ভিয়েনা ০৪:০২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬, ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
লালমোহনে পাকা সড়কের দাবিতে মানববন্ধন রোমানিয়ার আবাসিক ভবনে রুশ ড্রোন হামলা, আহত ২ ট্রাম্পের অনুমোদনের অপেক্ষায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের আরও ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি আগামীকাল শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী অস্ট্রিয়ায় যথাযোগ্য ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মাধ্যমে পবিত্র ঈদুল আযহা উদযাপিত স্বাধীনতা যুদ্ধের স্বপ্ন আজও বাস্তবায়িত হয়নি : স্পিকার জাতীয় ঈদগাহে প্রধান জামাত সকাল সাড়ে ৭টায়, অংশ নেবেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী আগামীকাল ঈদুল আজহা দেশবাসীসহ বিশ্বের সকল মুসলমানকে পবিত্র ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ঈদে নিরাপত্তা নিয়ে কোনো হুমকি নেই: র‌্যাব মহাপরিচালক

অস্ট্রিয়ার সালজবুর্গ রাজ্য পুনরায় করোনার লাল জোনে

  • EuroBanglaTimes
  • আপডেটের সময় ০৮:৫২:২১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ অক্টোবর ২০২১
  • ৬৩ সময় দেখুন

অস্ট্রিয়ার অন্যান্য ফেডারেল রাজ্যে করোনা পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল অবস্থায় আছে

ইউরোপ ডেস্কঃ অস্ট্রিয়ার করোনার ট্র্যাফিক লাইট কমিশন তাদের নিয়মিত সাপ্তাহিক বৈঠকে অস্ট্রিয়ার পশ্চিমের রাজ্য Salzburg কে পুনরায় করোনার লাল জোন ঘোষণা করেছে। বর্তমানে এই রাজ্যের টেনেনগাউ জেলা করোনার হটস্পট হয়ে উঠেছে।

Salzburg থেকে প্রকাশিত দৈনিক Salzburger Nachrichten জানিয়েছেন রাজ্যের সংক্রমণ রোগ বিশেষজ্ঞরা পূর্বেই জানিয়েছিলেন যে, অক্টোবরের মাঝামাঝি থেকে সালজবুর্গে করোনার সংক্রমণের বিস্তার পুনরায় বৃদ্ধি পাবে। ট্রাফিক লাইট কমিশন তাদের নিয়মিত সাপ্তাহিক বৈঠকে এই রাজ্যটিকে পুনরায় লাল রঙে উন্নীত করেছে, যার অর্থ সংক্রমণের খুব উচ্চ ঝুঁকি রয়েছে এখানে।

সাম্প্রতিক দিনগুলির সর্বশেষ এক পরিসংখ্যানে দেখা যায় রাজ্যের টেনেনগাউ জেলা আবার একটি করোনা হটস্পট হয়ে উঠছে, যা খুব দ্রুত সেখানে করোনা ব্যবস্থা কঠোর করতে পারে।  একই সময়ে, জেলায় টিকাদানের হার সবচেয়ে কম।  অন্যদিকে, টিকা না দেওয়া রোগীদের মধ্যে সাত দিনের ঘটনা কিছু ক্ষেত্রে ইতিমধ্যেই সংক্রমণের আগের তরঙ্গে পূর্বের উচ্চতায় পৌঁছেছে।

টেনেনগাউ জেলায় গত সাত দিনে প্রতি ১,০০,০০০ লাখ জনপদে করোনায় আক্রান্ত ৪০২ জন।তারপরে ফ্ল্যাচগাউতে ২৬৯ জন এবং লুঙ্গাউতে ২৬৮

জন। সমগ্র সালজবুর্গ রাজ্যে গত সাতদিনে প্রতি একলাখ জনপদে করোনা আক্রান্ত শনাক্ত ২০৪ জন।

রাষ্ট্রীয় পরিসংখ্যানবিদ গেরনট ফিলিপ দৈনিক SN কে এক সাক্ষাৎকারে বলেন,গত বছর ঠিক এই সময়েই করোনার সংক্রমণের বিস্তার প্রথমে সালজবুর্গ শহর থেকে বিভিন্ন জেলায় এবং পরবর্তীতে সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছিল। প্রাথমিকভাবে,সংক্রমণের বিস্তার বৃদ্ধির কারণ হিসাবে বলা হয়েছে মূলত যারা গ্রীষ্মকালীন অবকাশ থেকে ফিরে এসেছেন তারাই অধিক সংখ্যায় সংক্রমিত শনাক্ত হয়েছেন।

