ভিয়েনা ০৭:৫৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
পাখি মেরে পৈচাশিক আনন্দ পান লালমোহনের জামাল বাংলাদেশকে ২৪৮ রানের লক্ষ্য দিল জিম্বাবুয়ে ইরানের বুশেহর প্রদেশে কয়েকটি বিস্ফোরণের শব্দ জাতীয় পরিবেশ পদক পেলেন ৩ ব্যক্তি ও ৩ প্রতিষ্ঠান ঝালকাঠিতে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কোর্সের উদ্বোধন টাঙ্গাইলে বাসাইলে রাস্তার পাশে থেকে নবজাতক উদ্ধার চরফ্যাশনে নিরাপদ প্রসব নিশ্চিত করতে ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রে জরুরি ওষুধ বিতরণ প্রথমবারের মতো THE Impact Rankings 2026-এ স্থান পেল মাভাবিপ্রবি আপিল খারিজ: তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ও গণভোট পুনর্বহাল রোহিঙ্গা সংকটের শান্তিপূর্ণ ও দ্রুততম সমাধানে সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ : প্রধানমন্ত্রী

টাঙ্গাইলের নিহত সেনা অফিসার তানজিমের বাসায় শোকের মাতম

  • EuroBanglaTimes
  • আপডেটের সময় ০৮:৪১:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৪
  • ৫৯ সময় দেখুন
একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে বাবা প্রায় বাকরুদ্ধ, মা যাচ্ছেন মূর্ছা
টাঙ্গাইল প্রতিনিধিঃ কক্সবাজারের চকরিয়ায় যৌথবাহিনীর অভিযান পরিচালনা করার সময় সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত সেনা অফিসার লেফটেন্যান্ট তানজিম সরোয়ার নির্জন এর বাসায় চলছে শোকের মাতম। এদিকে একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে বাবা প্রায় বাকরুদ্ধ, মা যাচ্ছেন মূর্ছা। এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে নিহত তানজিমের পিতা সরোয়ার জাহান প্রায় বাকরুদ্ধ। তিনি বলেন, এইরকম মৃত্যু যেন আর কারো না হয়। আর যেন কোন বাবার এভাবে আত্মনার্ত করতে না হয়। আমি আমার ছেলে হত্যাকারীদের দ্রুত বিচার চাই। তানজিমই আমার একমাত্র ছেলে। সেই ছিল বাড়ির একমাত্র উপার্জন করার লোক। তাই আমি আজ অসহায়। আমি এই হত্যাকান্ডের দ্রুত বিচার ও ফাঁসি চাই।
এদিকে একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে নিহত তানজিমের মা নাজমা বেগম বার বার মূর্ছা যাচ্ছেন। তিনি বলেন, সরকার প্রধান ও সেনা প্রধানের কাছে আমি ছেলে হত্যার বিচার চাই। যারা তার সঙ্গে ছিল। তারা কেনো আমার ছেলেকে রক্ষা করতে পারলো না। তাদেরও বিচার চাই আমি। তানজিম ছিল আমার কলিজার টুকরা। উল্লেখ্য,নিহত সেনা অফিসার তানজিমই বাবা-মায়ের একমাত্র ছেলে। তার বড় বোন সুচি। তিনি ঢাকায় স্বামীসহ থাকেন।
তানজিম নিহতের খবর এলাকায় জানাজানি হলে, তার বাড়িতে ভিড় করে আত্মীয়-স্বজনসহ এলাকাবাসি। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ইতোমধ্যেই ঘাটাইল শহীদ সালাহউদ্দিন সেনানিবাস থেকে উদ্ধর্তন সেনা কর্মকর্তারা নিহত তানজিমের পরিবারের সাথে সাক্ষাত করে সমবেদনা জানিয়েছেন।
এখানো নিহত তানজিমের মরদেহ টাঙ্গাইলে আসে নি। আজ বিকেলে বাদ আছর বোয়ালী মাদরাসা মাঠে জানাযা নামাজ শেষে মাদরাসা গোরস্থানে দাফন করা হবে।
জানাযায়, গতরাত আনুমানিক ৩ ঘটিকায় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে চকরিয়া উপজেলার অন্তর্গত ডুলহাজারা ইউনিয়নের পূর্ব মাইজপাড়া গ্রামে ডাকাতির খবর পেয়ে চকরিয়া আর্মি ক্যাম্প হতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি দল দ্রুততার সাথে গমন করে। আনুমানিক ৪ ঘটিকায় মাইজপাড়া গ্রামে অভিযান পরিচালনা করার সময় ৭/৮ সদস্যের একটি ডাকাত দল সেনা টহল দলের উপস্থিতি টের পেয়ে অন্যত্র পালিয়ে যাওয়ার সময় লেফটেন্যান্ট তানজিম ছারোয়ার নির্জন ডাকাত দলের কয়েকজনকে তাড়া করেন। এসময় ডাকাত দলের সদস্যরা লেফটেন্যান্ট তানজিম ছারোয়ার নির্জন এর ঘাড়ে ছুরিকাঘাত করলে গুরুতর আহত হয় এবং এতে তার প্রচুর রক্তক্ষরণ শুরু হয়। তাৎক্ষণিকভাবে লেফটেন্যান্ট তানজিম ছারোয়ার নির্জনকে উদ্ধার করে মালুমঘাট মেমোরিয়াল হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
উল্লেখ্য, লেফটেন্যান্ট তানজিম ছারোয়ার নির্জন টাঙ্গাইল জেলার একটি সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। মেধাবী এই তরুণ সেনা কর্মকর্তা পাবনা ক্যাডেট কলেজ হতে উচ্চ মাধ্যমিক সমাপনান্তে ৮২তম দীর্ঘমেয়াদি কোর্সের সাথে বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমি হতে গত ০৮ জুন ২০২২ তারিখে আর্মি সার্ভিস কোরে (এএসসি) কমিশন লাভ করেন।

