ভিয়েনা ০৬:১১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
লালমোহনে জমি জবরদখল চেষ্টার অভিযোগ, স্পিকারের সুদৃষ্টি কামনা এসিল্যান্ড পরিচয়ে টাকা দাবি লালমোহনে বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমের উদ্বোধন টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি হলেন মন্ত্রী মাহবুব আনাম স্বপন কালীগঞ্জে ৫টি চোরাই মটরসাইকেলসহ আটক ৩ মাছের চাহিদা পূরণে সরকার নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে : টুকু মাভাবিপ্রবিতে ‘টেক্সটাইল ও ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা’ বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত টাঙ্গাইলে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রীর আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল নিয়ে প্রশ্ন তুললেন শিশির মনির

ব্যাটারিচালিত রিকশার দখলে টাঙ্গাইল পৌর সড়ক, নাজেহাল নগরবাসী

  • EuroBanglaTimes
  • আপডেটের সময় ১১:২৩:৩৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২২ নভেম্বর ২০২৫
  • ২৭৫ সময় দেখুন

শফিকুজ্জামান খান মোস্তফা, টাঙ্গাইল : টাঙ্গাইল পৌর এলাকায় অনুমোদনহীনভাবে তৈরি ও চলাচল করা ব্যাটারিচালিত রিকশা ও অটোরিকশার কারণে শহরের প্রতিটি প্রধান ও উপশহরীয় সড়কে নিত্যদিন সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজট। ফলে অফিসগামী, শিক্ষার্থী ও জরুরি সেবাগ্রহীতারা ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থেকে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন।

পৌরসভার লাইসেন্স শাখা সূত্রে জানা যায়, পূর্বের মেয়র সিরাজুল হক আলমগীরের আমলে পৌরসভা থেকে ৬ হাজার প্যাডেলচালিত রিকশার লাইসেন্স দেওয়া হয়েছিল। প্রতিটির জন্য আদায় করা হয় ১ হাজার টাকা ফি। তবে অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজশে এসব লাইসেন্স এখন ব্যাটারিচালিত রিকশায় ব্যবহার করা হচ্ছে, যা পৌর আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন। এমনকি একেক মালিক একই নামে একাধিক লাইসেন্স নিয়ে ডজনেরও বেশি রিকশা চালকদের কাছে ভাড়া দিয়ে দিচ্ছেন।

পৌরসভার তালিকায় ৬ হাজার রিকশা থাকলেও বাস্তবে শহরে এর ৩ থেকে ৪ গুণ ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচল করছে। তদন্তে জানা যায়, মা-মটরস, বিসমিল্লাহ মটরস, একতা মটরসসহ শহর ও আশপাশে অন্তত ৩০টির বেশি অনুমোদনহীন কারখানায় এসব রিকশা ও অটোরিকশা তৈরি হচ্ছে।

দাইন্যা ইউনিয়নের চিলাবাড়ি এলাকায় মা-মটরস কারখানা পরিদর্শনে দেখা যায়—কারিগরি সার্টিফিকেটবিহীন কর্মীরা প্রতিনিয়ত বডি তৈরির কাজ করছেন। এমনকি নিরাপত্তা সরঞ্জাম ছাড়াই ১২ বছরের কিশোরও ওয়েল্ডিং কাজ করছে। শ্রমিকরা জানান, প্রতিটি রিকশার বডি তৈরিতে ১,২০০ টাকা এবং অটোরিকশায় ৩ হাজার টাকা করে মজুরি পান, সঙ্গে থাকা-খাওয়া মালিকের।

কারখানার মালিক দুলাল মিয়া জানান, তার কোনো সরকারি অনুমোদন, নিবন্ধন বা কারিগরি প্রশিক্ষণ নেই। রিকশা মেরামতের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই তিনি এ ব্যবসা শুরু করেছেন। বিসিকের অনুমতিও তার নেই বলে স্বীকার করেন।

স্থানীয় ইউপি সদস্য সোরহাব হোসেন বলেন, কারখানাটি তার ওয়ার্ডে হলেও বৈধ কাগজপত্র আছে কি না, তা তিনি নিশ্চিত নন। প্রয়োজনে খোঁজ নেওয়ার আশ্বাস দেন।

