ভিয়েনা ০৫:১২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
ইউপি নির্বাচন: আচরণবিধি লঙ্ঘনে প্রার্থিতা বাতিল, সর্বোচ্চ ২ বছরের কারাদণ্ড টয়োটার মোতোমাচি কারখানা পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী ইসরায়েলে নেতানিয়াহুকে হটাতে বিরোধী জোটের দিকে সহযোগিতার হাত বাড়াল আরব দলগুলো লালমোহনে সড়ক দুর্ঘটনায় বৃদ্ধের মৃত্যু, ঘাতক যান অজ্ঞাত শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষকদের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ: শিক্ষামন্ত্রী দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা, তবু যুক্তরাষ্ট্রে বলসোনারো? চোটে মুশফিক ছিটকে গেলেন, মিরপুর টেস্টে খেলছেন হৃদয় বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে জাপানকে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান লালমোহনে টেন্ডার ছাড়াই অর্ধ কোটি টাকার গাছ কর্তন! ইউএনও’র নীরব ভূমিকা ঝালকাঠিতে যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

তুচ্ছতাচ্ছিল্য পেরিয়ে সফলতার গল্প ২৩ জাতের আঙুরে স্বপ্ন বুনছে কলেজছাত্র পারভেজ

  • EuroBanglaTimes
  • আপডেটের সময় ০৫:৩৭:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬
  • ২১৪ সময় দেখুন

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি: গ্রামের মাটিতে দাঁড়িয়ে কেউ যদি বলে বিদেশি ফলের বাণিজ্যিক চাষ করে সফল হওয়া সম্ভব,অনেকেই হয়তো অবিশ্বাস করবেন। কিন্তু সেই অসম্ভবকেই সম্ভব করে দেখিয়েছেন ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার যোগীপাড়া গ্রামের কলেজছাত্র শাহরিয়ার পারভেজ। পড়ালেখার পাশাপাশি ২৩ জাতের আঙুর চাষ করে এখন তিনি হয়ে উঠেছেন স্থানীয় তরুণদের অনুপ্রেরণার নাম।

শাহরিয়ার পারভেজের বাগানে গিয়ে দেখা যায়,সবুজ পাতার ফাঁকে ফাঁকে ঝুলছে থোকায় থোকায় বেগুনি,সবুজ আর লালচে আঙুর। দূর থেকে দেখলে মনে হবে ইউরোপ বা মধ্যপ্রাচ্যের কোনো আঙুর বাগান। প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ ভিড় করছেন এই ব্যতিক্রমী বাগান দেখতে। কেউ ছবি তুলছেন, কেউ জানতে চাইছেন চাষের পদ্ধতি,আবার কেউ আগ্রহ দেখাচ্ছেন নিজেরাও আঙুর চাষ শুরু করতে।

শাহরিয়ার জানান,প্রায় দুই বছর আগে ইউটিউবে আঙুর চাষের একটি ভিডিও দেখেই তার আগ্রহ তৈরি হয়। এরপর নানা জায়গা থেকে তথ্য সংগ্রহ করেন। নিজের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে পরিবারের সহায়তায় ২০ শতক জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে শুরু করেন আঙুর চাষ। তবে শুরুটা সহজ ছিল না। অনেকেই তাকে নিয়ে হাসাহাসি করেছেন,বলেছেন বাংলাদেশের আবহাওয়ায় আঙুর হবে না। কিন্তু তিনি থেমে যাননি। দিন-রাত পরিশ্রম আর নিয়মিত পরিচর্যায় একসময় সেই ছোট উদ্যোগই সফলতার মুখ দেখে। বর্তমানে তার বাগানে রয়েছে বাইকুনুর,একেলো,গ্রিনলং,ডাসুনিয়া সহ ২৩ জাতের আঙুর। এরমধ্যে বেশ কয়েকটি জাত বাংলাদেশে একেবারেই নতুন। কিছু চারা সংগ্রহ করা হয়েছে ভারত থেকেও।

