁটাই ও রোগবালাই নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে তিনি ভালো ফলন পাচ্ছেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন,এর আগে তারা কখনও এভাবে আঙুরের বাগান দেখেননি। গ্রামের অনেক তরুণ এখন শাহরিয়ারের কাছে পরামর্শ নিতে আসছেন। অনেকেই মনে করছেন,সঠিক প্রশিক্ষণ ও সহযোগিতা পেলে আঙুর চাষ এই অঞ্চলে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে।

শুধু দর্শনার্থী নয়,প্রতিদিনই শাহরিয়ারের বাগানে আসছেন ব্যবসায়ীরাও। প্রতি কেজি আঙুর পাইকারিতে বিক্রি হচ্ছে ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকায়। পাশাপাশি বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন জাতের আঙুরের চারাও। এতে ইতোমধ্যে লাভের মুখ দেখতে শুরু করেছেন এই তরুণ উদ্যোক্তা।

শাহরিয়ার পারভেজ বলেন,‘শুরুতে অনেকেই নিরুৎসাহিত করেছিলেন। কিন্তু আমি বিশ্বাস করতাম,চেষ্টা করলে সম্ভব। এখনদেশের বিভিন্ন জেলা থেকে মানুষ আমার বাগান দেখতে আসছেন। ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে আঙুর চাষ করতে চাই। সরকারি সহযোগিতা পেলে এই চাষ অনেক দূর এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।’

শৈলকুপা কৃষি কর্মকর্তা আরিফুজ্জামান বলেন,ঝিনাইদহের মাটি ও আবহাওয়া আঙুর চাষের জন্য সম্ভাবনাময়। আধুনিক প্রযুক্তি ও সঠিক পরিচর্যার মাধ্যমে বাণিজ্যিকভাবে আঙুর চাষ আরও বিস্তৃত করা সম্ভব। নতুন ও সম্ভাবনাময় এই উদ্যোগকে উৎসাহ দিতে সব ধরনের কারিগরি সহযোগিতা করা হচ্ছে।’

শেখ ইমন/ইবিটাইমস/এম আর 

জনপ্রিয়

লালমোহনে ৩৪৮ পিস ইয়াবাসহ আটক ২

Address : Erlaaer Strasse 49/8/16 A-1230 Vienna,Austria. Mob : +43676848863279, 8801719316684 (BD) 8801911691101 ( Ads) Email : eurobanglatimes123@gmail.com
Translate »

তুচ্ছতাচ্ছিল্য পেরিয়ে সফলতার গল্প ২৩ জাতের আঙুরে স্বপ্ন বুনছে কলেজছাত্র পারভেজ

আপডেটের সময় ০৫:৩৭:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি: গ্রামের মাটিতে দাঁড়িয়ে কেউ যদি বলে বিদেশি ফলের বাণিজ্যিক চাষ করে সফল হওয়া সম্ভব,অনেকেই হয়তো অবিশ্বাস করবেন। কিন্তু সেই অসম্ভবকেই সম্ভব করে দেখিয়েছেন ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার যোগীপাড়া গ্রামের কলেজছাত্র শাহরিয়ার পারভেজ। পড়ালেখার পাশাপাশি ২৩ জাতের আঙুর চাষ করে এখন তিনি হয়ে উঠেছেন স্থানীয় তরুণদের অনুপ্রেরণার নাম।

শাহরিয়ার পারভেজের বাগানে গিয়ে দেখা যায়,সবুজ পাতার ফাঁকে ফাঁকে ঝুলছে থোকায় থোকায় বেগুনি,সবুজ আর লালচে আঙুর। দূর থেকে দেখলে মনে হবে ইউরোপ বা মধ্যপ্রাচ্যের কোনো আঙুর বাগান। প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ ভিড় করছেন এই ব্যতিক্রমী বাগান দেখতে। কেউ ছবি তুলছেন, কেউ জানতে চাইছেন চাষের পদ্ধতি,আবার কেউ আগ্রহ দেখাচ্ছেন নিজেরাও আঙুর চাষ শুরু করতে।

শাহরিয়ার জানান,প্রায় দুই বছর আগে ইউটিউবে আঙুর চাষের একটি ভিডিও দেখেই তার আগ্রহ তৈরি হয়। এরপর নানা জায়গা থেকে তথ্য সংগ্রহ করেন। নিজের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে পরিবারের সহায়তায় ২০ শতক জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে শুরু করেন আঙুর চাষ। তবে শুরুটা সহজ ছিল না। অনেকেই তাকে নিয়ে হাসাহাসি করেছেন,বলেছেন বাংলাদেশের আবহাওয়ায় আঙুর হবে না। কিন্তু তিনি থেমে যাননি। দিন-রাত পরিশ্রম আর নিয়মিত পরিচর্যায় একসময় সেই ছোট উদ্যোগই সফলতার মুখ দেখে। বর্তমানে তার বাগানে রয়েছে বাইকুনুর,একেলো,গ্রিনলং,ডাসুনিয়া সহ ২৩ জাতের আঙুর। এরমধ্যে বেশ কয়েকটি জাত বাংলাদেশে একেবারেই নতুন। কিছু চারা সংগ্রহ করা হয়েছে ভারত থেকেও।

প্রতিটি গাছের যতœœ তিনি নিজের সন্তানের মতো করে নেন। আধুনিক পদ্ধতিতে পরিচর্যা,সঠিক ছাঁটাই ও রোগবালাই নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে তিনি ভালো ফলন পাচ্ছেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন,এর আগে তারা কখনও এভাবে আঙুরের বাগান দেখেননি। গ্রামের অনেক তরুণ এখন শাহরিয়ারের কাছে পরামর্শ নিতে আসছেন। অনেকেই মনে করছেন,সঠিক প্রশিক্ষণ ও সহযোগিতা পেলে আঙুর চাষ এই অঞ্চলে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে।

শুধু দর্শনার্থী নয়,প্রতিদিনই শাহরিয়ারের বাগানে আসছেন ব্যবসায়ীরাও। প্রতি কেজি আঙুর পাইকারিতে বিক্রি হচ্ছে ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকায়। পাশাপাশি বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন জাতের আঙুরের চারাও। এতে ইতোমধ্যে লাভের মুখ দেখতে শুরু করেছেন এই তরুণ উদ্যোক্তা।

শাহরিয়ার পারভেজ বলেন,‘শুরুতে অনেকেই নিরুৎসাহিত করেছিলেন। কিন্তু আমি বিশ্বাস করতাম,চেষ্টা করলে সম্ভব। এখনদেশের বিভিন্ন জেলা থেকে মানুষ আমার বাগান দেখতে আসছেন। ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে আঙুর চাষ করতে চাই। সরকারি সহযোগিতা পেলে এই চাষ অনেক দূর এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।’

শৈলকুপা কৃষি কর্মকর্তা আরিফুজ্জামান বলেন,ঝিনাইদহের মাটি ও আবহাওয়া আঙুর চাষের জন্য সম্ভাবনাময়। আধুনিক প্রযুক্তি ও সঠিক পরিচর্যার মাধ্যমে বাণিজ্যিকভাবে আঙুর চাষ আরও বিস্তৃত করা সম্ভব। নতুন ও সম্ভাবনাময় এই উদ্যোগকে উৎসাহ দিতে সব ধরনের কারিগরি সহযোগিতা করা হচ্ছে।’

শেখ ইমন/ইবিটাইমস/এম আর