ভিয়েনা ১১:৫৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :

টুংটাং শব্দে মুখর লালমোহনের কামার পাড়া

  • EuroBanglaTimes
  • আপডেটের সময় ০১:০৫:৫৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬
  • ৩ সময় দেখুন

জাহিদ দুলাল, ভোলা দক্ষিণ : দুয়ারে কড়া নাড়ছে পবিত্র ঈদুল আজহা। এই ঈদে ত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত হয়ে বিভিন্ন প্রকার গবাদি পশু কোরবানি দেবেন ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা। পশু কোরবানিতে প্রয়োজন হয় দা, বটি, ছুরি ও দামাসহ বিভিন্ন ধরনের লৌহজাত সামগ্রীর। এসব লৌহজাত সামগ্রী তৈরিতে বর্তমানে ব্যাপক ব্যস্ত সময় পার করছেন ভোলার লালমোহন উপজেলার কামাররা। যেন কারওই দম ফেলানোর সময় নেই। কেউ হাতুড়ি দিয়ে আগুনে পোড়া লোহা পিটিয়ে তৈরি করছেন দা, বটি, ছুরি ও দামাসহ বিভিন্ন ধরনের লৌহজাত সামগ্রী। প্রকারভেদে এসবের দাম দুইশত থেকে এক হাজার টাকা পর্যন্ত। আবার কেউ পুরনো দা, বটি এবং ছুরিতে শান দিচ্ছেন। যা ৫০ থেকে ১০০ টাকার মধ্যেই করা হয়। গত এক সপ্তাহ ধরে টুংটাং শব্দে মুখর হয়ে উঠেছে এই উপজেলার কামার পাড়াগুলো। পৌরশহর থেকে গ্রামের হাঁট-বাজার, সবখানেই এখন কামারদের যেন বিরামহীন ব্যস্ততা। তবে বছরের অন্য সময় কামারদের তেমন কাজ থাকে না। তখন অলস সময় কাটাতে হয় তাদের।
লালমোহন পৌরশহরের কামারপট্টির বাবুল কর্মকার জানান, ছোট বেলায়ই বাবার কাছ থেকে এ কাজ শিখেছি। গত প্রায় ৪২ বছর ধরে আমি নিজেই করছি এ কাজ। বছরের অন্যান্য সময়ের তুলনায় কোরবানি ঈদে কাজ বেশি থাকে। যার জন্য আমরা এই সময়ের অপেক্ষায় থাকি। গত এক সপ্তাহ ধরে কাজের অনেক চাপ রয়েছে। কাজের এই চাপ থাকবে কোরবানির আগের দিন পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত একটানা চলে নতুন সরঞ্জাম বানানোসহ পুরাতন দা, ছুরি, বটিতে শান দেওয়া, একইসঙ্গে বিক্রিও। বর্তমানে প্রতিদিন দৈনিক ১৫ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকার মালামাল বিক্রি করতে পারি। এ বছর লোহার দাম কিছুটা কম। তাই আশা করছি ভালো লাভবান হতে পারবো।
সুশীল কর্মকার নামে ওই এলাকার আরেক কামার বলেন, বছরের অন্য সময় তেমন কাজ থাকে না। কোরবানির ঈদের আগের এক সপ্তাহ ধরে ভালো কাজ থাকে। তখনই ব্যস্ততা বাড়ে, আর ভালো আয়ও হয়। তবে বছরের অন্য সময় আয়ের পরিমাণ কমে যায়। তখন কেবল পাঁচশত থেকে ছয়শত টাকা উপার্জন করতে পারি। যে কারণে পরিবার-পরিজন নিয়ে অভাব-অনটনে দিন পার করতে হয়। এছাড়া পৌরশহরে ঘর ভাড়া নিয়ে দোকান করায় অনেক টাকা বেশি খরচ হচ্ছে। তাই সরকারি উদ্যোগে পৌরশহরের ভেতর নির্দিষ্টস্থানে একটি কামার পল্লী নির্মাণ করা হলে আমাদের খরচ অনেকটা কমবে। একইসঙ্গে সরকারের পক্ষ থেকে আর্থিক সহযোগিতা করা হলে আমাদের জীবনমানের উন্নয়ন হবে আর টিকে থাকবে এই কামার শিল্প।
এ বিষয়ে লালমোহন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ সিফাত বিন সাদেক জানান, পৌরশহরের মধ্যে কামার পল্লী গঠনের জন্য কামারদের পক্ষ থেকে আবেদন করা হলে বিষয়টি বিবেচনা করে দেখা হবে। তাছাড়া মুলধনের জন্য জেলা ক্ষুদ্র কুটির শিল্পে ঋণের জন্য আবেদন করলে তারা কামার শিল্পের জন্য ঋণের ব্যবস্থা করবে।
ঢাকা/ইবটাইমস/এসএস

Tag :
জনপ্রিয়

লালমোহনে মেধা, সর্বোচ্চ উপস্থিতি ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ এবং অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত

