ভিয়েনা ১০:১৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষকদের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ: শিক্ষামন্ত্রী দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা, তবু যুক্তরাষ্ট্রে বলসোনারো? চোটে মুশফিক ছিটকে গেলেন, মিরপুর টেস্টে খেলছেন হৃদয় বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে জাপানকে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান লালমোহনে টেন্ডার ছাড়াই অর্ধ কোটি টাকার গাছ কর্তন! ইউএনও’র নীরব ভূমিকা ঝালকাঠিতে যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত ঝালকাঠিতে ইলিশ রক্ষার অভিযানে হামলা, আহত ৭ চরফ্যাশনে কালবেলার ৪র্থ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন শিক্ষাজীবন শেষ করেই চাকরি পাবে শিক্ষার্থীরা, সেই লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার: প্রতিমন্ত্রী টুকু প্রতিমন্ত্রীর উদ্যোগে লিবিয়া থেকে ফিরলেন টাঙ্গাইলের দুই যুবক

সন্দ্বীপে বিএনপি নেতা আলমগীর ঠাকুরের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ

  • EuroBanglaTimes
  • আপডেটের সময় ১১:২৪:১৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬
  • ৪৮৫০ সময় দেখুন

ইবিটাইমস ডেস্ক : আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর চট্টগ্রামের সন্দ্বীপে উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আলমগীর হোসাইন ঠাকুরের প্রভাব ও নিয়ন্ত্রণ বেড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। দখল, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা, অবৈধ ইটভাটা, জলদস্যুতা ও বিভিন্ন অনিয়মসহ তার বিরুদ্ধে নানা গুরুতর অভিযোগ রয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের। এসব অভিযোগের বিষয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির কাছেও লিখিত অভিযোগ ও বিভিন্ন নথি জমা পড়েছে বলে জানা গেছে।

তবে এসব অভিযোগের অনেকগুলোর স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। অভিযোগগুলোর বিষয়ে আলমগীর হোসাইন ঠাকুরের বক্তব্যও নেওয়া হয়েছে।

যৌন নির্যাতনের অভিযোগ

আলমগীর ঠাকুরের বিরুদ্ধে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগগুলোর একটি শিশুদের যৌন নির্যাতন-সংক্রান্ত। সম্প্রতি ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরকে যৌন নির্যাতনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ক্ষোভ সৃষ্টি হয়।

এর আগে ২০২৩ সালের অক্টোবরে সন্দ্বীপের হরিশপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে এক শিশুকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় উপজেলা বিএনপির ১১ জন যুগ্ম আহ্বায়ক আলমগীর ঠাকুরকে বহিষ্কারের দাবি জানিয়ে কেন্দ্র ও জেলা কমিটিতে লিখিত অভিযোগ দেন এবং চট্টগ্রামে মানববন্ধন করেন বলে জানা গেছে।

এ ছাড়া পদ-পদবির প্রলোভন দেখিয়ে জুনিয়র নেতাকর্মীদের ওপর যৌন নির্যাতনের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্ত বা আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের তথ্য পাওয়া যায়নি।

‘কাছারি বাড়ি’ ঘিরে প্রভাবের অভিযোগ

স্থানীয়দের অভিযোগ, সন্দ্বীপ পৌরসভা এলাকায় আলমগীর ঠাকুরের ‘কাছারি বাড়ি’কে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনীতি, প্রশাসন ও বিভিন্ন ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে তার প্রভাব বিস্তার করেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পুলিশ কর্মকর্তার দাবি, থানায় কোনো অভিযোগ গ্রহণ বা কাউকে গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রেও আলমগীর ঠাকুরের ‘গ্রিন সিগন্যাল’ প্রয়োজন হয়। তবে এ দাবির স্বাধীন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

সাবেক উপজেলা প্রকৌশলী আলীমের সঙ্গে অনৈতিক সখ্যের মাধ্যমে কোনো কাজ না করেই ৩৮ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। অভিযোগের তদন্তে সত্যতা পাওয়ার পর ওই প্রকৌশলীকে বদলি করা হলেও আলমগীর ঠাকুরের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

আওয়ামী লীগ নেতাদের সম্পদ দখলের অভিযোগ

৫ আগস্টের পর আত্মগোপনে থাকা আওয়ামী লীগ নেতাদের বিভিন্ন সম্পদ জোরপূর্বক দখলে নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে আলমগীর ঠাকুরের বিরুদ্ধে।

