স্পোর্টস ডেস্ক: লিওনেল মেসির পর বর্তমান সময়ে আর্জেন্টিনার আস্থার নাম এমিলিয়ানো মার্টিনেজ। আর সেই আস্থার প্রতিদান আরো একবার ঠিকই দিয়েছেন এই গোলরক্ষক। পেনাল্টি শ্যুট আউটে মার্টিনেজের দুই সেভে ইকুয়েডরকে ৪-২ ব্যবধানে পরাজিত করে কোপা আমেরিকার সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।
লিসান্দ্রো মার্টিনেজের গোলে বিরতির ১০ মিনিট আগে এগিয়ে গিয়েছিল লিওনেল স্কালোনির দল। কিন্তু হিউস্টনের এনআরজি স্টেডিয়াম ভর্তি আর্জেন্টাইন সমর্থকদের নিশ্চুপ করে দিয়ে ইনজুরি টাইমে ইকুয়েডরের হয়ে সমতা ফেরান কেভিন রড্রিগুয়েজ।
আসরের নিয়মানুযায়ী ফাইনাল ছাড়া নক আউট পর্বের কোন ম্যাচেই অতিরিক্ত সময়ে খেলা হচ্ছেনা। যে কারনে ১-১ গোলে নির্ধারিত সময় শেষ হবার পর সরাসরি পেনাল্টি শ্যুট আউটে ভাগ্য নির্ধারনের জন্য দুই দল উপস্থিত হয়। মেসি আর্জেন্টিনার হয়ে প্রথম শটটি মিস করেন। কিন্তু আর্জেন্টাইন গোলবারে যে অতন্দ্র প্রহরী এমি রয়েছেন, তা হয়তো কিছু সময়ের জন্য ইকুয়েডর ভুলে গিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত ৪-২ গোলে জয়ী হয়ে সেমিফাইনালের টিকেট উপহার দিতে এমিলিয়ানো কোন কার্পণ্য করেননি। শেষ চারে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ ভেনেজুয়েলা বনাম কানাডার মধ্যকার বিজয়ী দল।
২০১৬ কোপা ফাইনালে চিলির বিপক্ষে মেসির পেনাল্টি মিসের স্মৃতি আরো একবার হিউস্টনে ফিরে এসেছিল। কিন্তু সৌভাগ্যবশত: গোলরক্ষক মার্টিনেজ আরো একবার তার অতীতকে সামনে নিয়ে এলে আর্জেন্টিনাকে হতাশ হতে হয়নি। এ্যাঞ্জেল মেনা ও এ্যালান মিন্ডার প্রথম দুটি শটই রুখে দিয়ে জয়ের সুবাতাস দিকে থাকেন এমি। দুর্দান্ত ডাইভিং সেভে তিনি কার্যত আর্জেন্টিনাকে রক্ষা করেন। এরপর চতুর্থ শটে নিকেলাস ওটামেন্ডি গোল করে দলের জয় নিশ্চিত করেন।
টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিলেও ইকুয়েডর সমান তালে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে লড়ে গেছে। ফেলিক্স সানচেজের দল শুরুটাও ভাল করেছিল। মধ্যমাঠে বল তাদেরই দখলে ছিল। তারই ধারাবাহিকতায় মাঝে মাঝে আর্জেন্টাইন রক্ষনভাগকে বিপদে ফেলেছে। মোয়েস কেইসেডো শুরুতেই একটি সুযোগ পেয়েছিলেন। ভ্যালেন্সিয়ার হেডে তার শটটি সহজেই রুখে দেন আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক মার্টিনেজ। এরপর কেইসেডোর চতুর একটি পাসে জেরেমি সারমিনেটো শট নিলেও মার্টিনেজ দ্রুত দৌড়ে এসে পা দিয়ে রক্ষা করেন। কেনড্রি পায়েজের শট বারের উপর দিয়ে চলে যায়। আর্জেন্টিনাও ধীরে ধীরে ম্যাচের নিয়ন্ত্রন নিজেদের করে নেয়। কিন্তু ২৮ মিনিট পর্যন্ত তারা তেমন একটা সুযোগ তৈরী করতে পারেনি। নাহুয়েল মোলিনার ডানদিকের ক্রসে এনজো ফার্নান্দেজের হেড অনেকটাই বাইরে দিয়ে চলে যায়। সাত মিনিট পর তারা শেষ পর্যন্ত লিড নেয়। মেসির কর্নার কিক থেকে এ্যালেক্সিস ম্যাক এ্যালিস্টারের পোস্টের কাছে ফ্লিক-অনে লিসান্দ্রো মার্টিনেজের শক্তিশালী হেড ধরার সাধ্য ছিলনা ইকুয়েডর গোলরক্ষক আলেক্সান্দার ডোমিনগুয়েজের। দ্রুত ব্যবধান দ্বিগুন করার সুযোগ পেয়েছিলেন ফার্নান্দেজ। কিন্তু তার বা পায়ের শট অল্পের জন্য পোস্টের ঠিকানা খুঁজে পায়নি।
৬২ মিনিটে ম্যাচে ফিরে আসার দারুন সুযোগ পেয়েছিল ইকুয়েডর। রডরিগো ডি পলের হ্যান্ডবলে প্রাপ্ত পেনাল্টি থেকে ভ্যালেন্সিয়া সুযোগ হাতছাড়া করেন। কিন্তু স্টপেজ টাইমে জন ইয়েবোহার ক্রস থেকে কেভিন রড্রিগুয়েজের হেড আটকানোর সাধ্য ছিলনা এমিলিয়ানোর। যদিও জর্ডি কেইসেডোর অফসাইড পজিশন নিয়ে ভিএআর দীর্ঘ অপেক্ষায় রেখেছিল ইকুয়েডরকে। শেষ পর্যন্ত অবশ্য ইকুয়েডরকে গোল নিশ্চিক করা হয়।
ডেস্ক/ইবিটাইমস/এনএল/আরএন