ভিয়েনা ০৯:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
ইসরায়েলে নেতানিয়াহুকে হটাতে বিরোধী জোটের দিকে সহযোগিতার হাত বাড়াল আরব দলগুলো লালমোহনে সড়ক দুর্ঘটনায় বৃদ্ধের মৃত্যু, ঘাতক যান অজ্ঞাত শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষকদের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ: শিক্ষামন্ত্রী দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা, তবু যুক্তরাষ্ট্রে বলসোনারো? চোটে মুশফিক ছিটকে গেলেন, মিরপুর টেস্টে খেলছেন হৃদয় বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে জাপানকে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান লালমোহনে টেন্ডার ছাড়াই অর্ধ কোটি টাকার গাছ কর্তন! ইউএনও’র নীরব ভূমিকা ঝালকাঠিতে যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত ঝালকাঠিতে ইলিশ রক্ষার অভিযানে হামলা, আহত ৭ চরফ্যাশনে কালবেলার ৪র্থ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

৫ ধাপে ইউপি নির্বাচন চায় বিএনপি

  • EuroBanglaTimes
  • আপডেটের সময় ০৩:২৬:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৫৫ সময় দেখুন

ইবিটাইমস ডেস্ক : চলতি বছরের শেষ দিকে শুরু করে আগামী মার্চে শেষ করার পক্ষে স্থায়ী কমিটির বৈঠকে মত। ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন পাঁচ ধাপে আয়োজনের পক্ষে মত দিয়েছে বিএনপি। সুনির্দিষ্ট দিনক্ষণ না জানালেও চলতি বছরের শেষ দিকে প্রথম ধাপের ভোট শুরু করে আগামী বছরের মার্চের মধ্যে নির্বাচন শেষ করার পক্ষে দলটি।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবীর রিজভী বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করবে, এটাই নিয়ম। তবে নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করার জন্য সরকারের সহযোগিতা প্রয়োজন। আইনশৃঙ্খলা থেকে শুরু করে অনেক বিষয় আছে। তাই নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণার আগে নির্বাচন কমিশনের সরকারের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে নেওয়া ভালো।’

তিনি বলেন, ‘আশা করি, স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের মধ্যে কোনো দূরত্বের সৃষ্টি হবে না।’

নির্বাচন কমিশন (ইসি) আগামী ১২ নভেম্বর থেকে সাত ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের সম্ভাব্য সময়সূচি ঘোষণা করেছিল। তবে এ ঘোষণার সঙ্গে দ্বিমত প্রকাশ করে পরদিন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম গণমাধ্যমকে জানান, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা না করেই ইসি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের সময়সূচি ঘোষণা করেছে। এ বিষয়ে সরকার কিছুই জানে না বলে দাবি করেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রীর ওই বক্তব্যের পর স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের মধ্যে মতপার্থক্যের বিষয়টি সামনে আসে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল বিএনপি কীভাবে ও কখন স্থানীয় নির্বাচন চায়, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।

বিএনপির দায়িত্বশীল নেতারা জানান, পাঁচ ধাপে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের পক্ষে দলটি। দলের নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে অধিকাংশ সদস্য পাঁচ ধাপে নির্বাচনের পক্ষে মত দেন। দলের হাইকমান্ডও এতে একমত বলে জানান নেতারা।

বিএনপির পরিকল্পনা অনুযায়ী, চলতি বছরের শেষ দিকে নির্বাচন শুরু করে আগামী বছরের মার্চের মধ্যে সব ধাপের ভোট শেষ করা হতে পারে।

দলটির দায়িত্বশীল নেতারা বলছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন বিএনপির কাছে শুধু ভোটের সময়সূচির বিষয় নয়; এর সঙ্গে তৃণমূল সংগঠন ও প্রার্থী ব্যবস্থাপনার বিষয়ও জড়িত। ইউনিয়ন পরিষদ থেকে শুরু করে পৌরসভা, উপজেলা, জেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশনসহ স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন স্তরের নির্বাচনে দলীয় নেতাকর্মীদের সক্রিয় অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি হবে।