অভিযোগ অনুযায়ী, সাবেক পৌর মেয়র মোক্তাদের মাওলা সেলিমের প্রায় ১০ কোটি টাকা মূল্যের ১১টি ফিশিং বোট ও ২৬টি মহিষ এবং সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেনের পাঁচটি মালবাহী বোট ও নয়টি স্পিডবোটের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।

এ ছাড়া প্রশাসনের ওপর প্রভাব খাটিয়ে গেজেটের বাইরে স্পিডবোটের ভাড়া বাড়িয়ে পরিবহন সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণের অভিযোগও রয়েছে।

ইটভাটা ও খাসজমি দখলের অভিযোগ

পরিবেশ অধিদপ্তরের নির্দেশে বন্ধ থাকা ‘বিবিএস’ ও ‘তাজ ব্রিকস’ নামের দুটি ইটভাটা পুনরায় চালু করে সেগুলোর জ্বালানি সরবরাহে উড়িরচরের উপকূলীয় বন উজাড়ের অভিযোগও রয়েছে তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে।

হরিশপুরের নতুন চরের প্রায় ২০ একর খাসজমি ও যৌথ সম্পত্তি দখল করে প্রায় ১ কোটি টাকার মাটি বিক্রি এবং সেখানে ব্যক্তিগত ফিশিং প্রকল্প গড়ে তোলার অভিযোগও করা হয়েছে।

তবে ইটভাটার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আলমগীর ঠাকুর।

ঠিকাদারদের কাছ থেকে চাঁদার অভিযোগ

ঠিকাদার ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকেও চাঁদা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। কার্গিল হাইস্কুলের ভবন নির্মাণকাজ থেকে ‘সামিহা এন্টারপ্রাইজ’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে দফায় দফায় মোট ৪ লাখ টাকা চাঁদা নেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, সর্বশেষ ৭০ হাজার টাকা তিন দফায়—২০ হাজার, ২০ হাজার ও ৩০ হাজার টাকা—মগধরা ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের মাধ্যমে আলমগীর ঠাকুরের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়।

এ ছাড়া গুপ্তছড়া স্টিমার সড়ক, নাজিরহাট সড়ক ও ব্লক বেড়িবাঁধ নির্মাণকাজ থেকেও নিয়মিত কমিশন নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

সামিহা এন্টারপ্রাইজ থেকে চাঁদা নেওয়ার অভিযোগ সম্পর্কে আলমগীর ঠাকুর বলেন, বিষয়টি তার স্মরণে নেই। বিভিন্ন নির্মাণকাজের ঠিকাদারদের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার বিষয়টি তিনি স্বীকার করেছেন।

‘সেফ প্যাসেজ’ দেওয়ার অভিযোগ

আত্মগোপনে থাকা আওয়ামী লীগ নেতাদের সন্দ্বীপে নিরাপদে ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করে দেওয়ার নামে জনপ্রতি ১০ থেকে ২০ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে আলমগীর ঠাকুরের বিরুদ্ধে। তবে এ অভিযোগের পক্ষে কোনো স্বাধীন নথি বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

খাল দখল ও নলকূপ বণ্টন নিয়ে অভিযোগ

প্রাকৃতিক সম্পদ ও সরকারি প্রকল্প নিয়েও তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, পানি নিষ্কাশনের গুরুত্বপূর্ণ অন্তত ১৫টি খাল দখল করে মাছের ঘের তৈরি করা হয়েছে। এতে সাম্প্রতিক সময়ে সন্দ্বীপে জলাবদ্ধতা তৈরির অন্যতম কারণ হিসেবে এসব দখলকে দায়ী করছেন তারা।

২০২৪-২৫ অর্থবছরে নিরাপদ পানি সরবরাহ প্রকল্পের আওতায় সন্দ্বীপ উপজেলায় ১৮০টি গভীর নলকূপ বরাদ্দ দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, এর মধ্যে প্রায় ১০০টি রাজনৈতিক নেতাদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায় এবং আলমগীর ঠাকুর ১০টি নলকূপ নিজের প্রভাবাধীন এলাকায় নিয়ে নেন।

