ভিয়েনা ১১:৩৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

টাঙ্গাইলে ৫ দিনের যমজ নবজাতক রেখে উধাও মা, দিশেহারা বাবা

  • EuroBanglaTimes
  • আপডেটের সময় ১০:২৯:৩৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬
  • ৯ সময় দেখুন

শফিকুজ্জামান খান মোস্তফা, টাঙ্গাইল : মাত্র পাঁচ দিনের দুই যমজ কন্যাশিশু। মায়ের আদর-স্নেহ পাওয়ার বয়সেই মাকে হারিয়ে ছটফট করছে অবুঝ দুই নবজাতক। সন্তান জন্মের মাত্র পাঁচ দিন পর দুই শিশুকে বাড়িতে রেখে মা চলে গেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় চরম বিপাকে পড়েছেন শিশু দুটির বাবা ও পরিবারের সদস্যরা।

ঘটনাটি ঘটেছে টাঙ্গাইলের ঘাটাইল পৌরসভার ধাড়িয়াল গ্রামে। পলাতক মায়ের নাম মারিয়া (১৮)। তিনি শান্তিনগর এলাকার ময়েন উদ্দিনের মেয়ে এবং ধাড়িয়াল গ্রামের সোলায়মান হোসেনের ছেলে সাকিব হোসেনের (২০) স্ত্রী।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় তিন বছর আগে সাকিব ও মারিয়ার মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সে সময় সাকিবের বয়স ছিল প্রায় ১৭ বছর এবং মারিয়ার বয়স প্রায় ১৫ বছর। পরিবারের পক্ষ থেকে তাদের সম্পর্ক মেনে না নেওয়ায় একপর্যায়ে তারা বাড়ি থেকে চলে যান। পরে স্থানীয়দের মাধ্যমে তাদের খুঁজে বের করা হয় এবং পারিবারিকভাবে তাদের বিয়ের ব্যবস্থা করা হয়।

বিয়ের প্রায় তিন বছর পর গত বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে ঘাটাইলের হাজী খোরশেদ আলী মেমোরিয়াল হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে মারিয়ার কোলজুড়ে আসে যমজ দুই কন্যাশিশু।

সন্তান জন্মের পর পাঁচ দিন পর্যন্ত মা ও নবজাতকরা পরিবারের সঙ্গেই ছিলেন। কিন্তু গত সোমবার রাতে মাত্র পাঁচ দিনের দুই নবজাতককে বাড়িতে রেখে মারিয়া চলে গেছেন বলে অভিযোগ করেন তার স্বামী ও পরিবারের সদস্যরা। এরপর প্রায় একদিন পার হলেও তিনি সন্তানদের কাছে ফিরে আসেননি।

এদিকে মায়ের অনুপস্থিতিতে দুই নবজাতককে নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন বাবা সাকিব হোসেন। তিনি বলেন, “পাঁচ দিনের যমজ দুই শিশুকে নিয়ে আমি চরম বিপাকে আছি। নবজাতক দুটিকে বাঁচাতে এখন মায়ের খুব প্রয়োজন। আমি এলাকাবাসী ও প্রশাসনের সহযোগিতা চাই। মা যেন দ্রুত ফিরে এসে সন্তান দুটিকে কোলে তুলে নেন। আমি সেই অপেক্ষায় আছি।”

সাকিবের অভিযোগ, শ্বশুরবাড়ির লোকজনের ইশারা বা কোনো ধরনের প্ররোচনায় তার স্ত্রী সন্তানদের রেখে চলে যেতে পারেন বলে তিনি সন্দেহ করছেন। তবে এ অভিযোগের পক্ষে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। একইভাবে মারিয়া কেন সন্তানদের রেখে চলে গেছেন, সে বিষয়টিও এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ঘাটাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোকছেদুর রহমান বলেন, “গত রাতে আমরা এ ধরনের একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) পেয়েছি। আমরা বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছি এবং শিশুটির মাকে খুঁজে বের করে সন্তানদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছি।”
ঢাকা/ইবিটাইমস/এসএস