বিশেষ করে ইউনিয়ন পর্যায়ে একাধিক আগ্রহী প্রার্থী থাকলে দলীয় সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন ও নির্বাচনি শৃঙ্খলা বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করেন দলটির নেতারা। একই সঙ্গে স্থানীয় পর্যায়ে প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দলগুলোর সাংগঠনিক তৎপরতা, প্রার্থী বাছাই এবং নির্বাচনি জোট বা সমঝোতার বিষয়ও সামনে আসবে।

দলীয় নেতাদের ভাষ্য, নির্বাচনের জন্য পর্যাপ্ত সময় না পাওয়া গেলে দলের ভেতরে অভ্যন্তরীণ কোন্দল বা বিদ্রোহী প্রার্থীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পাঁচ ধাপে নির্বাচন হলে প্রতিটি ধাপের জন্য যোগ্য প্রার্থী বাছাই ও সাংগঠনিক প্রস্তুতির জন্য দল পর্যাপ্ত সময় পাবে।

বিএনপি মনে করে, বিগত বছরগুলোতে স্থানীয় সরকার কাঠামোগুলো দুর্বল হয়ে পড়েছিল এবং বর্তমানে অনেক জায়গায় প্রশাসকদের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। ধাপে ধাপে নির্বাচন সম্পন্ন হলে মাঠপর্যায়ে স্বাভাবিক রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরি হবে এবং ভোটারদের মধ্যে আস্থা ফিরতে পারে বলে দলটির নেতারা মনে করেন।

এদিকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার আয়োজন করছে নির্বাচন কমিশন। আগামী ২৩, ২৪ ও ২৫ সেপ্টেম্বর তিন দিনে নিবন্ধিত দলগুলোর সঙ্গে সংলাপের পরিকল্পনা জানিয়েছে কমিশন। সেখানে স্থানীয় নির্বাচনের বিভিন্ন বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত নেওয়া হবে।

বিএনপির পাঁচ ধাপে নির্বাচনের প্রস্তাবও ওই আলোচনায় তুলে ধরা হবে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।

বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান মঙ্গলবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, সংবিধানের নিয়মকানুন মেনে, সরকারের নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এবং জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটিয়ে স্থানীয় সরকারের প্রতিটি স্তরে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এসব নির্বাচনে সত্যিকার অর্থে জনগণের প্রতিনিধিরাই নির্বাচিত হবেন।
ঢাকা/এসএস

ইসরায়েলে নেতানিয়াহুকে হটাতে বিরোধী জোটের দিকে সহযোগিতার হাত বাড়াল আরব দলগুলো

Address : Erlaaer Strasse 49/8/16 A-1230 Vienna,Austria. Mob : +43676848863279, 8801719316684 (BD) 8801911691101 ( Ads) Email : eurobanglatimes123@gmail.com
Translate »

৫ ধাপে ইউপি নির্বাচন চায় বিএনপি

আপডেটের সময় ০৩:২৬:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইবিটাইমস ডেস্ক : চলতি বছরের শেষ দিকে শুরু করে আগামী মার্চে শেষ করার পক্ষে স্থায়ী কমিটির বৈঠকে মত। ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন পাঁচ ধাপে আয়োজনের পক্ষে মত দিয়েছে বিএনপি। সুনির্দিষ্ট দিনক্ষণ না জানালেও চলতি বছরের শেষ দিকে প্রথম ধাপের ভোট শুরু করে আগামী বছরের মার্চের মধ্যে নির্বাচন শেষ করার পক্ষে দলটি।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবীর রিজভী বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করবে, এটাই নিয়ম। তবে নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করার জন্য সরকারের সহযোগিতা প্রয়োজন। আইনশৃঙ্খলা থেকে শুরু করে অনেক বিষয় আছে। তাই নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণার আগে নির্বাচন কমিশনের সরকারের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে নেওয়া ভালো।’

তিনি বলেন, ‘আশা করি, স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের মধ্যে কোনো দূরত্বের সৃষ্টি হবে না।’