গভীর নলকূপের জন্য সুপারিশ করার বিষয়টি আলমগীর ঠাকুর স্বীকার করেছেন।

বৈদ্যুতিক খুঁটির জন্য সুপারিশ

বৈদ্যুতিক খুঁটি বরাদ্দের ক্ষেত্রেও প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে নতুন বৈদ্যুতিক খুঁটির জন্য সাতটির বেশি গ্রাহকের পক্ষে সুপারিশ করেন আলমগীর ঠাকুর। এর মধ্যে ১০২৪, ১০২৫ ও ১০৩১ নম্বর সিরিয়াল উল্লেখ করা হয়েছে।

সুপারিশপত্রে দলীয় সিল ও স্বাক্ষর ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে। তবে রাজনৈতিক দলের কোনো নেতার এ ধরনের সুপারিশ করার ক্ষেত্রে আইনগত বাধ্যবাধকতা বা ক্ষমতার সীমা কী ছিল, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ছাড়া নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

সামাজিক বিচারকে কেন্দ্র করে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ

সামাজিক বিচার-মীমাংসার নামে সাধারণ অভিযোগকারীদের কাছ থেকে আমানতের টাকা নিয়ে আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২ এপ্রিল সন্দ্বীপের মগধরা ইউনিয়নের পেলিশ্যার বাজারে স্থানীয় এক যুবক ও দোকান ব্যবসায়ীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় মো. মাইনউদ্দীনের পক্ষ থেকে ১ লাখ টাকা আমানত নেন আলমগীর ঠাকুর। পরে দীর্ঘদিন বিচার না করে ওই টাকা নিজের কাছে রেখে দেন বলে অভিযোগ করা হয়।

বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় এলে চাপের মুখে তিনি ওই ১ লাখ টাকা ফেরত দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

হাট ইজারার নামে টাকা নেওয়ার অভিযোগ

সম্প্রতি পণ্ডিতের হাট ইজারা দেওয়ার কথা বলে চার ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ২৬ লাখ টাকা অগ্রিম নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। একইভাবে সন্দ্বীপের বিভিন্ন হাট-বাজার ইজারা পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

এরশাদ মার্কেট ইজারা পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে যুবদল কর্মী মাহফুজ রিমনের কাছ থেকে আড়াই লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, স্ত্রীকে গহনা বিক্রি করে দেওয়া ওই টাকা ফেরত চাইলে আলমগীর ঠাকুর তাকে মাদক ব্যবসায় জড়ানোর প্রস্তাব দেন। প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার পর ২০২৬ সালের ৬ জুন অস্ত্র উদ্ধারের অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে ১ জুলাই চট্টগ্রাম কোর্ট লকআপ থেকে ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে মাহফুজ রিমন বিষয়টি দাবি করেন।

তবে অস্ত্র মামলার প্রকৃত ঘটনা ও এসব অভিযোগের সত্যতা আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।

গুপ্তছড়া ঘাটে চাঁদাবাজির অভিযোগ

৫ আগস্টের পর গুপ্তছড়া ঘাটে প্রায় অর্ধকোটি টাকার চাঁদাবাজি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগেও আলমগীর ঠাকুরের নাম এসেছে বলে দাবি করা হয়েছে। তার ঘনিষ্ঠ অনুসারী উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব শহিদুল ইসলাম শহিদ ও মগধরা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি আমিন রসুলের মাধ্যমে ওই অর্থ তার ‘কাছারি বাড়িতে’ ভাগাভাগি করা হয়েছে—এমন অভিযোগও রয়েছে।

এ ছাড়া রাতের আঁধারে গুপ্তছড়া ঘাটে সিমেন্টবাহী ট্রলার ও পণ্যবাহী বোটে হামলা চালিয়ে মালামাল লুট ও চাঁদা আদায়ের অভিযোগ করা হয়েছে।

একটি অভিযোগে বলা হয়, একটি বোট থেকে ছয় ড্রাম তেল লুট করা হয়। প্রতিটি ড্রামের মূল্য প্রায় ২২ হাজার ৫০০ টাকা। পরে বোটটি আটকে ৫ লাখ টাকা চাঁদা নেওয়া হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।

একই কায়দায় গাছুয়া হক সাহেবের বাজার ঘাটে একটি সিমেন্টবাহী ট্রলার থেকে ২০০ বস্তা সিমেন্ট লুটের ঘটনাতেও আলমগীর ঠাকুরের নাম জড়িয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এসব অভিযোগের স্বাধীন তদন্ত বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