Address : Erlaaer Strasse 49/8/16 A-1230 Vienna,Austria. Mob : +43676848863279, 8801719316684 (BD) 8801911691101 ( Ads) Email : eurobanglatimes123@gmail.com
Translate »

টুংটাং শব্দে মুখর লালমোহনের কামার পাড়া

আপডেটের সময় ০১:০৫:৫৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬

জাহিদ দুলাল, ভোলা দক্ষিণ : দুয়ারে কড়া নাড়ছে পবিত্র ঈদুল আজহা। এই ঈদে ত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত হয়ে বিভিন্ন প্রকার গবাদি পশু কোরবানি দেবেন ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা। পশু কোরবানিতে প্রয়োজন হয় দা, বটি, ছুরি ও দামাসহ বিভিন্ন ধরনের লৌহজাত সামগ্রীর। এসব লৌহজাত সামগ্রী তৈরিতে বর্তমানে ব্যাপক ব্যস্ত সময় পার করছেন ভোলার লালমোহন উপজেলার কামাররা। যেন কারওই দম ফেলানোর সময় নেই। কেউ হাতুড়ি দিয়ে আগুনে পোড়া লোহা পিটিয়ে তৈরি করছেন দা, বটি, ছুরি ও দামাসহ বিভিন্ন ধরনের লৌহজাত সামগ্রী। প্রকারভেদে এসবের দাম দুইশত থেকে এক হাজার টাকা পর্যন্ত। আবার কেউ পুরনো দা, বটি এবং ছুরিতে শান দিচ্ছেন। যা ৫০ থেকে ১০০ টাকার মধ্যেই করা হয়। গত এক সপ্তাহ ধরে টুংটাং শব্দে মুখর হয়ে উঠেছে এই উপজেলার কামার পাড়াগুলো। পৌরশহর থেকে গ্রামের হাঁট-বাজার, সবখানেই এখন কামারদের যেন বিরামহীন ব্যস্ততা। তবে বছরের অন্য সময় কামারদের তেমন কাজ থাকে না। তখন অলস সময় কাটাতে হয় তাদের।
লালমোহন পৌরশহরের কামারপট্টির বাবুল কর্মকার জানান, ছোট বেলায়ই বাবার কাছ থেকে এ কাজ শিখেছি। গত প্রায় ৪২ বছর ধরে আমি নিজেই করছি এ কাজ। বছরের অন্যান্য সময়ের তুলনায় কোরবানি ঈদে কাজ বেশি থাকে। যার জন্য আমরা এই সময়ের অপেক্ষায় থাকি। গত এক সপ্তাহ ধরে কাজের অনেক চাপ রয়েছে। কাজের এই চাপ থাকবে কোরবানির আগের দিন পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত একটানা চলে নতুন সরঞ্জাম বানানোসহ পুরাতন দা, ছুরি, বটিতে শান দেওয়া, একইসঙ্গে বিক্রিও। বর্তমানে প্রতিদিন দৈনিক ১৫ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকার মালামাল বিক্রি করতে পারি। এ বছর লোহার দাম কিছুটা কম। তাই আশা করছি ভালো লাভবান হতে পারবো।
সুশীল কর্মকার নামে ওই এলাকার আরেক কামার বলেন, বছরের অন্য সময় তেমন কাজ থাকে না। কোরবানির ঈদের আগের এক সপ্তাহ ধরে ভালো কাজ থাকে। তখনই ব্যস্ততা বাড়ে, আর ভালো আয়ও হয়। তবে বছরের অন্য সময় আয়ের পরিমাণ কমে যায়। তখন কেবল পাঁচশত থেকে ছয়শত টাকা উপার্জন করতে পারি। যে কারণে পরিবার-পরিজন নিয়ে অভাব-অনটনে দিন পার করতে হয়। এছাড়া পৌরশহরে ঘর ভাড়া নিয়ে দোকান করায় অনেক টাকা বেশি খরচ হচ্ছে। তাই সরকারি উদ্যোগে পৌরশহরের ভেতর নির্দিষ্টস্থানে একটি কামার পল্লী নির্মাণ করা হলে আমাদের খরচ অনেকটা কমবে। একইসঙ্গে সরকারের পক্ষ থেকে আর্থিক সহযোগিতা করা হলে আমাদের জীবনমানের উন্নয়ন হবে আর টিকে থাকবে এই কামার শিল্প।
এ বিষয়ে লালমোহন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ সিফাত বিন সাদেক জানান, পৌরশহরের মধ্যে কামার পল্লী গঠনের জন্য কামারদের পক্ষ থেকে আবেদন করা হলে বিষয়টি বিবেচনা করে দেখা হবে। তাছাড়া মুলধনের জন্য জেলা ক্ষুদ্র কুটির শিল্পে ঋণের জন্য আবেদন করলে তারা কামার শিল্পের জন্য ঋণের ব্যবস্থা করবে।
ঢাকা/ইবটাইমস/এসএস