সংক্রমণের বিস্তারটি যারা করোনার প্রতিষেধক টিকা নেয় নি তাদের মধ্যে ব্যাপকহারে ছড়িয়ে পড়েছে।ভ্রমণ থেকে ফিরে আসা লোকজনের দ্বারা সংক্রমণের বিস্তার বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে ভাইরাসটি এখন প্রধানত অপ্রাপ্তবয়স্ক বয়স্ক মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ছে।  টেনেনগাউতে, মোট জনসংখ্যার ৫৬,৬ শতাংশ মানুষকে এখন পর্যন্ত করোনার সম্পূর্ণ টিকা দেওয়া হয়েছে, যেমনটি ফিলিপ বলেছেন। রাজ্যের বাকী জেলায় টিকা দেওয়ার হারও শতকরা ৬০ শতাংশের নীচে।

অস্ট্রিয়ার করোনার ট্র্যাফিক লাইট কমিশন রাজধানী ভিয়েনায় সংক্রমণের বিস্তার কমে আসায় কমলা জোন থেকে হলুদ জোনে স্থানান্তরিত করেছে। অস্ট্রিয়ার OÖ,NÖ,Steiermark ও Tirol রাজ্য এই সপ্তাহে করোনার কমলা জোনেই থাকছে। ভিয়েনার সাথে হলুদ জোনের অন্যান্য রাজ্যের মধ্যে আছে Burgenland, Kärnten ও Vorarlberg।

এদিকে অস্ট্রিয়ার রাজ্য সমূহের মধ্যে করোনায় সবচেয়ে ভাল অবস্থায় আছে পূর্বাঞ্চলের রাজ্য Burgenland। আজ এই রাজ্যের গভর্নর হ্যান্স পিটার ডসকোজিল (SPÖ) এক সাংবাদিক সম্মেলনে জানিয়েছেন এই রাজ্য থেকে খুব শীঘ্রই করোনার যাবতীয় বিধিনিষেধ উঠিয়ে নেয়া হবে। তিনি বলেন, দেশে সর্বোচ্চ টিকা দেওয়ার হার নিয়ে বুর্গেনল্যান্ড অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। তিনি সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন এই রাজ্যের শতকরা ৮০ শতাংশ মানুষ করোনার প্রতিষেধক টিকার সম্পূর্ণ ডোজ গ্রহণ করেছেন।

আজ অস্ট্রিয়ায় করোনায় নতুন করে সংক্রমিত শনাক্ত হয়েছেন ২,৪৩২ জন এবং মৃত্যুবরণ করেছেন ৮ জন। রাজধানী ভিয়েনায় আজ নতুন করে করোনায় সংক্রমিত শনাক্ত হয়েছেন ৪৬৬ জন।

অন্যান্য রাজ্যের মধ্যে OÖ রাজ্যে ৬২১ জন, NÖ রাজ্যে ৪৩৭ জন, Steiermark রাজ্যে ২৭১ জন, Tirol রাজ্যে ২১৮ জন, Salzburg রাজ্যে ১৯৯ জন, Kärnten রাজ্যে ১৩৫ জন, Vorarlberg রাজ্যে ৫৯ জন এবং Burgenland রাজ্যে ২৬ জন নতুন করে করোনায় সংক্রমিত শনাক্ত হয়েছেন।

অস্ট্রিয়ার স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুসারে আজ দেশে করোনার প্রতিষেধক টিকা দেয়া হয়েছে ১১,২৩০ ডোজ এবং মোট দেয়ার পরিমাণ ১,০৯,৯৪,২৭৮ ডোজ। অস্ট্রিয়ায় এই পর্যন্ত করোনার প্রতিষেধক টিকার সম্পূর্ণ ডোজ গ্রহণ করেছেন ৫৫,০৫,৬৪৯ জন, যা দেশের মোট জনসংখ্যার শতকরা ৬১,৬ শতাংশ।

অস্ট্রিয়ায় এই পর্যন্ত করোনায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৭,৭১,১৪৩ জন এবং মৃত্যুবরণ করেছেন ১১,১৫১ জন।করোনার থেকে এই পর্যন্ত আরোগ্য লাভ করেছেন মোট ৭,৩৯,০২৪ জন। বর্তমানে করোনার সক্রিয় রোগীর সংখ্যা ২০,৯৬৮ জন। এর মধ্যে ক্রিটিক্যাল অবস্থার মধ্যে আইসিইউতে আছেন ২১৬ জন এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন ৪৭৩ জন। বাকীরা নিজ নিজ বাড়িতে আইসোলেশনে আছেন।