জাল ও মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ

আলমগীর ঠাকুরের বিরুদ্ধে অবৈধ ‘খসকি’ জাল সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণের অভিযোগও রয়েছে। স্থানীয় অভিযোগ অনুযায়ী, তার সহযোগী হিসেবে পরিচিত আফছারের মাধ্যমে এ ব্যবসা পরিচালনা করে প্রতিদিন প্রায় সাড়ে ৩ লাখ টাকা আয় করা হয়।

এ বিষয়ে উড়িরচর ইউনিয়ন বিএনপি নেতা জাবেদের সঙ্গে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা চাঁদা লেনদেনের একটি অডিও রেকর্ড রয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।

এ ছাড়া সাধারণ জেলেদের ধরা মাছের এক-তৃতীয়াংশ তার ‘কাছারি বাড়িতে’ পাঠাতে বাধ্য করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

পৌরসভা ও মুছাপুরের ছয়টি স্পটে ইয়াবা ব্যবসা এবং গুপ্তছড়া ঘাট এলাকায় প্রায় ৫০টি জুয়ার আসর তার নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে। এসব অভিযোগেরও স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

এমপির প্রতিনিধি হিসেবে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ

স্থানীয়দের দাবি, বর্তমান সংসদ সদস্য মোস্তফা কামাল পাশার বার্ধক্যজনিত অসুস্থতার সুযোগ নিয়ে তার প্রতিনিধি হিসেবে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে একক প্রভাব বিস্তার করছেন আলমগীর ঠাকুর।

তবে এ বিষয়ে সংসদ সদস্য মোস্তফা কামাল পাশা বলেন, “আলমগীর ঠাকুরের কোনো অপকর্মের দায়ভার আমি নেব না।”

যা বললেন আলমগীর ঠাকুর

তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে আলমগীর হোসাইন ঠাকুর গভীর নলকূপ ও বৈদ্যুতিক খুঁটির জন্য সুপারিশ করার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। সামিহা এন্টারপ্রাইজ থেকে চাঁদা নেওয়ার অভিযোগ সম্পর্কে তিনি বলেন, বিষয়টি তার স্মরণে নেই।

বিভিন্ন নির্মাণকাজের ঠিকাদারদের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার বিষয়টিও তিনি স্বীকার করেন। তবে ইটভাটার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। অন্য অভিযোগগুলোর বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।

আলমগীর ঠাকুরের বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগের বিষয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ও সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এত গুরুতর অভিযোগ ওঠার পরও কার্যকর ব্যবস্থা না হওয়ায় সন্দ্বীপে আতঙ্ক ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। তারা এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং সত্যতা প্রমাণিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
ঢাকা/এসএস

শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষকদের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ: শিক্ষামন্ত্রী

Address : Erlaaer Strasse 49/8/16 A-1230 Vienna,Austria. Mob : +43676848863279, 8801719316684 (BD) 8801911691101 ( Ads) Email : eurobanglatimes123@gmail.com
Translate »

সন্দ্বীপে বিএনপি নেতা আলমগীর ঠাকুরের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ

আপডেটের সময় ১১:২৪:১৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬

ইবিটাইমস ডেস্ক : আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর চট্টগ্রামের সন্দ্বীপে উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আলমগীর হোসাইন ঠাকুরের প্রভাব ও নিয়ন্ত্রণ বেড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। দখল, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা, অবৈধ ইটভাটা, জলদস্যুতা ও বিভিন্ন অনিয়মসহ তার বিরুদ্ধে নানা গুরুতর অভিযোগ রয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের। এসব অভিযোগের বিষয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির কাছেও লিখিত অভিযোগ ও বিভিন্ন নথি জমা পড়েছে বলে জানা গেছে।

তবে এসব অভিযোগের অনেকগুলোর স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। অভিযোগগুলোর বিষয়ে আলমগীর হোসাইন ঠাকুরের বক্তব্যও নেওয়া হয়েছে।

যৌন নির্যাতনের অভিযোগ

আলমগীর ঠাকুরের বিরুদ্ধে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগগুলোর একটি শিশুদের যৌন নির্যাতন-সংক্রান্ত। সম্প্রতি ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরকে যৌন নির্যাতনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ক্ষোভ সৃষ্টি হয়।