প্রতিটি গাছের যতœœ তিনি নিজের সন্তানের মতো করে নেন। আধুনিক পদ্ধতিতে পরিচর্যা,সঠিক ছাঁটাই ও রোগবালাই নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে তিনি ভালো ফলন পাচ্ছেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন,এর আগে তারা কখনও এভাবে আঙুরের বাগান দেখেননি। গ্রামের অনেক তরুণ এখন শাহরিয়ারের কাছে পরামর্শ নিতে আসছেন। অনেকেই মনে করছেন,সঠিক প্রশিক্ষণ ও সহযোগিতা পেলে আঙুর চাষ এই অঞ্চলে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে।

শুধু দর্শনার্থী নয়,প্রতিদিনই শাহরিয়ারের বাগানে আসছেন ব্যবসায়ীরাও। প্রতি কেজি আঙুর পাইকারিতে বিক্রি হচ্ছে ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকায়। পাশাপাশি বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন জাতের আঙুরের চারাও। এতে ইতোমধ্যে লাভের মুখ দেখতে শুরু করেছেন এই তরুণ উদ্যোক্তা।

শাহরিয়ার পারভেজ বলেন,‘শুরুতে অনেকেই নিরুৎসাহিত করেছিলেন। কিন্তু আমি বিশ্বাস করতাম,চেষ্টা করলে সম্ভব। এখনদেশের বিভিন্ন জেলা থেকে মানুষ আমার বাগান দেখতে আসছেন। ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে আঙুর চাষ করতে চাই। সরকারি সহযোগিতা পেলে এই চাষ অনেক দূর এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।’

শৈলকুপা কৃষি কর্মকর্তা আরিফুজ্জামান বলেন,ঝিনাইদহের মাটি ও আবহাওয়া আঙুর চাষের জন্য সম্ভাবনাময়। আধুনিক প্রযুক্তি ও সঠিক পরিচর্যার মাধ্যমে বাণিজ্যিকভাবে আঙুর চাষ আরও বিস্তৃত করা সম্ভব। নতুন ও সম্ভাবনাময় এই উদ্যোগকে উৎসাহ দিতে সব ধরনের কারিগরি সহযোগিতা করা হচ্ছে।’

শেখ ইমন/ইবিটাইমস/এম আর 

জনপ্রিয়

ইউপি নির্বাচন: আচরণবিধি লঙ্ঘনে প্রার্থিতা বাতিল, সর্বোচ্চ ২ বছরের কারাদণ্ড

Address : Erlaaer Strasse 49/8/16 A-1230 Vienna,Austria. Mob : +43676848863279, 8801719316684 (BD) 8801911691101 ( Ads) Email : eurobanglatimes123@gmail.com
Translate »

তুচ্ছতাচ্ছিল্য পেরিয়ে সফলতার গল্প ২৩ জাতের আঙুরে স্বপ্ন বুনছে কলেজছাত্র পারভেজ

আপডেটের সময় ০৫:৩৭:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি: গ্রামের মাটিতে দাঁড়িয়ে কেউ যদি বলে বিদেশি ফলের বাণিজ্যিক চাষ করে সফল হওয়া সম্ভব,অনেকেই হয়তো অবিশ্বাস করবেন। কিন্তু সেই অসম্ভবকেই সম্ভব করে দেখিয়েছেন ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার যোগীপাড়া গ্রামের কলেজছাত্র শাহরিয়ার পারভেজ। পড়ালেখার পাশাপাশি ২৩ জাতের আঙুর চাষ করে এখন তিনি হয়ে উঠেছেন স্থানীয় তরুণদের অনুপ্রেরণার নাম।