রাজনৈতিক প্রতিনিধি আমিন উদ্দিন নোমান বলেন শহরটার যেন নিয়ম ভাঙ্গার প্রতিযোগিতায় মেতে উঠেছে,যথাযথ কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার পাশাপাশি, নাগরিক সচেতনতার অভাব রয়েছে।

বিশ্বজিৎ দে বলেন প্রতিটা রাস্তার মোড়ে মোড়ে অবৈধ পার্কিং যে পার্কিং একেকটা স্ট্যান্ডে রূপ নিয়েছে এসব ছোট ছোট স্টান্ডে যাত্রি তোলার প্রতিযোগিতায় কারনে অটো রিক্সা গুলো রাস্তা দখল করে বসে থাকে। যার কারনে মেইন রোডে যানজট হয়ে থাকে। এছাড়াও যত্রতত্র যাত্রী উঠানো নামানোর কারনেও যানজট হচ্ছে।

নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি এডভোকেট জসিম উদ্দিন, এডভোকেট মিজানুর রহমান, সহকারী অধ্যাপক শাহজাহান মিয়া ও শিক্ষিকা সেলিনা হোসেন বলেন, লাইসেন্সবিহীন রিকশা বৃদ্ধি ও অপরিকল্পিত পার্কিং শহরকে প্রায় অচল করে দিচ্ছে। অবৈধ কারখানা বন্ধ ও লাইসেন্স ব্যবস্থাপনা কঠোর করার দাবি জানান তারা।

টাঙ্গাইল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন মিয়া বলেন, “ব্যাটারিচালিত রিকশা তৈরির কোনো বৈধতা নেই। কারখানার সন্ধান পেলেই আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

টাঙ্গাইল পৌরসভার প্রশাসক উপসচিব মো. শিহাব রায়হান বলেন, তার দায়িত্বকালে নতুন কোনো ব্যাটারিচালিত রিকশার লাইসেন্স দেওয়া হয়নি। অবৈধ যানবাহন শনাক্ত, আটক ও ডাম্পিংয়ের বিষয়ে জেলা ও পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা চলছে। শিগগিরই যৌথ অভিযান পরিচালনার প্রস্তুতি রয়েছে।
ঢাকা/ইবিটাইমস/এসএস

Tag :

লালমোহনে জমি জবরদখল চেষ্টার অভিযোগ, স্পিকারের সুদৃষ্টি কামনা

Address : Erlaaer Strasse 49/8/16 A-1230 Vienna,Austria. Mob : +43676848863279, 8801719316684 (BD) 8801911691101 ( Ads) Email : eurobanglatimes123@gmail.com
Translate »

ব্যাটারিচালিত রিকশার দখলে টাঙ্গাইল পৌর সড়ক, নাজেহাল নগরবাসী

আপডেটের সময় ১১:২৩:৩৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২২ নভেম্বর ২০২৫

শফিকুজ্জামান খান মোস্তফা, টাঙ্গাইল : টাঙ্গাইল পৌর এলাকায় অনুমোদনহীনভাবে তৈরি ও চলাচল করা ব্যাটারিচালিত রিকশা ও অটোরিকশার কারণে শহরের প্রতিটি প্রধান ও উপশহরীয় সড়কে নিত্যদিন সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজট। ফলে অফিসগামী, শিক্ষার্থী ও জরুরি সেবাগ্রহীতারা ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থেকে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন।

পৌরসভার লাইসেন্স শাখা সূত্রে জানা যায়, পূর্বের মেয়র সিরাজুল হক আলমগীরের আমলে পৌরসভা থেকে ৬ হাজার প্যাডেলচালিত রিকশার লাইসেন্স দেওয়া হয়েছিল। প্রতিটির জন্য আদায় করা হয় ১ হাজার টাকা ফি। তবে অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজশে এসব লাইসেন্স এখন ব্যাটারিচালিত রিকশায় ব্যবহার করা হচ্ছে, যা পৌর আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন। এমনকি একেক মালিক একই নামে একাধিক লাইসেন্স নিয়ে ডজনেরও বেশি রিকশা চালকদের কাছে ভাড়া দিয়ে দিচ্ছেন।

