ইবিটাইমস ডেস্ক : সমাজ থেকে ধর্ষণ, নারী নির্যাতনসহ সব ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সমূলে নির্মূল করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, নারীর নিরাপত্তা, মর্যাদা ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে এবং অপরাধমুক্ত সমাজ গঠনে দলীয় নেতাকর্মীদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রিজভী বলেন, সমাজে নারীর নিরাপত্তা ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করা বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। নারীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে আরও শক্তিশালী করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
ধর্ষণ-নারী নির্যাতনসহ অপরাধ নির্মূলের প্রত্যয়
সমাজ থেকে সব ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড দূর করার কথা তুলে ধরে রিজভী বলেন, ধর্ষণ, নারী নির্যাতনসহ যেসব অপরাধ মানুষের নিরাপত্তা ও সামাজিক স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলে, সেগুলো নির্মূল করতে হবে।
তিনি বলেন, একটি রাষ্ট্রে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সমাজের প্রতিটি স্তরে সচেতনতা ও দায়িত্বশীলতা বাড়াতে হবে।
নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে সবাইকে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান বিএনপির এই নেতা।
নারীর ক্ষমতায়ন ও সামাজিক সুরক্ষায় ‘ফ্যামিলি কার্ড’
নারীর ক্ষমতায়ন এবং সামাজিক সুরক্ষা সুসংহত করতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন রিজভী।
তিনি সরকারের ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচিকে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন। এই কর্মসূচির সুফল যেন তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের কাছে পৌঁছে যায়, তা নিশ্চিত করতে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের নেতাকর্মীদের কার্যকর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।
রিজভী বলেন, সামাজিক সুরক্ষার বিভিন্ন কর্মসূচি শুধু রাজধানী বা শহরকেন্দ্রিক থাকলে হবে না। এসব উদ্যোগের সুফল দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের সাধারণ মানুষের কাছেও পৌঁছে দিতে হবে।
এ জন্য মহিলা দলের নেতাকর্মীদের মাঠপর্যায়ে সক্রিয় থেকে সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।
‘বিএনপি ক্ষমতায়, প্রত্যেকেই সরকারের অংশ’
দলীয় নেতাকর্মীদের দায়িত্ববোধের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে রিজভী বলেন, বর্তমানে বিএনপি ক্ষমতায় থাকায় দলের প্রত্যেক নেতাকর্মীর ওপর দায়িত্ব রয়েছে।
তিনি বলেন, “আজকে বিএনপি ক্ষমতায়, আমাদের প্রত্যেকেই সরকারের অংশ। শুধু পদ-পদবি থাকলেই সরকারের অংশ হতে হবে, তা নয়।”
সরকারের কার্যক্রম সফল করতে দলীয় নেতাকর্মীদের দায়িত্বশীল ও জনবান্ধব ভূমিকা পালন করতে হবে বলেও জানান তিনি।
তার মতে, সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
রাষ্ট্রকাঠামো বিনির্মাণে নারী নেতৃত্বের অবদানের কথা
বর্তমান রাষ্ট্রকাঠামো বিনির্মাণে নারী নেতৃত্বের অবদানের বিষয়টিও তুলে ধরেন রিজভী।
তিনি বলেন, সরকারের কার্যক্রমে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের নেতাকর্মীদেরও অবদান রয়েছে। দলীয় নারী নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর সরকারে মহিলা দলেরও রক্ত-ঘাম আছে। আপনারাও এই সরকারের অংশ।”
এ বক্তব্যের মাধ্যমে সরকারের কার্যক্রমে নারী নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণ এবং তাদের রাজনৈতিক ভূমিকার গুরুত্ব তুলে ধরেন তিনি।
‘আজ আর নুসরাত, রুপা, খাদিজা, তনু, মিতুরা খুন হয় না’
নারী নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ তুলে ধরে রিজভী বলেন, বর্তমান সময়ে আগের মতো নারী নির্যাতন বা হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে না বলে তিনি মনে করেন।
সমাবেশে তিনি বলেন, “আজকে তো আর নুসরাতরা খুন হয় না, রুপারা খুন হয় না, আজকে খাদিজা, তনু, মিতু এরা তো আর খুন হয় না; নির্যাতনের শিকার হয় না এবং কোনো সরকারি দলের কোনো নেতাকর্মী এই ধরনের অপকর্মের সাথে কেউ জড়িত নয়। এখন সে ধরনের কোনো সংবাদ নেই।”
নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বর্তমান সরকারের ভূমিকা তুলে ধরতেই তিনি এসব উদাহরণ দেন।
সাধারণ মানুষের কাছে সরকারের বার্তা পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান
সমাবেশ থেকে সরকারের উন্নয়নমূলক ও জনকল্যাণমূলক বার্তা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান রিজভী।
তিনি বলেন, সমাজে নারীর অবস্থান শক্তিশালী করা এবং সামাজিক সুরক্ষার বলয় তৈরি করতে সরকার যেসব কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে, সেগুলোর সুফল সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে জানাতে হবে।
বিশেষ করে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের প্রতিটি স্তরের নেতাকর্মীকে মাঠপর্যায়ে সক্রিয় থাকার আহ্বান জানান তিনি।
তার মতে, তৃণমূল পর্যায়ে মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমে সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচি সম্পর্কে তাদের অবহিত করা এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা নিশ্চিত করা সম্ভব।
নারী নেতৃত্বকে আরও শক্তিশালী করার তাগিদ
নারীদের সামাজিক অবস্থান আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে রিজভী বলেন, একটি দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে নারীদের অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নারীদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের নেতৃত্বের বিকাশ ঘটাতে হবে।
মহিলা দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, নারীর ক্ষমতায়ন ও সামাজিক সুরক্ষার বিষয়গুলো নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করতে হবে। একই সঙ্গে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ তৃণমূল পর্যায়ে বাস্তবায়নে সক্রিয়ভাবে কাজ করতে হবে।
অপরাধমুক্ত সমাজ গঠনে রাজনৈতিক ও সামাজিক উদ্যোগ
রিজভীর বক্তব্যে নারী নিরাপত্তার পাশাপাশি সার্বিকভাবে অপরাধমুক্ত সমাজ গঠনের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। ধর্ষণ, নারী নির্যাতনসহ বিভিন্ন অপরাধ প্রতিরোধে শুধু সরকারের ওপর নির্ভর না করে রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন ও সাধারণ নাগরিকদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের প্রয়োজন রয়েছে।
একটি নিরাপদ সমাজ গড়ে তুলতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা বাড়ানো এবং অপরাধের বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
নয়াপল্টনের সমাবেশে রিজভীর বক্তব্যে নারী নিরাপত্তা, সামাজিক সুরক্ষা, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি, দলীয় নেতাকর্মীদের দায়িত্ব এবং অপরাধমুক্ত সমাজ গঠনের বিষয়গুলো বিশেষভাবে উঠে আসে।
ঢাকা/এসএস




















