ভিয়েনা ০৯:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৪ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আগামীকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সৌদির আকাশে চাঁদ দেখা গেলে বুধবার থেকে রোজা

  • EuroBanglaTimes
  • আপডেটের সময় ০৮:১১:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৬৬ সময় দেখুন

সৌদি আরবের ক্যালেন্ডার অনুযায়ী প্রথম রোজা শুরু বুধবার থেকে

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারী) সৌদি আরবের জাতীয় সংবাদমাধ্যম জানায়,দেশটির সুপ্রিম কোর্ট মঙ্গলবার সন্ধ্যায় প্রশাসনসহ দেশের সকল নাগরিককে পবিত্র রমজান (Ramadan) মাসের চাঁদ দেখার নির্দেশ দিয়েছেন।

সৌদি সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনূযায়ী দৈশটির দাপ্তরিক হিজরি বর্ষপঞ্জি উম্ম আল-কুরা অনুযায়ী আগামী বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) রমজানের প্রথম দিন নির্ধারণ করেছে সৌদি আরব। তবে জ্যোতির্বিদদের একাংশ বলছেন, সম্ভাব্য হিসাব অনুযায়ী মঙ্গলবার মধ্যপ্রাচ্যের কোথাও চাঁদ দেখা যাওয়ার সুযোগ নেই—এ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

এদিকে প্রতিবেশী সংযুক্ত আরব আমিরাতের একাধিক জ্যোতির্বিদ্যা সংস্থা জানিয়েছে, আকাশগত অবস্থান বিবেচনায় মঙ্গলবার চাঁদ দৃশ্যমান হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। ফলে ক্যালেন্ডারভিত্তিক ঘোষণা বনাম বাস্তব চাঁদ দেখার প্রশ্ন আবারও সামনে এসেছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অভিযোগ রয়েছে, চাঁদ দেখা নিশ্চিত হোক বা না হোক, সৌদি কর্তৃপক্ষ অনেক সময় উম্ম আল-কুরা ক্যালেন্ডার অনুসারেই রমজান ও ঈদের তারিখ ঘোষণা করে। মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই গত বছরের ২৬ মার্চ এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করে, চাঁদ দেখার তথ্য নিয়ে সৌদি সরকারের বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর ঘোষণার অভিযোগ উঠেছে একাধিকবার।

ইসলামি বিধান অনুযায়ী মুসলিমরা চন্দ্রবর্ষ অনুসরণ করেন। চন্দ্রবর্ষে ১২টি মাস, প্রতিটি মাস ২৯ বা ৩০ দিনের হয়। রমজান ও ঈদের শুরু–শেষ নির্ভর করে নতুন চাঁদ দেখার ওপর। বিশ্বের কিছু দেশ নিজস্ব চাঁদ দেখা কমিটির মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেয়, আবার কিছু দেশ সৌদির ঘোষণার অনুসরণ করে থাকে। যেমন যুক্তরাজ্য–এ কেন্দ্রীয় চাঁদ দেখা কমিটি না থাকায় অনেক মুসল্লি সৌদির ঘোষণার সঙ্গে মিল রেখে রোজা ও ঈদ পালন করেন, যদিও এ পদ্ধতি নিয়ে আলেমদের মধ্যে ভিন্নমত আছে।

বিশেষ করে ঈদুল ফিতরের তারিখ ঘোষণা নিয়ে একাধিকবার বিতর্ক হয়েছে। ২০২৩ সালে ঈদের সম্ভাব্য তারিখ নিয়ে জ্যোতির্বিদরা আপত্তি তুললেও সৌদি নির্ধারিত দিনেই ঈদ ঘোষণা দেয়। সে সময় কুয়েতের জ্যোতির্বিদ আব্দেল আল-সাদুন বলেছিলেন, আরব উপদ্বীপে চাঁদ দেখা সম্ভব নয় এবং কেউ দেখে থাকলে ছবি প্রকাশের আহ্বান জানান। পরে সৌদি পক্ষ থেকে অনুজ্বল চাঁদের একটি সিসিডি ক্যামেরায় তোলা ছবি প্রকাশ করা হয়।

২০২৪ সালের ৬ জুনও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়। জ্যোতির্বিদরা সম্ভাবনা নাকচ করলেও সৌদি চাঁদ দেখার দাবি করে ঈদুল আজহার তারিখ ঘোষণা করে।

ইসলামি বর্ষপঞ্জি নিয়ে কাজ করা সংস্থা নিউ ক্রিসেন্ট সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা ইমাদ আহমেদ বলেন, বৈজ্ঞানিকভাবে চাঁদ দেখা অসম্ভব হলেও সৌদিতে দেখার দাবি আসার ঘটনা নতুন নয়। তার মতে, এসব ঘোষণা প্রায়ই উম্ম আল-কুরা ক্যালেন্ডারের সঙ্গে মিলে যায়, যা সব সময় বাস্তব চাঁদ দেখার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

বিশ্লেষকদের ভাষ্য, হিসাব–নিকাশের ভিত্তিতে চাঁদের মাস নির্ধারণ শুধু সৌদির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। তুরস্ক–ও জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক গণনা ব্যবহার করে তারিখ নির্ধারণ করে। তবে তারা আগে থেকেই তা প্রকাশ করে এবং সরাসরি চাঁদ দেখার দাবি করে না—যা সৌদির পদ্ধতি থেকে ভিন্ন।