এর আগে ২০২৩ সালের অক্টোবরে সন্দ্বীপের হরিশপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে এক শিশুকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় উপজেলা বিএনপির ১১ জন যুগ্ম আহ্বায়ক আলমগীর ঠাকুরকে বহিষ্কারের দাবি জানিয়ে কেন্দ্র ও জেলা কমিটিতে লিখিত অভিযোগ দেন এবং চট্টগ্রামে মানববন্ধন করেন বলে জানা গেছে।

এ ছাড়া পদ-পদবির প্রলোভন দেখিয়ে জুনিয়র নেতাকর্মীদের ওপর যৌন নির্যাতনের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্ত বা আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের তথ্য পাওয়া যায়নি।

‘কাছারি বাড়ি’ ঘিরে প্রভাবের অভিযোগ

স্থানীয়দের অভিযোগ, সন্দ্বীপ পৌরসভা এলাকায় আলমগীর ঠাকুরের ‘কাছারি বাড়ি’কে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনীতি, প্রশাসন ও বিভিন্ন ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে তার প্রভাব বিস্তার করেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পুলিশ কর্মকর্তার দাবি, থানায় কোনো অভিযোগ গ্রহণ বা কাউকে গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রেও আলমগীর ঠাকুরের ‘গ্রিন সিগন্যাল’ প্রয়োজন হয়। তবে এ দাবির স্বাধীন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

সাবেক উপজেলা প্রকৌশলী আলীমের সঙ্গে অনৈতিক সখ্যের মাধ্যমে কোনো কাজ না করেই ৩৮ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। অভিযোগের তদন্তে সত্যতা পাওয়ার পর ওই প্রকৌশলীকে বদলি করা হলেও আলমগীর ঠাকুরের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

আওয়ামী লীগ নেতাদের সম্পদ দখলের অভিযোগ

৫ আগস্টের পর আত্মগোপনে থাকা আওয়ামী লীগ নেতাদের বিভিন্ন সম্পদ জোরপূর্বক দখলে নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে আলমগীর ঠাকুরের বিরুদ্ধে।

অভিযোগ অনুযায়ী, সাবেক পৌর মেয়র মোক্তাদের মাওলা সেলিমের প্রায় ১০ কোটি টাকা মূল্যের ১১টি ফিশিং বোট ও ২৬টি মহিষ এবং সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেনের পাঁচটি মালবাহী বোট ও নয়টি স্পিডবোটের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।

এ ছাড়া প্রশাসনের ওপর প্রভাব খাটিয়ে গেজেটের বাইরে স্পিডবোটের ভাড়া বাড়িয়ে পরিবহন সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণের অভিযোগও রয়েছে।

ইটভাটা ও খাসজমি দখলের অভিযোগ

পরিবেশ অধিদপ্তরের নির্দেশে বন্ধ থাকা ‘বিবিএস’ ও ‘তাজ ব্রিকস’ নামের দুটি ইটভাটা পুনরায় চালু করে সেগুলোর জ্বালানি সরবরাহে উড়িরচরের উপকূলীয় বন উজাড়ের অভিযোগও রয়েছে তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে।

হরিশপুরের নতুন চরের প্রায় ২০ একর খাসজমি ও যৌথ সম্পত্তি দখল করে প্রায় ১ কোটি টাকার মাটি বিক্রি এবং সেখানে ব্যক্তিগত ফিশিং প্রকল্প গড়ে তোলার অভিযোগও করা হয়েছে।

তবে ইটভাটার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আলমগীর ঠাকুর।

ঠিকাদারদের কাছ থেকে চাঁদার অভিযোগ

ঠিকাদার ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকেও চাঁদা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। কার্গিল হাইস্কুলের ভবন নির্মাণকাজ থেকে ‘সামিহা এন্টারপ্রাইজ’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে দফায় দফায় মোট ৪ লাখ টাকা চাঁদা নেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, সর্বশেষ ৭০ হাজার টাকা তিন দফায়—২০ হাজার, ২০ হাজার ও ৩০ হাজার টাকা—মগধরা ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের মাধ্যমে আলমগীর ঠাকুরের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়।

এ ছাড়া গুপ্তছড়া স্টিমার সড়ক, নাজিরহাট সড়ক ও ব্লক বেড়িবাঁধ নির্মাণকাজ থেকেও নিয়মিত কমিশন নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

সামিহা এন্টারপ্রাইজ থেকে চাঁদা নেওয়ার অভিযোগ সম্পর্কে আলমগীর ঠাকুর বলেন, বিষয়টি তার স্মরণে নেই। বিভিন্ন নির্মাণকাজের ঠিকাদারদের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার বিষয়টি তিনি স্বীকার করেছেন।

