ভিয়েনা ০৮:১২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
রামিসাসহ সকল ধর্ষণ-খুন ও হামের টিকা সংকটে মৃত্যুর বিচারের দাবিতে কাফন মিছিল ও সমাবেশ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এডিবি প্রেসিডেন্টের সৌজন্য সাক্ষাৎ লালমোহনে মেধা, সর্বোচ্চ উপস্থিতি ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ এবং অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত ঢাকা-টাঙ্গাইল যমুনা সেতু মহাসড়কে ১৫ জন নিহত টুংটাং শব্দে মুখর লালমোহনের কামার পাড়া ছাত্রদলের মামলায় এনসিপির নেতা তারেক রেজা গ্রেফতার টাঙ্গাইলে সিএনজি-মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে ২ জন নিহত টাঙ্গাইলে ইসলামী ব্যাংক গ্রাহক ফোরামের মানববন্ধন হাসপাতালের সেকমো আবুলের অনিয়ম-ই নিয়ম পাকিস্তানে দ্রুতই ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের নতুন দফার বৈঠকের সম্ভাবনা: শাহবাজ শরিফ

ঝিনাইদহে সাংবাদিকের মুক্তি ও ওসির অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন

  • EuroBanglaTimes
  • আপডেটের সময় ১০:৩৫:৩০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬
  • ২৬ সময় দেখুন

শেখ ইমন, ঝিনাইদহ : ঝিনাইদহের শৈলকুপায় বাংলা এডিশনের জেলা প্রতিনিধি আশরাফুল ইসলামকে থানায় ডেকে নিয়ে ১৪ ঘণ্টা আটকে রেখে তারই দাদার হত্যা মামলায় আসামী করে কারাগারে পাঠানোর অভিযোগে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২৭) এপ্রিল বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঝিনাইদহ শহরের পোস্ট অফিস মোড়ে এ কর্মসূচির আয়োজন করে ঝিনাইদহের বিক্ষুব্ধ সাংবাদিকবৃন্দ। সমাবেশ থেকে ওই সাংবাদিকের নিঃশর্ত মুক্তি ও অবিলম্বে ওসি হুমায়ুন কবির মোল্লার অপসারণের দাবি জানানো হয়। কর্মসূচির শুরুতে একটি বিক্ষোভ সমাবেশ শহরের পোস্ট অফিস মোড় থেকে শুরু হয়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে একই স্থানে এসে শেষ হয়। এসময় সমাবেশে দৈনিক এদিন প্রতিনিধি সুজন বিপ্লবের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন ঝিনাইদহ মাল্টিমিডিয়া জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শেখ ইমন,সিনিয়র সাংবাদিক দেলোয়ার কবির,জেলা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি এম এ কবির,শৈলকুপা প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শিহাব মল্লিক,যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সুলতান আল এনাম ও ভুক্তভোগী সাংবাদিকের স্ত্রী শান্তা খাতুন।

বক্তারা বলেন, শৈলকুপার ওসি নিজের ব্যক্তিগত আক্রোশ মেটাতে ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন। যে সাংবাদিকের দাদা সামাজিক বিরোধে প্রতিপক্ষের হাতে খুন হয়েছেন, তাকেই খুনি সাজিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে এমন ঘটনা শুধু নজিরবিহীন নয়, এটি পুলিশের জন্য লজ্জার। ওই ওসি মনে করেছেন সাংবাদিককে জেল খাটিয়ে সত্য ধামাচাপা দেবেন, কিন্তু তিনি ভুল করছেন। বাদীর নিজের জবানবন্দিতেই পরিষ্কার যে এই মামলা সাজানো। এজাহারে নাম নেই, কোনো প্রমাণ নেই শুধু ওসির ‘খামখেয়ালিপনায়’ আজ একজন সংবাদকর্মী কারাবন্দি। এই ওসিকে শৈলকুপায় রাখা মানে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাকে ঝুঁকিতে ফেলা। আমরা ওসির অপসারণ না হওয়া পর্যন্ত রাজপথ ছাড়ব না।

অবিলম্বে ওসির অপসারণ ও সাংবাদিকদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে কর্মপরিবেশ ফিরিয়ে আনার জন্য প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন মহলের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন সচেতন সুশীল সমাজ ও সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ।

ওই সাংবাদিকের স্ত্রী শান্তা খাতুন বলেন, ‘আমাদের গ্রামে পুলিশের উপস্থিতিতে জনসম্মুখে হত্যাকাণ্ডের ঘটনার সংবাদ প্রকাশের জেরে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা দায়েরের হোতা ওসি হুমায়ুন কবিরকে অবিলম্বে অপসারণ ও আমার স্বামীর নিঃশর্ত মুক্তি চাই।’

প্রসঙ্গত, গত শনিবার (২৬ এপ্রিল) রাত ১২টার দিকে উপজেলার গাড়াগঞ্জের বড়দা ব্রিজ এলাকা থেকে সাংবাদিক আশরাফুলকে থানায় ডেকে নিয়ে যায় পুলিশ। পরদিন রোববার দুপুর ২টা পর্যন্ত তাকে শৈলকুপা থানায় আটকে রাখা হয়েছিল। সেসময় পর্যন্ত তাকে আটকে রাখার কোনো কারণই জানাচ্ছিলেন না পুলিশ। ওই সাংবাদিকের পরিবারের দাবি, ১৪ ঘণ্টা আটকে রাখার পর হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে ওই সাংবাদিককে আদালতে পাঠানো হয়। অথচ গ্রেপ্তার দেখানোর মামলায় হত্যার শিকার মোহন শেখ তার আপন চাচাতো দাদা ছিলেন। গত ২৩ এপ্রিল সকালে সামাজিক আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে মোহন শেখ (৬০) নিহত হয়। এঘটনায় নিহতের ছেলে বাদী হয়ে ৪২ জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করেছেন। নিহত মোহন শেখ ভুক্তভোগী সাংবাদিক আশরাফুলের আপন চাচাতে দাদা ছিলেন।
ঢাকা/ইবিটাইমস/এসএস

