জাহিদ দুলাল, ভোলা দক্ষিণ : ভোলার লালমোহন উপজেলায় ছেলের বউয়ের বিরুদ্ধে ৬০ বছর বয়সী বৃদ্ধা রোকেয়া বেগমকে মারধর ও নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। স্বামীর মৃত্যুর পর একমাত্র ছেলে ও তার পরিবারের সঙ্গে নানা বিরোধের কারণে নিজের বসতঘরে থাকতে পারছেন না বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। এ ঘটনায় উপযুক্ত বিচার দাবি করেছেন বৃদ্ধা ও তাঁর মেয়েরা।
রোকেয়া বেগম লালমোহন উপজেলার ধলীগৌরনগর ইউনিয়নের বাসিন্দা। তিনি মৃত তোফাজ্জল হাওলাদারের স্ত্রী। এক ছেলে ও তিন মেয়ের জননী রোকেয়া বেগমের স্বামী প্রায় ২০ বছর আগে মারা যান। তিন মেয়ের বিয়ে হয়ে যাওয়ার পর তাঁরা স্বামীর বাড়িতে থাকেন। অন্যদিকে, রোকেয়া বেগমের অভিযোগ, একমাত্র ছেলে বাবুল হাওলাদার ও তাঁর স্ত্রী সাথী বেগমের অত্যাচারে তাঁকে মূল বসতঘরে থাকতে দেওয়া হচ্ছে না। বর্তমানে তিনি বাড়ির পাশের একটি ছোট ঘরে থাকছেন।

রোকেয়া বেগমের অভিযোগ, বিগত সরকারের আমলে তাঁর ছেলে বাবুল হাওলাদার ও পুত্রবধূ সাথী বেগম আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সে সময় তাঁদের প্রভাবের কারণে কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পেতেন না। ওই সময় ছেলের বিরুদ্ধে মাকে নির্যাতনের অভিযোগে একাধিক সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছিল। একপর্যায়ে রোকেয়া বেগম ছেলের বিরুদ্ধে লালমোহন থানায় মামলা করলে পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠায় বলে জানা গেছে।
বৃদ্ধা রোকেয়া বেগম বলেন, গত ১৭ অক্টোবর তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাঁর পুত্রবধূ সাথী বেগম তাঁকে মারধর করেন। মাকে মারধরের খবর পেয়ে মেয়ে রুনু বেগম দেখতে গেলে তাঁকেও মারতে উদ্যত হন সাথী বেগম এবং গালিগালাজ করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
রোকেয়া বেগম আরও বলেন, তিনি ছেলে ও পুত্রবধূর সঙ্গে থাকেন না। তাঁরা তাঁর ভরণপোষণও দেন না। তারপরও প্রায়ই পুত্রবধূ তাঁর গায়ে হাত তোলেন বলে অভিযোগ তাঁর। এ ঘটনার উপযুক্ত বিচার চান তিনি।
রোকেয়া বেগমের মেয়ে রুনু বেগম বলেন, মায়ের গায়ে হাত তোলার খবর পেয়ে তাঁকে দেখতে গেলে ভাইয়ের স্ত্রী সাথী বেগম তাঁকেও মারতে উদ্যত হন এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন।
রুনু বেগমের অভিযোগ, তাঁদের বাবা মারা যাওয়ার প্রায় ২০ বছর পেরিয়ে গেলেও বাবার সম্পত্তির প্রাপ্য অংশ এখনো তাঁদের বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। তিন বোন বাবার সম্পত্তির অংশীদার হলেও ভাইয়ের স্ত্রী সাথী বেগমের অত্যাচারের কারণে তাঁরা ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, বিগত সরকারের আমলে প্রভাবশালী অবস্থানে থাকার কারণে তাঁরা কোনো বিচার পাননি। এখন আবার তাঁদের ওপর অত্যাচার করা হচ্ছে এবং তাঁদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়ার ষড়যন্ত্র চলছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
রুনু বেগম বলেন, তাঁরা বাবার সম্পত্তির ন্যায্য অংশ বুঝে পেতে চান। পাশাপাশি মায়ের ওপর নির্যাতনের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন। এ বিষয়ে ভোলা-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তাঁরা।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে সাথী বেগমের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোন বন্ধ থাকায় তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
অন্যদিকে, তাঁর স্বামী বাবুল হাওলাদারের কাছে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তিনি ঢাকায় রয়েছেন। তবে তাঁর কাছে খবর এসেছে, তাঁর ভাগনেরা লালমোহন থেকে তাঁদের বাড়িতে গিয়ে তাঁর স্ত্রী ও মেয়েকে মারধর করেছেন।
লালমোহন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, এ বিষয়ে অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঢাকা/এসএস





