‘সেফ প্যাসেজ’ দেওয়ার অভিযোগ

আত্মগোপনে থাকা আওয়ামী লীগ নেতাদের সন্দ্বীপে নিরাপদে ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করে দেওয়ার নামে জনপ্রতি ১০ থেকে ২০ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে আলমগীর ঠাকুরের বিরুদ্ধে। তবে এ অভিযোগের পক্ষে কোনো স্বাধীন নথি বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

খাল দখল ও নলকূপ বণ্টন নিয়ে অভিযোগ

প্রাকৃতিক সম্পদ ও সরকারি প্রকল্প নিয়েও তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, পানি নিষ্কাশনের গুরুত্বপূর্ণ অন্তত ১৫টি খাল দখল করে মাছের ঘের তৈরি করা হয়েছে। এতে সাম্প্রতিক সময়ে সন্দ্বীপে জলাবদ্ধতা তৈরির অন্যতম কারণ হিসেবে এসব দখলকে দায়ী করছেন তারা।

২০২৪-২৫ অর্থবছরে নিরাপদ পানি সরবরাহ প্রকল্পের আওতায় সন্দ্বীপ উপজেলায় ১৮০টি গভীর নলকূপ বরাদ্দ দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, এর মধ্যে প্রায় ১০০টি রাজনৈতিক নেতাদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায় এবং আলমগীর ঠাকুর ১০টি নলকূপ নিজের প্রভাবাধীন এলাকায় নিয়ে নেন।

গভীর নলকূপের জন্য সুপারিশ করার বিষয়টি আলমগীর ঠাকুর স্বীকার করেছেন।

বৈদ্যুতিক খুঁটির জন্য সুপারিশ

বৈদ্যুতিক খুঁটি বরাদ্দের ক্ষেত্রেও প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে নতুন বৈদ্যুতিক খুঁটির জন্য সাতটির বেশি গ্রাহকের পক্ষে সুপারিশ করেন আলমগীর ঠাকুর। এর মধ্যে ১০২৪, ১০২৫ ও ১০৩১ নম্বর সিরিয়াল উল্লেখ করা হয়েছে।

সুপারিশপত্রে দলীয় সিল ও স্বাক্ষর ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে। তবে রাজনৈতিক দলের কোনো নেতার এ ধরনের সুপারিশ করার ক্ষেত্রে আইনগত বাধ্যবাধকতা বা ক্ষমতার সীমা কী ছিল, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ছাড়া নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

সামাজিক বিচারকে কেন্দ্র করে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ

সামাজিক বিচার-মীমাংসার নামে সাধারণ অভিযোগকারীদের কাছ থেকে আমানতের টাকা নিয়ে আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২ এপ্রিল সন্দ্বীপের মগধরা ইউনিয়নের পেলিশ্যার বাজারে স্থানীয় এক যুবক ও দোকান ব্যবসায়ীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় মো. মাইনউদ্দীনের পক্ষ থেকে ১ লাখ টাকা আমানত নেন আলমগীর ঠাকুর। পরে দীর্ঘদিন বিচার না করে ওই টাকা নিজের কাছে রেখে দেন বলে অভিযোগ করা হয়।

বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় এলে চাপের মুখে তিনি ওই ১ লাখ টাকা ফেরত দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

হাট ইজারার নামে টাকা নেওয়ার অভিযোগ

সম্প্রতি পণ্ডিতের হাট ইজারা দেওয়ার কথা বলে চার ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ২৬ লাখ টাকা অগ্রিম নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। একইভাবে সন্দ্বীপের বিভিন্ন হাট-বাজার ইজারা পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

এরশাদ মার্কেট ইজারা পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে যুবদল কর্মী মাহফুজ রিমনের কাছ থেকে আড়াই লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, স্ত্রীকে গহনা বিক্রি করে দেওয়া ওই টাকা ফেরত চাইলে আলমগীর ঠাকুর তাকে মাদক ব্যবসায় জড়ানোর প্রস্তাব দেন। প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার পর ২০২৬ সালের ৬ জুন অস্ত্র উদ্ধারের অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে ১ জুলাই চট্টগ্রাম কোর্ট লকআপ থেকে ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে মাহফুজ রিমন বিষয়টি দাবি করেন।