জনপ্রিয়
Address : Erlaaer Strasse 49/8/16 A-1230 Vienna,Austria. Mob : +43676848863279, 8801719316684 (BD) 8801911691101 ( Ads) Email : eurobanglatimes123@gmail.com
Translate »

টাঙ্গাইলে ৫ দিনের যমজ নবজাতক রেখে উধাও মা, দিশেহারা বাবা

আপডেটের সময় ১০:২৯:৩৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬

শফিকুজ্জামান খান মোস্তফা, টাঙ্গাইল : মাত্র পাঁচ দিনের দুই যমজ কন্যাশিশু। মায়ের আদর-স্নেহ পাওয়ার বয়সেই মাকে হারিয়ে ছটফট করছে অবুঝ দুই নবজাতক। সন্তান জন্মের মাত্র পাঁচ দিন পর দুই শিশুকে বাড়িতে রেখে মা চলে গেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় চরম বিপাকে পড়েছেন শিশু দুটির বাবা ও পরিবারের সদস্যরা।

ঘটনাটি ঘটেছে টাঙ্গাইলের ঘাটাইল পৌরসভার ধাড়িয়াল গ্রামে। পলাতক মায়ের নাম মারিয়া (১৮)। তিনি শান্তিনগর এলাকার ময়েন উদ্দিনের মেয়ে এবং ধাড়িয়াল গ্রামের সোলায়মান হোসেনের ছেলে সাকিব হোসেনের (২০) স্ত্রী।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় তিন বছর আগে সাকিব ও মারিয়ার মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সে সময় সাকিবের বয়স ছিল প্রায় ১৭ বছর এবং মারিয়ার বয়স প্রায় ১৫ বছর। পরিবারের পক্ষ থেকে তাদের সম্পর্ক মেনে না নেওয়ায় একপর্যায়ে তারা বাড়ি থেকে চলে যান। পরে স্থানীয়দের মাধ্যমে তাদের খুঁজে বের করা হয় এবং পারিবারিকভাবে তাদের বিয়ের ব্যবস্থা করা হয়।

বিয়ের প্রায় তিন বছর পর গত বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে ঘাটাইলের হাজী খোরশেদ আলী মেমোরিয়াল হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে মারিয়ার কোলজুড়ে আসে যমজ দুই কন্যাশিশু।

সন্তান জন্মের পর পাঁচ দিন পর্যন্ত মা ও নবজাতকরা পরিবারের সঙ্গেই ছিলেন। কিন্তু গত সোমবার রাতে মাত্র পাঁচ দিনের দুই নবজাতককে বাড়িতে রেখে মারিয়া চলে গেছেন বলে অভিযোগ করেন তার স্বামী ও পরিবারের সদস্যরা। এরপর প্রায় একদিন পার হলেও তিনি সন্তানদের কাছে ফিরে আসেননি।

এদিকে মায়ের অনুপস্থিতিতে দুই নবজাতককে নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন বাবা সাকিব হোসেন। তিনি বলেন, “পাঁচ দিনের যমজ দুই শিশুকে নিয়ে আমি চরম বিপাকে আছি। নবজাতক দুটিকে বাঁচাতে এখন মায়ের খুব প্রয়োজন। আমি এলাকাবাসী ও প্রশাসনের সহযোগিতা চাই। মা যেন দ্রুত ফিরে এসে সন্তান দুটিকে কোলে তুলে নেন। আমি সেই অপেক্ষায় আছি।”

সাকিবের অভিযোগ, শ্বশুরবাড়ির লোকজনের ইশারা বা কোনো ধরনের প্ররোচনায় তার স্ত্রী সন্তানদের রেখে চলে যেতে পারেন বলে তিনি সন্দেহ করছেন। তবে এ অভিযোগের পক্ষে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। একইভাবে মারিয়া কেন সন্তানদের রেখে চলে গেছেন, সে বিষয়টিও এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ঘাটাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোকছেদুর রহমান বলেন, “গত রাতে আমরা এ ধরনের একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) পেয়েছি। আমরা বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছি এবং শিশুটির মাকে খুঁজে বের করে সন্তানদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছি।”
ঢাকা/ইবিটাইমস/এসএস