স্লোভাকিয়ার হৃদয় ভেঙে কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ড

স্পোর্টস ডেস্ক: স্লোভাকিয়ার বিপক্ষে হেরে শেষ ষোলো থেকে বিদায়ের দ্বারপ্রান্তে ছিল ইংল্যান্ড। তবে ম্যাচের বাড়ানো সময়ে গোল করে ইংল্যান্ডকে সমতায় ফেরান জুড বেলিংহ্যাম। এরপর অতিরিক্ত সময়ে হ্যারি কেইনের গোল স্লোভাকিয়াকে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেয়।

জার্মানির পশ্চিমের শহর গেলসেনকিরশেনে রোববার শেষ ষোলোর অতিরিক্ত সময়ে গড়ানো ম্যাচে ২-১ গোলে জিতেছে ইংল্যান্ড।

গ্রুপ পর্বে ইংল্যান্ডের খেলা দেখে সকলেই কোচ সাউথগেটের সমালোচনা করা শুরু করে। এমন অবস্থায় রোববার ইউরোর শেষ ষোলোর ম্যাচে স্লোভাকিয়ার কাছে প্রায় হেরেই গিয়েছিল ইংল্যান্ড। তবে বেলিংহ্যাম ও কেইনের গোলে শেষ রক্ষা হয় থ্রি লায়ন্সদের।

র‍্যাংকিংয়ে পাঁচ নম্বর দল ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয়ের দুয়ারে গিয়েও অল্পের জন্য পারল না ৪৫ নম্বরের দলটি। প্রথমবারের মতো ইউরোর শেষ আটে ওঠার আশাও পূরণ হলো না তাদের। খেলার প্রথমার্ধে ইভান শারাঞ্জ স্লোভাকিয়াকে এগিয়ে নেওয়ার পর ৯৫তম মিনিটে সমতা টানেন বেলিংহ্যাম। অতিরিক্ত সময়ে ব্যবধান গড়ে দেন কেইন।

খেলার প্রথম পাঁচ মিনিটে দুবার ইংল্যান্ডের রক্ষণে ভীতি ছড়ায় স্লোভাকিয়া। দাভিদ হেঙ্কোর একটি কোনাকুনি শট পোস্টের সামান্য বাইরে দিয়ে যায়। গ্রুপ পর্বে মাত্র দুটি গোল করা ইংল্যান্ড প্রথম সুযোগ পায় নবম মিনিটে। বেলিংহ্যামের পাস বক্সে পেয়ে অনেক ওপর দিয়ে উড়িয়ে মারেন ডিফেন্ডার কিরান ট্রিপিয়ার।

দ্বাদশ মিনিটে আরেকটি দারুণ সুযোগ তৈরি করে স্লোভাকিয়া। মাঝমাঠ থেকে সতীর্থের থ্রু বল ধরে বক্সে ঢুকে পড়েন লুকাস হারাসলিন। তার শট স্লাইডে ঠেকান ডিফেন্ডার মার্ক গেয়ি। ২৫তম মিনিটে আর জাল অক্ষত রাখতে পারেনি ইংল্যান্ড। দারুণ এক আক্রমণ থেকে এগিয়ে যায় স্লোভাকিয়া। দুই সতীর্থ ঘুরে বক্সের বাইরে বল পান দাভিদ স্ত্রেলেক। তার পাস বক্সে পেয়ে সঙ্গে লেগে থাকা খেলোয়াড়ের চ্যালেঞ্জ এড়িয়ে গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন শারাঞ্জ।  এই লিড নিয়েই বিরতিতে যায় দু’দল।

দ্বিতীয় হাফের শুরু থেকেই স্লোভাকিয়ার ওপর চেপে বসে ইংল্যান্ড। রক্ষণে মনোযোগ দেয়া স্লোভাকিয়ার ওপর চাপ ধরে রাখলেও গোলরক্ষকের পরীক্ষা নিতে পারছিলেন না ফোডেন-কেইনরা। তবে ম্যাচে যোগ করা ছয় মিনিটের পঞ্চম মিনিটে গিয়ে গোল পায় ইংল্যান্ড। থ্রো থেকে বল পেয়ে ডি-বক্সে নিচু ক্রস করেন গুইহে। তা হাফ ভলিতে জালে পাঠান বেলিংহ্যাম। এরপর অতিরিক্ত সময়ের প্রথম মিনিটে আবার উল্লাসে মেতে ওঠে ইংল্যান্ডের সমর্থকরা। দলকে এগিয়ে দেন কেইন। বক্সে ইভান টনির হেড পাসে হেডেই বল জালে পাঠান ইংল্যান্ডের রেকর্ড স্কোরার।

এরপর ইংল্যান্ডের দুই গোলস্কোরারকেই তুলে নেন ইংল্যান্ডের কোচ। তাদের বদলি হিসেবে মাঠে নামেন কনসা ও গ্যালাগার। শেষ পর্যন্ত আর কোন গোল হয়নি। শেষ বাঁশি বাজতেই হতাশা নিয়ে মাঠ ছাড়ে স্লোভাকিয়ারা।

শেষ আটে ইংল্যান্ডের প্রতিপক্ষ ইতালিকে বিদায় করা সুইজারল্যান্ড।

ডেস্ক/ইবিটাইমস/এনএল/আরএন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit exceeded. Please complete the captcha once again.

Translate »