ভিয়েনা ০১:০৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঝিনাইদহে বাবা ও চাচার বিরুদ্ধে ভাই-বোনের সংবাদ সম্মেলন

  • EuroBanglaTimes
  • আপডেটের সময় ০৩:০০:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬
  • ৪৪ সময় দেখুন

শেখ ইমন, ঝিনাইদহ : সম্পত্তি আত্মসাৎ এবং নির্যাতনের অভিযোগ তুলে ঝিনাইদহে বাবা ও চাচার বিরুদ্ধে সংবাদ করেছেন দুই ভাইবোন। বৃহস্পতিবার ঝিনাইদহ প্রেসক্লাব মিলনায়তনে সাড়ে ১১টায় এ সংবাদ সম্মেলন হয়। ঝিনাইদহ সদর উপজেলার ধোপাবিলা গ্রামের মো. আব্দুল মোতালেবের পাঁচ ছেলে-মেয়ে।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তার মেয়ে মোছা. লিমা খাতুন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমার পিতা আব্দুল মোতালেব ও চাচা আবু বক্কর ওরফে বাক্কা এবং আমার সৎ দাদা জাহিদুল ইসলাম আমাকে এবং আমার বড় ভাই মো. ইকরামুল ইসলাম এবং আমার আপন ফুফু মোছা জোসনা খাতুনের সাথে জমা জমি নিয়ে বিভিন্নভাবে হয়রানি করে আসছে। আমার পিতা অসৎ চরিত্রের হওয়ায় ছোট বেলায় আমার দাদা জীবিত থাকা অবস্থায় আমার নামে ২৫ শতাংশ এবং আমার বড় ভাই ইকরামুলের নামে ২ একর ৫ শতাংশ জমি রেজিস্ট্রি কেরে দেন। ২০২৩ সালে ২৪ জুলাই আমার দাদা মারা যাওয়ার আগ থেকেই আমার পিতা এবং তার সহযোগীরা আমার দাদার উপর আক্রমণ করে যা স্থানীয়রা অবগত।

তিনি বলেন, আমার মাতা বেঁচে থাকা অবস্থায় আমার পিতা একাধিক বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। যার প্রতিবাদ আমার দাদাসহ পরিবারের সবাই করে গেছেন। আমরা আপন ৫ ভাই বোন। সবার বড় ইকরামুল। তিনি বিজিবি সদস্য । বর্তমানে কক্সবাজারে কর্মরত। আমি ঝিনাইদহ কেসি কলেজ থেকে অর্থনীতি বিভাগে মাস্টার্স শেষ করে চাকুরির জন্য চেষ্টা করে যাচ্ছি। ২০১৫ সালে আমার বিবাহ দেন দাদা। সন্তানের মধ্যে আমি একা কন্যা সন্তান হলেও আজ অবদি আমার কোন খোঁজ রাখেনি। তিনি ঝিনাইদহ শহরসহ বিভিন্ন স্থানে বিবাহ করে রেখেছেন বলে মানুষের মুখে শুনেছি। গ্রামের মানুষ বলতে পারবে আমার পিতার কর্মকান্ড। বাড়ির পাশের এক মহিলার সাথে অনৈতিক সম্পর্ক ধরা পড়ায় আমার পিতার বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা হয়। সেই মামলা মিমাংসার জন্য আমার দাদার রেখে যাওয়া জমি কুমড়াবাড়িয়া গ্রামের মোজাম নামে এক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করে।
লিমা খাতুন বলেন, ধর্ষণ মামলা মিমাংসা হলে পরবর্তীতে ঝিনাইদহ কাঞ্চনপুরে নতুন করে অন্য এক মহিলার সাথে অবৈধভাবে থাকায় স্থানীয়রা তাকে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ করে। সেই মহিলার ইতিপূর্বে ৮টি বিবাহ হয়েছে। তারমধ্যে ৪টি সংসারে ২ ছেলে ২ মেয়ে রয়েছে। এ বিষয়ে আমার দাদা ও আমরা প্রতিবাদ করলে আমাদের ওপর অমানুষিক নির্যাতন করে। আমার মা এ ঘটনায় প্রতিবাদ করলে তাকে বিভিন্ন ভাবে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করে। একপর্যায়ে আমার পিতার এই অত্যাচারে ২০২৩ সালে আমার মা মারা যান। এরপর থেকে কাঞ্চনপুরের ওই মহিলাকে আমার ভাই ইকরামুলের করা বাড়িতে উঠানোর চেষ্টা করে। শুরু হয় পারিবারিক কলোহ। সেই সাথে দাদার দেওয়া আমার এবং আমার ভাইয়ের জমি আমার পিতা আব্দুল মোতালেব জোর করে বন্ধক রাখে। শুরু হয় আমাদের ভাই বোনের সাথে পিতার বিরোধ।
তিনি বলেন, পিতা হিসেবে এত অপকর্ম করার পরও আমরা চুপ থেকেছি। বর্তমানে আমার ভাই ইকরামুল ছুটিতে বাড়ি এসেছে। তার নিজের করা বাড়িতে গেলে লোকজন ভাড়া করে এনে আমার ভাইয়ের উপর আক্রমন করে। এ ঘটনায় আমার ভাই এবং ভাইয়ের ছোট শিশু সন্তানকে বেশ কয়েকদিন ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি থেকে চিকিৎসা নিতে হয়েছে।
লিমা খাতুন আরও বলেন, আমার আপন ফুফু জোসনা খাতুন তার পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া জমি আমার পিতা জোর পূর্বক বিক্রি করে যাচ্ছে। আমার ফুফু আজকের এই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত আছেন। তিনি ঝিনাইদহ আদালতে বন্টন নামার মামলা করেছেন তার ভাইয়ের বিরুদ্ধে।
তিনি বলেন, আমার বড় ভাবিকে আমার পিতা আমাদের বাড়িতে সম্মানের সাথে থাকতে দেয়নি। তিনিও এখানে উপস্থিত আছেন। আজকের এই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত আছেন। তিনি ঝিনাইদহ আদালতে বন্টন নামার মামলা করেছেন তার ভাইয়ের বিরুদ্ধে।
ঢাকা/ইবিটাইমস/এসএস

