ভিয়েনা ০৪:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬, ৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

লালমোহনে সার ও ট্রলার জব্দ

  • EuroBanglaTimes
  • আপডেটের সময় ০৪:৫৭:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬
  • ৬ সময় দেখুন

জাহিদ দুলাল, ভোলা দক্ষিণ : ভোলার লালমোহনে ৩১ বস্তা ইউরিয়া সার ও একটি ট্রলার আটক করেছে উপজেলা প্রশাসন। শুক্রবার রাতে উপজেলার লর্ডহাডিঞ্জ ইউনিয়নের গাইট্টার খাল এলাকা থেকে সার ও ট্রলার আটক করে শনিবার বিকেলে উপজেলা কৃষি অফিসে হস্তান্তর করা হয়।

জানা যায়, ট্রলারে করে সার পাচারের কথা ইউএনওকে জানান স্থানীয়রা। পরে গ্রাম পুলিশ ও পুলিশকে ঘটনাস্থলে পাঠান ইউএনও। তবে তারা পৌঁছানোর আগেই ট্রলারের মধ্যে ৩১ বস্তা সার রেখে ২টি ট্রাকে করে বাকি সার সরিয়ে ফেলে পাচারকারীরা।

স্থানীয় গ্রাম পুলিশ মো. আলাউদ্দিন জানান, শুক্রবার রাতে ইউএনও অফিস থেকে জানানো হয়, গাইট্টার খাল এলাকা দিয়ে সার পাচার করা হচ্ছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গেলে ট্রলারের ভেতর ৩১ বস্তা সারসহ দুইজন পুলিশ সদস্যকে দেখতে পাই। শনিবার বিকেলে এসিল্যান্ড এসে সারগুলো জব্দ করে কৃষি অফিসে নিয়ে যান এবং ট্রলারটি আমাদের জিম্মায় রেখে যান। তবে কে বা কারা এই সার এনেছে তা জানা যায়নি এবং ট্রলারের নামও নেই, মালিককেও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন এলাকাবাসী জানান, লর্ডহার্ডিঞ্জ ইউনিয়ন যুবদলের নেতা মাসুদ খান ও ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কাশেম মিয়ার নেতৃত্বে দীর্ঘদিন ধরে মিয়ানমারে সার পাচার করা হচ্ছে। মাসুদ খান লর্ডহার্ডিঞ্জের সার ব্যবসায়ী। সে সুবাদে দুজন মিলে মেঘনা নদী দিয়ে সার পাচার করছেন। তাছাড়া এ রুট দিয়ে মিয়ানমারে যাওয়া সহজ হওয়ায় এ রুট ব্যবহার করছেন তারা।

তবে ইউনিয়নের দফাদার মো. রাসেল বললেন ভিন্ন কথা। তিনি জানান, সারগুলো নোয়াখালীতে নেয়ার জন্য আনা হতে পারে। কারণ, ট্রলারটি দেখে মনে হচ্ছে নোয়াখালীর ট্রলার।

এ বিষয়ে জানতে লর্ডহার্ডিঞ্জ ইউনিয়ন যুবদলের নেতা ও সার ব্যবসায়ী মাসুদ খানের মুঠোফোনে কল দিলে গাড়িতে রয়েছি বলেই ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরে আর ফোন রিসিভ করেননি তিনি।

জানতে চাইলে লর্ডহার্ডিঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কাশেম মিয়া বলেন, সার পাচারের ব্যাপারে সকালে জানতে পেরেছি। আমার সুনাম নষ্ট করতে একটি পক্ষ ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছেন। এ পাচারের সঙ্গে এলাকার এবং নেয়াখালীর কিছু লোক জড়িত থাকতে পারে বলে জানান তিনি। তবে এলাকার কারা জড়িত থাকতে পারে, তা প্রকাশ করেননি।

লালমোহন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. রেজওয়ানুল হক জানান, শুক্রবার রাতেই ৩১ বস্তা সার ও একটি ট্রলার জব্দ করে উপজেলা কৃষি অফিসের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ট্রলারটি স্থানীয় গ্রাম পুলিশের জিম্মায় রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় একজন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা বাদি হয়ে মামলা করবেন বলেও জানান তিনি।