জনপ্রিয়

রামিসাসহ সকল ধর্ষণ-খুন ও হামের টিকা সংকটে মৃত্যুর বিচারের দাবিতে কাফন মিছিল ও সমাবেশ

Address : Erlaaer Strasse 49/8/16 A-1230 Vienna,Austria. Mob : +43676848863279, 8801719316684 (BD) 8801911691101 ( Ads) Email : eurobanglatimes123@gmail.com
Translate »

ঝিনাইদহে সাংবাদিকের মুক্তি ও ওসির অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন

আপডেটের সময় ১০:৩৫:৩০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬

শেখ ইমন, ঝিনাইদহ : ঝিনাইদহের শৈলকুপায় বাংলা এডিশনের জেলা প্রতিনিধি আশরাফুল ইসলামকে থানায় ডেকে নিয়ে ১৪ ঘণ্টা আটকে রেখে তারই দাদার হত্যা মামলায় আসামী করে কারাগারে পাঠানোর অভিযোগে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২৭) এপ্রিল বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঝিনাইদহ শহরের পোস্ট অফিস মোড়ে এ কর্মসূচির আয়োজন করে ঝিনাইদহের বিক্ষুব্ধ সাংবাদিকবৃন্দ। সমাবেশ থেকে ওই সাংবাদিকের নিঃশর্ত মুক্তি ও অবিলম্বে ওসি হুমায়ুন কবির মোল্লার অপসারণের দাবি জানানো হয়। কর্মসূচির শুরুতে একটি বিক্ষোভ সমাবেশ শহরের পোস্ট অফিস মোড় থেকে শুরু হয়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে একই স্থানে এসে শেষ হয়। এসময় সমাবেশে দৈনিক এদিন প্রতিনিধি সুজন বিপ্লবের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন ঝিনাইদহ মাল্টিমিডিয়া জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শেখ ইমন,সিনিয়র সাংবাদিক দেলোয়ার কবির,জেলা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি এম এ কবির,শৈলকুপা প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শিহাব মল্লিক,যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সুলতান আল এনাম ও ভুক্তভোগী সাংবাদিকের স্ত্রী শান্তা খাতুন।

বক্তারা বলেন, শৈলকুপার ওসি নিজের ব্যক্তিগত আক্রোশ মেটাতে ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন। যে সাংবাদিকের দাদা সামাজিক বিরোধে প্রতিপক্ষের হাতে খুন হয়েছেন, তাকেই খুনি সাজিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে এমন ঘটনা শুধু নজিরবিহীন নয়, এটি পুলিশের জন্য লজ্জার। ওই ওসি মনে করেছেন সাংবাদিককে জেল খাটিয়ে সত্য ধামাচাপা দেবেন, কিন্তু তিনি ভুল করছেন। বাদীর নিজের জবানবন্দিতেই পরিষ্কার যে এই মামলা সাজানো। এজাহারে নাম নেই, কোনো প্রমাণ নেই শুধু ওসির ‘খামখেয়ালিপনায়’ আজ একজন সংবাদকর্মী কারাবন্দি। এই ওসিকে শৈলকুপায় রাখা মানে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাকে ঝুঁকিতে ফেলা। আমরা ওসির অপসারণ না হওয়া পর্যন্ত রাজপথ ছাড়ব না।

অবিলম্বে ওসির অপসারণ ও সাংবাদিকদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে কর্মপরিবেশ ফিরিয়ে আনার জন্য প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন মহলের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন সচেতন সুশীল সমাজ ও সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ।

ওই সাংবাদিকের স্ত্রী শান্তা খাতুন বলেন, ‘আমাদের গ্রামে পুলিশের উপস্থিতিতে জনসম্মুখে হত্যাকাণ্ডের ঘটনার সংবাদ প্রকাশের জেরে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা দায়েরের হোতা ওসি হুমায়ুন কবিরকে অবিলম্বে অপসারণ ও আমার স্বামীর নিঃশর্ত মুক্তি চাই।’

প্রসঙ্গত, গত শনিবার (২৬ এপ্রিল) রাত ১২টার দিকে উপজেলার গাড়াগঞ্জের বড়দা ব্রিজ এলাকা থেকে সাংবাদিক আশরাফুলকে থানায় ডেকে নিয়ে যায় পুলিশ। পরদিন রোববার দুপুর ২টা পর্যন্ত তাকে শৈলকুপা থানায় আটকে রাখা হয়েছিল। সেসময় পর্যন্ত তাকে আটকে রাখার কোনো কারণই জানাচ্ছিলেন না পুলিশ। ওই সাংবাদিকের পরিবারের দাবি, ১৪ ঘণ্টা আটকে রাখার পর হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে ওই সাংবাদিককে আদালতে পাঠানো হয়। অথচ গ্রেপ্তার দেখানোর মামলায় হত্যার শিকার মোহন শেখ তার আপন চাচাতো দাদা ছিলেন। গত ২৩ এপ্রিল সকালে সামাজিক আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে মোহন শেখ (৬০) নিহত হয়। এঘটনায় নিহতের ছেলে বাদী হয়ে ৪২ জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করেছেন। নিহত মোহন শেখ ভুক্তভোগী সাংবাদিক আশরাফুলের আপন চাচাতে দাদা ছিলেন।
ঢাকা/ইবিটাইমস/এসএস