শফিকুজ্জামান খান মোস্তফা,টাঙ্গাইল : ঢাকা-রংপুর দ্বিতীয় লংমার্চ সফল করার লক্ষ্যে টাঙ্গাইলে প্রস্তুতিমূলক সংবাদ সম্মেলন করেছে ১১ দলীয় ঐক্যের নেতৃবৃন্দ। আগামী ১৯ সেপ্টেম্বরের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে জেলার বিভিন্ন থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ে গণসংযোগ জোরদারসহ ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লংমার্চের সার্বিক প্রস্তুতি ও কর্মসূচির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন নেতারা।
গোড়াই থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত নেতাকর্মী সমাগমের দাবি
সংবাদ সম্মেলনে প্রধান বক্তা ছিলেন টাঙ্গাইল জেলা জামায়াতের আমির আহসান হাবীব মাসুদ। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ৮টায় গোড়াই থেকে লংমার্চকে স্বাগত জানানো হবে।
তার দাবি, গোড়াই থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত পুরো সড়কে প্রায় লক্ষাধিক নেতাকর্মী উপস্থিত থাকবেন। কর্মসূচিকে সফল করতে এরই মধ্যে বিভিন্ন পর্যায়ে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
আশেকপুর বাইপাসে পথসভা
আহসান হাবীব মাসুদ জানান, ১৯ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টায় টাঙ্গাইলের আশেকপুর বাইপাসের নগর জালফৈ এলাকায় একটি পথসভা অনুষ্ঠিত হবে।
তিনি জানান, ওই পথসভায় বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে প্রধান বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান, বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম, এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম এবং খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হকের।
আহসান হাবীব মাসুদ বলেন, নামের দিক থেকে এটি পথসভা হলেও সেখানে বড় ধরনের জনসমাগম হবে। মহাসড়কের পাশে কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হলেও সাধারণ মানুষ ও যানবাহন চলাচলে যাতে কোনো ধরনের অসুবিধা না হয়, সে বিষয়ে বিশেষভাবে নজর রাখা হবে।
সরকারের সমালোচনা ১১ দলীয় নেতার
সংবাদ সম্মেলনে বর্তমান সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেন জেলা জামায়াতের আমির আহসান হাবীব মাসুদ।
তিনি বলেন, প্রস্তাবিত সংস্কারগুলো বাস্তবায়ন করা গেলে ভবিষ্যতে কোনো সরকার স্বেচ্ছাচারী হয়ে উঠতে পারবে না। সরকার দাবি না মানলে জনগণের রায়কে উপেক্ষা করা হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তার ভাষ্য, সরকার ভালো কাজ করলে তারা সমর্থন করবেন এবং খারাপ কাজ করলে তার বিরোধিতা ও প্রতিরোধ গড়ে তুলবেন।
এ সময় তিনি আরও অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকার কুরআনের বিধানের বিপরীতে সম্পদ বণ্টন আইন করেছে। তাঁর দাবি, এ ধরনের আইন মেনে নেওয়ার সুযোগ নেই।
গণভোটের রায় বাস্তবায়নসহ বিভিন্ন দাবি
সংবাদ সম্মেলনে ১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে বেশ কয়েকটি দাবি তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে অবিলম্বে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, সব গণহত্যার বিচার, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ এবং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ।
এ ছাড়া বিদ্যুৎ, তেল ও গ্যাস সংকট নিরসনের দাবিও জানানো হয়।
আহসান হাবীব মাসুদ বলেন, দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে ঢাকা-রংপুর লংমার্চ গুরুত্বপূর্ণ একটি কর্মসূচি। টাঙ্গাইলবাসীকে ঐক্যবদ্ধভাবে এতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, রাজপথের এই কর্মসূচির মাধ্যমে গণমানুষের দাবি আদায়ের চেষ্টা করা হবে।
থানা-ওয়ার্ড পর্যায়ে গণসংযোগ জোরদার
সংবাদ সম্মেলন থেকে জানানো হয়, ১৯ সেপ্টেম্বরের পথসভা ও লংমার্চ সফল করতে টাঙ্গাইলের বিভিন্ন থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ে গণসংযোগ আরও জোরদার করা হবে।
এ সময় জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা হুমায়ুন কবির, এনসিপির সেক্রেটারি মাসুদুর রহমান রাসেল, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সভাপতি মাওলানা কামরুল হাসান, সেক্রেটারি মাওলানা যায়েদ হাবিব, জেলা জামায়াতের সাংগঠনিক সম্পাদক শহিদুল ইসলাম, কর্মপরিষদ সদস্য ওবায়দুল রহমান কুরাইশী, শহর আমির মিজানুর রহমান চৌধুরীসহ ১১ দলীয় ঐক্যের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
ঢাকা/ইবিটাইমস/এসএস




