Address : Erlaaer Strasse 49/8/16 A-1230 Vienna,Austria. Mob : +43676848863279, 8801719316684 (BD) 8801911691101 ( Ads) Email : eurobanglatimes123@gmail.com
Translate »

ঝিনাইদহে বাবা ও চাচার বিরুদ্ধে ভাই-বোনের সংবাদ সম্মেলন

আপডেটের সময় ০৩:০০:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬

শেখ ইমন, ঝিনাইদহ : সম্পত্তি আত্মসাৎ এবং নির্যাতনের অভিযোগ তুলে ঝিনাইদহে বাবা ও চাচার বিরুদ্ধে সংবাদ করেছেন দুই ভাইবোন। বৃহস্পতিবার ঝিনাইদহ প্রেসক্লাব মিলনায়তনে সাড়ে ১১টায় এ সংবাদ সম্মেলন হয়। ঝিনাইদহ সদর উপজেলার ধোপাবিলা গ্রামের মো. আব্দুল মোতালেবের পাঁচ ছেলে-মেয়ে।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তার মেয়ে মোছা. লিমা খাতুন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমার পিতা আব্দুল মোতালেব ও চাচা আবু বক্কর ওরফে বাক্কা এবং আমার সৎ দাদা জাহিদুল ইসলাম আমাকে এবং আমার বড় ভাই মো. ইকরামুল ইসলাম এবং আমার আপন ফুফু মোছা জোসনা খাতুনের সাথে জমা জমি নিয়ে বিভিন্নভাবে হয়রানি করে আসছে। আমার পিতা অসৎ চরিত্রের হওয়ায় ছোট বেলায় আমার দাদা জীবিত থাকা অবস্থায় আমার নামে ২৫ শতাংশ এবং আমার বড় ভাই ইকরামুলের নামে ২ একর ৫ শতাংশ জমি রেজিস্ট্রি কেরে দেন। ২০২৩ সালে ২৪ জুলাই আমার দাদা মারা যাওয়ার আগ থেকেই আমার পিতা এবং তার সহযোগীরা আমার দাদার উপর আক্রমণ করে যা স্থানীয়রা অবগত।

