ঢাকা প্রতিনিধি: বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, ‘এখন ভারতের সবচেয়ে বড় পণ্য হলো আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনা। এটা বর্জন করলেই শেষ। এই একটা পণ্য বর্জন করলেই জাতির মুক্ত হওয়া সম্পন্ন। অন্য পণ্য বর্জন করার প্রয়োজন হয় না আমাদের।’
শুক্রবার(২৯ মার্চ) জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
দেশের জনগণের উদ্দেশে গয়েশ্বর বলেন, ‘বাংলাদেশ থেকে প্রতিদিন ১০ হাজার মানুষ ভারতের ভিসার জন্য আবেদন করেন। ফি বাবদ ৮০০ টাকা জমা দিতে হয়। প্রতিদিন ৮০ লাখ টাকা। এটা ভিসা পেলেও দিতে হবে, না পেলেও দিতে হবে। মাসে ২৪ কোটি টাকা বাংলাদেশ থেকে ভিসা ফি বাবদ ভারত আয় করে। তাহলে বছরে কত কোটি টাকা? এরপর বর্ডার ক্রস করলে দৈনিক কমপক্ষে ৫ হাজার টাকা খরচ হয়। ৭ দিন থাকলে ৩৫ হাজার টাকা। আসার সময় ৫০ হাজার টাকার বাজার খরচ। এরপর ওষুধ, হোটেল খরচ। আর পণ্য বর্জন কী? বাংলাদেশের মানুষ যদি বলে কাল থেকে ভারতে যাব না, তাদের অর্থনীতি কোথায় দাঁড়াবে একবার ভেবে দেখুন।’
তিনি বলেন, ‘শুধু ভারতীয় পণ্য বর্জন করলেই হবে না, ভারতেও যাওয়া যাবে না। তাহলে ভারত শেখ হাসিনাকে পরিত্যাগ করবে। জনগণ নয়, ভারত সব সময় আওয়ামী লীগকে সমর্থন দেয়। সুজাতা সিংহের বাংলাদেশ সফর থেকে শুরু করে নানা তৎপরতাতেই প্রমাণ হয়। প্রতিবারই বাংলাদেশে এসে ভারতীয়রা নির্বাচন নিয়ে আওয়ামী লীগকে সমর্থন দেয়।’
বিএনপির স্থায়ী কমিটির এ নেতা বলেন, ‘বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান যদি স্বাধীনতার পাঠক হন, তাহলে লেখক কোথায়? সেই কাগজটি কোথায়? জিয়াউর রহমানকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য আমাদের কোনো প্রচেষ্টার প্রয়োজন নেই। জিয়াউর রহমান নিজেই নিজের কর্মগুণে প্রতিষ্ঠিত জাতির অন্তরে, ইতিহাসে। তাকে ছাড়া বাংলাদেশের ইতিহাস লেখা কখনোই সম্ভব নয়। আজকের ইতিহাস কখনোই পরিপূর্ণ ইতিহাস নয়। জিয়াউর রহমানের ছবি পাহারা দেওয়ার জন্য পুলিশ-র্যাবের প্রয়োজন হয় না। কারণ তার ছবি মানুষের অন্তরে আঁকা। অন্তরের ছবি কখনো ফ্যাকাসে হয় না। সুতরাং সেই ছবি কারও পক্ষে ছেঁড়া সম্ভব না।’
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দেওয়া ৭ মার্চের ভাষণ নিয়ে আপত্তি নেই জানিয়ে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘তিনি তখন বলেছেন, এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। আমি কথাটার সঙ্গে এখনো একমত। কারণ, আমাদের মুক্তি-স্বাধীনতার সংগ্রাম এখনো শেষ হয়নি। আমরা সেই মুক্তির সংগ্রাম এখনো করছি। আমরা মুক্ত নই খালেদা জিয়া বন্দি আছেন। শুধু তাকে নয়, পুরো দেশ-জাতিকে আমরা মুক্ত করতে চাই একটি রাহুর গ্রাসের কবল থেকে। আমরা যে স্বপ্ন দেখে স্বাধীনতা যুদ্ধ করেছি, সেই সংগ্রামটি শেষ হয়নি কেন?’
আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, অ্যাডভোকেট রফিক সিকদার, জাতীয়তাবাদী তাঁতি দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী মনিরুজ্জামান মনির, ঢালী আমিনুল ইসলাম রিপন, শাহ আলম প্রমুখ।
এদিকে, বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেছেন, যুদ্ধের সময় আওয়ামী লীগের অনেক নেতা বিহারিদের বাড়ি দখল করে আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ বনে গেছেন। শুক্রবার (২৯ মার্চ) রাজধানীতে বুয়েট ছাত্রদলের সাবেক নেতাদের আয়োজিত ইফতার মাহফিলে তিনি এ কথা বলেন।
মেজর (অব.) হাফিজ বলেন, জিয়াউর রহমান না থাকলে মুক্তিযুদ্ধ হতো না আর বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হতেন। শুধু সীমান্ত পার হলেই মুক্তিযোদ্ধা হয় না। আওয়ামী লীগের অনেক নেতাই বিহারিদের বাড়ি দখল করে আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ হয়ে গেছেন। ১৯৭১ সালে আওয়ামী লীগের স্বাধীনতার কোনো ইচ্ছাই ছিলে না। তারা চেয়েছিল পাকিস্তানের ক্ষমতায় যেতে। মুক্তিযুদ্ধের ক্রেডিট আওয়ামী লীগ নয়, সাধারণ মানুষ, ইপিআরের যোদ্ধা এবং ছাত্ররা পাবেন। সেই আওয়ামী লীগ এখন ইতিহাস বিকৃতি করছে।
তিন বলেন, জোর করে ক্ষমতায় থাকতে সরকার দেশকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। শিগগির গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার হবে। তরুণ সমাজ মোবাইল নিয়ে ব্যস্ত। একাত্তরে মোবাইল থাকলে দেশ স্বাধীন হতো না বলেও উল্লেখ করেন বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা।
ঢাকা/ইবিটাইমস/এনএল