ইবিটাইমস ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আলোচকরা নাজুক যুদ্ধবিরতি আরও ৬০ দিনের জন্য বাড়ানোর একটি চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছেছেন। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকায় সমঝোতাটি এখনো কার্যকর হয়নি বলে যুক্তরাষ্ট্রের সূত্রগুলো বৃহস্পতিবার এএফপিকে জানিয়েছে।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
ওয়াশিংটন ও তেহরান পরস্পরের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলার পর নতুন এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এতে স্পষ্ট হয়েছে, ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার মাধ্যমে শুরু হওয়া মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের তিন মাস পরও আলোচনা প্রক্রিয়া এখনো অস্থির ও অনিশ্চিত অবস্থায় রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সূত্রগুলো অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদনের সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি দীর্ঘায়িত করা এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নতুন আলোচনা শুরুর লক্ষ্যে উভয় পক্ষ একটি সমঝোতা স্মারক বা এমওইউতে সম্মত হয়েছে।
অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রস্তাবিত চুক্তি অনুযায়ী হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে কোনো ধরনের বাধা, টোল আদায় বা হয়রানি করা হবে না। ইরান ৩০ দিনের মধ্যে সমুদ্রপথে পাতা সব মাইন অপসারণ করবে। আর বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হলে যুক্তরাষ্ট্রও তাদের নৌ অবরোধ তুলে নেবে।
তবে ইরানের তাসনিম সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, চুক্তির খসড়া এখনো পুরোপুরি চূড়ান্ত হয়নি। তেহরানের আলোচকদের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্রের বরাতে তারা জানায়, চুক্তি সম্পন্ন হলে পাকিস্তানকে বিষয়টি জানানো হবে।
ইরানি সংবাদমাধ্যমগুলো আরও জানিয়েছে, তেহরানের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ছাড়া কোনো চুক্তিকে চূড়ান্ত হিসেবে ধরা হবে না, এমনকি ট্রাম্প একতরফাভাবে ঘোষণা দিলেও নয়।
বৃহস্পতিবার রাতে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সাংবাদিকদের বলেন, ‘আলোচনায় অনেক অগ্রগতি হয়েছে। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখনো চুক্তিতে অনুমোদন দেওয়ার জন্য প্রস্তুত নন।’
তিনি বলেন, কিছু বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা এগোলেও গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বিষয়ে এখনো আলোচনা চলছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি জানিয়েছে, দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরনগরী বন্দর আব্বাসে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর ইরান পাল্টা জবাবে ‘যে মার্কিন বিমানঘাঁটি থেকে এই হামলা চালানো হয়েছিল’ সেটিকেই লক্ষ্য করে আঘাত হানে।
দেশটির বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর বরাতে আইআরআইবি এ তথ্য জানায়।
যদিও ইরান কোন ঘাঁটিতে হামলা চালানো হয়েছে তা নির্দিষ্ট করে বলেনি, তবে কুয়েত জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করেছে। কুয়েতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই হামলাকে ‘অপরাধমূলক’ উল্লেখ করে একে আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধির বিপজ্জনক পদক্ষেপ বলে মন্তব্য করেছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ইরানের এই হামলাকে ‘যুদ্ধবিরতির জঘন্য লঙ্ঘন’ বলে আখ্যা দিয়েছে।
আইআরআইবি আরও জানায়, ইরানের অনুমতি ছাড়া হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টা করায় চারটি জাহাজে গুলি চালানো হয়েছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই ইরান গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে কার্যত অবরোধ আরোপ করে রেখেছে।
মার্কিন বাহিনী জানিয়েছে, তারা হরমুজ প্রণালির আশপাশে পাঁচটি হামলাকারী ড্রোন ভূপাতিত করেছে এবং বন্দর আব্বাসের কাছে আরেকটি ড্রোন উৎক্ষেপণ প্রতিহত করেছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকাই যুক্তরাষ্ট্রের এসব হামলাকে যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন বলে দাবি করেছেন।
তবে এক মার্কিন কর্মকর্তা এএফপিকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপ ছিল ‘পরিমিত’ এবং এর উদ্দেশ্য ছিল যুদ্ধবিরতি বজায় রাখা।
ইরানের বিপ্লবী গার্ড সতর্ক করে জানিয়েছে, নতুন করে কোনো হামলা হলে তারা ‘কঠোর জবাব’ দেবে।
ঢাকা/এসএস



