তিনি বলেন, আমার মাতা বেঁচে থাকা অবস্থায় আমার পিতা একাধিক বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। যার প্রতিবাদ আমার দাদাসহ পরিবারের সবাই করে গেছেন। আমরা আপন ৫ ভাই বোন। সবার বড় ইকরামুল। তিনি বিজিবি সদস্য । বর্তমানে কক্সবাজারে কর্মরত। আমি ঝিনাইদহ কেসি কলেজ থেকে অর্থনীতি বিভাগে মাস্টার্স শেষ করে চাকুরির জন্য চেষ্টা করে যাচ্ছি। ২০১৫ সালে আমার বিবাহ দেন দাদা। সন্তানের মধ্যে আমি একা কন্যা সন্তান হলেও আজ অবদি আমার কোন খোঁজ রাখেনি। তিনি ঝিনাইদহ শহরসহ বিভিন্ন স্থানে বিবাহ করে রেখেছেন বলে মানুষের মুখে শুনেছি। গ্রামের মানুষ বলতে পারবে আমার পিতার কর্মকান্ড। বাড়ির পাশের এক মহিলার সাথে অনৈতিক সম্পর্ক ধরা পড়ায় আমার পিতার বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা হয়। সেই মামলা মিমাংসার জন্য আমার দাদার রেখে যাওয়া জমি কুমড়াবাড়িয়া গ্রামের মোজাম নামে এক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করে।
লিমা খাতুন বলেন, ধর্ষণ মামলা মিমাংসা হলে পরবর্তীতে ঝিনাইদহ কাঞ্চনপুরে নতুন করে অন্য এক মহিলার সাথে অবৈধভাবে থাকায় স্থানীয়রা তাকে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ করে। সেই মহিলার ইতিপূর্বে ৮টি বিবাহ হয়েছে। তারমধ্যে ৪টি সংসারে ২ ছেলে ২ মেয়ে রয়েছে। এ বিষয়ে আমার দাদা ও আমরা প্রতিবাদ করলে আমাদের ওপর অমানুষিক নির্যাতন করে। আমার মা এ ঘটনায় প্রতিবাদ করলে তাকে বিভিন্ন ভাবে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করে। একপর্যায়ে আমার পিতার এই অত্যাচারে ২০২৩ সালে আমার মা মারা যান। এরপর থেকে কাঞ্চনপুরের ওই মহিলাকে আমার ভাই ইকরামুলের করা বাড়িতে উঠানোর চেষ্টা করে। শুরু হয় পারিবারিক কলোহ। সেই সাথে দাদার দেওয়া আমার এবং আমার ভাইয়ের জমি আমার পিতা আব্দুল মোতালেব জোর করে বন্ধক রাখে। শুরু হয় আমাদের ভাই বোনের সাথে পিতার বিরোধ।
তিনি বলেন, পিতা হিসেবে এত অপকর্ম করার পরও আমরা চুপ থেকেছি। বর্তমানে আমার ভাই ইকরামুল ছুটিতে বাড়ি এসেছে। তার নিজের করা বাড়িতে গেলে লোকজন ভাড়া করে এনে আমার ভাইয়ের উপর আক্রমন করে। এ ঘটনায় আমার ভাই এবং ভাইয়ের ছোট শিশু সন্তানকে বেশ কয়েকদিন ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি থেকে চিকিৎসা নিতে হয়েছে।
লিমা খাতুন আরও বলেন, আমার আপন ফুফু জোসনা খাতুন তার পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া জমি আমার পিতা জোর পূর্বক বিক্রি করে যাচ্ছে। আমার ফুফু আজকের এই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত আছেন। তিনি ঝিনাইদহ আদালতে বন্টন নামার মামলা করেছেন তার ভাইয়ের বিরুদ্ধে।
তিনি বলেন, আমার বড় ভাবিকে আমার পিতা আমাদের বাড়িতে সম্মানের সাথে থাকতে দেয়নি। তিনিও এখানে উপস্থিত আছেন। আজকের এই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত আছেন। তিনি ঝিনাইদহ আদালতে বন্টন নামার মামলা করেছেন তার ভাইয়ের বিরুদ্ধে।
ঢাকা/ইবিটাইমস/এসএস