ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ থেকে বর্ণাঢ্য ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’ বের হয়েছে। নববর্ষকে স্বাগত জানাতে এতে অংশ নিয়েছে হাজারো মানুষ। বরাবরের মতো এবারও শোভাযাত্রায় বিশ্ব ও দেশীয় ইস্যুর প্রতিফলন দেখা গেছে। এর মধ্যে ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ লেখা প্ল্যাকার্ড নজর কেড়েছে সবার।
মঙ্গলবার সকাল ৯টা ৬ মিনিটে চারুকলার সামনে থেকে এই শোভাযাত্রা শুরু হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের নেতৃত্বে শোভাযাত্রায় উপস্থিত হন সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী।
শোভাযাত্রাটি চারুকলা অনুষদের ৩ নম্বর (উত্তর) গেট থেকে শুরু করে শাহবাগ থানার সামনে গিয়ে ইউটার্ন নেয়। সেখান থেকে রাজু ভাস্কর্য ও টিএসসি প্রাঙ্গণ ডান পাশে রেখে দোয়েল চত্বর হয়ে বাংলা একাডেমির সামনে দিয়ে আবার চারুকলা অনুষদে এসে সকাল ১০টা ৫ মিনিটে শেষ হয়।
এবারের শোভাযাত্রার অন্যতম আকর্ষণ ছিল পাঁচটি বড় মোটিফ—মোরগ, বেহালা, পায়রা, হাতি ও ঘোড়া। এছাড়া ৩৫ জন বাদ্যযন্ত্রশিল্পী জাতীয় সংগীত, ‘এসো হে বৈশাখ’সহ দেশাত্মবোধক গান পরিবেশন করেন। শোভাযাত্রায় ২০০ জন শিক্ষার্থী জাতীয় পতাকা বহন করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ছাড়াও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এতে অংশ নেন।
শোভাযাত্রায় বিশ্ব ও দেশীয় ইস্যুর প্রতিফলন দেখা গেছে। অংশগ্রহণকারীদের হাতে ছিল বিভিন্ন ধরনের প্ল্যাকার্ড ও প্রতীকী শিল্পকর্ম। এসব প্ল্যাকার্ডে উঠে আসে পরিবেশ, আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও সামাজিক বিভিন্ন ইস্যু। ‘বাঁচাও সুন্দরবন’, ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’, ‘ইরানে মার্কিন যুদ্ধ বন্ধ করো’, ‘গণহত্যাকারীদের রাজনীতি প্রত্যাখ্যান করো’, ‘ফসলের লাভজনক মূল্য দাও’, ‘শিক্ষা বাণিজ্য বন্ধ কর’, ‘মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি বাতিল করো’-এমন নানা স্লোগান দেখা গেছে।
শোভাযাত্রার পুরোটা সময় জুড়ে ছিল ঢোল, বাঁশি ও বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্রের সুর। ঐতিহ্যবাহী এই আয়োজন সঙ্গীত ও রঙের মেলবন্ধনে প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। ঢাবির শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা–কর্মচারী ছাড়াও সর্বস্তরের মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
আরএন/ঢাকা/ইবিটাইমস


