নির্বাচন কমিশন (ইসি) আগামী ১২ নভেম্বর থেকে সাত ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের সম্ভাব্য সময়সূচি ঘোষণা করেছিল। তবে এ ঘোষণার সঙ্গে দ্বিমত প্রকাশ করে পরদিন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম গণমাধ্যমকে জানান, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা না করেই ইসি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের সময়সূচি ঘোষণা করেছে। এ বিষয়ে সরকার কিছুই জানে না বলে দাবি করেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রীর ওই বক্তব্যের পর স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের মধ্যে মতপার্থক্যের বিষয়টি সামনে আসে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল বিএনপি কীভাবে ও কখন স্থানীয় নির্বাচন চায়, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।

বিএনপির দায়িত্বশীল নেতারা জানান, পাঁচ ধাপে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের পক্ষে দলটি। দলের নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে অধিকাংশ সদস্য পাঁচ ধাপে নির্বাচনের পক্ষে মত দেন। দলের হাইকমান্ডও এতে একমত বলে জানান নেতারা।

বিএনপির পরিকল্পনা অনুযায়ী, চলতি বছরের শেষ দিকে নির্বাচন শুরু করে আগামী বছরের মার্চের মধ্যে সব ধাপের ভোট শেষ করা হতে পারে।

দলটির দায়িত্বশীল নেতারা বলছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন বিএনপির কাছে শুধু ভোটের সময়সূচির বিষয় নয়; এর সঙ্গে তৃণমূল সংগঠন ও প্রার্থী ব্যবস্থাপনার বিষয়ও জড়িত। ইউনিয়ন পরিষদ থেকে শুরু করে পৌরসভা, উপজেলা, জেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশনসহ স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন স্তরের নির্বাচনে দলীয় নেতাকর্মীদের সক্রিয় অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি হবে।

বিশেষ করে ইউনিয়ন পর্যায়ে একাধিক আগ্রহী প্রার্থী থাকলে দলীয় সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন ও নির্বাচনি শৃঙ্খলা বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করেন দলটির নেতারা। একই সঙ্গে স্থানীয় পর্যায়ে প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দলগুলোর সাংগঠনিক তৎপরতা, প্রার্থী বাছাই এবং নির্বাচনি জোট বা সমঝোতার বিষয়ও সামনে আসবে।

দলীয় নেতাদের ভাষ্য, নির্বাচনের জন্য পর্যাপ্ত সময় না পাওয়া গেলে দলের ভেতরে অভ্যন্তরীণ কোন্দল বা বিদ্রোহী প্রার্থীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পাঁচ ধাপে নির্বাচন হলে প্রতিটি ধাপের জন্য যোগ্য প্রার্থী বাছাই ও সাংগঠনিক প্রস্তুতির জন্য দল পর্যাপ্ত সময় পাবে।

বিএনপি মনে করে, বিগত বছরগুলোতে স্থানীয় সরকার কাঠামোগুলো দুর্বল হয়ে পড়েছিল এবং বর্তমানে অনেক জায়গায় প্রশাসকদের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। ধাপে ধাপে নির্বাচন সম্পন্ন হলে মাঠপর্যায়ে স্বাভাবিক রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরি হবে এবং ভোটারদের মধ্যে আস্থা ফিরতে পারে বলে দলটির নেতারা মনে করেন।

এদিকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার আয়োজন করছে নির্বাচন কমিশন। আগামী ২৩, ২৪ ও ২৫ সেপ্টেম্বর তিন দিনে নিবন্ধিত দলগুলোর সঙ্গে সংলাপের পরিকল্পনা জানিয়েছে কমিশন। সেখানে স্থানীয় নির্বাচনের বিভিন্ন বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত নেওয়া হবে।

বিএনপির পাঁচ ধাপে নির্বাচনের প্রস্তাবও ওই আলোচনায় তুলে ধরা হবে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।

বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান মঙ্গলবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, সংবিধানের নিয়মকানুন মেনে, সরকারের নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এবং জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটিয়ে স্থানীয় সরকারের প্রতিটি স্তরে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এসব নির্বাচনে সত্যিকার অর্থে জনগণের প্রতিনিধিরাই নির্বাচিত হবেন।
ঢাকা/এসএস