কবির আহমেদ/ইবিটাইমস/এম আর 

জনপ্রিয়
Address : Erlaaer Strasse 49/8/16 A-1230 Vienna,Austria. Mob : +43676848863279, 8801719316684 (BD) 8801911691101 ( Ads) Email : eurobanglatimes123@gmail.com
Translate »

আগামীকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সৌদির আকাশে চাঁদ দেখা গেলে বুধবার থেকে রোজা

আপডেটের সময় ০৮:১১:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সৌদি আরবের ক্যালেন্ডার অনুযায়ী প্রথম রোজা শুরু বুধবার থেকে

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারী) সৌদি আরবের জাতীয় সংবাদমাধ্যম জানায়,দেশটির সুপ্রিম কোর্ট মঙ্গলবার সন্ধ্যায় প্রশাসনসহ দেশের সকল নাগরিককে পবিত্র রমজান (Ramadan) মাসের চাঁদ দেখার নির্দেশ দিয়েছেন।

সৌদি সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনূযায়ী দৈশটির দাপ্তরিক হিজরি বর্ষপঞ্জি উম্ম আল-কুরা অনুযায়ী আগামী বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) রমজানের প্রথম দিন নির্ধারণ করেছে সৌদি আরব। তবে জ্যোতির্বিদদের একাংশ বলছেন, সম্ভাব্য হিসাব অনুযায়ী মঙ্গলবার মধ্যপ্রাচ্যের কোথাও চাঁদ দেখা যাওয়ার সুযোগ নেই—এ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

এদিকে প্রতিবেশী সংযুক্ত আরব আমিরাতের একাধিক জ্যোতির্বিদ্যা সংস্থা জানিয়েছে, আকাশগত অবস্থান বিবেচনায় মঙ্গলবার চাঁদ দৃশ্যমান হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। ফলে ক্যালেন্ডারভিত্তিক ঘোষণা বনাম বাস্তব চাঁদ দেখার প্রশ্ন আবারও সামনে এসেছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অভিযোগ রয়েছে, চাঁদ দেখা নিশ্চিত হোক বা না হোক, সৌদি কর্তৃপক্ষ অনেক সময় উম্ম আল-কুরা ক্যালেন্ডার অনুসারেই রমজান ও ঈদের তারিখ ঘোষণা করে। মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই গত বছরের ২৬ মার্চ এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করে, চাঁদ দেখার তথ্য নিয়ে সৌদি সরকারের বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর ঘোষণার অভিযোগ উঠেছে একাধিকবার।

ইসলামি বিধান অনুযায়ী মুসলিমরা চন্দ্রবর্ষ অনুসরণ করেন। চন্দ্রবর্ষে ১২টি মাস, প্রতিটি মাস ২৯ বা ৩০ দিনের হয়। রমজান ও ঈদের শুরু–শেষ নির্ভর করে নতুন চাঁদ দেখার ওপর। বিশ্বের কিছু দেশ নিজস্ব চাঁদ দেখা কমিটির মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেয়, আবার কিছু দেশ সৌদির ঘোষণার অনুসরণ করে থাকে। যেমন যুক্তরাজ্য–এ কেন্দ্রীয় চাঁদ দেখা কমিটি না থাকায় অনেক মুসল্লি সৌদির ঘোষণার সঙ্গে মিল রেখে রোজা ও ঈদ পালন করেন, যদিও এ পদ্ধতি নিয়ে আলেমদের মধ্যে ভিন্নমত আছে।

বিশেষ করে ঈদুল ফিতরের তারিখ ঘোষণা নিয়ে একাধিকবার বিতর্ক হয়েছে। ২০২৩ সালে ঈদের সম্ভাব্য তারিখ নিয়ে জ্যোতির্বিদরা আপত্তি তুললেও সৌদি নির্ধারিত দিনেই ঈদ ঘোষণা দেয়। সে সময় কুয়েতের জ্যোতির্বিদ আব্দেল আল-সাদুন বলেছিলেন, আরব উপদ্বীপে চাঁদ দেখা সম্ভব নয় এবং কেউ দেখে থাকলে ছবি প্রকাশের আহ্বান জানান। পরে সৌদি পক্ষ থেকে অনুজ্বল চাঁদের একটি সিসিডি ক্যামেরায় তোলা ছবি প্রকাশ করা হয়।

২০২৪ সালের ৬ জুনও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়। জ্যোতির্বিদরা সম্ভাবনা নাকচ করলেও সৌদি চাঁদ দেখার দাবি করে ঈদুল আজহার তারিখ ঘোষণা করে।

ইসলামি বর্ষপঞ্জি নিয়ে কাজ করা সংস্থা নিউ ক্রিসেন্ট সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা ইমাদ আহমেদ বলেন, বৈজ্ঞানিকভাবে চাঁদ দেখা অসম্ভব হলেও সৌদিতে দেখার দাবি আসার ঘটনা নতুন নয়। তার মতে, এসব ঘোষণা প্রায়ই উম্ম আল-কুরা ক্যালেন্ডারের সঙ্গে মিলে যায়, যা সব সময় বাস্তব চাঁদ দেখার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

বিশ্লেষকদের ভাষ্য, হিসাব–নিকাশের ভিত্তিতে চাঁদের মাস নির্ধারণ শুধু সৌদির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। তুরস্ক–ও জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক গণনা ব্যবহার করে তারিখ নির্ধারণ করে। তবে তারা আগে থেকেই তা প্রকাশ করে এবং সরাসরি চাঁদ দেখার দাবি করে না—যা সৌদির পদ্ধতি থেকে ভিন্ন।

কবির আহমেদ/ইবিটাইমস/এম আর