ঢাকা/ইবিটামস/এসএস

Address : Erlaaer Strasse 49/8/16 A-1230 Vienna,Austria. Mob : +43676848863279, 8801719316684 (BD) 8801911691101 ( Ads) Email : eurobanglatimes123@gmail.com
Translate »

লালমোহনে সার ও ট্রলার জব্দ

আপডেটের সময় ০৪:৫৭:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

জাহিদ দুলাল, ভোলা দক্ষিণ : ভোলার লালমোহনে ৩১ বস্তা ইউরিয়া সার ও একটি ট্রলার আটক করেছে উপজেলা প্রশাসন। শুক্রবার রাতে উপজেলার লর্ডহাডিঞ্জ ইউনিয়নের গাইট্টার খাল এলাকা থেকে সার ও ট্রলার আটক করে শনিবার বিকেলে উপজেলা কৃষি অফিসে হস্তান্তর করা হয়।

জানা যায়, ট্রলারে করে সার পাচারের কথা ইউএনওকে জানান স্থানীয়রা। পরে গ্রাম পুলিশ ও পুলিশকে ঘটনাস্থলে পাঠান ইউএনও। তবে তারা পৌঁছানোর আগেই ট্রলারের মধ্যে ৩১ বস্তা সার রেখে ২টি ট্রাকে করে বাকি সার সরিয়ে ফেলে পাচারকারীরা।

স্থানীয় গ্রাম পুলিশ মো. আলাউদ্দিন জানান, শুক্রবার রাতে ইউএনও অফিস থেকে জানানো হয়, গাইট্টার খাল এলাকা দিয়ে সার পাচার করা হচ্ছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গেলে ট্রলারের ভেতর ৩১ বস্তা সারসহ দুইজন পুলিশ সদস্যকে দেখতে পাই। শনিবার বিকেলে এসিল্যান্ড এসে সারগুলো জব্দ করে কৃষি অফিসে নিয়ে যান এবং ট্রলারটি আমাদের জিম্মায় রেখে যান। তবে কে বা কারা এই সার এনেছে তা জানা যায়নি এবং ট্রলারের নামও নেই, মালিককেও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন এলাকাবাসী জানান, লর্ডহার্ডিঞ্জ ইউনিয়ন যুবদলের নেতা মাসুদ খান ও ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কাশেম মিয়ার নেতৃত্বে দীর্ঘদিন ধরে মিয়ানমারে সার পাচার করা হচ্ছে। মাসুদ খান লর্ডহার্ডিঞ্জের সার ব্যবসায়ী। সে সুবাদে দুজন মিলে মেঘনা নদী দিয়ে সার পাচার করছেন। তাছাড়া এ রুট দিয়ে মিয়ানমারে যাওয়া সহজ হওয়ায় এ রুট ব্যবহার করছেন তারা।

তবে ইউনিয়নের দফাদার মো. রাসেল বললেন ভিন্ন কথা। তিনি জানান, সারগুলো নোয়াখালীতে নেয়ার জন্য আনা হতে পারে। কারণ, ট্রলারটি দেখে মনে হচ্ছে নোয়াখালীর ট্রলার।

এ বিষয়ে জানতে লর্ডহার্ডিঞ্জ ইউনিয়ন যুবদলের নেতা ও সার ব্যবসায়ী মাসুদ খানের মুঠোফোনে কল দিলে গাড়িতে রয়েছি বলেই ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরে আর ফোন রিসিভ করেননি তিনি।

জানতে চাইলে লর্ডহার্ডিঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কাশেম মিয়া বলেন, সার পাচারের ব্যাপারে সকালে জানতে পেরেছি। আমার সুনাম নষ্ট করতে একটি পক্ষ ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছেন। এ পাচারের সঙ্গে এলাকার এবং নেয়াখালীর কিছু লোক জড়িত থাকতে পারে বলে জানান তিনি। তবে এলাকার কারা জড়িত থাকতে পারে, তা প্রকাশ করেননি।

লালমোহন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. রেজওয়ানুল হক জানান, শুক্রবার রাতেই ৩১ বস্তা সার ও একটি ট্রলার জব্দ করে উপজেলা কৃষি অফিসের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ট্রলারটি স্থানীয় গ্রাম পুলিশের জিম্মায় রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় একজন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা বাদি হয়ে মামলা করবেন বলেও জানান তিনি।

ঢাকা/ইবিটামস/এসএস