কবির আহমেদ/ ইবিটাইমস

জনপ্রিয়

লালমোহনে পাকা সড়কের দাবিতে মানববন্ধন

Address : Erlaaer Strasse 49/8/16 A-1230 Vienna,Austria. Mob : +43676848863279, 8801719316684 (BD) 8801911691101 ( Ads) Email : eurobanglatimes123@gmail.com
Translate »

অস্ট্রিয়ার সালজবুর্গ রাজ্য পুনরায় করোনার লাল জোনে

আপডেটের সময় ০৮:৫২:২১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ অক্টোবর ২০২১

অস্ট্রিয়ার অন্যান্য ফেডারেল রাজ্যে করোনা পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল অবস্থায় আছে

ইউরোপ ডেস্কঃ অস্ট্রিয়ার করোনার ট্র্যাফিক লাইট কমিশন তাদের নিয়মিত সাপ্তাহিক বৈঠকে অস্ট্রিয়ার পশ্চিমের রাজ্য Salzburg কে পুনরায় করোনার লাল জোন ঘোষণা করেছে। বর্তমানে এই রাজ্যের টেনেনগাউ জেলা করোনার হটস্পট হয়ে উঠেছে।

Salzburg থেকে প্রকাশিত দৈনিক Salzburger Nachrichten জানিয়েছেন রাজ্যের সংক্রমণ রোগ বিশেষজ্ঞরা পূর্বেই জানিয়েছিলেন যে, অক্টোবরের মাঝামাঝি থেকে সালজবুর্গে করোনার সংক্রমণের বিস্তার পুনরায় বৃদ্ধি পাবে। ট্রাফিক লাইট কমিশন তাদের নিয়মিত সাপ্তাহিক বৈঠকে এই রাজ্যটিকে পুনরায় লাল রঙে উন্নীত করেছে, যার অর্থ সংক্রমণের খুব উচ্চ ঝুঁকি রয়েছে এখানে।

সাম্প্রতিক দিনগুলির সর্বশেষ এক পরিসংখ্যানে দেখা যায় রাজ্যের টেনেনগাউ জেলা আবার একটি করোনা হটস্পট হয়ে উঠছে, যা খুব দ্রুত সেখানে করোনা ব্যবস্থা কঠোর করতে পারে।  একই সময়ে, জেলায় টিকাদানের হার সবচেয়ে কম।  অন্যদিকে, টিকা না দেওয়া রোগীদের মধ্যে সাত দিনের ঘটনা কিছু ক্ষেত্রে ইতিমধ্যেই সংক্রমণের আগের তরঙ্গে পূর্বের উচ্চতায় পৌঁছেছে।

টেনেনগাউ জেলায় গত সাত দিনে প্রতি ১,০০,০০০ লাখ জনপদে করোনায় আক্রান্ত ৪০২ জন।তারপরে ফ্ল্যাচগাউতে ২৬৯ জন এবং লুঙ্গাউতে ২৬৮

জন। সমগ্র সালজবুর্গ রাজ্যে গত সাতদিনে প্রতি একলাখ জনপদে করোনা আক্রান্ত শনাক্ত ২০৪ জন।

রাষ্ট্রীয় পরিসংখ্যানবিদ গেরনট ফিলিপ দৈনিক SN কে এক সাক্ষাৎকারে বলেন,গত বছর ঠিক এই সময়েই করোনার সংক্রমণের বিস্তার প্রথমে সালজবুর্গ শহর থেকে বিভিন্ন জেলায় এবং পরবর্তীতে সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছিল। প্রাথমিকভাবে,সংক্রমণের বিস্তার বৃদ্ধির কারণ হিসাবে বলা হয়েছে মূলত যারা গ্রীষ্মকালীন অবকাশ থেকে ফিরে এসেছেন তারাই অধিক সংখ্যায় সংক্রমিত শনাক্ত হয়েছেন।

