শফিকুজ্জামান খান মোস্তফা, টাঙ্গাইল : টাঙ্গাইলে তীব্র গ্যাস সংকটে বিপাকে পড়েছেন সিএনজি ও প্রাইভেটকার চালকরা। আশেকপুর বাইপাস এলাকার ফিলিং স্টেশনগুলোতে গ্যাসের সরবরাহ কমে যাওয়ায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ গ্যাস পাচ্ছেন না তারা। এতে ব্যাহত হচ্ছে যান চলাচল, কমে যাচ্ছে চালকদের কর্মঘণ্টা ও আয়-রোজগার।
চালকদের অভিযোগ, সারাদিনের বড় একটি সময় গ্যাস সংগ্রহের পেছনে চলে যাচ্ছে। ফলে গাড়ি চালানোর সময় কমে যাওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই আয়ও কমছে। তাদের দাবি, যেখানে গ্যাসের চাপ ২২০-এর কাছাকাছি থাকার কথা, সেখানে বর্তমানে চাপ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ১০০-এর মতো।
চালক সোলাইমান বলেন, স্বাভাবিকভাবে যেখানে গ্যাসের চাপ ২২০-এর কাছাকাছি থাকার কথা, সেখানে বর্তমানে পাওয়া যাচ্ছে প্রায় ১০০। ফলে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও প্রয়োজনীয় গ্যাস সংগ্রহ করা সম্ভব হচ্ছে না।
সিএনজি চালক রাব্বি হোসেন বলেন, ‘চার ঘণ্টা ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও এখনো গ্যাস নিতে পারিনি। বেলা শেষ হয়ে যাচ্ছে। সারাদিন যদি গ্যাস নেওয়ার জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়, তাহলে গাড়ি চালাব কখন? এই পরিমাণ গ্যাস নিয়ে গাড়ি চালিয়ে মালিকের জমার টাকা তোলাই কঠিন হয়ে যাচ্ছে। সরকার দ্রুত গ্যাস সংকট নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ নিলে আমরা উপকৃত হব।’
বটতলা এলাকার বাসিন্দা সোনা মিয়া, আবুল হাসেম ও সিকদার হোসেন জানান, তীব্র গ্যাস সংকটের কারণে ফিলিং স্টেশনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এরপরও প্রয়োজন অনুযায়ী গ্যাস মিলছে না। এতে চালকদের কর্মঘণ্টা ও আয়-রোজগার ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি গ্যাসের চাপ কম থাকায় বাসাবাড়ির মানুষও দুর্ভোগে পড়েছেন। দ্রুত সংকট নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানান তারা।
রহিজা খানম ফিলিং স্টেশনের কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধি তোফাইল আহমেদ বলেন, ‘চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস সরবরাহ পাচ্ছি না। যেখানে প্রায় ১ পয়েন্ট বা ০.৯৮ থাকার কথা, সেখানে বর্তমানে ০.৬২-এর মতো পাওয়া যাচ্ছে। আশপাশের কয়েকটি জেলায় গ্যাস সরবরাহে সমস্যা থাকায় টাঙ্গাইলের ওপর চাপ বেড়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘মেশিন যতক্ষণ চালু থাকবে, আমরা গ্যাস সরবরাহ করে যাব। তবে গ্যাসের চাপ একেবারে কমে গেলে মেশিন বন্ধ রাখতে হতে পারে। তখন সরবরাহও বন্ধ হয়ে যাবে। পরিস্থিতি এমন থাকলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে পারে। এরই মধ্যে কয়েকটি পাম্পে মারামারির ঘটনাও ঘটেছে।’
এদিকে, গ্যাস সংকটের প্রভাব শুধু যানবাহনেই সীমাবদ্ধ নেই। শহরের বিভিন্ন বাসাবাড়িতেও এর প্রভাব পড়েছে। গ্যাসের চাপ কম থাকায় অনেক পরিবার সময়মতো রান্নাবান্না করতে পারছেন না। এতে বিশেষ করে গৃহিণীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ার সমস্যা থাকলেও এর স্থায়ী সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ চোখে পড়ছে না। দ্রুত গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করা না হলে যানবাহন চলাচল, চালকদের জীবিকা এবং বাসাবাড়ির দৈনন্দিন কার্যক্রম আরও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।
ঢাকা/এসএস




