তবে অস্ত্র মামলার প্রকৃত ঘটনা ও এসব অভিযোগের সত্যতা আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।

গুপ্তছড়া ঘাটে চাঁদাবাজির অভিযোগ

৫ আগস্টের পর গুপ্তছড়া ঘাটে প্রায় অর্ধকোটি টাকার চাঁদাবাজি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগেও আলমগীর ঠাকুরের নাম এসেছে বলে দাবি করা হয়েছে। তার ঘনিষ্ঠ অনুসারী উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব শহিদুল ইসলাম শহিদ ও মগধরা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি আমিন রসুলের মাধ্যমে ওই অর্থ তার ‘কাছারি বাড়িতে’ ভাগাভাগি করা হয়েছে—এমন অভিযোগও রয়েছে।

এ ছাড়া রাতের আঁধারে গুপ্তছড়া ঘাটে সিমেন্টবাহী ট্রলার ও পণ্যবাহী বোটে হামলা চালিয়ে মালামাল লুট ও চাঁদা আদায়ের অভিযোগ করা হয়েছে।

একটি অভিযোগে বলা হয়, একটি বোট থেকে ছয় ড্রাম তেল লুট করা হয়। প্রতিটি ড্রামের মূল্য প্রায় ২২ হাজার ৫০০ টাকা। পরে বোটটি আটকে ৫ লাখ টাকা চাঁদা নেওয়া হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।

একই কায়দায় গাছুয়া হক সাহেবের বাজার ঘাটে একটি সিমেন্টবাহী ট্রলার থেকে ২০০ বস্তা সিমেন্ট লুটের ঘটনাতেও আলমগীর ঠাকুরের নাম জড়িয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এসব অভিযোগের স্বাধীন তদন্ত বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

জাল ও মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ

আলমগীর ঠাকুরের বিরুদ্ধে অবৈধ ‘খসকি’ জাল সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণের অভিযোগও রয়েছে। স্থানীয় অভিযোগ অনুযায়ী, তার সহযোগী হিসেবে পরিচিত আফছারের মাধ্যমে এ ব্যবসা পরিচালনা করে প্রতিদিন প্রায় সাড়ে ৩ লাখ টাকা আয় করা হয়।

এ বিষয়ে উড়িরচর ইউনিয়ন বিএনপি নেতা জাবেদের সঙ্গে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা চাঁদা লেনদেনের একটি অডিও রেকর্ড রয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।

এ ছাড়া সাধারণ জেলেদের ধরা মাছের এক-তৃতীয়াংশ তার ‘কাছারি বাড়িতে’ পাঠাতে বাধ্য করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

পৌরসভা ও মুছাপুরের ছয়টি স্পটে ইয়াবা ব্যবসা এবং গুপ্তছড়া ঘাট এলাকায় প্রায় ৫০টি জুয়ার আসর তার নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে। এসব অভিযোগেরও স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

এমপির প্রতিনিধি হিসেবে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ

স্থানীয়দের দাবি, বর্তমান সংসদ সদস্য মোস্তফা কামাল পাশার বার্ধক্যজনিত অসুস্থতার সুযোগ নিয়ে তার প্রতিনিধি হিসেবে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে একক প্রভাব বিস্তার করছেন আলমগীর ঠাকুর।

তবে এ বিষয়ে সংসদ সদস্য মোস্তফা কামাল পাশা বলেন, “আলমগীর ঠাকুরের কোনো অপকর্মের দায়ভার আমি নেব না।”

যা বললেন আলমগীর ঠাকুর

তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে আলমগীর হোসাইন ঠাকুর গভীর নলকূপ ও বৈদ্যুতিক খুঁটির জন্য সুপারিশ করার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। সামিহা এন্টারপ্রাইজ থেকে চাঁদা নেওয়ার অভিযোগ সম্পর্কে তিনি বলেন, বিষয়টি তার স্মরণে নেই।

বিভিন্ন নির্মাণকাজের ঠিকাদারদের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার বিষয়টিও তিনি স্বীকার করেন। তবে ইটভাটার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। অন্য অভিযোগগুলোর বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।

আলমগীর ঠাকুরের বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগের বিষয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ও সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এত গুরুতর অভিযোগ ওঠার পরও কার্যকর ব্যবস্থা না হওয়ায় সন্দ্বীপে আতঙ্ক ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। তারা এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং সত্যতা প্রমাণিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
ঢাকা/এসএস