ভিয়েনা ০৩:১৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হেলিপ্যাড ডাম্পিং স্টেশন বানালো লালমোহন পৌরসভা

  • EuroBanglaTimes
  • আপডেটের সময় ০১:৩৮:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬
  • ৪৫ সময় দেখুন

জাহিদ দুলাল, ভোলা দক্ষিণ : ভোলার লালমোহন পৌরসভার ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে পৌর এলাকার হেলিপ্যাডে। এতে দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীরা। একই সঙ্গে ময়লার স্তূপে কুকুরের আনাগোনা বেড়ে যাওয়ায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এলাকাবাসী।

স্থানীয়দের অভিযোগ, লালমোহন পৌরসভার বর্তমান প্রশাসক মোহাম্মদ সিফাত বিন সাদেকের নির্দেশে হেলিপ্যাডের ওপর, যেখানে হেলিকপ্টার ওঠানামা করে, সেখানেই ময়লা ফেলা হচ্ছে।

স্থানীয়রা জানান, কিছুদিন আগে লালমোহন হেলিপ্যাডের পূর্ব পাশে ব্যস্ততম মহাসড়কের পাশে ও সড়কের ওপর ময়লা ফেলা হতো। এ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর সড়কের পাশে ময়লা ফেলা বন্ধ করে পৌর কর্তৃপক্ষ। তবে বর্তমানে হেলিকপ্টার ওঠানামার নির্ধারিত স্থানেই ময়লা ফেলা হচ্ছে।

এতে জরুরি প্রয়োজনে হেলিকপ্টার হেলিপ্যাডে অবতরণ ও উড্ডয়ন করতে পারবে কি না, তা নিয়েও শঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

হেলিপ্যাড এলাকার বাসিন্দা মো. শফিউল্লাহ, হাছানোজ্জামান ও রাশেদা বেগম বলেন, ‘যেখানে হেলিকপ্টার ওঠানামা করে, সেখানে এবং হেলিপ্যাডের ওপর কীভাবে পৌরসভার ময়লা ফেলা হচ্ছে? ময়লার দুর্গন্ধে এই এলাকায় বসবাস করাই এখন কষ্টসাধ্য হয়ে উঠেছে।’

তারা আরও বলেন, ময়লার স্তূপে প্রতিদিন কয়েকটি দল করে কুকুর খাবারের সন্ধানে আসে। ফলে ওই সড়ক দিয়ে চলাচলের সময় মানুষ কুকুরের ভয়ে থাকেন। এ পর্যন্ত তিনজনকে কুকুরে কামড় দিয়েছে বলেও দাবি করেন তারা। শুধু মানুষ নয়, এলাকার গরু, ছাগল, হাঁস-মুরগিকেও কুকুরে নিয়মিত কামড়াচ্ছে বলে অভিযোগ তাদের।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, লালমোহনের ইউএনও ও পৌর প্রশাসককে কয়েকবার হেলিপ্যাডে ময়লা না ফেলার অনুরোধ করা হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

সাজু চৌধুরী নামে এক বাসিন্দা বলেন, ‘সকালে ফজরের নামাজ পড়তে যাওয়ার সময় কুকুরের ভয়ে আমাদের কষ্ট হয়। অনেক সময় আতঙ্ক নিয়ে চলাচল করতে হয়।’

এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত হেলিপ্যাডে ময়লা ফেলা বন্ধ করতে হবে এবং সেখানে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা দ্রুত অপসারণ করতে হবে।

জানা গেছে, লালমোহন পৌরসভা একটি প্রথম শ্রেণির পৌরসভা। পৌরবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি ছিল ময়লা ফেলার জন্য নিজস্ব ডাম্পিং ব্যবস্থা করা।

এর আগে পৌর প্রশাসক মো. শাহ আজিজ পৌরবাসীর দাবির মুখে ময়লা ফেলার জন্য দ্রুত জমি ক্রয় করে ডাম্পিংয়ের ব্যবস্থা করার আশ্বাস দিয়েছিলেন। তবে সেই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়নি বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

বর্তমান পৌর প্রশাসক মোহাম্মদ সিফাত বিন সাদেক দায়িত্ব নেওয়ার পরও ময়লা ব্যবস্থাপনায় দৃশ্যমান উন্নতি হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন পৌরবাসী।

হেলিপ্যাডে ময়লা ফেলার বিষয়ে লালমোহন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক মোহাম্মদ সিফাত বিন সাদেক বলেন, ‘হেলিপ্যাডের ওপর ময়লা ফেলার সুযোগ নেই। আমরা ফেলতে চাই না। পৌরসভার ময়লা ফেলার জন্য কোনো জায়গা না থাকায় বাধ্য হয়ে হেলিপ্যাডের ওপর ময়লা ফেলতে হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা ফেলার জন্য আমরা পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছি। পৌরসভার জমি ক্রয় ও ডাম্পিংসহ সব প্রস্তাব গত মাসে মন্ত্রণালয় থেকে বাতিল করা হয়েছে। ময়লা ফেলার জন্য সরকারি খাসজমি দেখে পুনরায় প্রস্তাব পাঠাতে বলা হয়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা প্রস্তাবনার কাজ করছি।’
ঢাকা/ইবিটাইমস/এসএস