শফিকুজ্জামান খান মোস্তফা/ইবিটাইমস 

জনপ্রিয়

পাখি মেরে পৈচাশিক আনন্দ পান লালমোহনের জামাল

Address : Erlaaer Strasse 49/8/16 A-1230 Vienna,Austria. Mob : +43676848863279, 8801719316684 (BD) 8801911691101 ( Ads) Email : eurobanglatimes123@gmail.com
Translate »

টাঙ্গাইলের নিহত সেনা অফিসার তানজিমের বাসায় শোকের মাতম

আপডেটের সময় ০৮:৪১:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৪
একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে বাবা প্রায় বাকরুদ্ধ, মা যাচ্ছেন মূর্ছা
টাঙ্গাইল প্রতিনিধিঃ কক্সবাজারের চকরিয়ায় যৌথবাহিনীর অভিযান পরিচালনা করার সময় সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত সেনা অফিসার লেফটেন্যান্ট তানজিম সরোয়ার নির্জন এর বাসায় চলছে শোকের মাতম। এদিকে একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে বাবা প্রায় বাকরুদ্ধ, মা যাচ্ছেন মূর্ছা। এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে নিহত তানজিমের পিতা সরোয়ার জাহান প্রায় বাকরুদ্ধ। তিনি বলেন, এইরকম মৃত্যু যেন আর কারো না হয়। আর যেন কোন বাবার এভাবে আত্মনার্ত করতে না হয়। আমি আমার ছেলে হত্যাকারীদের দ্রুত বিচার চাই। তানজিমই আমার একমাত্র ছেলে। সেই ছিল বাড়ির একমাত্র উপার্জন করার লোক। তাই আমি আজ অসহায়। আমি এই হত্যাকান্ডের দ্রুত বিচার ও ফাঁসি চাই।
এদিকে একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে নিহত তানজিমের মা নাজমা বেগম বার বার মূর্ছা যাচ্ছেন। তিনি বলেন, সরকার প্রধান ও সেনা প্রধানের কাছে আমি ছেলে হত্যার বিচার চাই। যারা তার সঙ্গে ছিল। তারা কেনো আমার ছেলেকে রক্ষা করতে পারলো না। তাদেরও বিচার চাই আমি। তানজিম ছিল আমার কলিজার টুকরা। উল্লেখ্য,নিহত সেনা অফিসার তানজিমই বাবা-মায়ের একমাত্র ছেলে। তার বড় বোন সুচি। তিনি ঢাকায় স্বামীসহ থাকেন।
তানজিম নিহতের খবর এলাকায় জানাজানি হলে, তার বাড়িতে ভিড় করে আত্মীয়-স্বজনসহ এলাকাবাসি। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ইতোমধ্যেই ঘাটাইল শহীদ সালাহউদ্দিন সেনানিবাস থেকে উদ্ধর্তন সেনা কর্মকর্তারা নিহত তানজিমের পরিবারের সাথে সাক্ষাত করে সমবেদনা জানিয়েছেন।
এখানো নিহত তানজিমের মরদেহ টাঙ্গাইলে আসে নি। আজ বিকেলে বাদ আছর বোয়ালী মাদরাসা মাঠে জানাযা নামাজ শেষে মাদরাসা গোরস্থানে দাফন করা হবে।
জানাযায়, গতরাত আনুমানিক ৩ ঘটিকায় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে চকরিয়া উপজেলার অন্তর্গত ডুলহাজারা ইউনিয়নের পূর্ব মাইজপাড়া গ্রামে ডাকাতির খবর পেয়ে চকরিয়া আর্মি ক্যাম্প হতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি দল দ্রুততার সাথে গমন করে। আনুমানিক ৪ ঘটিকায় মাইজপাড়া গ্রামে অভিযান পরিচালনা করার সময় ৭/৮ সদস্যের একটি ডাকাত দল সেনা টহল দলের উপস্থিতি টের পেয়ে অন্যত্র পালিয়ে যাওয়ার সময় লেফটেন্যান্ট তানজিম ছারোয়ার নির্জন ডাকাত দলের কয়েকজনকে তাড়া করেন। এসময় ডাকাত দলের সদস্যরা লেফটেন্যান্ট তানজিম ছারোয়ার নির্জন এর ঘাড়ে ছুরিকাঘাত করলে গুরুতর আহত হয় এবং এতে তার প্রচুর রক্তক্ষরণ শুরু হয়। তাৎক্ষণিকভাবে লেফটেন্যান্ট তানজিম ছারোয়ার নির্জনকে উদ্ধার করে মালুমঘাট মেমোরিয়াল হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
উল্লেখ্য, লেফটেন্যান্ট তানজিম ছারোয়ার নির্জন টাঙ্গাইল জেলার একটি সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। মেধাবী এই তরুণ সেনা কর্মকর্তা পাবনা ক্যাডেট কলেজ হতে উচ্চ মাধ্যমিক সমাপনান্তে ৮২তম দীর্ঘমেয়াদি কোর্সের সাথে বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমি হতে গত ০৮ জুন ২০২২ তারিখে আর্মি সার্ভিস কোরে (এএসসি) কমিশন লাভ করেন।

শফিকুজ্জামান খান মোস্তফা/ইবিটাইমস