সংক্রমণের বিস্তারটি যারা করোনার প্রতিষেধক টিকা নেয় নি তাদের মধ্যে ব্যাপকহারে ছড়িয়ে পড়েছে।ভ্রমণ থেকে ফিরে আসা লোকজনের দ্বারা সংক্রমণের বিস্তার বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে ভাইরাসটি এখন প্রধানত অপ্রাপ্তবয়স্ক বয়স্ক মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ছে।  টেনেনগাউতে, মোট জনসংখ্যার ৫৬,৬ শতাংশ মানুষকে এখন পর্যন্ত করোনার সম্পূর্ণ টিকা দেওয়া হয়েছে, যেমনটি ফিলিপ বলেছেন। রাজ্যের বাকী জেলায় টিকা দেওয়ার হারও শতকরা ৬০ শতাংশের নীচে।

অস্ট্রিয়ার করোনার ট্র্যাফিক লাইট কমিশন রাজধানী ভিয়েনায় সংক্রমণের বিস্তার কমে আসায় কমলা জোন থেকে হলুদ জোনে স্থানান্তরিত করেছে। অস্ট্রিয়ার OÖ,NÖ,Steiermark ও Tirol রাজ্য এই সপ্তাহে করোনার কমলা জোনেই থাকছে। ভিয়েনার সাথে হলুদ জোনের অন্যান্য রাজ্যের মধ্যে আছে Burgenland, Kärnten ও Vorarlberg।

এদিকে অস্ট্রিয়ার রাজ্য সমূহের মধ্যে করোনায় সবচেয়ে ভাল অবস্থায় আছে পূর্বাঞ্চলের রাজ্য Burgenland। আজ এই রাজ্যের গভর্নর হ্যান্স পিটার ডসকোজিল (SPÖ) এক সাংবাদিক সম্মেলনে জানিয়েছেন এই রাজ্য থেকে খুব শীঘ্রই করোনার যাবতীয় বিধিনিষেধ উঠিয়ে নেয়া হবে। তিনি বলেন, দেশে সর্বোচ্চ টিকা দেওয়ার হার নিয়ে বুর্গেনল্যান্ড অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। তিনি সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন এই রাজ্যের শতকরা ৮০ শতাংশ মানুষ করোনার প্রতিষেধক টিকার সম্পূর্ণ ডোজ গ্রহণ করেছেন।

আজ অস্ট্রিয়ায় করোনায় নতুন করে সংক্রমিত শনাক্ত হয়েছেন ২,৪৩২ জন এবং মৃত্যুবরণ করেছেন ৮ জন। রাজধানী ভিয়েনায় আজ নতুন করে করোনায় সংক্রমিত শনাক্ত হয়েছেন ৪৬৬ জন।

অন্যান্য রাজ্যের মধ্যে OÖ রাজ্যে ৬২১ জন, NÖ রাজ্যে ৪৩৭ জন, Steiermark রাজ্যে ২৭১ জন, Tirol রাজ্যে ২১৮ জন, Salzburg রাজ্যে ১৯৯ জন, Kärnten রাজ্যে ১৩৫ জন, Vorarlberg রাজ্যে ৫৯ জন এবং Burgenland রাজ্যে ২৬ জন নতুন করে করোনায় সংক্রমিত শনাক্ত হয়েছেন।

অস্ট্রিয়ার স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুসারে আজ দেশে করোনার প্রতিষেধক টিকা দেয়া হয়েছে ১১,২৩০ ডোজ এবং মোট দেয়ার পরিমাণ ১,০৯,৯৪,২৭৮ ডোজ। অস্ট্রিয়ায় এই পর্যন্ত করোনার প্রতিষেধক টিকার সম্পূর্ণ ডোজ গ্রহণ করেছেন ৫৫,০৫,৬৪৯ জন, যা দেশের মোট জনসংখ্যার শতকরা ৬১,৬ শতাংশ।

অস্ট্রিয়ায় এই পর্যন্ত করোনায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৭,৭১,১৪৩ জন এবং মৃত্যুবরণ করেছেন ১১,১৫১ জন।করোনার থেকে এই পর্যন্ত আরোগ্য লাভ করেছেন মোট ৭,৩৯,০২৪ জন। বর্তমানে করোনার সক্রিয় রোগীর সংখ্যা ২০,৯৬৮ জন। এর মধ্যে ক্রিটিক্যাল অবস্থার মধ্যে আইসিইউতে আছেন ২১৬ জন এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন ৪৭৩ জন। বাকীরা নিজ নিজ বাড়িতে আইসোলেশনে আছেন।

কবির আহমেদ/ ইবিটাইমস