জনপ্রিয়
Address : Erlaaer Strasse 49/8/16 A-1230 Vienna,Austria. Mob : +43676848863279, 8801719316684 (BD) 8801911691101 ( Ads) Email : eurobanglatimes123@gmail.com
Translate »

হেলিপ্যাড ডাম্পিং স্টেশন বানালো লালমোহন পৌরসভা

আপডেটের সময় ০১:৩৮:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬

জাহিদ দুলাল, ভোলা দক্ষিণ : ভোলার লালমোহন পৌরসভার ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে পৌর এলাকার হেলিপ্যাডে। এতে দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীরা। একই সঙ্গে ময়লার স্তূপে কুকুরের আনাগোনা বেড়ে যাওয়ায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এলাকাবাসী।

স্থানীয়দের অভিযোগ, লালমোহন পৌরসভার বর্তমান প্রশাসক মোহাম্মদ সিফাত বিন সাদেকের নির্দেশে হেলিপ্যাডের ওপর, যেখানে হেলিকপ্টার ওঠানামা করে, সেখানেই ময়লা ফেলা হচ্ছে।

স্থানীয়রা জানান, কিছুদিন আগে লালমোহন হেলিপ্যাডের পূর্ব পাশে ব্যস্ততম মহাসড়কের পাশে ও সড়কের ওপর ময়লা ফেলা হতো। এ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর সড়কের পাশে ময়লা ফেলা বন্ধ করে পৌর কর্তৃপক্ষ। তবে বর্তমানে হেলিকপ্টার ওঠানামার নির্ধারিত স্থানেই ময়লা ফেলা হচ্ছে।

এতে জরুরি প্রয়োজনে হেলিকপ্টার হেলিপ্যাডে অবতরণ ও উড্ডয়ন করতে পারবে কি না, তা নিয়েও শঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

হেলিপ্যাড এলাকার বাসিন্দা মো. শফিউল্লাহ, হাছানোজ্জামান ও রাশেদা বেগম বলেন, ‘যেখানে হেলিকপ্টার ওঠানামা করে, সেখানে এবং হেলিপ্যাডের ওপর কীভাবে পৌরসভার ময়লা ফেলা হচ্ছে? ময়লার দুর্গন্ধে এই এলাকায় বসবাস করাই এখন কষ্টসাধ্য হয়ে উঠেছে।’

তারা আরও বলেন, ময়লার স্তূপে প্রতিদিন কয়েকটি দল করে কুকুর খাবারের সন্ধানে আসে। ফলে ওই সড়ক দিয়ে চলাচলের সময় মানুষ কুকুরের ভয়ে থাকেন। এ পর্যন্ত তিনজনকে কুকুরে কামড় দিয়েছে বলেও দাবি করেন তারা। শুধু মানুষ নয়, এলাকার গরু, ছাগল, হাঁস-মুরগিকেও কুকুরে নিয়মিত কামড়াচ্ছে বলে অভিযোগ তাদের।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, লালমোহনের ইউএনও ও পৌর প্রশাসককে কয়েকবার হেলিপ্যাডে ময়লা না ফেলার অনুরোধ করা হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

সাজু চৌধুরী নামে এক বাসিন্দা বলেন, ‘সকালে ফজরের নামাজ পড়তে যাওয়ার সময় কুকুরের ভয়ে আমাদের কষ্ট হয়। অনেক সময় আতঙ্ক নিয়ে চলাচল করতে হয়।’

এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত হেলিপ্যাডে ময়লা ফেলা বন্ধ করতে হবে এবং সেখানে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা দ্রুত অপসারণ করতে হবে।

জানা গেছে, লালমোহন পৌরসভা একটি প্রথম শ্রেণির পৌরসভা। পৌরবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি ছিল ময়লা ফেলার জন্য নিজস্ব ডাম্পিং ব্যবস্থা করা।

এর আগে পৌর প্রশাসক মো. শাহ আজিজ পৌরবাসীর দাবির মুখে ময়লা ফেলার জন্য দ্রুত জমি ক্রয় করে ডাম্পিংয়ের ব্যবস্থা করার আশ্বাস দিয়েছিলেন। তবে সেই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়নি বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

বর্তমান পৌর প্রশাসক মোহাম্মদ সিফাত বিন সাদেক দায়িত্ব নেওয়ার পরও ময়লা ব্যবস্থাপনায় দৃশ্যমান উন্নতি হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন পৌরবাসী।

হেলিপ্যাডে ময়লা ফেলার বিষয়ে লালমোহন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক মোহাম্মদ সিফাত বিন সাদেক বলেন, ‘হেলিপ্যাডের ওপর ময়লা ফেলার সুযোগ নেই। আমরা ফেলতে চাই না। পৌরসভার ময়লা ফেলার জন্য কোনো জায়গা না থাকায় বাধ্য হয়ে হেলিপ্যাডের ওপর ময়লা ফেলতে হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা ফেলার জন্য আমরা পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছি। পৌরসভার জমি ক্রয় ও ডাম্পিংসহ সব প্রস্তাব গত মাসে মন্ত্রণালয় থেকে বাতিল করা হয়েছে। ময়লা ফেলার জন্য সরকারি খাসজমি দেখে পুনরায় প্রস্তাব পাঠাতে বলা হয়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা প্রস্তাবনার কাজ করছি।’
ঢাকা/ইবিটাইমস/এসএস