পৌরসভার তালিকায় ৬ হাজার রিকশা থাকলেও বাস্তবে শহরে এর ৩ থেকে ৪ গুণ ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচল করছে। তদন্তে জানা যায়, মা-মটরস, বিসমিল্লাহ মটরস, একতা মটরসসহ শহর ও আশপাশে অন্তত ৩০টির বেশি অনুমোদনহীন কারখানায় এসব রিকশা ও অটোরিকশা তৈরি হচ্ছে।

দাইন্যা ইউনিয়নের চিলাবাড়ি এলাকায় মা-মটরস কারখানা পরিদর্শনে দেখা যায়—কারিগরি সার্টিফিকেটবিহীন কর্মীরা প্রতিনিয়ত বডি তৈরির কাজ করছেন। এমনকি নিরাপত্তা সরঞ্জাম ছাড়াই ১২ বছরের কিশোরও ওয়েল্ডিং কাজ করছে। শ্রমিকরা জানান, প্রতিটি রিকশার বডি তৈরিতে ১,২০০ টাকা এবং অটোরিকশায় ৩ হাজার টাকা করে মজুরি পান, সঙ্গে থাকা-খাওয়া মালিকের।

কারখানার মালিক দুলাল মিয়া জানান, তার কোনো সরকারি অনুমোদন, নিবন্ধন বা কারিগরি প্রশিক্ষণ নেই। রিকশা মেরামতের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই তিনি এ ব্যবসা শুরু করেছেন। বিসিকের অনুমতিও তার নেই বলে স্বীকার করেন।

স্থানীয় ইউপি সদস্য সোরহাব হোসেন বলেন, কারখানাটি তার ওয়ার্ডে হলেও বৈধ কাগজপত্র আছে কি না, তা তিনি নিশ্চিত নন। প্রয়োজনে খোঁজ নেওয়ার আশ্বাস দেন।

রাজনৈতিক প্রতিনিধি আমিন উদ্দিন নোমান বলেন শহরটার যেন নিয়ম ভাঙ্গার প্রতিযোগিতায় মেতে উঠেছে,যথাযথ কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার পাশাপাশি, নাগরিক সচেতনতার অভাব রয়েছে।

বিশ্বজিৎ দে বলেন প্রতিটা রাস্তার মোড়ে মোড়ে অবৈধ পার্কিং যে পার্কিং একেকটা স্ট্যান্ডে রূপ নিয়েছে এসব ছোট ছোট স্টান্ডে যাত্রি তোলার প্রতিযোগিতায় কারনে অটো রিক্সা গুলো রাস্তা দখল করে বসে থাকে। যার কারনে মেইন রোডে যানজট হয়ে থাকে। এছাড়াও যত্রতত্র যাত্রী উঠানো নামানোর কারনেও যানজট হচ্ছে।

নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি এডভোকেট জসিম উদ্দিন, এডভোকেট মিজানুর রহমান, সহকারী অধ্যাপক শাহজাহান মিয়া ও শিক্ষিকা সেলিনা হোসেন বলেন, লাইসেন্সবিহীন রিকশা বৃদ্ধি ও অপরিকল্পিত পার্কিং শহরকে প্রায় অচল করে দিচ্ছে। অবৈধ কারখানা বন্ধ ও লাইসেন্স ব্যবস্থাপনা কঠোর করার দাবি জানান তারা।

টাঙ্গাইল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন মিয়া বলেন, “ব্যাটারিচালিত রিকশা তৈরির কোনো বৈধতা নেই। কারখানার সন্ধান পেলেই আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

টাঙ্গাইল পৌরসভার প্রশাসক উপসচিব মো. শিহাব রায়হান বলেন, তার দায়িত্বকালে নতুন কোনো ব্যাটারিচালিত রিকশার লাইসেন্স দেওয়া হয়নি। অবৈধ যানবাহন শনাক্ত, আটক ও ডাম্পিংয়ের বিষয়ে জেলা ও পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা চলছে। শিগগিরই যৌথ অভিযান পরিচালনার প্রস্তুতি রয়েছে।
ঢাকা/ইবিটাইমস/এসএস