শাহরিয়ার পারভেজের বাগানে গিয়ে দেখা যায়,সবুজ পাতার ফাঁকে ফাঁকে ঝুলছে থোকায় থোকায় বেগুনি,সবুজ আর লালচে আঙুর। দূর থেকে দেখলে মনে হবে ইউরোপ বা মধ্যপ্রাচ্যের কোনো আঙুর বাগান। প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ ভিড় করছেন এই ব্যতিক্রমী বাগান দেখতে। কেউ ছবি তুলছেন, কেউ জানতে চাইছেন চাষের পদ্ধতি,আবার কেউ আগ্রহ দেখাচ্ছেন নিজেরাও আঙুর চাষ শুরু করতে।

শাহরিয়ার জানান,প্রায় দুই বছর আগে ইউটিউবে আঙুর চাষের একটি ভিডিও দেখেই তার আগ্রহ তৈরি হয়। এরপর নানা জায়গা থেকে তথ্য সংগ্রহ করেন। নিজের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে পরিবারের সহায়তায় ২০ শতক জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে শুরু করেন আঙুর চাষ। তবে শুরুটা সহজ ছিল না। অনেকেই তাকে নিয়ে হাসাহাসি করেছেন,বলেছেন বাংলাদেশের আবহাওয়ায় আঙুর হবে না। কিন্তু তিনি থেমে যাননি। দিন-রাত পরিশ্রম আর নিয়মিত পরিচর্যায় একসময় সেই ছোট উদ্যোগই সফলতার মুখ দেখে। বর্তমানে তার বাগানে রয়েছে বাইকুনুর,একেলো,গ্রিনলং,ডাসুনিয়া সহ ২৩ জাতের আঙুর। এরমধ্যে বেশ কয়েকটি জাত বাংলাদেশে একেবারেই নতুন। কিছু চারা সংগ্রহ করা হয়েছে ভারত থেকেও।

প্রতিটি গাছের যতœœ তিনি নিজের সন্তানের মতো করে নেন। আধুনিক পদ্ধতিতে পরিচর্যা,সঠিক ছাঁটাই ও রোগবালাই নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে তিনি ভালো ফলন পাচ্ছেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন,এর আগে তারা কখনও এভাবে আঙুরের বাগান দেখেননি। গ্রামের অনেক তরুণ এখন শাহরিয়ারের কাছে পরামর্শ নিতে আসছেন। অনেকেই মনে করছেন,সঠিক প্রশিক্ষণ ও সহযোগিতা পেলে আঙুর চাষ এই অঞ্চলে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে।

শুধু দর্শনার্থী নয়,প্রতিদিনই শাহরিয়ারের বাগানে আসছেন ব্যবসায়ীরাও। প্রতি কেজি আঙুর পাইকারিতে বিক্রি হচ্ছে ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকায়। পাশাপাশি বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন জাতের আঙুরের চারাও। এতে ইতোমধ্যে লাভের মুখ দেখতে শুরু করেছেন এই তরুণ উদ্যোক্তা।

শাহরিয়ার পারভেজ বলেন,‘শুরুতে অনেকেই নিরুৎসাহিত করেছিলেন। কিন্তু আমি বিশ্বাস করতাম,চেষ্টা করলে সম্ভব। এখনদেশের বিভিন্ন জেলা থেকে মানুষ আমার বাগান দেখতে আসছেন। ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে আঙুর চাষ করতে চাই। সরকারি সহযোগিতা পেলে এই চাষ অনেক দূর এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।’

শৈলকুপা কৃষি কর্মকর্তা আরিফুজ্জামান বলেন,ঝিনাইদহের মাটি ও আবহাওয়া আঙুর চাষের জন্য সম্ভাবনাময়। আধুনিক প্রযুক্তি ও সঠিক পরিচর্যার মাধ্যমে বাণিজ্যিকভাবে আঙুর চাষ আরও বিস্তৃত করা সম্ভব। নতুন ও সম্ভাবনাময় এই উদ্যোগকে উৎসাহ দিতে সব ধরনের কারিগরি সহযোগিতা করা হচ্ছে।’

শেখ ইমন/ইবিটাইমস/এম আর